চাঁদপুর, সোমবার ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬, ১৩ শাওয়াল ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬৬। উভয় উদ্যানে আছে উচ্ছলিত দুই প্রস্রবণ।


৬৭। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিবে?


৬৮। সেথায় রহিয়াছে ফলমূল -খর্জুর ও আনার।


 


 


 


assets/data_files/web

বাণিজ্যই হলো বিভিন্ন জাতির সাম্য সংস্থাপক। -গ্লাডস্টোন।


 


 


যখন কোনো দলের ইমামতি কর, তখন তাদের নামাজকে সহজ কর।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় আশিকাটিতে রমরমা মাদক ব্যবসা
বিশেষ প্রতিনিধি ॥
১৭ জুন, ২০১৯ ০২:৪৯:২৪
প্রিন্টঅ-অ+


 চাঁদপুর সদর উপজেলার ২নং আশিকাটি ইউনিয়নের চাঁদখাঁর দোকান, পূর্ব হোসেনপুর, পশ্চিম হোসেনপুর, বাবুরহাট, মুন্সিরহাটের একাংশ ও রালদিয়াসহ আরো কিছু এলাকায় মাদকের রমরমা ব্যবসা চলছে। প্রভাবশালী একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কারণে প্রশাসনের নজরে আসছে না। ২০ থেকে ২৫ জনের ওই চক্রটির ছত্রছায়ায় এ মাদকের রমরমা ব্যবসা চলছে। মাদক বিক্রির টাকার ভাগ চক্রটিকে না দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়তে হয় খুচরা মাদক (ইয়াবা) বিক্রেতাদের। মাদক কারবারীদের কারণে এলাকার যুবসমাজ মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে এবং অপরাধমূলক কর্মকা- বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সম্প্রতি আশিকাটি ইউনিয়নের বাসিন্দা প্রবাসী নজরুল ইসলাম সুমন এক মাদক বিক্রেতার স্বীকারোক্তি নিলে বেরিয়ে আসে মাদকের সাথে জড়িতদের নাম ও মাদক বিক্রির বর্তমান চালচিত্র। মাদকের সাথে জড়িত সেবনকারী ও বিক্রেতাদের মধ্যে কেউ কেউ আটক হলেও ছাড়া পেয়ে পুনরায় এই কাজে জড়িয়ে পড়ছে। বিক্রেতাদের অর্থ যোগান ও প্রশাসনের সাথে বুঝাপড়া করবেন মর্মে নেপথ্যে কাজ করছেন বিভিন্ন পরিচয়দানকারী প্রভাবশালী চক্র। তারাই বিক্রেতাদের অর্থযোগান দেন এবং লাভের অংশ নিয়ে যান। চাঞ্চল্যকর এই তথ্য প্রদান করেন ওই ইউনিয়নের ইয়াবা বিক্রেতাদের অন্যতম হোসেনপুর গ্রামের ছাত্তার ঢালীর ছেলে মুসলিম ঢালী।

মুসলিম ঢালী স্বীকারোক্তিতে বলেন, সে মাদক বিক্রি ছাড়া অন্য কোনো কাজ করে না। তার প্রবাসী ভাইয়ের কাছ থেকে সে প্রতিমাসে ২-৩ হাজার টাকা খরচের জন্যে পায়। ইয়াবা সেবন ও বাকী চলার জন্যে মাদক বিক্রির কাজ করে। গত কমাস আগে সে প্রতিদিন কমপক্ষে ২শ’ থেকে ৩শ’ ইয়াবা বিক্রি করতো। এখন বিক্রি কমেছে, প্রতিদিনি ৭০-৮০ পিচ ইয়াবা বিক্রি করে।

মুসলিম আরো জানালো, তার এই কাজে প্রভাবশালীদের মধ্যে চাঁদ খাঁর দোকান এলাকার মাহবুব গাজী, পূর্ব হোসেনপুর গ্রামের রাজিব ও সেলিম তাকে সার্বিক সহযোগিতা করে থাকে। মাদক ক্রয় করার জন্যে টাকার প্রয়োজন হলে রাজিব যোগান দেয়। অনেক সময় রাজিবের চাঁদ খাঁর দোকান অফিস থেকেই ইয়াবা সাপ্লাই দেয়া হয়। মাদকসহ প্রতারণার অভিযোগে মামলার আসামী হয়েছে রাজিব, জানায় মুসলিম।

অন্যদিকে মাদক বিক্রেতা সোলেমান গাজী, হামিম প্রধানিয়া ও প্রবাসী নজরুল ইসলামের দেয়া তথ্যে জানা গেছে, মুসলিমসহ ওই ইউনিয়নের মাদক বিক্রেতারা চাঁদপুর শহরের চক্ষু হাসপাতালের বিপরীত এলাকার বাসিন্দা নয়ন-এর কাছ থেকে ইয়াবা ক্রয় করতো। এখনো মাঝে মাঝে তার কাছ থেকে ক্রয় করে। তার কাছে না পেলে ক্রয় করে পুরাণবাজারের মিলন নামে আরেক মাদককারবারীর কাছ থেকে। তারা অধিকাংশ সময় মাদক বহন করার জন্যে পশ্চিম হোসেনপুর এলাকার মৃত মান্নান পাটওয়ারী মনুর ছেলে ইউছুফ পাটওয়ারীর সিএনজি চালিত অটোরিক্সা ব্যবহার করে।

পুরো ইউনিয়নে মাদক বিক্রির সাথে জড়িতদের মধ্যে অন্যতম মুন্সির হাটবাজারের ফার্নিচার ব্যবসায়ী সুমন, রালদিয়া এলাকার শাহজাহান প্রধানিয়ার ছেলে হামিম প্রধানিয়া, পূর্ব হোসেনপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য সাজু মালের ছেলে মাহবুব মাল, চাঁদখাঁর দোকান এলাকার পিলার ব্যবসায়ী হেলাল, ডিস ব্যবসায়ী পাভেল, চা দোকানী মোঃ সাইফুল, বাবুরহাট এলাকার মামুন মাল, অপু মাল, শাহ আলম ডাক্তার, পশ্চিম হোসেনপুর গ্রামের মৃত আবিদ মালের ছেলে পগু মাল।

এদিকে এলাকায় মাদক ক্রয়-বিক্রয় থেকে বিরত থাকার জন্যে প্রতিবাদ ও স্বীকারোক্তি নেয়ার পর থেকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে আসছে প্রভাবশালী ওই চক্রটি। তারা প্রবাসী নজরুল ইসলাম সুমনের আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করছে। এলাকাবাসীর পক্ষে প্রবাসী নজরুল ইসলাম সুমন মাদকের এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।

মাদক ব্যবসায়ীদের হুমকির কারণে  ১৫ জুন শনিবার দুপুরে চাঁদপুর মডেল থানায় প্রবাসী নজরুল ইসলাম সুমনের স্ত্রী শামিমা নাহিন রুনা সাধারণ ডায়েরি করেছেন। ডায়েরি নম্বর ৭৩৬।


আজকের পাঠকসংখ্যা
২২৬৮৭৭
পুরোন সংখ্যা