চাঁদপুর, বুধবার ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ সফর ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৬ সূরা-ওয়াকি'আঃ


৯৬ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৮৬। তোমরা যদি কর্তৃত্বাধীন না হও,


৮৭। তবে তোমরা উহা ফিরাও না কেনো? যদি তোমরা সত্যবাদী হও!


৮৮। যদি সে নৈকট্যপ্রাপ্তদের একজন হয়,


 


 


সমাজতন্ত্রই শোষিত নির্যাতিত জনগণের মুক্তির একমাত্র পথ।


-লেনিন।


 


 


ন্যায়পরায়ণ বিজ্ঞ নরপতি আল্লাহর শ্রেষ্ঠ দান এবং অসৎ মূর্খ নরপতি তার নিকৃষ্ট দান।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
হরিসভা এলাকায় শহর রক্ষাবাঁধের পাঁচশ' মিটার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ
বিমল চৌধুরী
১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


 চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার হরিসভা এলাকায়  দীর্ঘ আড়াই মাস পর আবার নতুন করে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে শহর রক্ষাবাঁধে। গত ১৪ অক্টোবর সোমবার সন্ধ্যায় এ ভাঙ্গন দেখা দেয়। ভাঙ্গন প্রতিরোধে ভাঙ্গনকবলিত স্থানে ফেলা হচ্ছে জিও টেক্সের বালুভর্তি বস্তা। যার একেকটির ওজন প্রায় ২৬০ কেজির মতো। ভাঙ্গনের পর থেকেই স্থানীয় এমপি শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি জেলা প্রশাসকসহ তাঁর বিশ^স্ত লোকদের মাধ্যমে নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং নির্দেশনা দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের। তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমকেও ভাঙ্গন বিষয়ে অবগত করেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের কথা বলেন।

জানা যায়, ভাঙ্গনকবলিত স্থানে বালুভর্তি ১০ হাজার বস্তা জিও ব্যাগ ফেলার নাকি নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। তবে ভাঙ্গনের পর থেকেই পুরো বিষয়ের উপর নজর রাখছেন জেলা প্রশাসকসহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাগণ। জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুবুর রহমান পিপিএম (বার), জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল কয়েকবারই ছুটে আসেন ভাঙ্গনকবলিত স্থানে। সান্ত¡না দেন নদীভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদেরকে। আশ্বাস দেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের। ভাঙ্গন সংবাদে ছুটে আসেন পৌর প্যানেল মেয়র ছিদ্দিকুর রহমান ঢালী, পৌর কাউন্সিলর মোহম্মদ আলী মাঝি, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহ-সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, সহ-সভাপতি তমাল কুমার ঘোষ, জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাডঃ বিনয় ভূষণ মজুমদার, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শহীদ পাটোয়ারীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ।

গত ৩ আগস্ট সন্ধ্যারাতেও এ স্থানের শহর রক্ষাবাঁধে হঠাৎ করে দেখা দেয় ভাঙ্গন আতঙ্ক। ভাঙ্গনের ফলে হরিসভা মন্দির কমপ্লেক্সের সম্মুখস্থানে প্রায় ১শ’ মিটার জায়গাজুড়ে থাকা বাড়ি, ঘর, দোকানপাট প্রমত্তা মেঘনার নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জনপ্রতিনিধি, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ নির্ঘুম রাত কাটান ভাঙ্গন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের তাগিদে। কিন্তু জরুরিভাবে ভাঙ্গন প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারেননি। আর যখন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয় তখন শহর রক্ষাবাঁধের অনেকাংশ নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। কোনোক্রমে রক্ষা পায় জনবহুল হরিসভা রাস্তাটি। রক্ষা পায় হিন্দু সম্প্রদায়ের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী হরিসভা মন্দির কমপ্লেক্স, মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থানসহ বিশাল জনবসতি। ভাঙ্গন প্রক্রিয়া স্বচক্ষে দেখাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ছুটে আসেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। মন্ত্রী এনামুল হক শামীম ভাঙ্গন প্রতিরোধে সকলপ্রকার ব্যবস্থাগ্রহণের কথা বলেন। তিনি ভাঙ্গন প্রতিরোধে যাতে প্রয়োজনের সময় জরুরি ভিত্তিতে কাজ করা যায় সেজন্যে ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থাসহ বালুভর্তি জিও টেক্সের ব্যাগ প্রস্তুত রাখার নির্দেশনাও প্রদান করেন। কিন্তু কথা রাখেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড। তার প্রমাণ মিলে গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যারাতে। এদিন বালুভর্তি জিও ব্যাগ প্রস্তুত থাকার পরও ট্রান্সপোর্টের অভাবে প্রয়োজনের সময় ভাঙ্গনকবলিত স্থানে ফেলা যায়নি। ইঞ্জিনচালিত নৌকা দিয়ে বালুভর্তি ব্যাগ ফেলার কার্যক্রম শুরু হয় রাত প্রায় সাড়ে ১১টায়। এ সময় জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান নিজে উপস্থিত ছিলেন। তিনি নিজেও বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করেন ত্বরিত গতিতে ভাঙ্গনকবলিত স্থানে জিওব্যাগ ফেলতে। অবশ্য এর আগে রাত প্রায় সাড়ে ৭টার দিকে মোঃ মাজেদুর রহমান খান, মাহবুবুর রহমান পিপিএম (বার), নাছির উদ্দিন আহমেদ, আবু নঈম  পাটওয়ারী দুলালের উপস্থিতিতে ট্রান্সপোর্টের অভাবে লেবাররা কাঁধে বহন করে ভাঙ্গন স্থলে বালুভর্তি ব্যাগ ফেলা কার্যক্রম শুরু করেন। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এর সংখ্যা দাঁড়ায় মাত্র ৪টি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান জানান, পুরাণবাজার হরিসভা এলাকার  শহর রক্ষাবাঁধের ৫শ’ মিটার এলাকাই ঝুঁকিপূর্ণ। আর তা রক্ষায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা গত ২ দিন আগেও সাউন্ড সিস্টেম দ্বারা নদীর অবস্থান নির্ণয় করতে চেষ্টা করেছি। হঠাৎ করে এমন ভাঙ্গন দেখা দিতে পারে এমন কোনো পরিস্থিতি আমরা লক্ষ্য করিনি। তবে ভাঙ্গন প্রতিরোধে যা যা করণীয় আমরা তা করছি।

তবে এ বিষয়ে এলাকাবাসীর রয়েছে ভিন্ন মত। তারা বলছেন, হরিসভা এলাকার শহর রক্ষাবাঁধটি প্রায় ১৮/২০ বছর পূর্বে নির্মাণ করা হলেও বাঁধটি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ছিল উদাসীন। তারা বাঁধ রক্ষায় সেভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করেননি। যখনই বাঁধের কোনো স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে তখনই ওই স্থানে ফেলা হয়েছে বালুর বস্তা বা সিসি ব্লক। যদি বাঁধ নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ বা বাঁধের নির্মাংশে ড্রাপ্টিং করা হতো, তাহলে হয়তো এভাবে শহর রক্ষাবাঁধে ভাঙ্গন দেখা দিতো না। আর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতো না মানুষের ঘর-বাড়ি আর আশা-আকাক্সক্ষা।

তারা আরো বলেন, প্রতি বছরই ভাঙ্গন দেখা দেয়, কিন্তু স্থায়ীভাবে ভাঙ্গন প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থাগ্রহণ না করার কারণ সম্পর্কে কিছুই জানা যায় না। তারা শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে আরো বলেন, মানননীয় মন্ত্রী মহোদয় যদি এ ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণে আন্তরিক না হন তাহলে ঐতিহ্যবাহী পুরাণবাজার এলাকা একসময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। তারা নদীগর্ভে ফেলা বালুর বস্তার হিসেব-নিকেশ নিয়েও হতাশা ব্যক্ত করেন এবং কিছু কিছু জিও টেক্সের ব্যাগের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮০৮৭৬২
পুরোন সংখ্যা