চাঁদপুর। শনিবার ১৩ জানুয়ারি ২০১৮। ৩০ পৌষ ১৪১৪। ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৯

বিজ্ঞাপন দিন

jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৪-সূরা সাবা


৫৪ আয়াত, ৬ রুকু, মাক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


০১। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি নভোমন্ডলে যা আছে এবং ভূমন্ডলে যা আছে সব কিছুর মালিক এবং তাঁরই প্রশংসা পরকালে। তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।


০২। তিনি জানেন যা ভূগর্ভে প্রবেশ করে, যা সেখান থেকে নির্গত হয়, যা আকাশ থেকে বর্ষিত হয় এবং যা আকাশে উত্থিত হয়। তিনি পরম দয়ালু ক্ষমাশীল।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


 


 


 


দুঃখ কখনো একা আসে না, সে দল বেঁধে আসে। -সেঙ্পিয়ার।


 


 


যাদের সামর্থ্য থাকা অবস্থায় হজ্ব করল না তারা ইয়াহুদী হইয়া মরুক অথবা নাসারা হইয়া মরুক তাতে আমার কিছু আসে যায় না।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
কান্না কান্না লাগে
সোহেল নওরোজ
১৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


নানা অজুহাতে স্কুল ফাঁকি দেয়ার এমন কীর্তি গড়েছিলাম যে, এখনও দেখা হলে শিক্ষকেরা সে প্রসঙ্গ তুলতে ভুল করেন না। তাঁদের মতে আমি নাকি চাইলেই 'স্কুল ফাঁকি দেয়ার যতো কৌশল' জাতীয় একটা বই লিখতে পারি! এ জাতীয় বইয়ের কাটতি ভালো হওয়ারই কথা! তবে আমার ফাঁকিবাজি নিয়ে শিক্ষকেরা খুব একটা রুষ্ট হতেন না। বরং আমি স্কুলে গেলেই তাঁদের ব্যস্ততা বেড়ে যেতো। আমাকে চোখে চোখে রাখতে হতো। তখন সহপাঠীদের নাম পাল্টে বিকৃত নামে ডাকার একটা প্রথা চালু করেছিলাম। বিকৃত করতে গিয়ে কিছু নামের এমন দশা হতো যে, পারলে তারা আমাকে গিলে খেতো! অনেকেই শিক্ষকের কাছে গিয়ে নালিশ করতো। কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হতো না। শিক্ষকেরা আমাকে সামনে পেলে তো!



 



আমার দেয়া নাম শুনে কার কী প্রতিক্রিয়া হচ্ছে, তা গভীরভাবে প্রত্যক্ষ করতাম। যে যতো বেশি রাগতো, তাকে ততো বেশি ওই নামে ডাকতাম। একবার বেশ ভড়কে গিয়েছিলাম। লিমা ছিল আমাদের ক্লাসের মেধাবীদের একজন। শিক্ষকেরা যাদের নিয়ে গর্ব করে, উদাহরণ দিয়ে তাদের মতো হতে বলে। সেই লিমাকেও একটা নাম দিয়েছিলাম। যে নাম খুঁজতে আমাকে মোটেও বেগ পেতে হয়নি। নামের অক্ষর দুটো উল্টাতেই হয়ে গেল 'মালি'! কিন্তু লিমাকে 'মালি' বলে ডাকতেই বাধল বিপত্তি। ও ভ্যাঁ করে কেঁদে দিল। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে সে কান্না চললো অনেকক্ষণ। কেউ বিকৃত নাম শুনে কাঁদতে পারে আমার ধারণা ছিল না। লিমার কান্না দেখে তাই বেশ মন খারাপ হয়েছিলো। আমারও কান্না কান্না লেগেছিল। স্কুলে আর কখনো ওই নামে লিমাকে ডাকিনি।



(২)



যে ফ্ল্যাটে থাকি, তার ওপরতলায় নতুন ভাড়াটিয়া এসেছে। সৌজন্যে হিসেবে নতুন ভাড়াটিয়া এলে দেখা করতে হয়। খোঁজ-খবর নিতে হয়। অন্যরা তা মানে। সবাই গিয়ে দেখা-সাক্ষাৎ করে আসে। আগ বাড়িয়ে নতুন কারো সঙ্গে পরিচিত হতে আমার ইতস্তত লাগে। সঙ্গে যোগ হয় আলস্য। আজ যাই, কাল যাই করে আর যাওয়া হয় না। শুধু ওই পরিবারের কর্তার সঙ্গে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় একবার দেখা হয়েছিল। সুদর্শন। দেখে সজ্জন মনে হয়। কলেজে শিক্ষকতা করেন। এর বেশি কিছু আর জানা হয়নি।



 



সেদিন খুব ভোরে কারো কান্নার শব্দে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়। ওপর থেকে আওয়াজ আসছে। কোনো বাচ্চার কান্না হবে। বাচ্চাদের কান্নার কি বিভিন্ন ধরণ থাকে? থাকে বোধ হয়! না হলে এ কান্নাটাকে চেনা মনে হবে কেন? এমন ফোঁপানো কান্না নিশ্চয়ই আগে কোথাও শুনেছিলাম! কান্না শেষ হয়, কিন্তু রেশ থাকে অনেকক্ষণ। যে কান্না অন্যকেও সংক্রমিত করে। মনের মধ্যে কৌতূহল চেপে রেখে অফিসের জন্য তৈরি হই। সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতেই দেখি কেউ একজন বাচ্চা কোলে দাঁড়িয়ে আছে। সম্ভবত ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে কি এ বাচ্চাটাই কাঁদছিল? কাছে যেতেই বুকের ভেতর ধাক্কার মতো লাগে। এ যে লিমা! বাচ্চাটা তবে তার! কত বছর পরে দেখা, অথচ চেহারায় সে কোমল ভাব রয়েই গেছে। যেন কঠিন কথা শুনলেই কেঁদে দেবে! মেয়েটার কান্নাও অবিকল মায়ের মতো হয়েছে। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হয় না। সময় এতদিন বাদে দুজনকে সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। বদলে গেছে কত কিছু! তবু শৈশব রয়ে গেছে অমলিন। কী আশ্চর্য! লিমাকে দেখে আমার আবার কেমন কান্না কান্না লাগছে!



 



 



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫০১১৭
পুরোন সংখ্যা