চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ২৬ এপ্রিল ২০১৮। ১৩ বৈশাখ ১৪২৫। ৯ শাবান ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৭- সূরা সাফ্ফাত

১৮২ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৭১। তাদের পূর্বেও  অগ্রবর্তীদের অধিকাংশ বিপথগামী হয়েছিল।

৭২। আমি তাদের মধ্যে ভীতি প্রদর্শনকারী প্রেরণ করেছিলাম।

৭৩। অতএব লক্ষ্য করুন, যাদেরকে ভীতিপ্রদর্শন করা হয়েছিল, তাদের পরিণতি কী হয়েছে।

৭৪। তবে আল্লাহর বাছাই করা বান্দাদের কথা ভিন্ন।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


সঙ্গ দোষেই মানুষ খারাপ হয়।      


-প্রবাদ


নফস্কে দমন করাই সর্বপ্রথম জেহাদ।


ফটো গ্যালারি
দেশে উৎপাদিত ৭০ ভাগ ইলিশের মধ্যে চাঁদপুরে ৬০ ভাগ
ইলিশ আরো বেশি উৎপাদনের লক্ষ্যে ৫ বছর মেয়াদী ৩৩ কোটি টাকার প্রকল্প বরাদ্দ
'অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনা গতিশীল করতে বেশ কিছু কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা হয়েছে'
বিশেষ প্রতিনিধি
২৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ইলিশের রাজধানী খ্যাত চাঁদপুরে ইলিশ আরো বেশি উৎপাদনের লক্ষ্যে ৫ বছর মেয়াদী ৩৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বরাদ্দ হয়েছে। চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনাসহ বিভিন্ন স্থানে ইলিশ উৎপাদন বর্তমানে যা হচ্ছে, তার চেয়ে আরো বেশি উৎপাদন করতে গত ক'দিন পূর্বে একটি প্রকল্পের জন্যে মৎস্য অধিদপ্তর থেকে ৩৩ কোটি টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে এ তথ্য জানা গেছে।



রূপালী ইলিশ কেবলমাত্র চাঁদপুরবাসীর সম্পদ নয়, এটি সমগ্র দেশবাসীর সম্পদ। এ ইলিশ দেশের জন্যে জাতীয় ও প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে গণ্য হচ্ছে দেশের সকল স্থানে। পৃথিবীর অনেক দেশেই ইলিশ পাওয়া যায়। তার মধ্যে যেসব দেশে ইলিশ উৎপন্ন হয় সেসব দেশের মধ্যে বাংলাদেশে ৭০%, ভারতে ১০%, বার্মায় ১০% এবং অন্যান্য দেশে ১০% ইলিশ উৎপাদন হয় বলে বিভিন্ন দেশের পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে। আবার বাংলাদেশের ৭০%-এর মধ্যে শুধুমাত্র চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতেই ইলিশ উৎপাদন হয়ে থাকে কমপক্ষে ৬০ ভাগ। চাঁদপুর অঞ্চলে মৎস্য বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ অঞ্চলের মধ্যে চাঁদপুরের নৌ-সীমানার ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের নৌ-সীমানার চরআলেকজান্ডার পর্যন্ত ১শ' কিঃমিঃ ও পদ্মা নদীর অংশে ২০ কিঃ মিঃ নদীতে ৬০% ইলিশ উৎপাদনের অস্তিত্বের সন্ধান খুঁজে পেয়েছেন বলে জানান। এরই মধ্যে বাংলাদেশের পণ্য হিসেবে ভৌগোলিক নিদর্শন তথা আন্তর্জাতিক জিআই (এবড়মৎধঢ়যরপধষ রহফরপধঃরড়হ) স্বীকৃতি পেয়েছে এ রূপালী ইলিশ। চাঁদপুরে ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে ৩৩ কোটি টাকার ৫ বছর মেয়াদী একটি প্রকল্প বরাদ্দ দিয়েছে সরকারের মৎস্য অধিদপ্তর। চাঁদপুর নদী গবেষণা কেন্দ্রে এ প্রকল্প নিয়ে পরিচালকের কার্যালয়ও খোলা হয়েছে। ফলে সরকারের মৎস্য বিভাগ চাঁদপুরকে ইলিশের অভয়াশ্রম ও মা ইলিশ রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপসহ অনেকগুলো কাজ হাতে নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ২০০৩ সাল থেকে ইলিশের অভয়াশ্রম ও মা ইলিশ রক্ষার পদক্ষেপগুলো ক্রমেই জোরদার করা হচ্ছে। তাই ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে পূর্বের চাইতে অনেক গুণ। পাশাপাশি জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানে প্রকল্পও হাতে নেয়া হয়েছে। দেশের মৎস্য বিভাগ এরই মধ্যে ৫টি নদী ও উপকূলীয় অঞ্চলকে অভয়াশ্রম বা ইলিশের বিচরণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সেগুলো হলো : চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের চরআলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদীর অববাহিকায় ১শ' কিঃমিঃ, ভোলার মদনপুর থেকে চরপিয়াল পর্যন্ত শাহবাজপুর শাখা নদীর ৯০ কিঃমিঃ, ভোলার ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালীর চররুস্তম পর্যন্ত তেতুলিয়া নদীর প্রায় ১শ' কিঃমিঃ এবং শরীয়তপুরের নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার অংশে পদ্মায় ২০ কিঃমিঃ। এদিকে বরিশালের হিজলা থেকে ২২ কিঃমিঃ নতুন একটি এলাকাকে মৎস্য বিভাগ অভয়াশ্রম ঘোষণা করতে যাচ্ছে। এরই পাশাপাশি চট্টগ্রামের মিরসরাই এলাকা, ভোলার তমুদ্দিন, পটুয়াখালীর কলাপাড়া, কঙ্বাজার এলাকার কুতুবদিয়া এলাকাও ইলিশের প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। প্রজনন মৌসুমে এসব অভয়াশ্রম এলাকায় মা ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।



ইলিশের উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে বেশ কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়নে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। 'ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন' শিরোনামে একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্যে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে বলে জানানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে। প্রকল্পটি নিয়ে এরই মধ্যে কয়েক দফা আন্তঃমন্ত্রণালয় সভাও হয়েছে। শিগগিরই প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) নির্বাহী কমিটির সভায় উঠতে পারে বলে জানা গেছে। জাতীয়ভাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে আপাতত ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্যে ২শ' ১৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। এ প্রকল্প দেশের ২৯ জেলার ১শ' ৩৪ উপজেলায় বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। এসব উপজেলা কোনো না কোনোভাবে ইলিশ উৎপাদন, বিপণন, প্রক্রিয়া ও বাজারজাতকরণে নিয়োজিত রয়েছে। এসব জেলার শতকরা ২ ভাগ লোক এসব কাজে জড়িত। জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ব্যবস্থা নিশ্চিতের পাশাপাশি অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ করতে পারলে এবং 'মৎস্য সংরক্ষণ আইন' কঠোরভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হলে ইলিশের উৎপাদন অনেক গুণ বাড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা মতামত দেন। রাষ্ট্রের জাতীয় সম্পদ রক্ষায় এসব কাজেই এ অর্থ ব্যয়ের নির্দেশনা রয়েছে। প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে ওইসব অভয়াশ্রম থেকে একশ্রেণির জেলেরা ইলিশ নিধন করছে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা চাঁদপুর মৎস্য অধিদপ্তর ও নদী গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, ইলিশের বিদ্যমান ৫টি অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনা গতিশীল করতে বেশ কিছু কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, জেলেদের মধ্যে আদর্শ মৎস্যজীবী গ্রাম প্রতিষ্ঠা, জাটকা আহরণকারী ৪০ হাজার জেলে পরিবারের জন্যে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, একই সঙ্গে মৎস্য সংরক্ষণ আইনের আওতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ও অভিযান জোরদার ইত্যাদি।



মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা বলেছেন, দেশে প্রতি বছর যে পরিমাণ মাছ উৎপাদন হয় তার ১১ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে । দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে ইলিশের উৎপাদন ১ শতাংশ । গত বছর পৌনে ৫ লাখ মেঃ টন ইলিশ উৎপাদন হয়েছে। চাঁদপুরে 'ইলিশ উৎপাদন জোরদারকরণ' প্রকল্পের পরিচালক এমএ বাশার জানান, ৩৩ কোটি টাকা প্রকল্পের অধীনে চাঁদপুরে জেলেদের প্রশিক্ষণ ও তাদেরকে সচেতন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, অভয়াশ্রমগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি নির্ণয়, ইলিশ গবেষণা জোরদার ও ছোট ছোট ইলিশের পেটে ডিম আসার কারণ নিরূপণ, ইলিশের বিচরণ ক্ষেত্র পরিবর্তনের কারণ নির্ণয়, জলবায়ূ পরিবর্তনের ওপর কাজ করা, ইলিশের সুষ্ঠু বাজারজাতকরণ ও মূল্য নির্ধারণ, ইলিশের ডিম ও রেণুর সঠিক পরিসংখ্যান নির্ণয় ও মজুত, ইলিশ গবেষণাগারের পরিমার্জন ও সংস্করণসহ ইত্যাদি বিষয়ে চাঁদপুরের ইলিশ উৎপাদন জোরদারকরণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পটি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে একনেকে অনুমোদন লাভ করে এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কাজ শুরু করে, যা ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত কাজ চলবে।



চাঁদপুর নদী গবেষণা কেন্দ্রের ও দেশের অন্যতম ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণ ও ডিম পাড়ার সুযোগ দেয়া, জাটকাকে বড় হতে সুযোগ দেয়া ও রক্ষা করা, অভয়াশ্রমগুলোকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংরক্ষণে রাখা, জেলেদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সচেতন করে তোলা ও আইন প্রয়োগে কঠোর অবস্থানে থাকলে এবার ৫ লাখ মেঃ টন ইলিশ উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নদীতে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ও ইলিশের পোনা জাটকা রয়েছে এবং ভালো অবস্থানে আছে। এ ইলিশ ও জাটকা রক্ষা করলেই প্রকৃত ফল পাওয়ার আশা রয়েছে শতভাগ।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৯২৬৯৪৫
পুরোন সংখ্যা