চাঁদপুর, বুধবার ১২ জুন ২০১৯, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ৮ শাওয়াল ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫১-সূরা যারিয়াত

৬০ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী

৫১। তোমরা আল্লাহর সঙ্গে কোন ইলাহ স্থির করিও না ; আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহ প্রেরিত স্পষ্ট সতর্ককারী।

৫২। এইভাবে উহাদের পূর্ববর্তীদের নিকট যখনই কোন রাসূল আসিয়াছে উহারা তাহাকে বলিয়াছে, ‘তুমি তো এক জাদুকর, না হয় এক উন্মাদ!’


assets/data_files/web

প্রতিভাবান ব্যক্তিরাই ধৈর্য ধারণ করতে পারে। -ই. সি. স্টেডম্যান।


সেই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী যে স্বল্পাহারে সন্তুষ্ট থাকে, অল্প হাসে এবং লজ্জাস্থান ঢাকিবার উপযোগী বস্ত্রে পরিতুষ্ট।


 


 


ফটো গ্যালারি
বিষ্ণুদী-তরপুরচণ্ডী ইউনিয়নে ৩ বছরেও নির্মিত হয়নি নতুন ব্রিজ
ব্রিজ ভাঙ্গায় যান ও জনচলাচল বন্ধ, হাজার মানুষের দুর্ভোগ
মুহাম্মদ আবদুর রহমান গাজী
১২ জুন, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


একটি কাঠের ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে চাঁদপুর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বিষ্ণুদী গ্রাম ও তরপুরচ-ী ইউনিয়নের বাসিন্দারা। আনন্দবাজার খালের উপর নির্মিত কাঠের ব্রিজ দিয়ে তরপুরচ-ী ইউনিয়নের আনন্দবাজার এবং চাঁদপুর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বিষ্ণুদী গ্রামের মানুষ প্রতিদিনের আসা-যাওয়া করতো। এখন কাঠের ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এসব এলাকার জনসাধারণ।



৩ বছর ধরে ব্রিজটি ভেঙে থাকায় জনসাধারণ ও ব্যবসায়ীদের শহরের সাথে যোগাযোগে দূরত্ব বেড়ে গেছে। ওই পথে বন্ধ হয়ে গেছে অটোরিঙ্া, ভ্যান-সাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল। ফলে এখানে উৎপাদিত মাছ-সবজি সহজে শহরে পেঁৗছানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে অর্থনৈতিকভাবে সমস্যায় পড়েছে এলাকার সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাও স্কুলে যেতে-আসতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।



গত ৩ বছরের বেশি সময় ধরে ব্রিজটি দুই এলাকার চরম ভোগান্তির কারণ হলেও এটি সংস্কারে কেউ এগিয়ে আসেনি। এই ব্রিজের নির্মাতা স্থানীয় সরকার বিভাগও ছিলো নিশ্চুপ। স্থানীয়রা জানায়, চাঁদপুর সদর উপজেলার তরপুরচ-ী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা আনন্দবাজার খালের ওপর তরপুরচ-ী ইউনিয়ন পরিষদ কয়েক বছর আগে কাঠের ব্রিজ তৈরি করে। দুইশ' ফুট দৈর্ঘ্যের ব্রিজটির অধিকাংশই সমপ্রতি ভেঙে পড়েছে। এতে করে জনসাধারণের চলাচল, অটোরিঙ্া, ভ্যান-সাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এমনকি সাধারণ মানুষও পার হতে পারছে না। যাতায়াত নিয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছে এলাকাবাসী।



আনন্দবাজার জনতা জামে মসজিদের মুসলি্লরা চাঁদপুর কণ্ঠকে বলেন, এ দুটি এলাকার সংযোগ ব্রিজটি নির্মাণ করা জরুরি হয়েছে পড়েছে। দেশে এখন যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। আমাদের এ এলাকায়ও বিদ্যুৎ সংযোগ ও রাস্তাঘাট, স্কুল-মাদ্রাসা হয়েছে। অথচ একটি ব্রিজের জন্যে সকল উন্নয়ন মস্নান হয়ে গেছে। এ ব্রিজটি দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান এলাকাবাসী।



আনোয়ার মিজি বলেন, এ ব্রিজ না হওয়ায় উত্তর-পশ্চিম বিষ্ণুদী গ্রামের শিক্ষার্থীদেরকে নৌকাযোগে স্কুলে আসতে হয়। স্কুল ও মাদ্রাসার খুদে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করে।



আনন্দবাজার মৎস্য ব্যবসায়ী লিটন মাল ও মোস্তফা বেপারী বলেন, এ কাঠের ব্রিজ দিয়ে আমরা খুব সহজেই বিপণীবাগ, পালবাজার ও ওয়্যারলেস বাজারে মাছ নিয়ে বিক্রি করতাম।



বেকারির মালামাল বিক্রেতা শওকত আলী বলেন, একটি ব্রিজের জন্যে আমাকে আনন্দবাজার ও বিষ্ণুদী গ্রামের দোকানগুলোতে বেকারির মালামাল দিতে ৫ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়।



তরপুরচ-ী আব্দুল আউয়াল গাজী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কানিজ ফাতেমা বলেন, বিষ্ণুদী গ্রামের অনেক বাচ্চারাই আমাদের স্কুলে পড়ে। তবে এ ব্রিজটি না হওয়ায় অনেক বাচ্চা এপারে আসতে চান না। যারা আসে তারা দরিদ্র্য পরিবারের। তাদের বাচ্চাদের নিয়মিত আসতে খুব কষ্ট হয়। আমরা চাই এ ব্রিজটি খুব দ্রুত নির্মাণ করা হোক। এ ব্রিজটি হলে ওই এলাকার অনেক বাচ্চার স্কুলে ভর্তি হবার সুযোগ হবে। ফলে শিক্ষার হাড় বাড়বে।



চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শাহ মোহাম্মদ মাকসুদুল আলম বলেন, আনন্দবাজার ও বিষ্ণুদী গ্রামের সংযোগ সেতুটি জরুরিভাবে নির্মাণ করা দরকার। যেহেতু দুই এলাকায় মানুষ, শ্রমজীবীরা তাদের নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় কাজগুলোর স্বার্থে এ পথেই তারা শহরে যাতায়াত করেন। চাঁদপুর শহরে যাওয়ার জন্যে হাজার হাজার মানুষের এ পথটিই ছিলো উপযোগী। আজ কালের বিবর্তনে একটি ব্রিজের জন্য মানুষের দুর্ভোগ চরমে।



জনভোগান্তির বিষয়টি স্বীকার করে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা বলেন, কাঠের ব্রিজটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে, ওই খালের ওপর পাকা সেতু নির্মাণের জন্যে প্রচেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৭৪৩৬৩
পুরোন সংখ্যা