চাঁদপুর, শনিবার ১০ আগস্ট ২০১৯, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ৮ জিলহজ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৪-সূরা কামার


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২৮। এবং উহাদিগকে জানাইয়া দাও যে, উহাদের মধ্যে পানি বন্টন নির্ধারিত এবং পানির অংশের জন্য প্রত্যেকে উপস্থিত হইবে পালাক্রমে।


২৯। অতঃপর উহারা উহাদের এক সংগীকে আহ্বান করিল, সে উহাকে ধরিয়া হত্যা করিল।


 


মা সবক্ষেত্রে সব পরিবেশেই মা।


-লেডি অ্যানি বার্নার্ড।


 


 


মায়ের পদতলে সন্তানদের বেহেশত।


 


 


ফটো গ্যালারি
বাঁধ ভেঙে গেলে
আরাফাত শাহীন
১০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


এইখানে, ঠিক এইখানে এতক্ষণ মাথা উঁচু করে গর্বিত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ছিল বটগাছটি। গাঁয়ের লোকেরা বলাবলি করত, এই গাছ হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে ঠিক এইভাবে দাঁড়িয়ে আছে। একে ধাক্কা দিয়ে ফেলা সহজ কম্ম নয়। কত ঝড়-ঝাপটা এর উপর দিয়ে বয়ে গেছে! তারপরও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সে দাঁড়িয়েই আছে। কিন্তু আজ যখন পদ্মা এক ধাক্কায় অজগর সাপের মতো মোটা মোটা শিকড়সমেত গাছটিকে মুহূর্তের মধ্যে টেনে নিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল উজান থেকে ধেয়ে আসা ঘোলা পানির মধ্যে, তখন গ্রামের মানুষের মধ্যে সহি বুঝ ফিরে এলো। তারা কেউ কোনো কথা বলতে পারল না; এতকালের দীর্ঘ বটগাছটিকে নিয়ে কেউ টু শব্দটি পর্যন্ত করতে পারল না। সবাই হয়ত বোবা হয়ে গেছে কিংবা নিজেদের পরিণাম নিয়ে শঙ্কিত হয়ে গাছটিকে নিয়ে কোনো যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করতে ভুলেই গেছে।



সকাল থেকেই পানির বেগ বেড়ে চলছিল। গ্রামের মুরুব্বীরা বলাবলি করছিল, ইন্ডিয়ারা সবগুলোন বাঁধ খুলে দেছে। দেখছো না পানির কী বেগ! গ্রামের সবচেয়ে বয়স্ক মুরুবি্ব তখন ভাবছিলেন অন্য কথা। পানির এত বেগ এর আগে কোনোদিন দেখা যায়নি। এমনকি স্রোত কখনো এই বটগাছটির শিকড় পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারেনি। কিন্তু এবার ভাবগতিক বেজায় খারাপ। বিকেল নাগাদ পানি এখানে চলে আসবে বলেই মনে হচ্ছে।



বিকেলের আগেই দুরন্ত ঝঞ্ঝার বেগে কী ভয়ানক শব্দ করতে করতে ছুটে এলো পদ্মায় সর্বনাশা ঢেউ। পানির গমগম শব্দ গাঁয়ের সকলে আগেই শুনতে পেয়েছিল। তারপর যখন বিকট শব্দ করে হাজার বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকা বটগাছটি পানির বুকে মিশে গেল, তখন কেউ বাড়িতে বসে থাকতে পারেনি। কাজ ফেলে গ্রামের সমস্ত মানুষ ছুটে চলে এসেছে নদীর ধারে। এমনকি দুধের শিশু কোলে করেও ছুটে এসেছে কেউ কেউ। তবে টু শব্দটি করেনি কেউ; যেন এটাই ছিল বটগাছটির নিয়তি।



বটগাছের চিন্তা বাদ দিয়ে গাঁয়ের লোকেদের মনে এখন নিজেদের নিয়ে চিন্তা জেঁকে বসেছে ; ভয়ানক চিন্তা। যে স্রোতের বেগে টিকে থাকতে পারেনি তাদের কাছে অপ্রতিরোধ্য বটগাছ, সেই স্রোত উপেক্ষা করে জরাজীর্ণ বাধটা কতক্ষণ টিকে থাকতে পারবে! পানি এখনই বাধ ছুঁইছুঁই। একবার ভালোমতো ছুঁয়ে দিতে পারলে কে ঠেকাতে আসবে এই প্রমত্ত পাগলীকে! পদ্মা কি এবার পুরো গ্রামটাকেই বটগাছটির মতো উপড়ে নিয়ে যাবে!



 



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৭৩২৫৯
পুরোন সংখ্যা