চাঁদপুর, শনিবার ১ জুন ২০১৯, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৬ রমজান ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্


৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


২২। আকাশে রহিয়াছে তোমাদের রিযক্ ও প্রতিশ্রুত সমস্ত কিছু।


২৩। আকাশ ও পৃথিবীর প্রতিপালকের শপথ ! অবশ্যই তোমাদের বাক্-স্ফুর্তির মতই এই সকল সত্য।


২৪। তোমার নিকট ইব্রাহীমের সম্মানিত মেহমানদের বৃত্তান্ত আসিয়াছে কি?


 


 


 


assets/data_files/web

ভালোবাসার কোনো অর্থ নেই, কোনো পরিমাপ নেই।


-সেন্ট জিরোমি


 


 


যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ নয়, সে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ নয়।


 


 


ফটো গ্যালারি
দেয়ালের দু পাশে
নিঝুম খান
০১ জুন, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

আজ ঈদের দিন। সবাই খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে গোসল সেরে ঈদের নামাজে যাবে। ছোটরা বড়দের থেকে বখ্শিশ নেবে। ঘরের ঘরে আনন্দের জোয়ার বইবে। কিন্তু এগুলো এখন দেখতে পাবো না। কতদিন ঈদের সেমাই খাইনি। একা থাকার এই এক জ্বালা। সবেমাত্র পাশের ঘরে নতুন বাসিন্দা এসেছে। আমার আবার এ ঘর থেকে বের হওয়া নিষেধ। পায়ের আওয়াজ শুনে মনে হলো লোকজন পাশে থাকার ঘরটি সাজিয়ে-গুছিয়ে মাত্র বেরুলো। একতলা বাসাটায় ঘরগুলো এক কক্ষবিশিষ্ট। আমার ঘরের সাথেই ঘরটা। মাঝখানে কোনো জানালাও নেই। দেয়ালের মাঝখান বরাবর ছোট একটা ছিদ্র দেখা যাচ্ছে, সম্ভবত ইঁদুরের গর্ত। ডাক দিয়ে কি কথা বলবো? একা একা আর ভালো লাগে না। সাতপাঁচ না ভেবেই গলাটা হালকা কাশি দিয়ে ডাক দিলাম,

-এই যে শুনছেন। কেউ আছেন?...কথা বলুন।

-জ্বী, বলুন।

স্বরটা কিশোর ছেলেদের। গলা শুনে মনে হলো আমার নাতির বয়সী হবে হয়তো। এই সময় কিশোররা উড়ু উড়ু মনের হয়। একা থাকার প্রবণতা ওদের মাঝে দেখা যায় না। মন খারাপ থাকায় হয়তো প্রথম ডাকেই সাড়া দেয়নি। একটু ইতস্তত করেই একটানে বলতে লাগলাম,

-আমি মনসুর। আপনার পাশের বাসায় বহুদিন যাবৎ আছি। একা থাকি। কথা বলার কেউ নেই। তাই ভাবলাম আপনাকে একটু ডাক দিয়ে দেখি, কথা বলার একজন মানুষ থাকলে নিজেকে একা মনে হয় না।

-তা অবশ্য ঠিক বলেছেন। আমার নাম রেজাউল। আপনি আমায় তুমি করে বলতে পারেন।

খুব শান্তভাবেই কথা বললো ছেলেটি। তবে ওর গলায় কেমন যেনো একটা কষ্ট বিঁধে আছে। শুনলেই মায়া চলে আসে।

-গলার স্বর শুনে মনে হচ্ছে তুমি আমার নাতির বয়সী হবে। সে অবশ্য আমার মতো একা থাকতে পছন্দ করে না। মাঝে মাঝে আমায় দেখতে আসে, চলে যায়।

-আমি একা থাকতে পছন্দ করি কীভাবে বুঝলেন?

-তোমার কথায় লুকোনো একটা সুর আছে। যার ভেতর সুর আছে সে শিল্পী। বেশিরভাগ শিল্পীরাই একা থাকতে পছন্দ করে।

-ঠিক বলেছেন। শুরুতেই শিল্পের দিকে চলে গেলেন, আপনি লেখালেখি করেন নাকি?

-করতাম। লেখালেখির সাথে সংযুক্ত ছিলাম বহুদিন। বিশেষ করে কবিতা আর গল্প লেখার প্রতি ঝোঁক ছিলো।

-এখন নেই?

-লিখি না।

-কেনো?

-বয়স হওয়ার পর থেকেই মাথায় সব এলোমেলো হয়ে আসে। এখানে তো খাতা-কলমও নেই যে, মনে আসা লাইনগুলো টুকে রাখবো। নিজের লেখা দু-একটা কবিতা অবশ্য মাথায় আছে।

-আমার কবিতা শুনতে অনেক ভালো লাগে।

-শুনবে?

-শুনালে অবশ্যই শুনবো।

আবারো হালকা কাশি দিয়ে গলা ঝেড়ে শুরু করলাম :

'কবিতার নাম অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার গল্প-

ভোরের প্রথম আলোয়

মুষলধারে গল্প নামে পৃথিবীর মানচিত্রে,

অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার গল্প।

অজস্র চোখের ভীড়ে উড়ে চলে অজানা দুটি চোখ,

অভুক্ত পেটের অভিযোগ বুকে জড়িয়ে।

বিশালাকার পৃথিবীর আনাচে-কানাচে ঘুরতে থাকে ইঁদুরের মতো,

জীবনের সন্ধানে।

গোধূলির কোলে গল্প ফুরিয়ে আসে

হাসি বা দীর্ঘশ্বাসে,

আবারো ভোরের আলোয় গল্প নামে পৃথিবীতে

অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার গল্প।'

কিছু কিছু জায়গায় আটকে গিয়েছিলাম। তবুও ছেলেটা নিশ্চুপ হয়ে শুনেছে। হয়তো ওর চোখের পলকও পড়েনি, আচমকা মন্ত্রমুগ্ধ হলে মানুষ চুপ থাকে।

-বাহ্! আপনিতো সুন্দর লিখতেন।

-তুমিও খুব ভালো শ্রোতা। আজ ঈদের দিন সবাইকে ফেলে চলে এলে, খারাপ লাগেনি?

ছেলেটা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো,

-মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত খারাপ লেগেছিলো। হঠাৎ করেই চোখের সামনে স্বজনদের মুখ ভেসে উঠছিলো। তবে এখানে আসার পর আর পৃথিবী নিয়ে ভাবতে ইচ্ছে হচ্ছে না।

-আমার কম ঘুমানোর অভ্যাস ছিলো। তবে পৃথিবীর অতৃপ্ত ঘুম কবরে এসে পূরণ হয়েছে। যখনই ইচ্ছে হবে আমায় ডাক দিয়ো, এখন বিশ্রাম নেবো। মাটির ঘরে ভালোই ঘুম হয়। মাথাটা আবারও যেনো এলোমেলো হয়ে আসছে...

আজকের পাঠকসংখ্যা
১১২৬৫১৭
পুরোন সংখ্যা