চাঁদপুর। শনিবার ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮। ২৪ ভাদ্র ১৪২৫। ২৭ জিলহজ ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪১-সূরা হা-মীম আস্সাজদাহ,

৫৪ আয়াত, ৬ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১৩। তারা যদি বিমুখ হয় তবে বল : আমি তো তোমাদেরকে সতর্ক করেছি এক (আযাবের) বজ্রের; আ’দ ও সামূদের বজ্রের অনুরূপ।

১৪। যখন তাদের নিকট রাসূলগণ এসেছিলেন তাদের সম্মুখ ও পশ্চাৎ হতে (এবং বলেছিলেন) তোমরা আল্লাহ ব্যতীত কারো ইবাদত করো না। তখন তারা বলেছিল : আমাদের প্রতিপালকের এইরূপ ইচ্ছা হলে তিনি অবশ্যই ফেরেশতা প্রেরণ করতেন। অতএব তোমরা যেসব সহ প্রেরিত হয়েছো, আমরা তা প্রত্যাখান করছি।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন



 


সৎ উপদেশকে টাকার মূল্যে পরিমাপ করা যায় না।                             


-ইরাসমুস।


না চাওয়া সত্ত্বেও যখন তোমাকে কিছু দেওয়া হয়, তা গ্রহণ করো এবং তার প্রতিদান দিও।

 


ফটো গ্যালারি
ধূসর স্বপ্নে পারুল
আব্দুর রাজ্জাক
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মেয়েটি বিকেল গায়ে মেখে টানটান উত্তেজনা ও দুরুদুরু বুকে হাঁটতে লাগলো। পনেরো বছর পরে আজ তার মন ভীষণ ভারাক্রান্ত ও মোহগ্রস্ত । স্মৃতি যেনো তার মনে ঢের পাহাড় গড়েছে। সংসার যাত্রায় স্মৃতি রোমন্থনে কিছুটা ব্যথাহত হলেও আজ সে তরুর স্মৃতিতে সরব। নিশুতি রাতে চোখের জলে ভাসে, কখনো নিশাচরী পাখীর সঙ্গী হয়। কখনো একাগ্রতায় নিমগ্ন থাকে। আধুনিক যুগ। যোগাযোগব্যবস্থার সহজলভ্য থাকলেও মেয়েটি বড় অভিমানী কোনো যোগাযোগ রাখেনি তরুর সাথে। যোগাযোগ রাখা সমীচীন নয়। তবু অবুঝ মনে জীবনের এমন কিছু স্মৃতি থাকে যা হারানো পথে হাঁটায়। আজ কেন যানি মন দরিয়ায় উতাল-পাতাল ঢেউ খেলানো করে, মাতাল হাওয়ায় নাড়িয়ে গেছে মন। খুলেগেছে মনের সব বন্ধ দুয়ার। পারুল দিশেহারা হয়ে খুঁজে মরে পুরাতন স্মৃতি, পুরাতন ডায়েরী, নোটবুক, কোথাও কিছু নেই, কেবল ধূসর স্মৃতি। পনেরো বছর আগে...তারপর পৃথিবীর প্রতিটি নদী-সাগর কতোবার মোহনায় এসে মিলেছে তার শেষ নেই। পারুল তার মায়ের দারস্থ হয়ে তরুর খোঁজ নেয়, জানতে পারে তরু ঈদে বাড়ি আসে। পাত্রস্থ পারুল কীভাবে তরুর সাথে যোগাযোগ করবে! ভাবে আর জীবনের ব্যর্থতাকে পুঁঁজি করে বড় বড় দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। তরু আজ লতা-পাতায় মহীরুহ । সে বড় চাকুরী করে। ঈদের ছুটিতে বাড়ি আসে, এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। তরু-পারুল এক সাথে স্কুলে যেতো, কতো শত স্মৃতি ছিলো এসব তরুকে ভাবনায় না। দুই একটু মনে পড়ে, নয় তো পড়ে না। পারুল বোরখা পড়ে বাবার বাড়ি যাচ্ছিলো, পথে যেতে যেতে কাকতালীভাবে তরুকে দেখতে পেলো। সে আরো স্মার্ট, সুদর্শন হয়েছে। পারুল আস্তে আস্তে তরুর কাছে এগিয়ে গেলো। পারুল কাছে গিয়ে জানতে চাইলো, পারুল কেমন আছো?



বোরখা পরা আপাদমস্তক একজন পাক্কা গৃহিণীর কণ্ঠে এমন প্রশ্নে কিছুটা ইতস্ততবোধ হয়েও হঠাৎ তরুর মনে কিছুটা ভাবান্তর হলো। কৌতূহলী মন হিসাব-নিকাশ করে বলে ওঠলো, ও হ্যাঁ তুমি পারভীন, পারুল, পারু। বিস্মিত পারুল তরুর চোখে অপকল চেয়ে রইলো। শুধু বললো, পনেরো বছরে পরেও তুমি আমার নামটি মনে রেখেছো! চেনা কণ্ঠস্বর, পুরানা সুরে মনের গহিনে বাঁশি বাজিয়ে গেলো যেন। পারুলের ভিতর-বাহিরে জলোচ্ছ্বাস বয়ে যাচ্ছে। আবার চৈত্রের কাঠফাটা রৌদ্রে শুকিয়েও যাচ্ছে। এই সুখদুঃখের সন্ধিক্ষণে পারুলের মনে ভাবনার উদ্রেক হলো, তরু তো আমার জীবনের সুখের একমাত্র অবলম্বন আর দুখের সঙ্গী হতে পারতো! তারপর তুমি কেমন আছো? কোথায় থাকো, কী করো? আমার কথা কি তোমার মনে আছে? জানো! তোমাকে কতো খুঁজেছি কতো রাত আমি চোখের জলে ভেসে গেছি! পারুল তরুকে বললো চলো সামনে একটু হাঁটি, পুরানা পথ, চেনা পথ। এ পথে দুজন বহুবার হেঁটেছে। গ্রামের মানুষের নানান কথা উপেক্ষা করে এক সাথে চলেছে, বুনেছিলো জীবনের স্বপ্ন। জীবনের স্বপ্ন পূরণের কাছে এলেও বৈচিত্রময় এ জীবন স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখেনি। তরু আজ দূরের মানুষ পারুল ভীষণ অভিমানী মেয়ে। দখিনা হাওয়া বইছে। স্কুল থেকে পারুলের বাড়ি বেশ খাণিক দূরে। পারুল ও তরু হাঁটতে শুরু করেছে। পারুল হারনো জীবনের সোপানে সোপানে নিমগ্ন ও বিষাদে ভরা জীবনের বাকি পথ। ছলছল চোখে একবার তরু দিকে তাকায় এক পা হাঁটে আবার কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বলে ওঠে তরু, তোমার মনে আআছে কি-না! একবার পরীক্ষার সময় তোমার টাইফয়েড হয়েছিলো, তুমি একেবারে নির্জীব হয়ে গিয়েছিলে, কেউ বলেনি তুমি বাঁচবে। সেবা করার মতো তোমার পাশে কেউ ছিলো না, তোমার বাবা ছিলো। তিনি ছিলেন ডাক্তার নিয়ে ব্যস্ত। তোমার আকুলতা আর রোগের ভীষণ মাত্রা দেখে আমার মনকে ধরে রাখতে পারলাম না। তোমাকে সুস্থ করার সকল দায়িত্ব আমার কাঁধে তুলে নিলাম আপন মনে। জ্বর এতো বেশি ছিলো যে, তোমার কোনো হুঁশ ছিলো, মাথায় পট্টি দেয়া, ঔষধ খানো, ভাত নরম করে খাইয়ে দেয়া, আমি তোমার একমাত্র উপলক্ষ হয়ে গেলাম। একদিন সন্ধ্যায় তোমার বাবা বাসায় ডাক্তার নিয়ে এলো। ডাক্তার দেখেশুনে বললো, তোমার একটি বাল্ব নষ্ট হয়ে গেছে, তোমার বাবা শুনে বাক্রুদ্ধ হয়ে গেলো, বুকের চাপা কান্না নিয়ে তাকে ব্যর্থ শান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করলাম। আমার পড়াশোনা গোল্লায় গেলো। ডাক্তার ঔষধপত্র লিখে দিলো, একটু ভালো তো একটু মন্দ। দুই তিন পরে নদীর ঘাটে গোসল করতে গিয়েছিলে আমিও তোমার সাথে গিয়েছিলাম। সে কি মর্মান্তিক দৃশ্য! খালিগায়ে তোমার কঙ্কালসার দেহে হাড্ডিগুলো গোনা যাচ্ছিলো। আমি আর কান্না ধরে রাখতে পারলাম না। তোমার সামনেই অঝরে কেঁদে দিয়েছিলাম। বাসায় এসে তোমার অবস্থা মনে করে দরজা বন্ধ করে বুক ফাটিয়ে কেঁদেছি। আমার সেবা-যত্নে তোমার বাবা মুগ্ধ হলেন এবং বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার প্রস্তাব দিলেন। আমি মাথা নেড়ে সায় দিলাম। তোমার শারীরিক উন্নতি না হওয়ায় তোমার বাবা উন্নত চিকিৎসার জন্যে বড় ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেন। আমি আর পরীক্ষা দিলাম না। জীবনের লেখা পড়ার সমস্ত পাঠ গুছিয়ে বাড়ি চলে এলাম। নিজেকে আর পড়ার টেবিলে নিয়ে যেতে পারলাম না।



ডাক্তারের পরামর্শ, ঔষধ ও তোমার মায়ের আন্তরিক সেবায় আস্তে আস্তে ভালো হতে লাগলে। তোমাকে দেখার প্রাণবন্ত ইচ্ছা, একটু তোমাকে কাছ থেকে অনুভব করা তাই লোকলজ্জার ভয় দূরে সরিয়ে সেবার তোমাদের বাড়ি চলে গেলাম। তোমার মনে আছে কি? মানুষের সেই রকমের কৌতুহল...তোমাদের কোথায় কোথায় জ্ঞাতি আছে তা নিয়ে গবেষণা শুরু করে দিলো! কোনো তথ্য না পেয়ে তোমার-আমার নামে কতো কি রটিয়ে দিলো! তোমার বাবা-মা ভালো ছিলেন বলে সে-যাত্রায় আমি বেঁচে গেলাম। এগুলো তোমার মনে আছে নয়তো এ নিয়ে কিছু ভাবোনি কোনো দিন। আজ একটু পুরানা দিনের কথা বলে হালকা হতে চাই। তরু পারুলের কথাগুলো শুনতে থাকে। খুব আবেগ নিয়ে কথা বলছে পারুল। তরু তাই শুনে যাচ্ছে। পারুল বলতে থাকে, তোমার সাথে আমার ওইটুকুই শেষ যোগাযোগ। তারপর আমার জীবনে বয়ে গেছে কতো কালবৈশাখী ঝড়, কতো অমাবস্যার কালো অন্ধকার তার হিসাব রাখতে পারিনি। বাবার সংসারের অভাব অনটন। বাবার সংসারের বড় মেয়ে। ইচ্ছা করেও বাবার সংসারে বসে থাকার উপায় ছিলো না। বের হয়ে গেলাম উপার্জনের জন্যে। আমাদের মতো গরীব, অল্পশিক্ষিত, তাছাড়া আমার রূপ চলার পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়ালো। পদে-পদে বিড়ম্বনা আর হতাশা নিয়ে প্রতিজ্ঞা করলাম যেভাবে হোক নিজেকে ঠিক রাখতে হবে। জীবন যখন বেদনাহত, সব দুয়ার বন্ধ হয়ে যায় তখনো বেঁচে থাকার স্বপ্ন দ্যাখে আমিও তাই। বাবা ছিলো আমার বন্ধু, সব সুখদুঃখের ভাগী। বাবার কাছে তোমার শারীরিক খোঁজখবর জানতে চিঠি দিয়েছিলাম। অনেক চেষ্টা করে তোমার মুঠোফোন নাম্বারও জোগাড় করেছিলাম। চিঠির উত্তর পাইনি বলে আর ফোন করার ইচ্ছা হয়নি।



আমার মা বাবা তোমাকে ভীষণ পছন্দ করতো! তাই আমার বিয়ে নিয়ে ভাবলেও একটু ওয়েট করতে চাইতো। মা তো প্রায় আমার কাছে তোমার খোঁজখবর নিতো। আমি তাকে তোমার ব্যাপারে কিছুই বলতে পারতাম না। বাবা বিরক্ত হয়ে আমার বিয়ের জন্যে তোড়জোড় শুরু করে দিলেন। সামান্য শিক্ষিত গরীব বাবার মেয়ের জন্যে কেমন প্রস্তাব আসবে! বাবা আমাকে বিয়ে দিয়ে তার দায়িত্ব থেকে মুক্তি নিলেন। শুরু হলো আমার জীবনের করুণ অধ্যায়। বদ অভ্যাসে আসক্ত স্বামী প্রতিদিন কুখাদ্য খেয়ে বাসায় ফিরতো। এক-দুদিন পরে প্রতিবাদ করলে আমার উপর সে ভীষণ চটে যেতো। এ নিয়ে কথার কাটাকাটি হতো প্রায়। সে যেদিন আমার গায়ে প্রথম হাত তুলে তখন আমি প্রথম সন্তানসম্ভবা। তার নির্যাতনে আমি মাথা ঘুরে পড়ে গেলে কয়দিন পরে আমার প্রথম সন্তানটি এ পৃথিবীর আলোর মুখ দেখার আগেই আমাকে কাঁদিয়ে চলে গেলো। সে কি ভীষণ যন্ত্রণা মা ছাড়া পৃথিবীতে আর কে বুঝবে!



আমার সমস্ত পৃথিবীতে আমি ছাড়া আর কেউ রইলো না। দিনদিন স্বামীর নিগৃহ তার মাতলামি আর দারিদ্র আমার বেঁচে থাকা অর্থহীন হয়ে গেলো। সংগ্রাম করার সাহস আগে হারিয়েছি। তাই আর কিছু করার ইচ্ছেও জাগে না। ও হ্যাঁ, আমি কেবল আমার কথা বলছি! আমার এ বলার কোনো শেষ নেই। জীবনে যতো আশা করেছি ততোবার ভেঙ্গেচুরে গেছে। একটানা কথা বলে পারুল উদাস হয়ে এদিক-ওদিক তাকাতে থাকে। তরু চুপচাপ হাঁটতে থাকে। পারুল কিছুক্ষণ পর বলে, তরু অনেক কথা বলে ফেললাম। এবার তোমার কথা বলো। কেমন চলে তোমার জীবন?



পারুলের জীবনের কথামালা অবর্ণনীয় যন্ত্রণার। বলা শেষ হয় না যেন। তরুর চোখ ছলছল করে। গ্রামের মেঠো পথ। সেই সকল পেরিয়ে দুপর, দুপরও প্রায় শেষ আর একটু পরেই সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসবে। রাস্তার ধারে দুই একজন উৎসুক নারীপুরুষ কেউ পারুলের পরিচিত অথবা অপরিচিতরা তাদের প্রত্যক্ষ করেছে। কেউ আগবাড়িয়ে জিজ্ঞেস করেছে, পারুল কেমন আছো, কবে এলি, সাথে কে? পারুল আমতা-আমতা বলে দায় সেরেছে। পথ প্রায় শেষ আর একটু পরে পারুলের বাড়ি। গোধূলী লগ্ন। সন্ধ্যা অতি সনি্নকটে। আকাশে খয়েরি মেঘ ডানা জাপটায়। চারদিক পাখির কলরব। কর্মব্যস্ত মানুষের মোহনায় ফেরার সুর ভেসে আসছে। এই সন্ধ্যা আর মোহনায় মিলনের মোহকালে তরু আর পারুল সম্পূর্ণ আলাদা গ্রহের মানুষ। প্রছন্ন অন্ধকার । পারুলের হাতে সময় খুবই কম। জীবনে বহু অপেক্ষা করেছে। তরুর জন্যে এই অন্ধকারে অপেক্ষা তার জন্যে আরো ভয়ের, অভিশাপের, পাপের তাই সে ভীত মনে আরো বেশি শঙ্কিত। পাশাপাশি তবু ঘন অন্ধকারে মুখখানি দেখা যায় না। পারুল তরুকে বললো, কল দিও তরু...না দিলে ভীষণ কষ্ট পাবো, মরে যাবো। অন্ধকারে নারী কণ্ঠ শুনে ঘরে ফেরা মানুষের মধ্য শোরগোল পড়ে গেলো। তরুর কণ্ঠ সন্ধ্যায় মিলিয়ে গেলো।



হারানো প্রেমকে ক্ষণকালের জন্যে কাছে পাওয়া। তার সাথে ভাব বিনিময় তাকে কাছে পেয়ে দ্বিতীয় বার স্বপ্ন দেখা এটা যুগ যুগ ধরে প্রেমিক যুগলের মনোবৃত্তি ও মনোবাসনা। কিন্তু বহমান এ পৃথিবীতে নদীর স্রোতের মতো আমাদের জীবন। এ প্রবাহমান জীবন চেতনা সত্যি আবেগ ও স্বপ্নকে উপেক্ষা করে বলে আমরা স্বপ্নের কাছাকাছি এসেও নিমিষে হারিয়ে যাই বেদনার নীল সাগরে।



তবে মন! মন তো মনই আকাশে উড়তে চায়, হারানো সবকিছু ফিরে পেতে চায়। তাই অপেক্ষা করে কালের খেয়ায়।



তারপর কতো চন্দ্রভূক অমাবস্যা কেটে গেল পারুলের মোবাইলে...পৃথিবীর যতো সুখ আমি তোমাার ছোঁয়াতে খুঁজে পেয়েছি, মনে হয় আমি জন্ম-জন্ম ধরে তোমাার কাছে রয়েছি। এ গানের রিংটোন আর কোনোদিন বেজে উঠলো না।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৩৩৩৫৫
পুরোন সংখ্যা