চাঁদপুর, বুধবার ৩ এপ্রিল ২০১৯, ২০ চৈত্র ১৪২৫, ২৬ রজব ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৮-সূরা ফাত্হ্

২৯ আয়াত, ৪ রুকু, ‘মাদানী

১২। না, তোমরা ধারণা করিয়াছিলে যে, রাসূল ও মু’মিনগণ তাহাদের পরিবার-পরিজনের নিকট কখনই ফিরিয়া আসিতে পারিবে না এবং এই ধারণা তোমাদের অন্তরে প্রীতিকর মনে হইয়াছিল; তোমরা মন্দ ধারণা করিয়াছিলে, তোমরা তো ধ্বংসমুখী এক সম্প্রদায়।





 


মৃত্যু আরেক জীবন, সম্মানের সঙ্গে আমরা তার কাছে মাথা নত করি।              

-আলেকজান্ডার।


কাউকে অভিশাপ দেওয়া সত্যপরায়ণ ব্যক্তির উচিত নয়।





 


ফটো গ্যালারি
শিশুদের স্ক্রিন টাইম ও ক্ষয়ক্ষতি
কাজী ফারহান হোসেন পূর্ব
০৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


স্ক্রিন টাইম, এই সময়ের আলোচিত একটি বিষয়। শিশু, বড় সবাই বিভিন্ন ডিভাইসের পর্দার সঙ্গে আটকে থাকছে। তবে এটা বড়দের চেয়ে শিশুদের ক্ষতি করছে বেশি এবং সেটা দীর্ঘমেয়াদি। শিশুদের বেড়ে ওঠার ওপর টেলিভিশন ও মোবাইলের পর্দার অতি ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক নির্ণয় করতে তাই শুরু হয়েছে গবেষণা। শিশুদের স্ক্রিন টাইমের ক্ষতি নিয়ে চালানো এক গবেষণায় অংশ নিয়েছিল ১১ হাজার শিশু। এটির প্রাক ফলাফলে দেখা গেছে, যেসব শিশু দৈনিক শুধু দুই ঘণ্টা সময় পর্দার সামনে ব্যয় করে তারা কয়েক ধরনের পরীক্ষায় খারাপ করছে। বিশেষ করে যেসব পরীক্ষা চিন্তা ও ভাষাকেন্দ্রিক। ভার্চুয়াল ও বাস্তবের মধ্যে ব্যবধান তৈরি করতেও তাদের বেশ কষ্ট হয়। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ডাঃ দিমিত্রি ক্রিস্টাকিসের মতে, শিশুরা পর্দার দ্বিমাত্রিক অভিজ্ঞতাকে বাস্তব ত্রিমাত্রিক জীবনে লাগাতে পারে না। তিনি সমপ্রতি যুক্তরাষ্ট্রে স্ক্রিন টাইম গাইডলাইন প্রণয়ন করেন। তিনি বলেন, যদি একটি শিশুকে ভার্চুয়াল লেগো খেলা শেখান সেটি বাস্তব লেগো খেলায় কোনো কাজে আসে না। কারণ শিশুরা এর ফারাক বুঝতে পারে না।



 



খাওয়ার সময় মোবাইল নয়



অনেক সময় দেখা যায় বাচ্চারা টিভি দেখছে অথবা মোবাইল টিপছে আর খাচ্ছে। টিভি শো শেষ না হওয়া পর্যন্ত হয়তো খেয়েই চলেছে অথবা একেবারে খাচ্ছেই না। আপাতদৃষ্টিতে অভ্যাসটা খুব নিরীহ মনে হলেও এর ফলাফল মোটেও তেমন নয়। বিভিন্ন গবেষণা থেকে দেখা গেছে, দীর্ঘক্ষণ টেলিভিশন, ল্যাপটপ বা মোবাইল ফোনের ব্যবহারের সঙ্গে স্থূলতার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। ডিজিটাল মাধ্যমে সুস্থভাবে শিশুদের বেড়ে উঠতে সাহায্য করে থাকে 'চিলড্রেন অ্যান্ড স্ক্রিনস' নামের একটি সংস্থা। তাদের সূত্র থেকে জানা যায়, স্ক্রিনের সামনে থাকলে খুব স্বাভাবিকভাবেই শারীরিক পরিশ্রম হয় না। বরং এসব ব্যবহারের সময় অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার খাওয়া, বিভিন্ন লোভনীয় খাবারের বিজ্ঞাপনের প্রভাবে অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি ঝোঁক এবং ঘুমের সমস্যা সৃষ্টির ফলে খাবারের রুটিনে গোলযোগ হয়। আর এতে করে শিশুরা মুটিয়ে যায়। অন্যদিকে পরিসংখ্যানও কিন্তু খুব ভয়ানক পরিস্থিতির জানান দিচ্ছে। 'জার্নাল অব পেডিয়াট্রিকস' থেকে জানা যায়, প্রতিদিন প্রায় পাঁচ ঘণ্টা টেলিভিশনের সামনে কাটালে স্থূলতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৭৮ শতাংশ। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক ড. এরিকা কেনির মতে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলে। তিনি মনে করেন, শুধু টেলিভিশন নয়, অন্যান্য স্ক্রিন ডিভাইসও ব্যবহারকারীদের স্থূলতার দিকে ঠেলে দেয়। বিবিসি থেকে জানা যায়, যুক্তরাজ্যের প্রধান চারজন মেডিক্যাল কর্মকর্তা খাওয়ার টেবিলে মোবাইল রাখার অভ্যাস একেবারেই বাদ দিতে বলেছেন।



 



ঘুমের সময়ও মোবাইল থাকুক দূরে



খাওয়ার সময় মোবাইলের অনধিকার প্রবেশের মতো অনেক শিশুর বিছানায়ও মোবাইলসহ বিভিন্ন ডিভাইসের প্রবেশাধিকার থাকে। 'দ্য আটলান্টিক.কম' থেকে জানা যায়, স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট ঘুমাতে সমস্যা করে। কেননা এগুলোর স্ক্রিন থেকে নীল আলো নিঃসরণ করে। অক্ষিগোলকের পেছনের বিশেষ কোষ এই আলো গ্রহণ করে মস্তিষ্ককে সকাল হয়ে গেছে বলে বার্তা দেয়! চিন্তা করুন কী সাংঘাতিক এক ব্যাপার! এ ক্ষেত্রে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাটি উল্লেখযোগ্য। সেখানকার গবেষকরা মানুষের ঘুমের ওপর নীল আলো এবং সমান সময় উজ্জ্বল সবুজ আলোর প্রভাব লক্ষ্য করেন। সেই গবেষণায় দেখা যায় যে সেই নীল আলো ঘুমের সময় তিন ঘণ্টা পিছিয়ে দেয় আর উজ্জ্বল সবুজ আলো পিছিয়ে দেয় প্রায় দেড় ঘণ্টা। ঘুমের সময় তিন ঘণ্টা পিছিয়ে যাওয়া কিন্তু মারাত্মক ব্যাপার।



 



সামপ্রতিককালে ম্যাসাচুসেটসের চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডার শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে পেডিয়াট্রিকসে, সেখানে বলা হয় যেসব শিশু স্মার্টফোনের ছোট স্ক্রিনে বেশিক্ষণ চোখ রাখে তাদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম হয় না। শুধু তা-ই নয়, কিছু ডিভাইসের সাউন্ড অ্যালার্টও আপনার শিশুর ঘুমের ব্যাপক ক্ষতি করে। অনেক সময় অ্যালার্মের অজুহাতেও বিছানায় মোবাইল থেকে যায়। তাই অ্যালার্ম ক্লক হিসেবে কখনোই ফোন ব্যবহার করবেন না। এর জন্য আপনার সন্তানকে আলাদা একটা অ্যালার্ম ঘড়ি কিনে দিন। জমা নিন সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস। তা ছাড়া শোয়ার ঘরে কখনোই টিভি ঠাঁই দেবেন না। এর বদলে তার বয়সের উপযোগী বই কিনে দিতে পারেন। এতে তার বিনোদনের অভাব ঘুচে যাবে এবং কল্পনাশক্তিও বৃদ্ধি পাবে।



 



বাকিটা সময়? স্মার্টফোন, টিভি ব্যবহারের বাইরের সময়টাও কিভাবে সামাল দিতে হবে তা জানাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের (এনআইএইচ) একটি চলমান গবেষণার কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তারা শিশুর মস্তিষ্কের ওপর স্ক্রিন টাইমের প্রভাব নিয়ে একটি গবেষণা চালাচ্ছে। সিবিএস নিউজ থেকে জানা যায়, এনআইএইচে বর্তমানে ৯ থেকে ১০ বছর বয়সী এমন এগারো হাজার শিশুর মস্তিষ্ক ও স্ক্রিন টাইমের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি একটি গবেষণা হচ্ছে। এই গবেষণার একটি রিপোর্ট এরই মধ্যে স্ক্রিন টাইমের খুব ভয়ংকর একটি দিক তুলে ধরেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী স্ক্রিন টাইম দিনে দুই ঘণ্টার বেশি হলে শিশুর মস্তিষ্কে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। গবেষণায় এ ধরনের শিশুদের চিন্তন ও ভাষাগত দক্ষতার পরীক্ষায় স্বাভাবিকের চেয়ে কম নম্বর পেতে দেখা যায়। তা ছাড়া চোখের সমস্যাও কিন্তু অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের আরেকটি অভিশাপ।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৫৯৮০
পুরোন সংখ্যা