চাঁদপুর। বুধবার ১৪ নভেম্বর ২০১৮। ৩০ কার্তিক ১৪২৫। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৩-সূরা যূখরুফ


৮৯ আয়াত, ৭ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬৩। 'ঈসা যখন স্পষ্ট নিদর্শনসহ আসিল তখন সে বলিয়াছিল, 'আমি তো তোমাদের নিকট আসিয়াছি প্রজ্ঞাসহ এবং তোমরা যে কতক বিষয়ে মতভেদ করিতেছ, তাহা স্পষ্ট করিয়া দিবার জন্য। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুসরণ কর।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


 


যদি বইটা হয় পড়ার মতো তবে তা কেনার মতো বই। -জন রাসকিন।


 


 


 


পবিত্র হওয়াই ধর্মের অর্থ।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
১০ টাকা ফিতে ছয়দিনের মধ্যে গ্রাম আদালতের বিচার কার্য সম্পন্ন
খোরশেদ আলম তার হারানো গরু ফিরে পেলো
১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ খোরশেদ আলম ভূঁইয়া (৫৫)। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তার মোট চার সদস্যের সংসার। থাকেন পৈত্রিক বাড়িতে। এলাকায় ফার্মেসী দিয়ে সংসার চালান। সংসার তার ভালোই চলে। কিন্তু একসময় প্রতিবেশীর প্রতি সদয় হয়ে তার উপকার করতে গিয়ে নিজের ১৯ হাজার টাকা মূল্যের গরুটিই হারালেন খোরশেদ আলম। অতঃপর গ্রাম আদালতের মাধ্যমে মাত্র ১০ টাকা ফিতে গরুটি ফিরে পেলেন খোরশেদ। আর এর জন্যে সময় লেগেছে মাত্র দশ দিন।



ঘটনার সূত্রপাত: খোরশেদ আলম ভূঁইয়ার কাছে এলাকার রফিকুল ইসলাম বলেন, "ভাই খুব দুঃখ-কষ্টে জীবন-যাপন করতেছি। যদি পারেন আমার জন্যে কিছু একটা করেন।" তার দারিদ্রতার কথা চিন্তা করে খোরশেদ আলম বলেন, তোমাকে একটি গরু কিনে বর্গা দিলে পালতে পারবে? সে খুশিতে রাজি হয়ে যায় এবং ১৯ হাজার টাকা মূল্যে একটি গরু কিনে দেয়। কিন্তু কিছুদিন পর খোরশেদ আলম খবর পান যে, রফিকুল ইসলাম গরুটি বিক্রি করে দিয়েছে। খোরশেদ আলম বার বার গরু ফেরৎ চাইলেও রফিকুল ইসলাম গরু ফেরৎ দিতে অস্বীকার করে। প্রতিবেশীকে উপকার করতে গিয়ে খোরশেদ নিজেই বিপদে পড়েন। এ নিয়ে খোরশেদ আলম এলাকায় অনেক সালিস-দরবারের দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু তাতে কোনো ফল হয়নি।



 



গ্রাম আদালতের ধারণা লাভ: বাংলাদেশ সরকার, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং ইউএনডিপি-এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। গ্রাম আদালত আইন ২০০৬ (সংশোধন ২০১৩) বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ জনগোষ্ঠী স্বল্প সময়ে ও অতি অল্প খরচে ন্যায়-বিচার পাবেন। এলাকায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গ্রাম আদালত বিষয়ক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরূপ একটি উঠান বৈঠকে খোরশেদ আলম অংশগ্রহণ করেন। এ বৈঠকে গ্রাম আদালত কী, গ্রাম আদালতের এখতিয়ার ও কোন্ কোন্ বিষয়ে গ্রাম আদালত বিচার করতে পারবে তা নিয়ে আলোচনা হয়। উঠান বৈঠক শেষে খোরশেদ আলম গ্রাম আদালত সহকারী সীমা রাণী দাসকে বলেন, আপা, আমার এই ঘটনার কি কোনো বিচার পেতে পারি? আদালত সহকারী বলেন, এটি গ্রাম আদালতের এখতিয়ারভুক্ত একটি মামলা। আপনি চাইলে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে গ্রাম আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন।



গ্রাম আদালতে মামলা দায়ের: অতঃপর খোরশেদ আলম উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদে আসেন এবং গ্রাম আদালত সহকারীর সাথে আলোচনা করার পর গ্রাম আদালতে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি আদালত সহকারীর সহায়তায় মাত্র ১০ টাকা ফিস দিয়ে তার ১৯ হাজার টাকা মূল্যের বর্গাকৃত গরু ফেরৎ পাওয়ার দাবিতে তিনি রফিকুল ইসলাম ও লিলু বেগমের বিরুদ্ধে গত ৪ আগস্ট ২০১৮ তারিখে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন।



মামলাটি আদালতের মামলা রেজিস্টারে ১৬/২০১৮ নং মামলা হিসেবে নথিভূক্ত করা হয়। ঐ দিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ শরীফ গাজাী যথানিয়মে প্রতিবাদীগণের প্রতি সমন জারি করার আদেশ দেন। আদালত সহকারী গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে প্রতিবাদীগণের প্রতি সমন জারি করেন। সমন পাওয়ার পর ১১ আগস্ট ২০১৮ তারিখে প্রতিবাদীগণ ও আবেদনকারী উভয়ই হাজির হন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ শরীফ গাজী প্রতিবাদীগণকে আবেদনকারীর অভিযোগ সম্পর্কে অবহিত করলে প্রতিবাদীগণ তা অস্বীকার করায় পক্ষদ্বয়কে আদালত গঠন করার জন্যে সদস্য মনোনয়ন করার নির্দেশ দেন। গ্রাম আদালত সহকারী তাদেরকে সদস্য মনোনয়ন ফরম দিয়ে সদস্য মনোনয়নের বিষয়টি সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দেন। ১৬ আগস্ট ২০১৮ তারিখে আবেদনকারীর পক্ষে মোঃ শাহ আলম কিরণ, ইউপি সদস্য ও মোঃ বজলুর রহমান, স্থানীয় ব্যক্তি এবং প্রতিবাদীর পক্ষে মোঃ মাসুদ আলম, ইউপি সদস্য ও মোঃ কামরুল হাসান, স্থানীয় ব্যক্তিকে গ্রাম আদালতের বিচারক হিসেবে মনোনীত করেন। তারপর ইউপি চেয়ারম্যান ১৯ আগস্টের মধ্যে প্রতিবাদীকে লিখিত আপত্তি ও ২২ আগস্টে প্রথম শুনানির জন্যে দিন ধার্য করেন।



মামলার শুনানি: ২২ আগস্ট ২০১৮ তারিখে উভয় পক্ষ ও গ্রাম আদালতের মনোনীত সদস্যগণ (বিচারকগণ) হাজির হন। উভয় পক্ষ তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এরপর আদালত কর্তৃক বিচারিক বিষয় নির্ধারণ হয় যে, মোঃ খোরশেদ আলম ভূঁইয়ার বর্গা দেয়া গরুটি মোঃ রফিকুল ইসলাম বিক্রি করে দিয়েছেন। অতঃপর পক্ষদ্বয়কে প্রাক-বিচারের মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তির বিষয়টি অবহিত করলে পক্ষদ্বয় সম্মতি জ্ঞাপন করেন।



মামলার রায়: ২৮ আগস্ট ২০১৮ তারিখে পক্ষদ্বয় আপোষনামা জমা দেয়ায় আপোষনামার শর্ত অনুযায়ী গ্রাম আদালত রায় প্রদান করে যে, প্রতিবাদী আবেদনকারীকে ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখের মধ্যে গরু ফেরৎ দিবেন এবং ভবিষ্যতে আর কখনো এ ধরনের কাজ করবেন না। উপকারীর অপকার করবেন না।



বাস্তবায়ন: আদালতের রায় অনুযায়ী গত ১ সেপ্টেম্বর প্রতিবাদী রফিকুল ইসলাম আবেদনকারী খোরশেদ আলম ভূঁইয়াকে তার ১৯ হাজার টাকা মূল্যের বর্গাকৃত গরুটি ফেরৎ দেন। মাত্র ১০ টাকা মামলা ফি প্রদান সাপেক্ষে ৬ দিনের মধ্যে বিচার কার্য সম্পন্ন হয় এবং ৪ দিনের মধ্যে আদালতের রায় বাস্তবায়ন করা হয়।



আবেদনকারীর অভিব্যক্তি: মামলার রায় পেয়ে আবেদনকারী খুবই সন্তুষ্ট হন। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে সঠিক বিচার পাওয়ার নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল হচ্ছে গ্রাম আদালত। আমি সাধারণ মানুষ হিসেবে হয়রানিমুক্ত সঠিক বিচার পাওয়ায় গ্রাম আদালতের কথা কখনো ভুলব না। আমি আপনাদের প্রতিও কৃতজ্ঞ।



 



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
১০১১৪৮৪
পুরোন সংখ্যা