চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮। ২৯ ভাদ্র ১৪২৫। ২ মহররম ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪১-সূরা হা-মীম আস্সাজদাহ,

৫৪ আয়াত, ৬ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৩। তোমাদের প্রতিপালক সম্বন্ধে তোমাদের এই ধারণাই তোমাদের ধ্বংস এনেছে। ফলে তোমরা হয়েছো ক্ষতিগ্রস্ত।

২৪। এখন তারা ধৈর্যধারণ করলেও জাহান্নামই হবে তাদের আবাস এবং তারা অনুগ্রহ চাইলেও তারা অনুগ্রহ প্রাপ্ত হবে না।

২৫। আমি তাদের জন্যে নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম সহচর যারা তাদের সম্মুখ ও পশ্চাতে যা আছে তা তাদের দৃষ্টিতে শোভন করে দেখিয়েছিল এবং তাদের ব্যাপারেও তাদের পূর্ববর্তী জি¦ন ও মানবদের ন্যায় শাস্তির কথা বাস্তব হয়েছে। তারা তো ছিল ক্ষতিগ্রস্ত।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন



 


সব সমস্যার প্রতিকার হচ্ছে ধৈর্য ও চেষ্টা।

-প্লুটাস।


ন্যায়পরায়ণ বিজ্ঞ নরপতি আল্লাহ’র শ্রেষ্ঠ দান এবং অসৎ মূর্খ নরপতি তার নিকৃষ্ট দান।



 


ফটো গ্যালারি
লঞ্চের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি ॥ আহত-২০
যাত্রীবাহী লঞ্চ রফ-রফে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ॥ রক্ষা পেলো ৭ শতাধিক যাত্রী
বিশেষ প্রতিনিধি ॥
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৪:২৯:২১
প্রিন্টঅ-অ+


 চাঁদপুর নৌ-টার্মিনালে যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি রফ রফে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে ইঞ্জিন রুমে  ভয়াবহ অগ্নিকা-ের সূত্রপাত হয়। এতে আগুন নেভাতে গিয়ে ও আতঙ্কিত যাত্রীরা লঞ্চ থেকে ছোটাছুটি ও তরিগড়ি নামতে গিয়ে কমপক্ষে ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে অনেককে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে হয়েছে। আবার অনেক যাত্রী স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা না নিয়ে অন্য লঞ্চ যোগে ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা করায় বলে জানা গেছে। যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি রফ-রফে ভয়াবহ অগ্নিকা-ের সময় লঞ্চের মাস্টার মামুনুর রশিদের বুদ্ধিমত্তায় লঞ্চে থাকা ৭ শতাধিক যাত্রীকে লঞ্চ থেকে নামিয়ে দেয়ার খবর নীচে পৌছে দেয়ায় প্রাণে রক্ষা পেয়েছে। এ ঘটনায় লঞ্চের নীচতলা ও ২য় তলায় অগ্নিকা-ে ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়েছে। লঞ্চের ম্যানেজার জানায়, অগ্নিকা-ে লঞ্চের বিভিন্ন প্রকার ৬টি ইঞ্জিন, জেনারেটর, পাওয়ার সেকশন, হাওয়ার মেশিন, ডায়াস মেশিনসহ ৮ কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনা শোনার পর লঞ্চের মালিক আলহাজ¦ এমএ বারী খান মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে লঞ্চের কেরানী গিয়াস উদ্দিন জানান। যাত্রী শিমুল জানান, যেভাবে অগ্নিকা-ের ঘটনাটি ঘটেছে তাতে করে লঞ্চটি নদীতে চলমান অবস্থায় থাকলে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল।

গতকাল ১৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকল সাড়ে ৯টায় লঞ্চটি চাঁদপুর নৌ-টার্মিনাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার প্রাক্কালে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় লঞ্চে প্রায় ৭ শতাধিক যাত্রী ছিলো বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

অগ্নিকা-ের খবর পেয়ে চাঁদপুর উত্তর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়ার অফিসার মোঃ মোবারক হোসেন, দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র অফিসার মোঃ শহিদুল ইসলাম ও নৌ-ফায়ার স্টেশনের নৌযান অগ্নি বিনাশসহ ঘটনাস্থলে এসে ৩টি ইউনিট পৌনে ১ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

ঘটনার পর পর নৌ-টার্মিনালে গিয়ে জানা যায়, যাত্রীবাহি লঞ্চ এমভি রফ রফ সকাল সাড়ে ৯টায় চাঁদপুর নৌ-টার্মিনাল থেকে ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিলো। হঠাৎ লঞ্চের ভেতরে বিকট শব্দ হয়ে ইঞ্জিন রুমে আগুন লেগে যায়। এ সময় লঞ্চের মাস্টার বুঝতে পেরে লঞ্চটি ঘাট থেকে না ছেড়ে লঞ্চের নীচে তাৎক্ষণিক খবর পাঠায় এবং যাত্রীদেরকে নেমে যাওয়ার জন্যে বলে। মহূর্তের মধ্যে এ খবর ছড়িয়ে পরলে যাত্রীরা লঞ্চ থেকে দ্রুত নামতে থাকে। এরমধ্যে লঞ্চে আগুনের লেলিহান শিখা ভেতরে ছড়িয়ে পরে। এ সময় আতঙ্কিত যাত্রীরা তারাহুড়া করে নামতে গিয়ে আহত হয় বলে ঘাটে অবস্থানরত বিভিন্ন লঞ্চের সুপারভাইজার ও রফরফ লঞ্চের সুপারভাইজার ইউছুফ আলী বেপারী জানান। তাৎক্ষণিক নৌ-টার্মিনালে অবস্থানরত বিআইডব্লিউটিএ’র টিআই মোঃ রেজাউল করিম সুমন চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন স্থানে খবর পাঠায়। এরই মধ্যেই আগুন লঞ্চের পেছনের অংশে ছড়িয়ে পরলে নৌ-টার্মিনালের বিভিন্ন লঞ্চের স্টাফ, রফ রফ লঞ্চের স্টাফ, বিআইডব্লিউটিএ কর্মচারী ও নৌ-টার্মিনালের দোকানদার সাদ্দাম হোসেন, টার্মিনালের হোটেলের ম্যানেজারসহ বিভিন্ন দোকানদাররা বালতি, জগ, বলসহ বিভিন্ন পাত্র নিয়ে নৌকা ও বিভিন্ন নৌ-যানের মাধ্যমে লঞ্চের পাশে গিয়ে পানি ছিটিয়ে আগুন নিভানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান। প্রায় ২০ মিনিট পরে চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের ১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভাতে ব্যর্থ হচ্ছিল। এরই মধ্যে ১০টায় চাঁদপুর পুরাণবাজারের ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পথের ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। তারপর ও লঞ্চের ডেকের নিচে ইঞ্জিন রুমে আগুন জ্বলতে থাকে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ডেকের নীচে নেমে ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে পৌনে ১১টায় পরিপূর্ণ আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। এ অগ্নিকান্ডে লঞ্চের যত্রাংশ ছাড়া ও দোতালার, নীচ তলার কেবিন, আসবাবপত্র, ফ্রিজ, টিভি, সোফা, চেয়ার, টেবিল, দোকানের মালামাল, লঞ্চের সিলিংসহ ব্যাপক মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে যেভাবে অগ্নিকা- হয়েছে তাতে করে লঞ্চটি নদীতে চলমান থাকলে অসংখ্য মানুষের যানমালের ক্ষতি ও অনেক প্রাণহানির আশঙ্কা ছিলো বলে যাত্রীরা জানান। যাত্রীরা জানান, লঞ্চগুলোর উপর সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মনিটরিং না থাকায় লঞ্চগুলো নতুন করে শুরু করার পর আর কোনো চেকআপ না থাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটা স্বাভাবিক বিষয়। এ বিষয়ে মানুষের জানমালের নিরাপত্তার দিক বিবেচনায় নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মনিটরিং থাকা একান্ত প্রয়োজন বলে যাত্রীরা মন্তব্য করে জানান।

রফ রফ লঞ্চের মাস্টার মোঃ মামুনুর রশিদ জানান, ইঞ্জিনটি চালু করার পরপরই বিকট শব্দ হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে মারাত্মক দূর্ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিক যাত্রীদের টার্মিনালে নামিয়ে দেয়া হয়। এরপর লঞ্চে থাকা ও আশপাশের লঞ্চের স্টাফ, নৌ-টার্মিনালে থাকা ব্যবসায়ীরা এসে বিভিন্ন পাত্রের মাধ্যমে ও নৌযান দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়। ২০ মিনিট পর ফায়ার সার্ভিসের ৩টি  ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

মেসার্স রাকিব ওয়াটার ওয়েজের কোম্পানীর ম্যানেজার মোঃ ফরিদ আহম্মেদ জানান, অগ্নিকা-ে আমাদের লঞ্চের ইঞ্জিন, কেবিন ও আসবাবপত্রসহ প্রায় ৮ কোটি টাকার ক্ষতিসাধিত  হয়েছে।

খবর পেয়ে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার মোঃ জিহাদুল কবির পিপিএম, কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশন কমান্ডার লেঃ এনায়েত উল্লাহ, বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

চাঁদপুর ফায়ার স্টেশনের উপ-পরিচালক রতন কুমার নাথ জানান, আমাদের ৩টি ইউনিট দিয়ে দ্রুত চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়েছে। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান তদন্ত কমিটি মাধ্যমে তদন্ত করে বলা যাবে। তারপর ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ যা’ বলে আমরা তা’ বলতে পারি না। তাদের ৪টি মেশিন, আসবাব পত্র ও ফ্যান নষ্ট হয়েছে। এতে হয়তো ২কোটি হতে পারে।

 


এই পাতার আরো খবর -
    আজকের পাঠকসংখ্যা
    ১৫৫৭৯১
    পুরোন সংখ্যা