চাঁদপুর, শনিবার ১০ আগস্ট ২০১৯, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ৮ জিলহজ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৪-সূরা কামার


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২৮। এবং উহাদিগকে জানাইয়া দাও যে, উহাদের মধ্যে পানি বন্টন নির্ধারিত এবং পানির অংশের জন্য প্রত্যেকে উপস্থিত হইবে পালাক্রমে।


২৯। অতঃপর উহারা উহাদের এক সংগীকে আহ্বান করিল, সে উহাকে ধরিয়া হত্যা করিল।


 


মা সবক্ষেত্রে সব পরিবেশেই মা।


-লেডি অ্যানি বার্নার্ড।


 


 


মায়ের পদতলে সন্তানদের বেহেশত।


 


 


ফটো গ্যালারি
কোরবানির গরু
আব্দুস সালাম
১০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


শ্যামপুর গ্রামে ধনী-গরিব সকলেই বাস করে। গ্রামের মজিদ মিয়া ধনী হলেও খুব কিপ্টা। খুব হিসাব করে খরচ করে। অপ্রয়োজনে একটি টাকাও বেশি খরচ করতে রাজি না। তবে প্রতিবছর কোরবানির ঈদে পশু কোরবানি দেয়। গ্রামে অনেক গেরস্থের বাড়িতেই পশু কোরবানি দেওয়া হয়। অনেকে লোক দেখানোর জন্যও কোরবানি দিয়ে থাকে। প্রতিবছর কোরবানির গরু ও ছাগলের সাইজ নিয়ে তাদের মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়। কেউ হারতে রাজি না। মজিদ মিয়া কিপ্টা হলেও কোনোভাবেই সে প্রতিযোগিতায় হারতে রাজি না। তাকে জিততেই হবে। সে সবসময় বড় সাইজের গরু কোরবানি দেয়। কোরবানির একসপ্তাহ আগে গ্রামের হাফিজ উদ্দিন, কালু মিয়া ও নবীর হোসেনের মধ্যে এই প্রতিযোগিতা চরম আকার ধারণ করে।



 



দেখতে দেখতে কোরবানির ঈদ চলে এলো। পশুর হাটে বিভিন্ন ধরনের গরু-ছাগল বিক্রি হচ্ছে। ক'দিন পরেই কোরবানির ঈদ। অনেকেই এরমধ্যে কোরবানির গরু-ছাগল কিনে ফেলেছে। মজিদ মিয়া প্রেসারের রোগী। বেশ কয়েকদিন ধরে সে অসুস্থ। অসুস্থতার কারণে পশুর হাটে যেতে পারছে না। বাধ্য হয়েই সে ঘরে বসেই তার ছেলে হাদিকে দিয়েই পশুর হাটের খোঁজখবর নিচ্ছে। কোন পশু কী দরে বিক্রি হচ্ছে, গ্রামের লোকজনরা কোন পশু কিনেছে বা কিনছে সে বিষয়ে খবরাখবর রাখছে। হাদি একেকবার একেকরকম খবর দিচ্ছে। গ্রামের হাফিজ উদ্দিন, নবীর হোসেন ও কালু মিয়া কোরবানির জন্য এখনো গরু-ছাগল কেনেনি। ঈদের দুদিন আগে কিনবে। হাদি বাবাকে বলল, গরু কেনার জন্য আর দেরি করা ঠিক হবে না। তাড়াতাড়ি কিনে ফেলতে হবে, নইলে দাম বেশি নেবে। অবশেষে মজিদ মিয়া সিদ্ধান্ত নেয় যে আগামীকালই গরু কিনবে।



 



হাদি পশুর হাটে গিয়ে দেখে যে, গরু-ছাগল কেনাবেচায় অনেক ধরনের অফার চলছে। কোনো বেপারি গরুর সঙ্গে ছাগল ফ্রি দিচ্ছে আবার কেউ ছাগলের সঙ্গে গরু ফ্রি দিচ্ছে। হাদি কোন অফার গ্রহণ করবে, তা ঠিক করতে পারছে না। তারপর সে ভাবল ছাগলের সঙ্গে যেহেতু গরু ফ্রি তাই ছাগল কেনাই ভালো হবে। ছাগলের দাম জিজ্ঞেস করলে বেপারিরা বিভিন্ন ধরণের দাম বলছে। কেউ বলছে ৫০ হাজার টাকা আবার কেউ বলছে ৬০ হাজার টাকা। সে বুঝতে পারে যে, ছাগলের দামের সঙ্গে গরুর দাম ধরা আছে। একইভাবে গরু কিনতে গিয়েও দেখে গরুর দামের সঙ্গে ছাগলের দাম ধরা আছে। আবার কোনো কোনো গরু-ছাগল একই সাইজের হলেও দামে বেশ ফারাক। কেউ বলে আমার গুরু ফরমালিন ও বিষমুক্ত খাবার খেয়েছে। মোটাতাজাকরণ ট্যাবলেট তো দূরের কথা কোনোরকম বাইরের খাবার খাওয়ায়নি। এই জন্য দামটা একটু বেশি। এসব দেখেশুনে হাদি রীতিমতো বিভ্রান্তে পড়ে গেল। কী করবে ভেবে পাচ্ছে না। যাহোক, কোনো অফারের প্রতি কিংবা বেপারিদের কথায় কান না দিয়ে দেখে-শুনে হাদি বড় একটি গরু ৯০ হাজার টাকা দিয়ে কিনে বাড়ি নিয়ে গেল।



 



গরু দেখে বাবা খুব খুশি। দাম একটু বেশি নিয়েছে এই আর কী! তবে এত বড় গরু এখন পর্যন্ত গ্রামের কেউ কিনতে পারিনি। এদিকে গ্রামের লোকজন দলে দলে গরু দেখতে আসছে। অনেকেই গরুর প্রশংসা করছে। এতে মজিদ মিয়া খুশিতে আটখানা। কারণ তাকে এবার কেউ হারাতে পারবে না। গরুর দামের চেয়ে মানসম্মান তার কাছে অনেক বড়। আবার যখন দামের কথা চিন্তা করছে, তখন তার মনটা বিষিয়ে যাচ্ছে। তার বিশ্বাস ছেলে গরুটি কিনে নিশ্চিত ঠকে গেছে। কী আর করা, নানা কিছু ভেবে তাকে শেষপর্যন্ত সন্তুষ্ট থাকতে হলো।



 



এদিকে হাফিজ উদ্দিন, নবীর হোসেনও বড় বড় গরু কিনেছে। তবে তারা মজিদের গরুর মতো অত বড় গরু কিনতে পারেনি। আর কালু মিয়া তার ছেলেকে নিয়ে ঈদের আগের দিন বিকালে গরু কিনতে গিয়ে বুঝতে পারে যে, তারা নিশ্চিত ধরা খাবে। কারণ বেপারিরা গরুর দাম খুব বেশি হাঁকছে। আর যেসব গরু বিক্রি হচ্ছে তার সাইজও বড় নয়। অবশেষে সে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে ছোটখাটো একটা গরু কিনল। তাই কালুর মনটা খুব খারাপ। গরু কিনে যখন বাপ-বেটা হেঁটে হেঁটে বাড়ির দিকে যাচ্ছে, তখন অনেকেই গরুর দাম জিজ্ঞেস করছে। দাম শুনে কেউ বলছে খুব ঠকা হয়েছে, কেউ বলছে গরুর সাইজটা খুব ছোট আবার কেউ বলছে গরুর তুলনায় দামটা খুব বেশি নিয়েছে। হাঁটতে হাঁটতে তারা যখন গ্রামের ভিতর প্রবেশ করল, তখন কালুর ছেলে কালুকে বলল, 'বাবা, কেউ গরুর দাম জিজ্ঞেস করলে আমি উত্তর দেব। তুমি কোনো কথা বলবা না। চুপ থাকবে।' 'ঠিক আছে তাই থাকব।' বাবা উত্তর দিল।



গ্রামের একজন বলল, 'কালু ভাই, গরুর দাম কত হলো?' বাবা কোনো কথা বলল না। ছেলে জবাব দিল, 'মাত্র ৩০ হাজার টাকা।' 'বল কী! এত কম দাম। তাহলে তো আমরা আগে গরু কিনে খুব ঠকে গেছি।' লোকটি উত্তর দিল। কিছুক্ষণ পর আবার আরেকজন গরুর দাম জিজ্ঞেস করল। কালুর ছেলে একইভাবে তাকে ৩০ হাজার টাকা বলে দিল। সেও খুব অবাক হলো। এভাবেই সে একের পর এক উত্তর দিয়ে যাচ্ছে। আর দাম শুনে তাদের গা হিংসায় জ্বলে যাচ্ছে। অনেকে বিশ্বাসও করতে পারছে না। যাহোক, কালু মিয়ার সস্তায় গরু কেনার খবরটি খুব দ্রুত গ্রামে ছড়িয়ে গেল। গরু দেখার জন্য লোকজন কালুর বাড়িতে ভিড় করল। যারা আগেই গরু-ছাগল কিনেছে তারা খুব মনে মনে পস্তালো। তারা চিন্তা করল তারা যদি কালুর মতো ঈদের আগের দিন গরু কিনতো তাহলে খুব লাভ হতো। অনেক টাকা বেঁচে যেত। ইত্যাদি ইত্যাদি...।



 



এই খবরটি মজিদ মিয়ার কানেও পৌঁছাল। কালু মিয়ার বাড়ির কাছেই মজিদ মিয়ার বাড়ি। সে লাঠিতে ভর দিয়ে আস্তে আস্তে হেঁটে কালু মিয়ার বাড়িতে গেল। উঠানে গরুটি বাঁধা ছিল। মজিদ মিয়া কালুর ছেলে দেখে বলল, 'গরুর দাম কত নিয়েছে?' '৩০ হাজার টাকা।' কালুর ছেলে উত্তর দিল। দাম শুনে মুহূর্তের মধ্যে মজিদের মাথায় একটা চক্কর দিল। সে যদি আজকে গরু কিনত তাহলে কমপক্ষে ৪০/৫০ হাজার টাকা লাভ হতো। নানা কথা চিন্তা করে সে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে গেল। অবশেষে লোকজন তাকে ধরাধরি করে বাড়িতে পৌঁছে দিল।



 



কালু মিয়া তার ছেলের কাছে জানতে চাইল, তুই লোকজনকে গরুর দাম নিয়ে মিথ্যা কথা বলছিস কেন? ছেলে বলল, 'শোনো বাবা। গরু কিনে আমরা যা-ই ঠকি না কেন, ওরা তো দাম শুনে জ্বলে পুড়ে মরছে।'



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৩৭৮৩১
পুরোন সংখ্যা