চাঁদপুর, বুধবার ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ সফর ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৬ সূরা-ওয়াকি'আঃ


৯৬ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৮৬। তোমরা যদি কর্তৃত্বাধীন না হও,


৮৭। তবে তোমরা উহা ফিরাও না কেনো? যদি তোমরা সত্যবাদী হও!


৮৮। যদি সে নৈকট্যপ্রাপ্তদের একজন হয়,


 


 


সমাজতন্ত্রই শোষিত নির্যাতিত জনগণের মুক্তির একমাত্র পথ।


-লেনিন।


 


 


ন্যায়পরায়ণ বিজ্ঞ নরপতি আল্লাহর শ্রেষ্ঠ দান এবং অসৎ মূর্খ নরপতি তার নিকৃষ্ট দান।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
হাজীগঞ্জে সংস্কৃতিসেবীর অনুদান নিচ্ছে ব্যবসায়ী, সমাজসেবী ও কৃষক
কামরুজ্জামান টুটুল
১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


সরকার কর্তৃক অসচ্ছল সংস্কৃতিসেবীদের জন্যে বরাদ্দের টাকা পাচ্ছে ব্যবসায়ী, সমাজসেবী আর কৃষকরা। হাজীগঞ্জ বাজারের হকার্স মার্কেটে কাপড়ের ব্যবসা করছেন, আবার যিনি মাঠে ফসলি জমিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন এমন ব্যক্তিগণ এই অনুদান পাচ্ছেন আর নিচ্ছেন। আবার দুই যুগের অধিক সময় সংস্কৃতি অঙ্গন থেকে দূরে রয়েছেন এমন ব্যক্তিও পাচ্ছেন উপজেলার সর্বোচ্চ অনুদান। এ নিয়ে প্রকৃত সংস্কৃতিসেবীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।



অসচ্ছল সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে সরকারি নীতিমালা মোতাবেক সংস্কৃতিসেবীকে অবশ্যই প্রচলিত কোনো শাখার শিল্পী বা সাহিত্যিক হতে হবে। দুঃস্থ, অসহায়, প্রায় ভূমিহীন, উপার্জনে অক্ষম, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী সংস্কৃতিসেবীরা ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। শিল্প/সাহিত্যকর্ম বিকাশে মৌলিক/বিশেষ অবদান রেখেছেন এমন সংস্কৃতিসেবী, সাধারণত ৪০ বছরের কম বয়সী সংস্কৃতিসেবী ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে (যেমন : অতি প্রতিভাবান, দুর্ঘটনাজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত, আর্থিকভাবে চরম অসচ্ছল ইত্যাদি) বয়স শিথিলযোগ্য। চলতি বছরের নতুন করে এমন সংস্কৃতিসেবী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরকার দরখাস্ত আহ্বান করেছে।



সরকারি তালিকা সূত্রে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হাজীগঞ্জে যারা অসচ্ছল ও দুঃস্থ সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে ভাতা নিচ্ছেন, তারা হচ্ছেন হাজীগঞ্জ উপজেলার বেলঘর এলাকার মৃত গোলাম হাফেজের ছেলে নজির আহমেদ পাটওয়ারী ৩৬ হাজার টাকা, মকিমাবাদ এলাকার আবুল হাশিম বলির ছেলে মোঃ শহীদ উল্লাহ ১৯ হাজার ২শ' টাকা, সৈয়দপুর গ্রামের মৃত আলমগীর হোসেনের স্ত্রী নাজমা বেগম ২৫ হাজার ২শ' টাকা, মাতৈন গ্রামের মৃত শামছল হকের ছেলে মোঃ জহিরুল ইসলাম ২৫ হাজার ২শ' টাকা, মাতৈন গ্রামের মনিরুজ্জামানের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার (রীনা) ১৪ হাজার ৪শ' টাকা, একই গ্রামের আবদুল মতিনের ছেলে মোঃ সিদ্দিকুর রহমান ১৪ হাজার ৪শ' টাকা, একই গ্রামের মৃত শামছুল হকের ছেলে মোঃ আব্দুল হাই ১৪ হাজার ৪শ' টাকা, কাজিরগাঁও এলাকার মকবুল আহমেদের ছেলে মোঃ মাসুদ মিজি ১৪ হাজার ৪শ' টাকা, সমেশপুর গ্রামের মৃত চান মিয়া বেপারীর ছেলে মোঃ ইকবাল হোসেন ১৪ হাজার ৪শ' টাকা, কাজীরগাঁও এলাকার ইঞ্জিনিয়ার শহীদ উল্লাহর ছেলে মোঃ হুমায়ুন কবির ১৪ হাজার ৪শ' টাকা এবং সভাপতি, আদর্শ পাঠাগার ও সমাজকল্যাণ সংসদ ১৫ হাজার টাকা।



সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাজীগঞ্জের হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের বেলঘর গ্রামের মৃত গোলাম হাফেজের ছেলে নাজির আহমেদ পাটওয়ারী। তিনি দেশের কোথাও কোনো সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন বলে প্রমাণাদি দেখাতে পারেন নি। দুই যুগের অধিক সময় আগে তিনি টঙ্গি থেকে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন তল্পিতল্পাসহ। এখানে এসে স্থানীয় গ্রামের বাড়ি বেলঘর বাজারে একটি মুদি দোকান দিয়ে ব্যবসা করছেন। তার দুই ছেলে প্রতিষ্ঠিত। একজন হাজীগঞ্জ বাজারে ব্যবসা করছেন। গত চার বছর ধরে তিনি এ ভাতা পাচ্ছেন।



উপজেলার ৫নং মাতৈন গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান একজন কৃষক। সংস্কৃতির 'স'ও তিনি জানেন না। তবুুও তিনি সংস্কৃতিসেবী হিসেবে ১৪ হাজার ৪শ' টাকা করে সরকার থেকে নিয়ে নিচ্ছেন। সিদ্দিকুর রহমানের বাড়ির মৃত শামছুল হকের ছেলে মোঃ আবদুল হাই হাজীগঞ্জ বাজারের হকার্স মার্কেটে 'মায়ের দোয়া' নামে একটি কাপড়ের দোকান দিয়ে ব্যবসা করছেন। তিনি পাচ্ছেন ১৪ হাজার ৪শ' টাকা ভাতা। একই বাড়ির মোঃ জহিরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মাতৈন আদর্শ পাঠাগার নামে একটি পাঠাগার পরিচালনা করে আসছেন। সংগঠন নয় তিনি ব্যক্তি নামে প্রতিবছর পাচ্ছেন ২৫ হাজার দুই শ' টাকা। মূলত তিনিও কোনো সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত নন বলে স্থানীয়রা জানান।



এ বিষয়ে নাজির আহম্মেদ পাটোয়ারী বলেন, বাড়ি আসার আগে টঙ্গিতে নাটক করেছি। তবে ঠিক কোন্ ধরনের নাটক আর কোন্ সংগঠনের মাধ্যমে করেছেন তার কিছুই তিনি বলতে পারেন নি। নাজির আহম্মদ বলেন, এতো আগের কথা মনে নেই।



এ বিষয়ে মাতৈন গ্রামের জহিরুল ইসলামের প্রতিবেশী রুহুল আমিনের ছেলে রাজমিস্ত্রী মুক্তার ও আবিদ আলীর ছেলে এরশাদ জানান, জহির ভাই পাঠাগার করেছেন আমরা জানি। এছাড়া অন্য বিষয়গুলো আমাদের জানা নেই। আব্দুল হাইয়ের হাজীগঞ্জ বাজারের হকার্স মার্কেটে কাপড়ের ব্যবসা রয়েছে। আর আঃ হাইয়ের বাড়ির সিদ্দিকুর রহমান কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।



মাতৈন গ্রামের জহিরুল ইসলাম বলেন, আমি একটি পাঠাগার চালাই। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে আমি জড়িত। অপর এক প্রশ্নে তিনি স্পষ্টত কোনো সংগঠনের নাম বলতে পারেননি। হাজীগঞ্জের সংস্কৃতি অঙ্গনের পরিচিত নাম নিহার রঞ্জন হালদার। তিনি জানান, সংস্কৃতি অঙ্গনের শিল্পীদের জন্যে সরকারের এমন উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তবে এমন বিষয়গুলো কবে কীভাবে আসে কারা এ সবে অংশ নেন তার কিছুই আমার জানা নেই।



এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া জানান, উপজেলা থেকে কারা ভাতা পাচ্ছেন আমি সঠিক জানি না। আমি বিষয়টি জেনে অবশ্যই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবো।



এ বিষয়ে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ শওকত ওসমান জানান, বিগত বছরগুলোতে কারা ভাতা পেয়েছে তা আমি জানি না। তবে এ বছর নতুন করে যারা আবেদন করেছেন তাদের বিষয়টি যাছাই বাছাই করে দেখা হচ্ছে। আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে প্রকৃত সংস্কৃতিসেবীদের তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৯৮২২১
পুরোন সংখ্যা