চাঁদপুর, রোববার ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬, ১৬ জিলহজ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৪-সূরা কামার


৫৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৩৭। উহারা লূতের নিকট হইতে তাহার মেহমানদিগকে অসদুদ্দেশ্যে দাবি করল, তখন আমি উহাদের দৃষ্টিশক্তি লোপ করিয়া দিলাম এবং আমি বলিলাম, আস্বাদন কর আমার শাস্তি এবং সতর্কবাণীর পরিণাম।


 


 


 


assets/data_files/web

বাণিজ্যই হলো বিভিন্ন জাতির সাম্য সংস্থাপক। -গ্লাডস্টোন।


 


 


যখন কোনো দলের ইমামতি কর, তখন তাদের নামাজকে সহজ কর।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
সৌদি আরবে হৃদরোগে মারা গেলো সুমন ফরিদগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম
প্রবীর চক্রবর্তী
১৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ভাগ্য বদলের আশায় অর্থ উপার্জন করে পরিবারের সুখের জন্যে মাত্র ছ'মাস আগে পাড়ি জমিয়ে ছিলেন প্রবাসে। স্বপ্ন ছিল অর্থ উর্পাজন করে পরিবারের দুঃখ ঘুচাবেন। কিন্তু সুখ যে শোকে পরিণত হবে কে জানতো। ফরিদগঞ্জ উপজেলার মিরপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী মোঃ সুমনের (৩৮) জীবনের কথা এটি। তাঁর সুখ যেন কপালে সইলো না। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে ১১ আগস্ট সকালে যখন ঈদ-উল আযহা উদ্যাপনে সবাই ব্যস্ত, তখনই ভাগ্যের কাছে পরাজিত হয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হন সুমন। পরে ১৪ আগস্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে মৃত ঘোষণা করে। এদিকে মৃত্যুর খবর জানার পর থেকে সুমনের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। কান্নার রোল থেকে মা, বোন, ভাই, স্ত্রী, সন্তান কাউকেই থামানো যাচ্ছে না।



জানা গেছে, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মিরপুর গ্রামের বরকন্দাজ বাড়ির প্রয়াত মোখলেছুর রহমানের সাত সন্তানের মধ্যে চতুর্থ সন্তান সুমন। দেশে থেকে ছোটখাটো ব্যবসা করে যখন দেখলেন সংসারের ঘানি টানতে কষ্ট হচ্ছে, ঠিক তখন তাঁর মনে হলো প্রবাসে গিয়ে বুঝি ভাগ্য বদল করা যাবে। যেই কথা সেই কাজ। এ বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি রোববার পাড়ি জমান মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে। সেখানে গিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করে যখনই অর্থ উপার্জনের জন্যে একটু বেশি মনোনিবেশ করবেন ঠিক তখনই ঘটলো এই দুর্ঘটনা। ১১ আগস্ট রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয় সুমন। পরদিন সকালে তাকে ভর্তি করা হয় সৌদি আরবের কিং আঃ আজিজ হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ আগস্ট মৃত্যুবরণ করে সুমন।



মিরপুর গ্রামে গিয়ে সুমনের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দেশে থাকতে প্রায় দশ লক্ষ টাকার মতো ঋণ করে বিদেশ যায় সুমন। এসব ঋণের বোঝা এখন পরিবারের উপর এসে পড়েছে। স্ত্রী সুরাইয়া বেগম দুই সন্তান সুমাইয়া আক্তার (১১) ও আরাফাতকে (৭) নিয়ে চোখে মুখে অন্ধকার দেখছেন।



গর্ভধারিনী 'মা' রেজিয়া বেগম বলেন, 'আমার সন্তান বিদেশ গিয়া মইরা গেছে। আমার পোলার লাশটা আমি দেখতাম চাই। সরকারের কাছে অনুরোধ আমার পোলার লাশটা দ্রুত আননের ব্যবস্থা কইরা দেন।'



স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার বলেন, 'দ্রুত আমার স্বামীর লাশ দেশে পাডাইয়া দিতে কন। আমার এহন কী অইবো। ছোড দুইটা পোলামাইয়ারে ছাইড়া তিনি চইলা গেলেন। এর উপর আবার ঋণের বোঝা তো আছেই। কীভাবে এত দেনা শোধ করমু ভাইবা ই পাই না। '



সুমনের ভাই আনিছুর রহমান সুজন ঘটনা জানিয়ে বলেন, আমরা ভাইয়ের লাশ বাংলাদেশে আনতে পারিনি। সৌদি সরকার এবং বাংলাদেশ সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিলে লাশটি দ্রুতই দেশে আনা যেতো। তাছাড়া আমাদের পারিবারের আর্থিক অবস্থাও খারাপ। ধার-দেনা করে সৌদিতে গিয়েছিলো। সে টাকাই এখনো শোধ করতে পারেনি।'



মেয়ে সুমাইয়া আক্তার হিমু বলেন, "আমার বাবারে দেখতে চাই। বাবা কেন বিদেশে গেলো। বাবারে কতদিন দেখি না। আমার বাবারে ফিরাইয়া দেন।' বারবারই একথা বলছে আর কেঁদে উঠছে সুমাইয়া।



চাচা ইলিয়াছ বলেন, 'ভাতিজা আমার খুব ভালা আছিলো। বেশ কিছু টাকা ঋণ আছে তার। দেওনের মতো তেমন সামর্থ্য নাই পরিবারের। খুবই দুঃশ্চিন্তায় আছি। কই থিকা এই ঋণের টাকা শোধ করবো। সুমনের পরিবারে অহন শোকের ছায়া।



 



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৮৫৪৯৩
পুরোন সংখ্যা