চাঁদপুর, রোববার ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
সোহবতে সালেহীনের গুরুত্ব
মুফতি মুহাঃ আবু বকর বিন ফারুক
২৯ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মহান আল্লাহ তায়ালা মানব জাতির হেদায়াতের জন্য যুগে যুগে নবী রাসূল প্রেরণ করেছেন। নবী রাসূলগণ পৃথিবীতে তাঁদের রিসালাতের বাণী প্রচার করেছেন। তাঁদের ইন্তেকালের পর এই দায়িত্ব অর্পিত হয় হক্বানী আলেম তথা ছালেহীনদের উপর। ছালেহীনদের পথ ও মত অনুস্মরণের জন্য মহান আল্লাহ ও নির্দেশ দিয়েছেন। নিম্নে ছোহবাতে ছালেহীন সম্পর্কে কোরআন ও হাদীসের আলোকে বর্ণনা করা হল-



কোরআনের আলোকে ছোহবাতে ছালেহীন



মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাক। (সূরা তওবা-১১৯)



অত্র আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে রুহুল বায়ানে আছে তোমরা পীর মোরশেদের সঙ্গী হও।



যাহারা দ্বীনি ব্যাপারে নিয়ত, কথা ও কাজ সত্যান্বেষী তাহারাই সাদেক্বীন। অর্থাৎ আরেফগণ মনে করেন যে, এই আয়াতের মধ্যে পীরে কামেল ও আয়েম্মায়ে কেরাম মুজতাহেদীনের অনুকরণ ও ছোহবাতের ইঙ্গিত রয়েছে।



মহান আল্লাহ বলেন, হে ঈমানগারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তাঁহার নৈকট্য লাভের নিমিত্ত উছিলা অন্বেষণ কর।



এই আয়াতের ব্যাখ্যায় আবু কাসাদাহ (রাঃ) বলেন, ইবাদত এবং যে কাজে আল্লাহ তায়ালা রাজী হন, উহা দ্বারা আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জন করো। উপরোক্ত ব্যাখ্যা দ্বারা বুঝা গেলো যে, কোরআন মাজীদ ও হাদিস শরীফের এত্তেবা এবং ছোহবাত প্রভৃতি যে সকল কাজে আল্লাহ রাজী হন এবং আম্বিয়ায়ে কেরাম ও আউলিয়ায়ে কেরামের এক্তেদা ও ছোহবাতে যে সকল কাজে আল্লাহ রাজী হন উহা সকলই আল্লাহ পাকের নৈকট্য লাভের উছিলার অন্তর্ভুক্ত।



উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখিত আছে। সকল নেক কাজই আল্লাহ পাকের নৈকট্য লাভের উছিলা। কোরআন মাজীদ, নবী করিম (সাঃ) এবং বুজুর্গাণে দ্বীনই আল্লাহ পাকের নৈকট্য লাভের উছিলা। কেননা তাদের এরশাদ ও ফয়েজে মানুষ আল্লাহ তায়ালার দিকে অগ্রসর হয় এবং তাহাদেরই ছোহবতের বরকতে মানুষ আল্লাহর অনুসন্ধানী হয়। অর্থাৎ এই আয়াতে কারীমা দ্বারা সুস্পষ্ট প্রমাণিত হইতেছে যে, শরীয়তে উছিলা অন্বেষণ করার নির্দেশ রহিয়াছে এবং উহার বিশেষ প্রয়োজনও আছে। কেননা উছিলা ব্যতীত আল্লাহ পাকের নৈকট্য লাভ করা সম্ভবপর হয় না। ওলামায়ে হক্কানী ও তরীকারপীরগণই এই উছিলা।



লিখিত আছে ছুফিয়ায়ে কেরাম এই আয়াত অন্বেষণে প্রমাণ করেছেন যে, উছিলা দ্বারা কাজের পীরগণই বুঝতে হবে। যাহারা আসমানী এলম এবং রুহানী হেকমতে তালীম প্রদান করিয়া থাকেন যদিও আল্লাহ তায়ালার নাম, পাক সক্রিয়ভাবেই যুক্তি ও নাজাতের কারণ তথা পীর, কামেল পীরের তালীম ও ছোহবতের বিশেষ স্থান রয়েছে।



অন্য আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন, 'হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে রাজত্ব দান করেছ, আর আমাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিখিয়েছ। আসমান যমীনের সৃষ্টিকর্তা! তুমিই দুনিয়ায় আর আখেরাতে আমার অভিভাবক, তুমি মুসলিম অবস্থায় আমার মৃত্যু দান করো এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত করো।' (সূরা ইউসুফ-১০১)



অর্থঃ তারা কেবল কেয়ামতেরই অপেক্ষা করছে যে, আকস্মিকভাবে তাদের কাছে এসে যাবে এবং তারা খবর ও রাখবে না। (সূরা যুখরুফ- ৬৬)



ঐদিনকে স্মরণ কর, যেদিন অত্যাচারী, বেদ্বীন লোকেরা ক্ষোভের জ্বালায় দু'হাত কামড়াতে কামড়াতে বলতে থাকবে হায়রে আফসোস, আমি যদি রাসূলকে আদর্শ রূপে গ্রহণ করতাম (কতইনা ভাল হত)। আফসোস আমার জীবনের, আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম তাহলে কতইনা ভাল হতো। সে আমাকে পথ ভ্রষ্ট করেছে। আমার নিকট নসীহত তথা হেদায়েত আসার পর। বস্তুত শয়তান হলো মানুষের জন্য অপমানকারী।



আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, হাদিসের আলোকে ছোহবাতে ছালেহীন হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে হযরত আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূল পাক (সাঃ) এরশাদ করেছেন, মানুষ তার বন্ধুর পথ ও মত অনুসরণ করে চলে। অতএব তার বিবেচনা করা উচিত সে কোন লোকের সহিত বন্ধুত্ব করেছে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, একদা এক ব্যক্তি রাসূল পাক (সাঃ)-এর খেদমতে এসে বলল এমন ব্যক্তি সম্পর্ক আপনার অভিমত কি? যে ব্যক্তি কোনো সমপ্রদায়কে ভালবাসে অথচ তাদের সাথে তার কখনো সাক্ষাত হয়নি। তখন তিনি বললেন, যে ব্যক্তি যাকে ভালোবাসে সে তার সাথেই থাকবে।



হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল ইয়া রাসূলুল্লাহ্! কেয়ামত কখন সংঘটিত হবে? রাসূল (সাঃ) বললেন, তোমার জন্যে আফসোস! তুমি উহার জন্য কি প্রস্তুতি নিয়েছো? লোকটি বলল আমি উহার জন্য কিছুই প্রস্তুতি গ্রহণ করিনি। তবে আমি আল্লাহ পাক ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসি। তখন রাসূল (সাঃ) বললেন, তুমি যাকে ভালবাসো তাঁর সাথেই থাকবে, বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ) বলেন, ইসলামের আবির্ভাবের পর মুসলমানদেরকে আমি এতটা খুশি হতে দেখেনি, যতটা খুশি হয়েছিল তারা হুজুর (সাঃ)-এর এ কথাটি শুনে।



হযরত আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল পাক (সাঃ) বলেছেন। আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে মহব্বত করে তথা ভালবাসে তখন হযরত জিব্রাইল (আঃ)কে ডেকে বলে, নিশ্চয়ই আমি অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসি, তাই তুমিও তাকে ভালোবাসো। তখন হযরত জিব্রাইল (আঃ) উক্ত বান্দাকে ভালোবাসে। শুধু তাই নয় তিনি আসমানের সকল ফেরেশতাদের নিকট প্রচার করে যে, মহান আল্লাহ তায়ালা অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসেন। সুতরাং হে ফেরেশতাকুল তোমরাও তাকে ভালোবাসো। তখন আসমানি সকল ফেরেশতাই আল্লাহর ঐ বান্দাকে ভালোবাসে। তারপর জমিনে অবস্থানরত সমস্ত মাখলুকাতকে সম্বোধন করে প্রচার করা হয়। তোমরা আল্লাহর অমুক বান্দাকে ভালোবাসো! তখন তারাও আল্লাহর ঐ সম্মানিত বান্দাকে ভালোবাসে।



আর যখন মহান আল্লাহ তায়ালা কোন বান্দার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়। নারাজী প্রকাশ করে। তখন তিনি হযরত জিব্রাইল আমীনকে ডেকে বলেন, নিশ্চয়ই আমি অমুক বান্দার সাথে শত্রুতা পোষণ করি। তুমিও তার সাথে শত্রুতা পোষণ করো। অতঃপর হযরত জিব্রাইল আমীন শত্রুতা পোষণ করে এবং আসমানবাসীকে বলে আল্লাহ অমুক বান্দার সাথে শত্রুতা পোষণ করে। সুতরাং তোমরা ও তার প্রতি শত্রুতা পোষণ কর।



হযরত আবু সাইদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি নবী করীম (সাঃ) কে বলতে শুনিয়াছেন, ইসলাম ব্যতীত অন্য কারো ছোহবাত সঙ্গতা এখতিয়ার করো না এবং পরহেজগার ব্যতিত অন্য লোক ব্যতীত অন্য কেহ যেন তোমার খানা না খায়।



হযরত মুয়াজ বিন জাবাল (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি। আল্লাহ পাক বলেন, যারা আমার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্য পরস্পরের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং আমার উদ্দেশ্যেই নিজেদের ধন-সম্পদ খরচ করে। এমন লোকের জন্যে আমার ভালোবাসা অবধারিত।



তিরমিজি শরীফের এক বর্ণনায় রয়েছে, আমাকে মহব্বতকারী বান্দাগণ নূরের সিংহাসনে থাকবেন এমনকি তাদের ব্যাপারে নবী-রাসূলগণ ইর্ষান্বিত করবে।



হযরত আবু মুুসা আশয়ারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল পাক (সাঃ) এরশাদ করেন, সৎ লোকের সোহবাত ও অসৎলোকের সোহবতের দৃষ্টান্ত যথাক্রমে কস্তুরি বিক্রেতা ও কামারের হাঁপর ফুঁকদানকারীর ন্যায়। কস্তুরি বিক্রেতা হয়তো তোমাকেই এমনিতেই কিছু দিয়ে দিবে অথবা উহার সু-ঘ্রাণ তুমি পাবেই। পক্ষান্তরে কামারের হাঁপরের ফুলকি তোমার জামা-কাপড় জ্বালিয়ে দিবে অথবা উহার দুর্গন্ধ তো তুমি পাবেই।



সলফে সালেহীনের মতে সোহবাতে ছালেহীন সম্পর্কে বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) তদীয় কিতাবে লিখিয়াছেন অন্তরকে সঞ্জীবিত করিয়া তোমার উদ্দেশ্যে মুর্শিদে কামেল অনুসন্ধান করা ফরজ।



মাওলানা আশ্রাফ আলী থানবী তাঁর কিতাবে লিখিয়াছেন তাজবেরা ও অভিজ্ঞতার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ পাকের দস্তুর এই যে, যে সকল পীর বুযুর্গগণ নিজেদের এছলাহে বাতেন করিয়াছেন। তাহাদের সঙ্গলাভ খেদমত ও তাবেদারীই এখলাছের প্রধান উপায়।



মাওলানা থানবী (রাঃ) তদীয় কিতাবে লিখেন, আল্লাহ তায়ালার এইরূপ দস্তুর জারী আছে যে, ওস্তাদ ব্যতীত কোনো মাকসুদ হাছেল হয় না। সুতরাং যে ব্যক্তি তরীকা মশক করতে মনস্থ করিল তাহার প্রতি তরীকতের ওস্তাদ অর্থাৎ কোনো কামেল পীর অন্বেষণ করা একান্ত আবশ্যক। যার শিক্ষা প্রভাবে ও সঙ্গলাভের বরকতে সে মকছুদে হাকীকতে পেঁৗছে অর্থাৎ খোদা তায়ালার নৈকট্য লাভে সক্ষম হয়।



সোহবতে ছালেহীন হলো সৎ লোক নেককার লোকদের সোহবত। সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশের বহিঃপ্রকাশ। হক্কানী পীর আউলিয়াদের মাধ্যমে ইসলামের সঠিক বিষয়টি জানতে পারা যায়। আমরা ইসলাম সম্পর্কে তেমন কিছু জানি না। কুরআন হাদিস সম্পর্কে তেমন কিছু জানি না। ইসলাম বিষয়ক জ্ঞানী পীর-মাশায়েখদের স্মরনাপন্ন হলে তিনি আমাদেরকে সত্য ও সঠিক পথ বাতিয়ে দিবেন। তবে পীর-মাশায়েখ ধরতে গিয়ে খেয়াল রাখতে হবে তারা যেন ইসলামী শরীয়াতে বিরুদ্ধবাদী না হয় ভ- না হয়।



আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সোহবতে সালেহীনদের অন্তর্ভুক্ত করে দিক। আমিন।



 



লেখক : ইমাম ও খতিব, বিষ্ণুপুর মদিনা বাজার বাইতুল আমিন



জামে মসজিদ, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর।



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৮২-সূরা ইন্ফিতার


১৯ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী


১৬। এবং উহারা উহা হইতে অন্তর্হিত হইতে পারিবে না।


১৭। কর্মফল দিবস সম্বন্ধে তুমি কী জান?


১৮। আবার বলি, কর্মফল দিবস সম্বন্ধে তুমি কি জান?


১৯। সেই দিন একে অপরের জন্য কিছু করিবার সামর্থ্য থাকিবে না; এবং সেই দিন সমস্ত কর্তৃত্ব হইবে আল্লাহর।


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


আমার মুক্তি আলোয়...।


-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।


 


 


 


 


 


 


যার দ্বারা মানবতা উপকৃত হয়, মানুষের মধ্যে তিনি উত্তম পুরুষ।


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৫,১২,৪৯৬ ৮,২৪,৩৫,৪৮২
সুস্থ ৪,৫৬,০৭০ ৫,৮৪,৪৩,৫১৫
মৃত্যু ৭,৫৩১ ১৭,৯৯,২৯৪
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৫১৩৯৫
পুরোন সংখ্যা