চাঁদপুর, বুধবার ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ জিলকদ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৩-সূরা নাজম


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


৪৩। আর এই যে তিনিই হাসান, তিনিই কাঁদান,


৪৪। আর এই যে, তিনি মারেন, তিনিই বাঁচান,


৪৫। আর এই যে, তিনিই সৃষ্টি করেন যুগল-পুরুষ ও নারী।


৪৬। শুক্রবিন্দু হইতে, যখন উহা স্খলিত হয়,


 


 


 


 


ভালোবাসা দিয়েই একমাত্র ভালোবাসার মূল্য পরিশোধ করা যায়। -আলেকজান্ডার ব্রাকলে।


 


 


নামাজে তোমাদের কাতার সোজা কর, নচেৎ আল্লাহ তোমাদের অন্তরে মতভেদ ঢালিয়া দিবেন।


 


ফটো গ্যালারি
সহকর্মীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা
মুহাম্মদ আবদুর রহমান গাজী
২৪ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর শহরস্থ ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জয়ন্তী চক্রবর্তী নিজ বাসায় দুর্বৃত্তের হাতে খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় স্কুলের শিক্ষিক-শিক্ষিকা এবং ছাত্র-ছাত্রীরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। নৃশংসতম এ ঘটনায় ওই এলাকায় এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে।



ঘটনার পরদিন গত সোমবার বিদ্যালয় চলাকালীন সেখানে গিয়ে দেখা যায় এক বেদনাবিধুর পরিবেশ। শিক্ষক-শিক্ষিকারা শোকার্ত। কারো কারো চোখ অশ্রু ভেজা। তাদের সাথে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদেরও কাঁদতে দেখা গেছে। পুরো বিদ্যালয়ে পরিবেশ এক শোকাবহ পরিবেশ। একে অন্যের সাথে কথা বলতেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন। কে কাকে দেবে সান্ত্বনা!



পঞ্চম শ্রেণির ক্লাসে গিয়ে দেখা যায়, ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের প্রিয় শিক্ষিকাকে হারিয়ে চুপি চুপি কাঁদছে। কেউ সাংবাদিকদের দেখে চোখের জল মুছে ফেলেছে। কোনো কোনো শিক্ষার্থী আবার এ হত্যার ঘটনা একে অপরকে বলছে। এদের মধ্যে যারা ওই শিক্ষিকার কাছে প্রাইভেট পড়তো তাদের কেউই সেদিন (সোমবার) স্কুলে আসেনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যারা এ হত্যার আলামত দেখেছে তারা অনেকেই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।



ওই বিদ্যালয়ের রয়েছে ১০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা। বিদ্যালয়ের অফিস রুমে সাঁটানো হয়েছে শিক্ষক পরিচিতিমূলক বিলবোর্ড। এ বিলবোর্ডটির সবাই আছেন, একজনমাত্র নেই। প্রধান শিক্ষক বাদে সহকারী শিক্ষকদের তালিকায় জয়ন্তী চক্রবর্তী প্রথম সারির তিন নম্বরে। এ বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হচ্ছেন মোঃ মোস্তফা কামাল বাবুল। অন্য সহকারী শিক্ষিকারা হচ্ছেন সোনিয়া আক্তার, রোকেয়া বেগম, জান্নাতুল মাওয়া, শামীম আরা বেগম, নাসির উদ্দিন, নাজনীন আক্তার, আসমাউল হুসনা ও তানিয়া আক্তার। প্রিয় সহকর্মীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ সবাই। তাদেরকে সান্ত্বনা দেয়ার জন্যে সাংবাদিকরা এবং অভিভাবকরা কিছু সময় থাকেন। তাদের স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন।



বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শামীম আরা বেগম বলেন, জয়ন্তী চক্রবর্তী হিন্দু ছিলেন তবুও তিনি সবসময় মাথায় কাপড় রাখতেন। আমার জানা মতে তিনি তার পরিবার নিয়ে সুখেই ছিলেন। কেনো যে এ রকম হলো আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না।



অভিভাবক সাজেদা বেগম বলেন, আমরা যখনই স্কুলে আসতাম তিনি আমাদের অভিযোগ মনোযোগ সহকারে শুনতেন। শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে ভালো পরামর্শ দিতেন। আমরা তার হত্যার বিচার চাই।



প্রতিবেশীদের ভাষ্য, জয়ন্তী চক্রবর্তী মিশুক ছিলেন। তিনি সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলতেন। বাসা থেকে বের হতেন খুব কম। কারণ তিনি সকালে স্কুলে যেতেন বিকেলে আসতেন। আবার বাসায় বিকেলে বাচ্চাদের পড়াতেন। আর শুক্রবার হলে বিকেল বেলা দেখা হতো। এ ঘটনায় আমাদের কলোনিতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বাচ্চারা রাতভর ঘুমাতে পারেনি। অনেকে অসুস্থ হয়ে গেছে। আমরা চাই হত্যাকারীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া হোক।



উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই রোববার বিকেলে চাঁদপুর শহরের ষোলঘরস্থ পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্টাফ কোয়ার্টার থেকে জয়ন্তী চক্রবর্তী নামে ওই স্কুল শিক্ষিকার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ। তিনি ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭২২৫৭৮
পুরোন সংখ্যা