চাঁদপুর, শুক্রবার ২২ জানুয়ারি ২০২১, ৮ মাঘ ১৪২৭, ৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • বীমায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর
ইসলামে স্বামী-স্ত্রী
মুফতী মুহাঃ আবু বকর বিন ফারুক
২২ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আল্লাহতায়ালা বলেন, পুরুষগণ নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল এ কারণে যে, আল্লাহ তাদের একে অন্যের উপর মর্যাদা প্রদান করেছেন, আর এজন্য যে, পুরুষেরা স্বীয় ধন-সম্পদ হতে ব্যয় করে। ফলে পুণ্যবান স্ত্রীরা (আল্লাহ ও স্বামীর প্রতি) অনুগতা থাকে এবং পুরুষের অনুপস্থিতিতে তারা তা (অর্থাৎ তাদের সতীত্ব ও স্বামীর সম্পদ) সংরক্ষণ করে যা আল্লাহ সংরক্ষণ করতে আদেশ দিয়েছেন। যদি তাদের মধ্যে অবাধ্যতার সম্ভাবনা দেখতে পাও, তাদেরকে সদুপদেশ দাও এবং তাদের সাথে শয্যা বন্ধ কর এবং তাদেরকে (সঙ্গতভাবে) প্রহার কর, অতঃপর যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়, তাহলে তাদের উপর নির্যাতনের বাহানা খোঁজ করো না, নিশ্চয় আল্লাহ সর্বোচ্চ, সর্বশ্রেষ্ঠ। (সূরা নিসা-৩৪)।



এই আয়াতে পুরুষদের কর্তৃত্ব ও দায়িত্বশীলতার দুটি কারণ বলা হয়েছে। প্রথমটি হল, আল্লাহ প্রদত্ত যেমন, পুরুষোচিত শক্তি ও সাহস এবং মেধাগত যোগ্যতায় পুরুষ সৃষ্টিগতভাবেই নারীর তুলনায় অনেক বেশি।



দ্বিতীয়টি হল সব-উপার্জিত এই দায়িত্ব শরীয়ত পুরুষের উপর চাপিয়েছে। মহিলাদেরকে তাদের প্রাকৃতিক দুর্বলতার কারণে এবং তাদের সতীত্ব, শ্লীলতা এবং পবিত্রতার হিফাযতের জন্য ইসলাম বিশেষ করে তাদের জন্য অতীব জরুরি যে বিধি-বিধান প্রণয়ন করেছে সেই কারণেও উপার্জনের ঝামেলা থেকে তাদেরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।



স্ত্রী অবাধ্য হলে সর্বপ্রথম তাকে সদুপদেশ ও নসীহতের মাধ্যমে বুঝাতে হবে। দ্বিতীয়ত সাময়িকভাবে তার সংসর্গ থেকে পৃথক হতে হবে। বুদ্ধিমতী মহিলার জন্য এটা বড় সতর্কতার বিষয়। কিন্তু এতেও যদি সে না বুঝে, তাহলে হাল্কাভাবে প্রহার করার অনুমতি আছে। তবে এই প্রহার যেন হিংস্রতা ও অত্যাচারের পর্যায়ে না পৌঁছে; যেমন অনেক মূর্খ লোকের স্বভাব। মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাঃ) এই যুলুমের অনুমতি কাউকে দেননি। 'অতঃপর যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোন পথ অন্বেষণ করো না' অর্থাৎ, তাহলে আর মারধর করো না, তাদের উপর সংকীর্ণতা সৃষ্টি করো না অথবা তাদেরকে তালাক দিও না। অর্থাৎ, তালাক হল একেবারে শেষ ধাপ; যখন আর কোন উপায় থাকবে না, তখন তার প্রয়োগ হবে। কিন্তু বহু স্বামী তাদের এই অধিকারকে বড় অন্যায়ভাবে ব্যবহার করে থাকে। ফলে সামান্য ও তুচ্ছ কারণে তালাক দিয়ে নিজের, স্ত্রীর এবং সন্তানদের জীবন নষ্ট করে থাকে।



 



পরিবার গঠন ও দাম্পত্য জীবনে সৌহার্দ্যের গুরুত্ব :



এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর উপর যে বিষয়টি সবচেয়ে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে তাহলো পরিবার গঠন ও তাকে সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাঁর প্রজ্ঞায় পরিবারকে পুরুষ ও নারী নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য তৈরি করেছেন প্রত্যাবর্তনস্থল হিসেবে; যাতে সে অবস্থান করবে এবং সেখানে প্রশান্তি অনুভব করবে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাঁর বান্দাদের প্রতি এ অনুগ্রহ প্রকাশ করে বলেন-"আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জোড়া; যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও এবং সৃজন করেছেন তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সহমর্মিতা। নিশ্চয় এতে বহু নিদর্শন রয়েছে সে সমপ্রদায়ের জন্য, যারা চিন্তা করে।" (সূরা আর-রূম, আয়াত : ২১)।



হ্যাঁ, আল্লাহ বলেছেন, 'যাতে সে তার কাছে শান্তি পায়'; তিনি বলেননি। 'যাতে সে তার সাথে বাস করে', সুতরাং আল্লাহর এ বাণীর দাবি হচ্ছে যে, পরিবারের আচার-আচরণ হবে স্থিতিশীল আর অনুভূতি হবে প্রশান্তির কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে সর্বোচ্চ অর্থে শান্তি ও নিশ্চিন্ততা প্রতিষ্ঠিত হবে। সুতরাং স্বামী-স্ত্রীর প্রত্যেকেই তার সঙ্গীর মধ্যে অস্থিরতার সময় প্রশান্তি এবং সঙ্কটময় মুহূর্তে আনন্দ অনুভব করবে।



দাম্পত্যজীবনের সম্পর্কের মূলভিত্তি হল : ভালোবাসা, ঘনিষ্টতা ও সখ্যতার উপর প্রতিষ্ঠিত সাহচর্য ও মিলন। এ সম্পর্কের শিকড় অনেক গভীরে, বিস্তৃতি অনেক দূর ব্যপ্ত, স্বয়ং ব্যক্তির সাথে তার আত্মার যে সম্পর্ক, এটা তার সাথে খুব চমৎকারভাবে তুলনাযোগ্য, যা আমাদের প্রতিপালকের কিতাব বর্ণনা করেছে, তিনি বলেছেন, "তারা তোমাদের পোষাকস্বরূপ এবং তোমরা ও তাদের পোষাকস্বরূপ।" (সূরা আল-বাকারা, আয়াত : ১৮৭)।



তাছাড়া এই সম্পর্ক ছেলে ও মেয়েদের শিক্ষা এবং লালনপালন দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে যা গঠন করে, তা স্নেহপূর্ণ মাতৃত্ব ও শ্রমনির্ভর পিতৃত্বের ছায়াতল ছাড়া হতে পারে না।



এ সম্মানিত পারিবারিক পরিবেশের চেয়ে আর কোন পরিবেশ অধিক পবিত্র হতে পারে?



 



মুসলিম পরিবার প্রতিষ্ঠার খুঁটিসমূহ :



এমন অনেক বিষয় রয়েছে যার উপর মুসলিম পরিবারের অবকাঠামো দাঁড়িয়ে আছে; যার মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত হয় স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য সম্পর্ক এবং যা মেনে চললে তা থেকে দূরে থাকে বিচ্ছিন্নতার ঝড়ো হাওয়া ভঙ্গ ও কর্তৃত্ব হওয়ার তুফান। সে সব খুঁটিসমূহের অন্যতম হচ্ছে :



 



১. আল্লাহর উপর পূর্ণ ঈমান ও তাঁর তাকওয়া অবলম্বন



যেসব খুঁটির উপর মুসলিম পরিবার দাঁড়িয়ে থাকে, তন্মধ্যে সর্বপ্রথম ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো : ঈমানের রশিকে শক্তভাবে আকড়ে ধরা ...আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান; অন্তর যা লুকিয়ে রাখে, সে বস্তু সম্পর্কে যিনি জানেন তাকে ভয় করা; তাকওয়া ও আত্মপর্যবেক্ষণকে অপরিহার্য করে নেয়া; আর যুলুম থেকে এবং সত্য অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে অন্যায়ের আশ্রয় নেয়া থেকে দূরে থাকা। আল-কুরআনের ভাষায় :



" ... এর দ্বারা তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের উপর ঈমান রাখে, তাকে উপদেশ দেয়া হচ্ছে। আর যে কেউ আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য (উত্তরণের) পথ করে দেবেন, আর তিনি তাকে তার ধারণাতীত উৎস হতে দান করবেন রিযিক। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। ..." (সূরা আত-তালাক, আয়াত : ২-৩)।



আর এই ঈমানকে শক্তিশালী করবে : আল্লাহর আনুগত্য ও ইবাদতের ব্যাপারে চেষ্টা করা, তার ব্যাপারে যত্নবান থাকা এবং সে ব্যাপারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পরস্পরকে উপদেশ দেওয়ার ব্যবস্থা করা; তোমরা নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীটি নিয়ে ভেবে দেখ, তিনি বলেছেন :



"আল্লাহ রহম করুন এমন পুরুষ ব্যক্তির প্রতি, যে ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে উঠে, অতঃপর সালাত আদায় করে এবং সে তার স্ত্রীকে জাগিয়ে দেয়, তারপর সেও সালাত আদায় করে; অতঃপর সে (স্ত্রী) যদি ঘুম থেকে উঠতে আপত্তি করে, তাহলে তার মুখম-লের উপর হালকাভাবে পানি ছিটিয়ে দেয়। আর আল্লাহ রহম করুন এমন নারীর প্রতি, যে রাতে ঘুম থেকে উঠে, অতঃপর সালাত আদায় করে এবং সে তার স্বামীকে জাগিয়ে দেয়, তারপর সেও সালাত আদায় করে; অতঃপর সে (স্বামী) যদি ঘুম থেকে উঠতে আপত্তি করে, তাহলে তার মুখম-লের উপর হালকাভাবে পানি ছিটিয়ে দেয়।" হাদিসটি সহীহ, যা বর্ণনা করেছেন : আহমদ, আল-মুসনাদ: ২/২৫০, ৪৩৬; আবূ দাউদ: ১৩০৮; নাসায়ী: ৩/২০৫; ইবনু মাজাহ: ১৩৩৬; আর ইবনু খুযাইমা হাদিসটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন (১১৪৮); হাকেম: ১/৩০৯; আর যাহাবী (রঃ) তা সমর্থন করেছেন।



স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্কটি পার্থিব ও বস্তুগত কোনো সম্পর্ক নয়; নয় চতুষ্পদ জন্তুর প্রবৃত্তির মত কোনো সম্পর্ক; বরং তা হল আত্মীক ও সম্মানজনক একটি সম্পর্ক; আর যখন এই সম্পর্কটি নির্ভেজাল ও যথাযথ হবে, তখন তার মৃত্যুর পর পরকালীন জীবন পর্যন্ত সমপ্রসারিত হবে; আল-কুরআনের ভাষায়:



"স্থায়ী জান্নাত, তাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের পিতা-মাতা, পতি-পত্নী ও সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে যারা সৎকাজ করেছে তারাও।" - (সূরা আর-রা'দ, আয়াত : ২৩)।



 



২. সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে জীবন-যাপন করা



যে জিনিসটি এ পবিত্র দাম্পত্য সম্পর্ককে হেফাযত ও তত্ত্বাবধান করে, তাহল পরস্পর সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে জীবন-যাপন করা; আর এটা ততক্ষণ পর্যন্ত বাস্তবে পরিণত হবে না, যতক্ষণ না প্রত্যেক পক্ষ তার ভালো-মন্দ সম্পর্কে বুঝতে পারবে। বস্তুত ঘর ও পরিবারের ব্যাপারে সার্বিক পূর্ণতার বিষয়টি সুদূর পরাহত, তাই পরিবারের সদস্য কিংবা অন্যদের মধ্যে সকল বৈশিষ্ট্যের পরিপূর্ণতা লাভ করার আশা করাটা মানব স্বভাবে নাগালের বাইরের বিষয়।



নিম্নে পবিত্র কুরআনুল কারীমের আলোকে স্বামী-স্ত্রীর বিষয় তুলে ধরা হলো-আল্লাহ তা'য়ালা বলেন,



সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য স্ত্রী-সম্ভোগ বৈধ করা হয়েছে । তারা তোমাদের পোষাকস্বরূপ এবং তোমরাও তাদের পোষাকস্বরূপ। আল্লাহ্ জানেন যে, তোমরা নিজেদের সাথে খিয়ানত করছিলে। সুতরাং তিনি তোমাদের তওবা কবুল করেছেন এবং তোমাদেরকে মার্জনা করেছেন। কাজেই এখন তোমরা তাদের সাথে সংগত হও এবং আল্লাহ্ যা তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন তা কামনা কর। আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ রাতের কালোরেখা থেকে উষার সাদা রেখা স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রকাশ না হয় । তারপর রাতের আগমন পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ কর। আর তোমরা মসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় তাদের সাথে সংগত হয়ো না। এগুলো আল্লাহ্র সীমারেখা। কাজেই এগুলোর নিকটবর্তী হয়ো না। এভাবে আল্লাহ্ তাঁর আয়াতসমূহ মানুষদের জন্য সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন, যাতে তারা তাকওয়ার অধিকারী হতে পারে। (সূরা বাকারা-১৮৭)।



আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, হজ হয় সুবিদিত মাসগুলোতে। তারপর যে কেউ এ মাসগুলোতে হজ করা স্থির করে সে হজের সময় স্ত্রী-সম্ভোগ অন্যায় আচরণ ও কলহ-বিবাদ করবে না। আর তোমরা উত্তম কাজ থেকে যা-ই কর আল্লাহ্ তা জানেন আর তোমরা পাথেয় সংগ্রহ কর। নিশ্চয় সবচেয়ে উত্তম পাথেয় হচ্ছে তাকওয়া। হে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিগণ! তোমরা আমারই তাকওয়া অবলম্বন কর। (সূরা বাকারা-১৯৭)



আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, লোকেরা তোমাকে ঋতু সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করছে। বলো, 'তা অশুচি বা কষ্টদায়ক অবস্থা'। কাজেই ঋতুকালে স্ত্রী-সহবাস থেকে বিরত থাকো এবং যে পর্যন্ত পবিত্র না হয়, তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। তারপর যখন পবিত্র হবে, তখন তাদের সাথে সহবাস করো, যেভাবে মহান আল্লাহ্ অনুমতি দিয়েছেন। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্ তওবাহ্কারীকে ভালোবাসেন আর পবিত্রতা অবলম্বীদেরও ভালোবাসেন। (সূরা বাকারা-২২২)।



আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র। সুতরাং তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যে প্রকারে ইচ্ছা গমন করো এবং নিজেদের জন্য ভবিষ্যতের বন্দোবস্ত করো আর মহান আল্লাহ্কে ভয় করো এবং জেনে রেখো যে, তোমাদের তাঁর কাছে হাজির হতে হবে। আর বিশ্বাসীদের সুসংবাদ শুনিয়ে দাও। (সূরা বাকারা-২২৩)।



আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রীদের রেখে মারা যাবে, তারা বিবিদের জন্য ওয়াসিয়াত করবে। যেন এক বছরকাল সুযোগ-সুবিধা পায় এবং গৃহ থেকে বের করে দেয়া না হয়, তবে যদি তারা নিজেরাই বের হয়ে যায়, তবে তোমাদের প্রতি গুনাহ নেই তারা নিজেদের ব্যাপারে বৈধভাবে কিছু করলে; মহান আল্লাহ্ মহাশক্তিধর, সুবিজ্ঞ। (সূরা বাকারা-২৪০)্।



আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, হে ঈমানদারগণ! জোরপূর্বক নারীদের ওয়ারিশ হওয়া তোমাদের জন্য বৈধ নয়। আর তাদেরকে দেয়া মাল হতে কিছু উসূল করে নেয়ার উদ্দেশে তাদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করবে না, যদি না তারা সুস্পষ্ট ব্যভিচার করে। তাদের সাথে দয়া ও সততার সঙ্গে জীবনযাপন কর। যদি তাদেরকে না-পছন্দ কর, তবে হতে পারে যে তোমরা যাকে না-পছন্দ করছ, বস্তুত তারই মধ্যে আল্লাহ বহু কল্যাণ দিয়ে রেখেছেন (সূরা নিসা-১৯)।



আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, যদি তোমরা এক স্ত্রী বদলিয়ে তদস্থলে অন্য স্ত্রী গ্রহণের ইচ্ছে কর এবং তাদের একজনকে অগাধ সম্পদও দিয়ে থাক, তবুও তা থেকে কিছুই ফিরিয়ে নিও না। তোমরা কি (স্ত্রীর নামে) মিথ্যে দুর্নাম রটিয়ে সুস্পষ্ট গুনাহ করে তা ফেরত নেবে? (সূরা নিসা-২০)।



আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, কেমন করেই বা তোমরা তা গ্রহণ করবে যখন তোমরা একে-অন্যের সাথে সঙ্গত হয়েছ এবং তারা তোমাদের নিকট হতে (বিবাহবন্ধনের) সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি নিয়েছে। (সূরা-নিসা -২১)।



আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, যদি তোমরা তাদের মধ্যে অনৈক্যের আশঙ্কা কর, তবে স্বামীর আত্মীয়-স্বজন হতে একজন এবং স্ত্রীর আত্মীয়-স্বজন হতে একজন সালিস নিযুক্ত কর। যদি উভয়ে মীমাংসা করিয়ে দেয়ার ইচ্ছে করে, তবে আল্লাহ উভয়ের মধ্যে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছু জানেন। সকল কিছুর খবর রাখেন। (সূরা নিসা-৩৫)।



আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, এবং যদি কোন নারী স্বীয় স্বামী হতে রূঢ়তা কিংবা উপেক্ষার আশঙ্কা করে। তবে তারা পরস্পর আপোষ করলে তাদের কোন গুনাহ নেই। বস্তুত আপোষ করাই উত্তম। আর নফস্ কৃপণতার দিকে সহজেই ঝুঁকে পড়ে, আর যদি তোমরা সৎকর্ম কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর তবে তোমরা যা কর আল্লাহ তার খবর রাখেন। (সূরা নিসা-১২৮)।



আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, তোমরা কক্ষনো স্ত্রীদের মধ্যে সমতা রক্ষা করতে পারবে না যদিও প্রবল ইচ্ছে কর, তোমরা একজনের দিকে সম্পূর্ণরূপে ঝুঁকে পড়ো না এবং অন্যকে ঝুলিয়ে রেখ না। যদি তোমরা নিজেদেরকে সংশোধন কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা নিসা-১২৯)।



আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, তারা যদি উভয়ে পৃথক হয়ে যায় তবে আল্লাহ আপন প্রাচুর্য দিয়ে প্রত্যেককে অভাবমুক্ত করে দেবেন, আল্লাহ প্রাচুর্যময়, মহাকুশলী। (সূরা নিসা-১৩০)।



আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, তিনিই তোমাদেরকে এক ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন আর তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে সে তার কাছে শান্তি পায়। যখন সে স্ত্রীর সাথে সঙ্গত হয় তখন সে লঘু গর্ভধারণ করে আর তা নিয়ে চলাফেরা করে। গর্ভ যখন ভারী হয়ে যায় তখন উভয়ে তাদের প্রতিপালক আল্লাহকে ডেকে বলে, 'যদি তুমি আমাদেরকে (গঠন ও স্বভাবে) ভাল সন্তান দান কর তাহলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।'(সূরা আরাফ-১৮৯)।



আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, যখন তিনি তাদেরকে সর্বাঙ্গ-সুন্দর সন্তান দান করেন, তখন তারা তাদেরকে যা দেয়া হয় তাতে অন্যকে আল্লাহর শরীক গণ্য করে। তারা যাদেরকে শরীক গণ্য করে আল্লাহ তাদের থেকে অনেক ঊধর্ে্ব। (সূরা আরাফ-১৯০)।



আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, তারা কি এমন কিছুকে শরীক করে যারা কিছুই সৃষ্টি করে না? বরং তাদেরকেই সৃষ্টি করা হয়েছে। (সূরা আরাফ-১৯১)।



আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, তাঁর নিদর্শনের মধ্যে হল এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতেই তোমাদের সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তার কাছে শান্তি লাভ করতে পার আর তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। এর মাঝে অবশ্যই বহু নিদর্শন আছে সেই সমপ্রদায়ের জন্য যারা চিন্তা করে। (সূরা রুম-২১)।



আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, অতঃপর মানুষ চিন্তা করে দেখুক কোন জিনিস থেকে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। (সূরা তারেক-৫)।



আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে সবেগে বের হয়ে আসা পানি থেকে। (সূরা তারেক-৬)।



আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, যা বের হয় শিরদাঁড়া ও পাঁজরের মাঝখান থেকে। (সূরা তারেক-৭)।



হাদীস শরীফে এসেছে হযরত আবু হুরাইরা ( রাঃ ) বলেন , রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন কোনো ব্যক্তি যদি তার বিছানায় স্বীয় স্ত্রীকে ডাকে; কিন্তু স্ত্রী তাতে সাড়া না দেয়ায় স্বামী তার প্রতি অসন্তুষ্ট অবস্থায় রাত কাটায়, তাহলে ফেরেশতারা ভোর পর্যন্ত তার প্রতি অভিশাপ বর্ষণ করতে থাকে । (বুখারী ও মুসলিম)।



বুখারী ও মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় আছে। কোন স্ত্রী লোক তার স্বামীর বিছানা ত্যাগ করে রাত কাটালে ফেরেশতারা সকাল পর্যন্ত তাকে লা'নত করতে থাকে।



অন্য এক বর্ণনা মতে , রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে মহান সত্তার হাতে আমার জীবন তার শপথ ! কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে স্বীয় বিছানায় ডাকলে সে যদি তাতে সাড়া দিতে অস্বীকৃত জানায় , তাহলে তার স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত যিনি আসমানে থাকেন তিনি তার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকেন ।



হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) বর্ণনা করেন, স্বামী বাড়িতে উপস্থিত থাকা অবস্থায় তার অনুমতি ছাড়া কোন স্ত্রীর পক্ষে (নফল) রোযা রাখা বৈধ নয়। তার অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে তার ঘরে ঢোকার অনুমতি দেওয়াও তার স্ত্রীর) জন্যে বৈধ নয়। (বুখারী ও মুসলিম)।



হযরত ইবনে উমর (রাঃ)-এর বর্ণনা মতে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা প্রত্যেকেই সংরক্ষক ও তত্ত্বাবধায়ক। তোমাদের প্রত্যেককেই তার



রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আমীর বা রাষ্ট্রপ্রধান একজন সংরক্ষক (তাকেও তার দায়িত্ব পালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে)। পুরুষ (বা স্বামী) তার পরিবার-পরিজনের সংরক্ষক। স্ত্রী তার স্বামী-গৃহের ও সন্তানদের সংরক্ষক। কাজেই তোমরা প্রত্যেকেই সংরক্ষক (বা পাহারাদার) এবং প্রত্যেককেই তার রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। (বুখারী ও মুসলিম)।



হযরত আবু আলী তালক ইবনে আলী (রাঃ)-এর বর্ণনা মতে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন স্বামী যখন কোনো প্রয়োজনে স্ত্রীকে কাছে ডাকে , সে (স্ত্রী) যেন সঙ্গে সঙ্গে তার কাছে চলে আসে ;এমন কি চুলোর ওপর রুটি চাপানো থাকলেও। (তিরমিযী ও নাসাঈ)।



হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর বর্ণনা মতে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি যদি কোনো ব্যক্তিকে অপর কোনো ব্যক্তির সামনে সিজদা করার নির্দেশ দিতাম, তাহলে স্ত্রীকে নির্দেশ দিতাম তার স্বামীকে সিজদা করার জন্যে। (তিরমিযী)।



হযরত উম্মে সালামা (রাঃ)-এর বর্ণনা মতে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোনো স্ত্রী লোক যদি এমন অবস্থায় মারা যায় যে, তার স্বামী তার ওপর সন্তুষ্ট, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (তিরমিযী)।



হযরত মু'আয ইবনে জাবাল (রাঃ)-এর বর্ণনা মতে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখনই কোনো নারী তার স্বামীকে দুনিয়ায় কষ্ট দিতে থাকে, তখনই (জান্নাতের) আয়াতচেনা হুরদের মধ্যে তার সম্ভাব্য স্ত্রী বলে? (হে অভাগিনী) তুমি তাকে কষ্ট দিও না। আল্লাহ তোমায় ধ্বংস করুন! তিনি তোমার কাছে একজন মেহমান। অচিরেই তিনি তোমাকে ছেড়ে আমাদের কাছে চলে আসবেন। (তিরমিযী)।



উসামা ইবনে যায়েদ বর্ণনা করেন রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার অনুপস্থিতিতে আমি পুরুষদের জন্যে মেয়েদের চাইতে বেশি ক্ষতিকর ফিতনা (বিপর্যয়) আর রেখে যাইনি। (বুখারী ও মুসলিম)।



 



লেখক : ইমাম ও খতিব, বিষ্ণুপুর মদিনা বাজার বাইতুল আমিন জামে মসজিদ, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর।



 



 



 



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৯৯-সূরা যিল্যাল


০৮ আয়াত, ১ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১। পৃথিবী যখন আপন কম্পনে প্রবলভাবে প্রকম্পিত হইবে।


২। এবং পৃথিবী যখন তাহার ভার বাহির করিয়া দিবে,


৩। এবং মানুষ বলিবে 'ইহার কী হইল?'


 


 


assets/data_files/web

মাটিকে ভালোবাসো, মাটি তোমাকে ভালোবাসবে।


_ইবনে আহম্মদ।


 


 


 


স্বভাবে নম্রতা অর্জন কর।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৫,৩৮,০৬২ ১০,৬৪,২৭,১০৩
সুস্থ ৪,৮৩,৩৭২ ৭,৮০,৮৪,৯০৯
মৃত্যু ৮,২০৫ ২৩,২২,০৫৩
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৭০৪৩৯১
পুরোন সংখ্যা