চাঁদপুর, শনিবার ১৩ জুলাই ২০১৯, ২৯ আষাঢ় ১৪২৬, ৯ জিলকদ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরে আলোচিত জয়ন্তী চক্রবর্তীরর খুনি আটক, ১৮ আগস্ট বিকেল ৩টায় চাঁদপুর পিবিআই কার্যালয়ে এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৩-সূরা নাজম


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১৬। যখন বৃক্ষটি, যদ্বারা আচ্ছাদিত হইবার তদ্বারা ছিল আচ্ছাদিত,


১৭। তাহার দৃষ্টি বিভ্রম হয় নাই, দৃষ্টি লক্ষ্যচ্যুতও হয় নাই।


১৮। সে তো তাহার প্রতিপালকের মহান নিদর্শনাবলি দেখিয়াছিল;


 


 


 


শূন্য ভিক্ষা পাত্রের মতো ভারি জিনিস জগতে আর কিছুই নেই।


-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।


 


 


ধর্মের পর জ্ঞানের প্রধান অংশ হচ্ছে মানবপ্রেম আর পাপী পুণ্যবান নির্বিশেষে মানুষের মঙ্গল সাধন।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
ভালোবাসার কান্না
আশরাফ চঞ্চল
১৩ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বলতে গেলে সেটা ছিলো ভালোবাসার বিয়ে। দুজন দুজনকে মনে ধরেছিলো খুব। দুজনের মন উতলা হলেও দেখা-সাক্ষাতের সুযোগ ছিলো ছিলো কম। তখন ভালোবাসা কিংবা প্রেমঘটিত বিষয় ভালো চোখে দেখতো না কেউ। তাছাড়া মেয়েটা ছিলো অনেকটা রক্ষণশীল পরিবারের। তবুও অনেকটা লুকিয়ে চুপিচুপি টিএসসি চত্বরে দেখা যে হতো না তা কিন্তু নয়। তবে মাঝে মধ্যে শুধু নিয়মিত ছিলো চিঠি আদান-প্রদান। কিন্তু এভাবে আর কতো দিন!



মাওলানা ইব্রাহিম খাঁর পরিজনরা যখন বিষয়টা জানলো যে, ছেলে ঢাবির রসায়নের শিক্ষক। একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ পুলিশ অফিসার ফয়জুর রহমানের ছেলে। তখন আর রাজি না হয়ে পারলো না। দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ে হয়ে গেলো। অনেকটা সাদামাটাভাবেই। কারণ, যুদ্ধ পরবর্তী সময় তো, ১৯৭৩ সাল। সকলের অবস্থাই ছিলো অনেকটা নাজুক।



হুমায়ূন আহমেদ তো লেখক মানুষ। গুলতেকিনকে কাছে পেয়ে বিনা চেষ্টায় তাঁর কলমের ডগায় যেনো নেমে এলো আশ্চর্য আলাদীন। লেখা তো আর লেখা নয়, এ যেনো রত্ন ভা-ার। দুজনের কী যে ভালোবাসাবাসি, কী যে সুখ, কী যে আহ্লাদ। কলমের নিপ বেয়ে নেমে এলো লেখা আর লেখা। খুব কম সময়েই তিনি দখল করে নিলেন কোটি কোটি পাঠক হৃদয়। একদিন প্রশ্ন করা হলো, এতো দুর্লভ লেখা লিখেন কী করে? তিনি উত্তর দিলেন, হাতের কাছে শ্রেষ্ঠ একজন নারী আছে বলেই! গুলতেকিনকে তিনি এতোটাই ভালোবাসতেন।



তিন দশক পর একটা অচেনা জ্বরে আক্রান্ত হলেন হুমায়ূন। এতো বুদ্ধিমান, বিচক্ষণ মানুষটি মুহূর্তে খেই হারিয়ে ফেললেন। হারালেন গুলতেকিনের মতো একজন শ্রেষ্ঠ নারীকে। আদরের ছেলেমেয়ে। ভুল ভাঙ্গলো কিছুদিন পরেই। কিন্তু তখন যে কিছুই করার ছিলো না। তিনি তো সাধারণ কেউ না যে মুখ ফুটে বলবেন, 'গুলতেকিন, আমার চরম ভুল হয়ে গেছে, ক্ষমা করে দাও।'



ভুল চিকিৎসায় ১৯ জুলাই ২০১২ তারিখে মারা গেলেন হুমায়ূন আহমেদ। গুলতেকিন কেঁদেছে অনেক। ভালোবাসার মানুষকে অন্য একজন এসে বুক থেকে কেড়ে নিয়ে গেলো, কার কান্না না আসে? আর গুলতেকিন তো সাধারণ কেউ নয়। সে তো শ্রেষ্ঠ নারী। শ্রেষ্ঠ নারীদের প্রকাশ্যে কাঁদতে নেই। তাতে শ্রেষ্ঠত্ব নষ্ট হয়। শুধু নীরবে গুমড়ে চোখের জলে ভেসেছেন। কাউকে বুঝতে দেননি।



গুলতেকিন ভালো করেই জানতেন, বুঝতে পারলে আর রক্ষা নেই। সব বাধা ডিঙ্গিয়ে হুমায়ূন তার কাছে ছুটে আসবেই। তিনি হুমায়ূনকে যে ভালোবাসেন। ভালোবাসার মানুষ তাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে ঠিকই। তাই বলে তো তিনি ভালোবাসার মানুষকে ছোট হতে দিতে পারেন না। প্রকৃত ভালোবাসায় কখনো জিদ থাকে না।



২৮ জুলাই ২০১২ হুমায়ূন আহমেদের স্মরণ সভায় অনেকেই কাঁদলেন। সবাইকে অবাক করে দিয়ে প্রকাশ্যেই কেঁদে উঠলেন শ্রেষ্ঠ নারী গুলতেকিন। কী অঝোর ধারায় কান্না। এ কান্না যেনো আর থামতেই চায় না। ভালোবাসার কান্নার রূপ এ রকমই হয়। কিন্তু মুখ ফুটে তিনি কিছুই বললেন না। সব কথা তো আর বলতে হয় না, বুঝতে হয়। একটা মানুষ সহজেই সব বুঝতে পারতো। কিন্তু সেই মানুষটা তো আর নেই। তিনি কোনোকালেও আর আসবেন না।



আশরাফ চঞ্চল। খারুয়া, নান্দাইল, ময়মনসিংহ। ০১৯৪৩৯৮৩১৫২।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৭৫৪২৯
পুরোন সংখ্যা