চাঁদপুর। শুক্রবার ৮ ডিসেম্বর ২০১৭। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯
kzai
muslim-boys

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৩-সূরা আহ্যাব

৭৩ আয়াত, ৯ রুকু, মাদানী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১২। আর স্মরণ কর, মুনাফিকরা ও যাহাদের অন্তরে ছিল ব্যাধি, তাহারা বলিতেছিল, ‘আল্লাহ এবং তাঁহার রাসূল আমাদিগকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়াছিলেন তাহা প্রতারণা ব্যতীত কিছুই নহে।’

১৩। আর উহাদের এক দল বলিয়াছিল, ‘হে ইয়াছরিববাসী! এখানে তোমাদের কোন স্থান নাই, তোমরা ফিরিয়া চল’ এবং উহাদের মধ্যে একদল নবীর নিকট অব্যাহতি প্রার্থনা করিয়া বলিতেছিল, আমাদের বাড়িঘর অরক্ষিত; অথচ ওইগুলো অরক্ষিত ছিল না, আসলে পলায়ন করাই ছিল উহাদের উদ্দেশ্য।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


একজন লোকের জ্ঞানের পরিধি তার অভিজ্ঞতা দ্বারা খ-ায়িত করা যায় না।

-জনলক।


যে সব ব্যক্তি নিন্দুক এবং যারা অপমানকারী, তাদের সর্বনাশ, অর্থাৎ তারা কষ্টদায়ক পরিণতি প্রাপ্ত হবে।


ফরিদগঞ্জে শিক্ষকদের প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্যের কাছে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অসহায়
ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
০৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

শিক্ষাবোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা সত্ত্ব্বেও ফরিদগঞ্জ উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকরা প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছেন। জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্যে বিশেষ ক্লাসের নামে স্কুলগুলোতে অর্থবাণিজ্য অভিভাবকরা মেনে নিলেও কিছু সংখ্যক শিক্ষকের এর বাইরেও প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্যের কারণে ফরিদগঞ্জের অর্ধলক্ষাধিক অভিভাবক দিশেহারা। অভিযোগ রয়েছে, এসব শিক্ষক ক্লাসের চেয়ে কোচিংয়েই মনোযোগী বেশি।

ফরিদগঞ্জ উপজেলায় এমপিওভুক্ত ৫০টি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। যাদের অধিকাংশেরই অভিভাবকরা আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল। সরকারের বিনামূল্যে বই বিতরণ ও উপবৃত্তি ব্যবস্থার কারণে অস্বচ্ছল পরিবারের ছেলে-মেয়েরা বিদ্যালয়মুখী হলেও হোঁচট খাচ্ছে শিক্ষকদের প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্যের কারণে।

তাছাড়া প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্যের সাথে সম্পৃক্ত শিক্ষকরা যখন ক্লাসে পাঠদান করেন, তখন সেখানেও তারা শিক্ষার্থীদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করেন। শুধুমাত্র যারা তাদের কাছে প্রাইভেটে আসেন তাদেরকে নিয়েই তারা শ্রেণিকক্ষে ব্যস্ত থাকেন। ফলে তুলনামূলক কম মেধাবী কিংবা দুর্বল শিক্ষার্থীরা আরো অসহায় হয়ে পড়ে।

এমন চিত্র ফরিদগঞ্জ উপজেলার ফরিদগঞ্জ এআর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, রূপসা আহাম্মদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, চান্দ্রা ইমাম আলী উচ্চ বিদ্যালয়, শোল্লা উচ্চ বিদ্যালয়, মুন্সীরহাট উচ্চ বিদ্যালয়, প্রত্যাশী আরএ উচ্চ বিদ্যালয়, পাইকপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, খাজুরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়সহ প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে রয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী শিক্ষকরা নিয়মিত এসব কোচিং ও প্রাইভেটের সাথে জড়িত। বিষয়টি এমন পর্যায়ে গিয়ে পেঁৗছেছে যে, অস্বচ্ছল পরিবারের পক্ষে তার সন্তানকে পড়াশোনা করানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এমন এক পরিবারের অভিভাবকের সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। উপজেলা সদরের একটি বড় প্রতিষ্ঠানের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে তার সন্তান। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে তাকে অষ্টম শ্রেণিতে আর পড়াতে পারবেন কি না এ চিন্তায় ব্যাকুল ওই অভিভাবক মা। কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, বিনামূল্যে বই ও উপবৃত্তি সুবিধা পেলেও সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রাইভেট পড়া নিয়ে। ভালো শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়াতে না পারলে ভালো ফলাফল সম্ভব না। ফলে বাধ্য হয়ে মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ করার চিন্তা করছেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানান, একপ্রকার বাধ্য হয়েই আমাদের কোচিং সেন্টারে যেতে হয়। অমুক শিক্ষকের কাছে কোচিং না করলে তমুক শিক্ষক রাগ হয়ে যান। আবার দেখা যায়, তাদের কাছে প্রাইভেট অথবা কোচিং না করলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেন।

মোস্তফা কামাল মুকুল নামে এক অভিভাবক বললেন, কোচিং ভালো, কিন্তু সেটা যদি বাণিজ্য হয়ে যায় তাহলে সেটা দুঃখজনক। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের ভালো করার লক্ষ্যে এবং এসএসসি পরীক্ষার দু-এক মাস আগ থেকে অধিকতর ভালো রেজাল্ট করানোর জন্যে স্কুল কর্তৃপক্ষ কোচিং করাতে পারে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে বছরের বারমাস শিক্ষার্থীদের নিয়ে নির্দিষ্ট একটা ফি'র বিনিময়ে কোচিং করানো হয়। কোচিং করুক আর না করুক প্রতিটি শিক্ষার্থীকেই ফি দিতে হবে। এটা বাণিজ্যকরণ ছাড়া আর কিছুই নয়। তাছাড়া শিক্ষকদের ব্যক্তিগত পর্যায়ের অবস্থা তো রীতিমতো জমজমাট।

সরজমিনে উপজেলার বেশ ক'টি এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, সন্ধ্যা না হতেই ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকদের বাসায় চলছে প্রাইভেটের জমজমাট আসর। স্কুলের মতো করে ৪০/৫০জন শিক্ষার্থীকে একত্রে পড়াচ্ছেন। আবার কেউ কেউ নিজ বাসায় খুলে বসেছেন ওইসব শিক্ষার্থীর জন্যে আবাসিক বোডিং।

অভিভাবক এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের অভিযোগ, কোচিংয়ে না গেলে পরীক্ষার ফল ভালো হবে না, কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হবে না। অতএব, অভিভাবকের পকেটে যতো টানই পড়ুক, সন্তানের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত অভিভাবকদের অন্য খাতে খরচ কমিয়ে হলেও কোচিংয়ের টাকা জোগান দিতে হয়।

ফরিদগঞ্জ এআর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল আমিন কাজল বলেন, স্কুলে চাকুরি করেন এমন শিক্ষকরা কোনোমতেই প্রাইভেট পড়াতে পারেন না। এ বিষয় বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের কঠিন বিধান আছে। এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে চাকুরি হারানোসহ এমপিও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমি আমার বিদ্যালয়ের ওইরকম ক'জন শিক্ষককে প্রাইভেট বা কোচিংয়ের বিষয়ে হুঁশিয়ার করে দিয়েছি। তাছাড়া গত একমাস আগে বোর্ড ও মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে-যে সকল শিক্ষক প্রাইভেট বা কোচিংয়ে জড়িত তাদের তালিকা খুব দ্রুত বোর্ডে প্রেরণ করতে।

উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ আল মামুন বললেন, প্রাইভেটের নামে এ ধরনের কোনো রিপোর্ট করতে পারেন অথবা আমাদেরকে জানালে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এএইচএম মাহফুজুর রহমান বলেন, আমি এ উপজেলায় নতুন এসেছি। তাছাড়া শিক্ষার বিষয়ে আমি সতর্ক। মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো শিক্ষক এ ধরনের কোনো অনৈতিক কাজে জড়ালে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাহেদ সরকার বলেন, সরকার সমগ্র জাতিকে শিক্ষার আওতায় আনতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গরিব-দুঃখি কারোরই যেনো অর্থের অভাবে কিংবা বইয়ের অভাবে পড়াশোনা করতে অসুবিধা না হয়, তার জন্যে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও বিনামূল্যে বই দিচ্ছে। পাশাপাশি বর্তমান সরকার শিক্ষকদের বেতন ভাতাও দ্বিগুণ করে দিয়েছে। তারপরও যদি কোনো শিক্ষক অনৈতিকভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের ন্যায্য অধিকার তথা আন্তরিকতার সাথে পাঠদান থেকে বঞ্চিত করে, তা সহ্য করা হবে না। সরকারের শিক্ষা কার্যক্রমে পরিকল্পিতভাবে যদি কেউ বাধা সৃষ্টি করে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৫২৪৯১
পুরোন সংখ্যা