চাঁদপুর, শুক্রবার ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
ধর্ষণ মোকাবেলায় মুহাম্মদ (সাঃ)
জসিম উদ্দিন মাহদী
৩০ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ধর্ষণ একটি জঘণ্য অপরাধ। পবিত্র কুরআনের ভাষায় ধর্ষণ একটি অশ্লীল ও নিকৃষ্ট কাজ। যদি কোনো নারী ধর্ষিত হয় আর তা ইসলামি শরিয়া অনুযায়ী প্রমাণিত হয়, তাহলে সে অবশ্যই ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার রাখে। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কুরআনের মাধ্যমে ধর্ষণের শাস্তি ঘোষণা করে নারীদের প্রতি এ জুলুমের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করে ধর্ষণ সমস্যা সমাধানের দার উন্মোচন করেছেন।



মুহাম্মদ (সাঃ) নারীকে মা, কন্যা এবং স্ত্রী তিনটি স্তরে বিভক্ত করে মর্যাদার সর্বোচ্চ শিখরে আসন দান করেছেন। মা হিসেবে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) নারীর মর্যাদায় বলেন, জান্নাত তোমাদের মায়ের পদতলে। কন্যার মর্যাদায় তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে যার দু'জন কন্যা রয়েছে এবং সে তাদেরকে লালনপালন করে উপযুক্ত পাত্রস্থ করেছে, সে দুটি জান্নাতের মালিক বনেগেছে। এরপর রাসূল (সাঃ) ললনাদের গুরুত্ব বোঝাতে আরও ঘোষণা করেন, যার তিনটি কন্যা সন্তান রয়েছে সে এবং আমি অবিচ্ছিন্নভাবে জান্নাতে থাকব। (বোখারী ও মুসলিম) স্ত্রীর মর্যাদায় রাসূল (সাঃ) বলেন, পৃথিবীর সবকিছুই সম্পদ আর তন্মধ্যে শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো নেককার স্ত্রী।(বোখারী)



নারীর সম্ভ্রম রক্ষা করা কেবল তার একার দায়িত্ব নয়। পরিবার থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত এ দায়িত্ব বিস্তৃত। তাই মুসলিম রাষ্ট্রে পর্দার বিধান রাষ্ট্রীয়ভাবে বাধ্যতামূলক থাকা আবশ্যক। ধর্ষণ মোকাবেলায় পর্দার বিধানের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। কারণ কুরআনে আল্লাহ তায়ালা নারীদের শালীন পোশাক পরিধানের প্রতি তাগিদ রয়েছে। নারী ও পুরুষকে চক্ষু অবনত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি নারীর প্রতি ধর্ষণের দৃষ্টি দিয়ে ধর্ষণ সংঘটিত করে তখন তা বন্ধ করতে ইসলামে পার্থিব ও অপার্থিব শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, 'ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারীতাদের প্রত্যেককে ১০০ কশাঘাত করবে।' (সুরা নূরঃ০ ২)



ধর্ষণের শাস্তিটা কয়েকটা অপরাধের সমন্বিত শাস্তি। কেননা ধর্ষণের ক্ষেত্রে এক পক্ষ থেকে ব্যভিচার সংঘটিত হয়। আর অন্য পক্ষ হয় মজলুম বা নির্যাতিত। তাই মজলুমের কোনো শাস্তি নেই। শুধু জালিম বা ধর্ষকের শাস্তি হবে। এক্ষেত্রে তিনটি বিষয় সংঘটিত হয়। এক. ব্যভিচার। দুই. বল প্রয়োগ। তিন. সম্ভ্রম লুণ্ঠন। ব্যভিচারের জন্য কোরআনে বর্ণিত ব্যভিচারের শাস্তি পাবে। ইসলামে ব্যভিচারের শাস্তি ব্যক্তিভেদে একটু ভিন্ন। ব্যভিচারী যদি বিবাহিত হয়, তাহলে তাকে প্রকাশ্যে পাথর মেরে মৃত্যুদ- দেওয়া হবে। আর যদি অবিবাহিত হয়, তাহলে তাকে প্রকাশ্যে ১০০ বেত্রাঘাত করা হবে।



হানাফি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাব মতে, ধর্ষণের জন্য ব্যভিচারের শাস্তি প্রযোজ্য হবে। তবে ইমাম মালেক (রহঃ)-এর মতে, ধর্ষণের অপরাধে ব্যভিচারের শাস্তির পাশাপাশি 'মুহারাবা'র শাস্তি প্রয়োগ করা হবে। 'মুহারাবা' হলো অস্ত্র দেখিয়ে বা অস্ত্র ছাড়াই ভীতি প্রদর্শন করে ডাকাতি করা কিংবা লুণ্ঠন করা। এককথায় 'মুহারাবা' হলো পৃথিবীতে অনাচার সৃষ্টি, লুণ্ঠন, নিরাপত্তা বিঘি্নতকরণ, ত্রাসের রাজ্য কায়েম করা ইত্যাদি। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ 'মুহারাবা'র শাস্তি এভাবে নির্ধারণ করেছেন, 'যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং দুনিয়ায় ধ্বংসাত্মক কাজ করে বেড়ায়, তাদের শাস্তি হচ্ছে : তাদের হত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে বা তাদের হাত-পা বিপরীত দিক থেকে কেটে দেওয়া হবে কিংবা দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে। এটি তাদের পার্থিব লাঞ্ছনা, আর পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।' (সুরা মায়িদা : ৩৩)



সমাজে ধর্ষণ মহামারির আকার ধারণ করলে, সমাজ থেকে ধর্ষণ সমূলে নির্মূল করার লক্ষ্যে এ শাস্তি প্রয়োগ করা জরুরি। আর যদি ধর্ষণের সঙ্গে হত্যাজনিত অপরাধ যুক্ত হয়, তাহলে ঘাতকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ-।



এছাড়া মনস্তাত্তি্বকভাবেও ধর্ষণপ্রবণতা দূর করা যায়। রাসূল (সাঃ) অপরাধ প্রবণতা দূর করতে এই পদ্ধতিকে গুরুত্ব দিতেন। তিনি এমনভাবে অপরাধের স্বরূপ উন্মোচন করতেন যে মানুষের অপরাধস্পৃহা দূর হয়ে যেত। যেমন এক যুবক রাসূল (সাঃ) -এর কাছে ব্যভিচারের অনুমতি চাইলে তিনি বলেন, তোমার মা, মেয়ে, বোন, ফুফি ও খালার সঙ্গে কেউ এমন করুক এটা কি তুমি পছন্দ করবে? সে বলল, না, এটা কেউ পছন্দ করবে না। রাসুল (সাঃ)তাকে বলেন, কোনো মানুষ তার আপনজনের সঙ্গে ব্যভিচার পছন্দ করে না। অতঃপর তিনি তার পাপমুক্তি ও আত্মার পরিশুদ্ধির জন্য দোয়া করেন। (মুসনাদ আহমদ : ৫/২৫৬)



আত্ম প্রচেষ্টায়ও ধর্ষণ থেকে বাঁচার জন্য রাসূল (সাঃ)-এর অনুমতি রয়েছে। কেননা ব্যভিচারের সমগোত্রীয় অথচ তার চেয়েও ভয়ংকর অপরাধ হলো ধর্ষণ। ইসলামে ব্যভিচারের পাশাপাশি ধর্ষণও কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। কোনো নারী যদি ধর্ষণের শিকার হয়, তাহলে তার সর্বপ্রথম করণীয় হলো, সম্ভব হলে তা প্রতিরোধ করা। এমনকি যদিও তা ধর্ষণকারীকে হত্যা করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে, তাতেও ইসলাম সায় দিয়েছে। সাইদ ইবনে জায়েদ (রাঃ) বলেন, 'আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি, সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে যে ব্যক্তি নিহত হয়েছে, সে শহীদ। জীবন রক্ষা করতে গিয়ে যে নিহত হয়েছে, সে-ও শহীদ। দ্বীন রক্ষা করতে গিয়ে যে নিহত হয়েছে, সে শহীদ। আর সম্ভ্রম রক্ষা করতে গিয়ে যে নিহত হয়েছে, সে-ও শহীদ।' (আবু দাউদ: ৪৭৭২; তিরমিজি: ১৪২১)



আরেকটু স্পস্ট হওয়া দরকার। ইসলামী আইনবিদরা এ মর্মে ঐক্যমত্যে রয়েছেন যে, ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিকে ধর্ষণের কারণে অভিযুক্ত করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে তার কোনো পাপ নেই। কেননা ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার ওপর বল প্রয়োগ করা হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে নবী করিম (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের ভুলবশত করা অপরাধ, ভুলে যাওয়া কাজ ও বল প্রয়োগকৃত বিষয় ক্ষমা করে দিয়েছেন।' (ইবনে মাজাহ: ২০৪৫)



পরিশেষে ধর্ষণ মোকাবেলা শুধু দ-বিধি ও আইনের কঠোরতার মাধ্যমে সম্ভব নাও হতে পারে। দ-বিধি ব্যভিচার ও ধর্ষণ উপশমের একটি উপায়মাত্র। এক্ষত্রে সর্বপ্রথম আত্মশুদ্ধি, খোদাভীতি ও তাকওয়াভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ খুবই জরুরি।



লেখক : খতীব, মোমেন বাগ জামে মসজিদ, পুরাণ বাজার, চাঁদপুর।



প্রাক্তন প্রভাষক (বাংলা), মোহনপুর কলেজ, মতলব উত্তর, চাঁদপুর।



 



 



 



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৮২-সূরা ইন্ফিতার


১৯ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১। আকাশ যখন বিদীর্ণ হইবে,


২। যখন নক্ষত্রম-লী বিক্ষিপ্তভাবে ঝরিয়া পড়িবে,


৩। সমুদ্র যখন উদ্বেলিত হইবে,


৪। এবং যখন কবর উন্মোচিত হইবে,


 


assets/data_files/web

সাহায্য করা ভালো কিন্তু সাহায্য যেন কাউকে অলস করে না তোলে।


-ডাবিস্নউ এস গিলবার্ট।


 


 


অভ্যাগত অতিথির যথাসাধ্য সম্মান করা প্রত্যেক মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য।


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৪,৩৬,৬৮৪ ৫,৫৪,২৮,৫৯৬
সুস্থ ৩,৫২,৮৯৫ ৩,৮৫,৭৮,৭০৩
মৃত্যু ৬,২৫৪ ১৩,৩৩,৭৭৮
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৩৬৭০৯
পুরোন সংখ্যা