চাঁদপুর, মঙ্গলবার ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৭-সূরা হাদীদ


২৯ আয়াত, ৪ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


২৬। আমি নূহ এবং ইব্রাহিমকে রাসূলরূপে প্রেরণ করিয়াছিলাম এবং আমি তাহাদের বংশধরগণের জন্যে স্থির করিয়াছিলাম নুবূওয়াত ও কিতাব, কিন্তু উহাদের অল্পই সৎপথ অবলম্বন করিয়াছিল এবং অধিকাংশই ছিল সত্যত্যাগী।


 


 


অপ্রয়োজনে প্রকৃতি কিছুই সৃষ্টি করে না। -শংকর।


 


 


কবর এবং গোসলখানা ব্যতীত সমগ্র দুনিয়াই নামাজের স্থান।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় চাঁদপুরের ৩ জন নিহত ॥ আহত ৭
মিজানুর রহমান ॥
১২ নভেম্বর, ২০১৯ ১৯:৩৬:৫৮
প্রিন্টঅ-অ+


 ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনে মঙ্গলবার ১২ নভেম্বর ভোররাতে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন তুর্ণা নিশিতা এবং সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ১৬ জন নিহত এবং শতাধিক নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। তবে এ হতাহতের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। হতাহত সবাই উদয়নের ট্রেনের যাত্রী।

নিহত ও আহত যাত্রীদের মধ্যে চাঁদপুর সদর ও হাজীগঞ্জ উপজেলার ৩ জন নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় চাঁদপুর সদরে একই পরিবারের ৭ জন এবং ও হাইমচর উপজেলার ১ জন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন বলে জানা যায়।

চাঁদপুরের নিহতরা হলেন : হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম রাজারগাঁও গ্রামের বেপারী বাড়ির মৃত আব্দুল জলিল বেপারীর ছেলে মজিবুর রহমান (৫০) ও তার স্ত্রী কুলসুমা বেগম (৪২)। নিহত অপরজন হল ফারজানা আক্তার শারমিন (২০) চাঁদপুর সদর উপজেলা বালিয়া ইউনিয়নের উত্তর বালিয়া গ্রামের প্রবাসী বিল্লাল বেপারীর ছোট মেয়ে। নিহত ফারজানা শহরের নাজিরপাড়া দেওয়ান বাড়ির মোহন দেওয়ানের স্ত্রী।

আহতরা হলেন নিহত ফারজানার মা বেবী বেগম (৪৫), ভাই হাসান বেপারী (২৮) বালিয়া ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি, নানী ফিরোজা বেগম (৭৫), ফারজানার মামী শাহিদা বেগম (৪৫), মামাত বোন মিতু (২২), মিতুর মেয়ে ইলমা (৭) ও মামত ভাই জুবায়ের (৪)।

ইলমা ও জুবায়েরকে আহত অবস্থায় ফারজানার লাশের সাথে বাড়িতে নিয়ে আসা হয় এবং তাদের স্বজনরা এই দুই শিশুকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা করান। আহত আরো যারা আছেন তারা ঢাকাতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

নিহত ফারজানার মৃতদেহ সকালে গ্রামের বাড়ি উত্তর বালিয়ায় নিয়ে আসা হলে খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার এসআই জহিরুল সঙ্গীয় ফোর্স সেখানে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ তাজুল ইসলাম, ওয়ার্ড মেম্বার জাহিদ, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মিলনও খবর পেয়ে সেই বাড়িতে যান।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, হাজীগঞ্জের নিহত মজিবুর রহমান বৃদ্ধা মাসহ স্ত্রী ও ৪ পুত্র সন্তান নিয়ে শ্রীমঙ্গল থাকতেন। মজিবুর রহমান শ্রীমঙ্গলে ফেরি করে প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার আপন ভাইরাও থাকেন শ্রীমঙ্গলে। তবে শুধুমাত্র তাঁর স্ত্রী কুলসুমা বেগমের পরিবার গ্রামের বাড়ি রাজারগাঁও থাকেন।

নিহত মজিবুরের ভাতিজা শাহাদাত হোসেন জানান, ট্রেন দুর্ঘটনার খবর শুনে উৎসুক জনতা হিসেবে সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় নিহতদের দেখতে গিয়েছিলেন। কসবা উপজেলার বায়েক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বারান্দায় পড়ে থাকা নিহতদের লাশের ভিড়ে হঠাৎ দেখতে পান নিজের আপন চাচা মজিবুর রহমান ও চাচি কুলসুমার নিথর মরদেহ পড়ে আছে। পুলিশের মাধ্যমে নিহদের আঙুলের ছাপ এবং জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হন। পরে আত্মীয়স্বজনের সাথে যোগাযোগ করেন।

অপরদিকে নিহত ফারজানার চাচাত ভাই জাকির হোসেন দিদার ও মামাত ভাই শাহআলম  জানান, গত ৭ নভেম্বর খালাতো বোনের বিয়ের দাওয়াত খেতে নানী, মা, ভাই মামীসহ পরিবারের ৮ জনের সাথে সিলেটে গিয়েছিলো ফারজানা। সিলেটের শ্রীমঙ্গল স্টেশন থেকে উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠেন পরিবারের সবাই। সেখান থেকে চাঁদপুর আসার পথে এই ঘটনা ঘটে। এতে নিহত ফারজানার পরিবারের আরো ৭ সদস্য আহত হয়েছে। নিহত ফারজানার লাশ আইনগত দিক সম্পন্ন হবার পর বাদ আছর দাফন করা হবে বলে তার স্বজনরা জানিয়েছে।

 


এই পাতার আরো খবর -
    আজকের পাঠকসংখ্যা
    ২০৬৮৯২
    পুরোন সংখ্যা