চাঁদপুর, শনিবার ৬ জুলাই ২০১৯, ২২ আষাঢ় ১৪২৬, ২ জিলকদ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫২-সূরা তূর

৪৯ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী

৪১। না কি অদৃশ্য বিষয়ে উহাদের কোন জ্ঞান আছে যে, উহারা এই বিষয়ে কিছু লিখে?

৪২। অথবা উহারা কি কোন ষড়যন্ত্র করিতে চাহে? পরিণামে কাফিররাই হইবে ষড়যন্ত্রের শিকার।

৪৩। না কি আল্লাহ ব্যতীত উহাদের অন্য কোন ইলাহ আছে? উহারা যাহাকে শরীক স্থির করে আল্লাহ তাহা হইতে পবিত্র!


assets/data_files/web

মনের যাতনা দেহের যাতনার চেয়ে বেশি। -উইলিয়াম হ্যাজলিট।


 


যদি মানুষের ধৈর্য থাকে তবে সে অবশ্য সৌভাগ্যশালী হয়।


 


ফটো গ্যালারি
যুগল ছবি
সোহেল নওরোজ
০৬ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

রেবেকা চুল বেণি করার সময় অনর্গল কথা বলে। এতে নাকি কাজটা সহজ হয়ে যায়! এ বাড়িতে তার চুল বেঁধে দেওয়ার মতো কেউ নেই। এ আক্ষেপের কথা আফজাল অনেকবার শুনেছে। সে অপেক্ষা করে চুল বাঁধা শেষ হওয়ার জন্য। রেবেকা নিজেকে কিছুক্ষণ দেখে আয়না নিয়ে তার কাছে আসবে। পাশে বসে মরচেপড়া আয়নার ঘোলাটে কাচের মধ্যে দুজনকে একসঙ্গে ধরবে। আবেগ মেশানো কণ্ঠে বলবে, 'দেখো, তোমার পাশে আমাকে না একেবারেই মানাচ্ছে না! দিনে দিনে কেমন কালো হয়ে যাচ্ছি! কত করে বললাম দুজনের একটা ছবি তুলে রাখতে, তুমি কানেই তুললে না!'

আফজাল চেষ্টা করেনি তা না। এ উত্তাল সময়ে মানুষ চাল-ডালের দোকান খোলারই সাহস পাচ্ছে না, ছবি তোলার বিলাসিতা কে করবে! তাদের বাজারে একটা স্টুডিও ছিল। বোরহান নামের যে ছেলেটা ছবি তুলত, তাকে কয়েক দিন ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আফজাল সেদিন আলোছায়া স্টুডিওতে গিয়েছিল। জমজমাট বাজারটাতে হাতে গোনা দু-চারজন ঘোরাফেরা করছে। সবার মধ্যে অজানা শঙ্কা। যেকোনো সময় তাদের গ্রামেও নাকি আর্মি ঢুকবে! ফেরার পথে বোরহানের বাড়ি হয়ে এসেছিল। তার বাবা শুষ্কমুখে বারান্দায় বসে ছিলেন। দৃষ্টি উদ্ভ্রান্ত। তিনি আফজালকে কাছে ডেকে আতির্র স্বরে বলেন, 'বাবা, দেশটাকে বাঁচাবা না!'

রেবেকা অনেক দিন আয়নার সামনে বসে বেণি করে না। লম্বা, ঝরঝরে চুলগুলো জট পাকিয়ে গেছে। গায়ের রং সত্যিই কালো হয়ে যাচ্ছে। সে কেবল দিন গুনছে। আফজাল ফিরে এলেই সব আবার আগের মতো হবে। নতুন একটা আয়না কিনবে। বড় ঝকঝকে আয়না। যাতে সহজেই দুজনকে একসঙ্গে দেখা যায়। আর স্টুডিওতে গিয়ে বেশ কয়েকটা ছবি তুলবে। সবচেয়ে ভালো ছবিটা বড় করে তাদের ঘরে বাঁধিয়ে রাখবে। সেদিকে তাকালেই মন ভালো হয়ে যাবে।

বোরহান যুদ্ধ থেকে ফিরে এসেছে। তার স্টুডিওর নাম বদলে রেখেছে 'মুক্তির আলো'। তার গ্রামের প্রত্যেককে সে বিনা মূল্যে একটা করে ছবি তুলে দিচ্ছে। ছবিতে তাদের মুখ থাকবে হাসি হাসি। নয় মাসের সংগ্রাম শেষে বিজয়ের আনন্দে ঝলমলে ছবিগুলো সে বারবার দেখবে। দেখে তৃপ্তি পাবে। গ্রামের প্রায় সবার ছবি তোলা শেষ হলেও একজনের ছবি ক্যামেরাবন্দী করতে পারেনি। মেয়েটা একক কোনো ছবি তুলবে না। একজনের জন্য অপেক্ষা করছে। সে ফিরে এলেই তার স্টুডিওতে গিয়ে যুগল ছবি তুলবে। বোরহান কখনো কি সেই ছবিটা তুলতে পারবে?

আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৪৭৭২৭
পুরোন সংখ্যা