চাঁদপুর, শনিবার ১৩ জুলাই ২০১৯, ২৯ আষাঢ় ১৪২৬, ৯ জিলকদ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৩-সূরা নাজম


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১৬। যখন বৃক্ষটি, যদ্বারা আচ্ছাদিত হইবার তদ্বারা ছিল আচ্ছাদিত,


১৭। তাহার দৃষ্টি বিভ্রম হয় নাই, দৃষ্টি লক্ষ্যচ্যুতও হয় নাই।


১৮। সে তো তাহার প্রতিপালকের মহান নিদর্শনাবলি দেখিয়াছিল;


 


 


 


শূন্য ভিক্ষা পাত্রের মতো ভারি জিনিস জগতে আর কিছুই নেই।


-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।


 


 


ধর্মের পর জ্ঞানের প্রধান অংশ হচ্ছে মানবপ্রেম আর পাপী পুণ্যবান নির্বিশেষে মানুষের মঙ্গল সাধন।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
রাত তিনটার পৃথিবী
সাদিয়া আফরোজ নাবিলা
১৩ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


পরপর তিনটা গল্প লিখে কিছুক্ষণ চুপ থেকে রাগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে তিথি। কলমটা হাত থেকে রেখে দিবে নাকি খাতাটা সামনে থেকে সরিয়ে নেবে_এই নিয়ে যখন খানিকটা দোটানায় সে, তখনি মা এসে দাঁড়ালেন পাশে।



_হলো তোর গল্প লেখা? এবার খেতে আয় তো।



নিজেকে আবারো সামলে নিয়ে তিথি বললো, তুমি যাও, আমি আসছি।



আধাঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তিথি খেতে যাচ্ছে না দেখে মায়ের রাগ হলো খুব।



_টেবিলে খাবার রেখে দিলাম। যখন মন চায় খেয়ে নিস।



মেয়েদের মন বুঝে না কেন মায়েরা? এ নিয়ে একটা গল্প লেখা দরকার। মনে মনে ভাবে তিথি। আজ দুদিন ধরে গল্পের ভূত চেপে বসেছে ওর মাথায়। যে করেই হোক গল্প ওকে লিখতেই হবে। ব্যাপারটা যেনো অনেকটাই এরকম। গত ক্লাসে ম্যাডাম বলেছিলেন, শুধুমাত্র পড়াশোনা করলেই হবে না। অন্যান্য দিকেও খানিকটা ক্রিয়েটিভিটি থাকতে হবে। কথাটা যে ম্যাম তিথিকে লক্ষ্য করেই বলেছে তাও বুঝতে পেরেছে ও সহজেই। আগামীকালই কলেজের বাৎসরিক ম্যাগাজিনে গল্প জমা দেয়ার শেষ দিন। ক্লাসের ফাস্ট গার্ল হওয়া সত্ত্বেও এসবে ও কখনোই অংশগ্রহণ করে না। কিন্তু ম্যাডামের গতকালের কথাটা ওর মনে লেগেছে দারুনভাবে। আরেকটা গল্প কি লেখা উচিত? নাকি এই তিনটা থেকেই একটা জমা দিবে আগামীকাল? ভাবতে ভাবতে হঠাৎ দেয়াল ঘড়ির দিকে নজর পড়ে তিথির। একি! কটা বাজে? তিনটা বাজছে রাত! অথচ তিথির চোখে ঘুম নেই এক ফোঁটাও। কারো সামান্য একটা কথা যে ওকে এতটা প্রভাবিত করতে পারবে তা ও ভাবতে পারেনি। সত্যিই কি ওর এতটা গুরুতরভাবে নেয়া ঠিক হয়েছে কথাটা? নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করছে। মায়ের বলা অনেক কথা ওকে প্রায়ই ভাবায়। আপাতত আর কিছু ভাবতে চাইছে না তিথি। টেবিল ছেড়ে ব্যালকনি ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ও দেখতে থাকে রাত তিনটার বিবর্তনে ঘুরপাক খাওয়া পৃথিবীকে। চারিপাশের সবকিছুকে নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে শুরু করে তিথি। এ নিয়ে একটা গল্প কি তবে লিখেই ফেলবে এখন? রাত তিনটা যেনো ওর কাছে নিছক একটা সংখ্যা। ঘোরের মধ্যদিয়ে ও অতিবাহিত করছে প্রতিটা মুহূর্ত । রাতের অজস্র তারারা ওর সেই ঘোরকে কাটিয়ে দিয়ে ফিরিয়ে আনে বাস্তবতা। এক ফালি উজ্জ্বল চাঁদ ওর মনকে বিগড়ে দেয় তাৎক্ষণিক। নিজেই নিজেকে আশ্বস্ত করে তিথি। ব্যালকনি ছেড়ে ফিরে আসে বিছানায়। রাত তিনটার পৃথিবী ওর কাছে যেনো হয়ে ওঠে এক উজ্জ্বল সম্ভবনার প্রতীক।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৭২২৩
পুরোন সংখ্যা