চাঁদপুর, সোমবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ মহররম ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরের ১৮তম জেলা ও দায়রা জজ এসএম জিয়াউর রহমান
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৯-সূরা হাক্কা :


৫২ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


 


২৩। যাহার ফলরাশি অবনমিত থাকিবে নাগালের মধ্যে।


২৪। তাহাদিগকে বলা হইবে, 'পানাহার কর তৃপ্তির সহিত, তোমরা অতীত দিনে যাহা করিয়াছিলে তাহার বিনিময়ে।'


 


 


assets/data_files/web

যারা আত্মপ্রশংসা করে খোদা তাহাদের ঘৃণা করেন।


-সেন্ট ক্লিমেন্ট।


 


 


 


 


 


যা ইচ্ছা আহার করতে পারো, যা ইচ্ছা পরিধান করতে পারো, যদি তোমাকে অপব্যয় ও গর্ব স্পর্শ না করে।


 


 


ফটো গ্যালারি
'আমার ছেলেরা বিড়ি ছাড়া কোনো নেশা করে না'
কামরুজ্জামান টুটুল
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


'আমার ছেলেরা বিড়ি ছাড়া কোনো নেশা করে না।' সম্পত্তি নিয়ে ছেলেদের নিজেদের মধ্যকার বিরোধ মেটাতে আমি ২ ছেলের নামে মামলাটি করি। ছেলেদের বিরুদ্ধে মামলা করে অন্তরজ্বালায় ভুগতে গিয়ে একজন মা এভাবেই চাঁদপুর কণ্ঠের কাছে নিজের মনের কথা প্রকাশ করলেন। এমন ঘটনাটি ঘটে হাজীগঞ্জের বাকিলা ইউনিয়নের উত্তর শ্রীপুর গ্রামের মৃত ইমাম হোসেন মিজির পরিবারে।



খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মিজি বাড়ির মৃত ইমাম হোসেনের ৫ ছেলে। এর মধ্যে হাসেম মিজি স্থায়ীভাবে বসবাস করেন রাজশাহীতে। বাকী ৪ ছেলে বিয়ে করে আলাদাভাবে মিজি বাড়িতে বিধবা মা সৈয়দুন্নেছার সাথে পৈত্রিক বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। পৈত্রিক ও ওয়ারিশ থেকে ক্রয়কৃত সম্পত্তি নিয়ে সম্প্রতি ভাইদের মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। এই বিরোধের সূত্র ধরে বাড়িতে নিজেদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই মারামারিতে মাকে মারধর করা হয়েছে এমন অভিযোগে মা নিজে বাদী হয়ে দুই সন্তান হান্নান মিজি ও আক্তার মিজিকে আসামী করে হাজীগঞ্জ আমলী আদালত, চাঁদপুর-এ একটি মামলা দায়ের করেন। সম্পত্তিগত বিরোধে ভাইয়েরা স্পষ্টত দুই ভাগ হয়ে যায়। যার কারণে নিজেদের মধ্যে বিরোধ আরো তুঙ্গে উঠে। এদিকে মায়ের দায়ের করা মামলায় ইতিমধ্যে আক্তার মিজি আটক হয়ে জেলে হাজতে রয়েছে আর অপর ভাই হান্নান বাড়ি থেকে পলাতক রয়েছে। একই মায়ের অপর দুই সন্তান হাবিব মিজি ও বিল্লাল মিজি নিজ বাড়িতে রয়েছেন।



এদিকে ভাইদের মধ্যকার বিরোধ তুঙ্গে উঠার অন্যতম কারণ হলো এলাকার গুটিকয়েক সমাজপতি। মূলত এরাই সালিসে সমাধান করে দেয়ার নাম করে ভাইদের মধ্যকার বিরোধ জিইয়ে রাখার অভিযোগ উঠে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে। মা সৈয়দুন্নেছা নিজেও দাবি করেন 'আমার ছেলেগুলো ভালো না তারা মাইনষের কথায় নাচে'।



এদিকে মা দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করেন হান্নান, আক্তার ও আক্তারের স্ত্রী তাকে বিভিন্নভাবে মারধর করেছে। মামলার একাংশে বলা হয়েছে মামলার ১নং ও ২নং আসামী যথাক্রমে আক্তার মিজি ও হান্নান মিজি দীর্ঘদিন ধরে মদ, গাঁজা আর ইয়াবা সেবন করে ও জুয়া খেলায় লিপ্ত থেকে মায়ের অনেক টাকা নষ্ট করে। এ নিয়ে এলাকায় সালিস হয়েছে। কিন্তু আসামীরা কারো কোনো কথা শুনে নি।



এদিকে সরজমিনে গত শনিবার সকালে মিজি বাড়িতে গেলে হাবিব মিজি ও বিল্লাল মিজির উপস্থিতিতে কথা হয় সৈয়দুন্নেছার সাথে। কান্নাকাটি করে এই নারী চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান, আমার ছেলেরা বিড়ি ছাড়া অন্য কোনো বাজে পথে চলে না। তাদের মধ্যকার বিরোধ মিটিয়ে তাদেরকে একত্র করার জন্য আমি মামলাটি করি। আমি আশা করি মাননীয় আদালত আমার ছেলেদের সম্পত্তি সমবন্টন করে ভাইদের মধ্য বিরোধ মিটিয়ে দিবে।



সম্পত্তিগত বিরোধে সমাধান চেয়ে ছেলেদেরকে মাদকখেকো মামলায় কেনো দিলেন এমন প্রশ্নে এই বয়স্ক নারী জানান, আমার পোলাগুলি মানুষের কথায় চলে। যে যে রকম তাল দেয় তারা সেভাবেই চলতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। এই বিরোধ থেকে নিজেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবে এজন্য আমি সন্তানদের মধ্যে মিলমিশ চাইতে গিয়ে মামলাটি দায়ের করি।



এ বিষয়ে গ্রাম্য আদালতের বিচারক ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান ইউসুফ পাটোয়ারী জানান, তাদেরকে আমি বেশ কয়েকবার ডেকেছি। তারা বিভিন্ন জনের কথায় চলতে গিয়ে নিজেদের সর্বনাশ করছে।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১২০৪০০৩
পুরোন সংখ্যা