চাঁদপুর, শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২০, ৭ কার্তিক ১৪২৭, ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
নবী মোহাম্মদ (সাঃ)
মূল : অধ্যাপক রামাকৃষ্ণ রাও
অনুবাদ : আবু জাফর
২৩ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মুসলিম ঐতিহাসিকদের মতে, মোহাম্মদ (সাঃ) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ২০ এপ্রিল তারিখে মরুময় আরবভূমিতে জন্মগ্রহণ করেন। 'মোহাম্মদ', এই নামের অর্থ 'সর্বোচ্চ প্রশংসিত'। আসলেও তাই, আমার বিবেচনায় আরবের শ্রেষ্ঠতম ও সুউচ্চতম ও মহত্তম আত্মার অধিকারী এই সন্তান। এবং এই কথার অর্থ, তাঁর আগে ও পরে রক্তাভ বালুকাকীর্ণ অপরাজেয় আরব্য মরুভূমিতে যতো কবি কি সম্রাট জন্মগ্রহণ করেছেন, কোনো সন্দেহ নেই, তাঁদের মধ্যে তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ, তাঁরই স্থান সর্বশীর্ষে।



নবী মোহাম্মদ (সাঃ)-এর আবির্ভাবকালে আরবদেশ একটি মরুভূমি মাত্র, নিতান্তই শূন্য বিশুষ্ক এক মরুভূমি। কিন্তু এই নিরঙ্কুশ শূনতার মধ্য থেকে মোহাম্মদ (সাঃ)-এর সর্বজয়ী পরম আধ্যাত্মিকতার কল্যাণস্পর্শে জেগে উঠলো এক নতুন পৃথিবী, জেগে উঠলো নতুন জীবন ও সংস্কৃতি, এক নবীনতম সভ্যতা, যে প্রভাব ছড়িয়ে পড়লো তিন মহাদেশ, এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের চিন্তায় ও জীবনে ও মানসতায়; এবং প্রতিষ্ঠিত হলো এমন এক নতুন সামাজ্য, যা মরক্কো থেকে ভারতবর্ষ পর্যন্ত ব্যাপ্ত ও সম্প্রসারিত।



কিন্তু নবী মোহাম্মদ (সাঃ) সম্পর্কে কিছু লিখবো, এই কথা ভাবলেই আমি কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। দ্বিধাগ্রস্ত, কারণ এ এমন এক ধর্ম সম্পর্কে লেখা, যে-ধর্মে আমি নিজে দীক্ষিত নই। তাছাড়া এটা একটা সূক্ষ্ম ও নাজুক ও সংবেদনশীল বিষয়ও বটে, কারণ বহু মানুষ বহু ধর্মে যেমন দীক্ষিত, তেমনি নানারূপ চিন্তা-দর্শনেরও অনুগামী এবং একই ধর্মের মধ্যে নানাবিধ বিভক্তিও বিরাজমান। যদিও কখনো কখনো এই দাবি প্রাধান্য লাভ করে যে, ধর্ম নিতান্তই একটি ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ, কিন্তু এই সত্যও অস্বীকার করা অসম্ভব যে, ধর্মের একটি মৌলিক প্রবণতা হলো, দৃশ্যমান কি অদৃশ্য, সমগ্র বিশ্বজগতকেই আপনার মধ্যে আত্মস্থ করা, এবং যেভাবেই হোক, ধর্ম যেহেতু এক অন্তর্গামী শক্তির অধিকারী, সে আমাদের হৃদয় মন ও আত্মার চেতন অচেতন ও অবচেতন স্তরে প্রবেশ করতে পারে ও করে। সমস্যা আরো সর্বপ্লাবী গুরুত্ব বহন করে, যখন এই গভীর বিশ্বাস অত্যন্ত প্রবল হয়ে ওঠে যে, আমাদের অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সবই কোমল ও সূক্ষ্ম এক মনোরম রেশমি-রজ্জু দ্বারা আবদ্ধ। এবং আমরা যদি আর একটু অধিক স্পর্শকাতর হই, আমাদের অন্তর্মধ্যস্থ মাধ্যাকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু একটি অসম্ভব মানসিক চাপের মধ্যে পড়ে। অতএব, এই সকল দৃষ্টিকোণ থেকে অন্য ধর্ম সম্পর্কে যতো কম বলা যায় ততো ভালো। কারণ ওষ্ঠের উপর একটি শক্ত সীলমোহর আমাদের অন্তর্জগতকে যে-কোনো বহিরাক্রমণ থেকে যেমন নিরুপদ্রব রাখতে পারে, ধর্মকেও তেমনি গভীর ও অপ্রবেশ্য গোপনতার মধ্যে রাখতে পারে অক্ষত।



কিন্তু এই সমস্যার অন্য একটি দিকও বর্তমান। মানুষ এক সমাজবদ্ধ জীব। ইচ্ছা কি অনিচ্ছায়, পরোক্ষ কি সরাসরি আমাদের অস্তিত্ব বহু মানুষের সঙ্গে যুক্ত। একই ভূমিতে উৎপাদিত ফসল আমাদের খাদ্য, একই প্রস্রবণ থেকে আমরা আমাদের তৃষ্ণা নিবারণ করি এবং একই বায়ুতে আমাদের জীবনধারণ। তাই এমনকি আমরা যখন একান্তভাবেই আমাদের স্বমতের কট্টর ও আপসহীন ধারক, তখনো পারিপাশর্ি্বকতার সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে নেয়া কল্যাণকর। আমাদের যারা প্রতিবেশী, তাদের মন কখন কী কারণে তরঙ্গায়িত হয়, তাদের কর্মপ্রবাহের মূল সূত্র ও প্রবণতাগুলি কী রকম, এসব যদি অন্তত কিছু পরিমাণেও জানতে পারি, আমাদের অনেক লাভ। এইদিক থেকে এটা বিশেষভাবে কাঙ্ক্ষিত যে, আমরা আমাদের পারস্পরিক বিশ্বাস ও সমঝোতা বৃদ্ধিকল্পে, নিকট কি দূরবর্তী যাই হোক, এক মধুর ও সখ্যময় প্রতিবেশিতার স্বার্থে বিশ্বের সকল ধর্মকেই জানবার চেষ্টা করবো। অধিকন্তু আমাদের ভাবনার সূত্রগুলি দৃশ্যত উপর থেকে যতটা বিক্ষিপ্ত বলে মনে হয়, প্রকৃতপক্ষে তা নয়। পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের নিয়ন্ত্রক ও চালিকাশক্তি যে-ভাবনাগুলি। তারা আসলে বিচ্ছিন্ন নয়, তারা কয়েকটি বৈশি্বক ধর্মচেতনা ও জীবন্ত কিছু বিশ্বাসের অবয়বে আমাদের অন্তর্নিহিত কেন্দ্রস্থ কতিপয় বিন্দুর চারপাশে ঘনীভূত এবং আমরা যদি বিশ্বনাগরিকত্বে বিশ্বাস করি, তাহলে এটা আমাদের কর্তব্যও বটে যে, পৃথিবীর প্রধান প্রধান ধর্মবিশ্বাস ও তার দার্শনিক পদ্ধতি, যা সমগ্র মানবজাতিকে নিয়ন্ত্রণ করছে, সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত হবার চেষ্টা করা।



অবশ্য এই প্রাথমিক মন্তব্য কি বিবেচনা সত্ত্বেও, ধর্মবিষয়ক আলোচনার ক্ষেত্রটি বুদ্ধি ও আবেগের পারস্পরিক বৈরিতাহেতু এতটাই পিচ্ছিল যে, সততাই শুধু মনে পড়ে, 'দেবদূতেরা যে পথে চলতে আতঙ্ক বোধ করে নির্বোধেরা সেখানে ভীড় জমায়'। অবশ্য অন্য একদিক থেকে কাজটা খুব জটিলও নয়, কারণ এমন এক ধর্মের নীতিসমূহ আমার আলোচনার বিষয়, যে ধর্ম ঐতিহাসিক এবং যার প্রবর্তক একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব। এমনকি স্যার উইলিয়াম মূরের মত একজন বৈরী সমালোচকও কোরআন শরীফ সম্পর্কে বলতে বাধ্য হন, 'পৃথিবীতে সম্ভবত এমন আর একটিও গ্রন্থ নেই যা বারোশ বছর ধরে এমন বিশুদ্ধ ও অবিকৃত রূপ নিয়ে বিরাজমান'। আমি এই সঙ্গে এই কথাও যুক্ত করতে পারি যে, নবী মোহাম্মদ (সাঃ) এমন এক ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব, যাঁর জীবনের প্রতিটি ঘটনা অতীব যত্ন ও সীমাহীন সতর্কতার সঙ্গে লিপিবদ্ধ, এমনকি তাঁর জীবনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কর্ম ও আরচণগুলোও উত্তরকালের জন্য সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় সংরক্ষিত। তাঁর জীবন এবং কর্ম কিছুই কিছুমাত্র রহস্যের আবরণে আচ্ছাদিত নয়; সবকিছুই এত সুস্পষ্ট, অবিকৃত ও তথ্যানুগ, এত সুরক্ষিত ও সুবিন্যস্ত যে, সঠিক তথ্যের জন্য আজ আর কাউকে গবেষণায় প্রবৃত্ত হতে হয় না, সত্য-উদ্ধার কি উদ্ঘাটনে দুরূহ কোন অভিযানেও নামতে হয় না। প্রাপ্ত তথ্যাদি এত নির্ভুল এত খাঁটি যে, খোসা ছাড়িয়ে কি আবর্জনামুক্ত করে সত্যের দানাগুলোকে আলাদা বেছে নেবার দরকার পড়ে না।



তাছাড়া আমার এই কাজ এখন কিছুটা সহজ, কারণ রাজনৈতিক কি অন্য কোনো কারণে কিছু কিছু সমালোচক একদা ইসলামের বিরুদ্ধে যে অপব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছিল, সেই ভূমিকা এখন নিষ্প্রভ এবং ইসলাম সম্পর্কিত প্রমাদবহুল আলোচনার সেই দিনগুলোও এখন দ্রুত অস্তমিত হচ্ছে। প্রফেসর বেভান তাঁর 'ক্যামব্রীজ মধ্যযুগের ইতিহাসে' যথার্থই উল্লেখ করেন, 'উনবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভ পর্যন্ত মোহাম্মদ (সাঃ) এবং ইসলাম সম্পর্কে ইউরোপে যা-কিছু ছাপা হয়েছে, তা সবই এখন শুধু সাহিত্যিক কৌতূহলের উপজীব্য মাত্র'। অতএব এই নিবন্ধ রচনায় আমার যে সমস্যা, সেই ভার আজ অনেকখানি লঘু ও সহজ অনুভব করি, কারণ ওই ধরনের ইতিহাস আজ আর বিশেষ গুরুত্ব বহন করে না এবং তা নিয়ে বেশি সময় নষ্ট করারও প্রয়োজন নেই।



উদাহরণত, ইসলাম যে তরবারি-নির্ভর, এই ধরনের মন্তব্য কোন উল্লেখযোগ্য মহল থেকে আজ আর তেমন শোনা যায় না। ধর্মে কোন প্রকার জবরদস্তি নেই, এটাই ইসলামের একটি সুপরিচিত নীতি। অথচ বিশ্ববিখ্যাত ঐতিহাসিক গীবন বলেছিলেন, 'ইসলামের একটি ক্ষতিকর নীতি হলো তরবারির সাহায্যে সকল ধর্মকে উৎখাত করা'। উল্লেখ করা বাহুল্য, এই অভিযোগ নিতান্তই গোঁড়ামি ও অজ্ঞতাপ্রসূত এবং বিখ্যাত ঐতিহাসিকেরাও এই কথাই বলেন যে, এই ধরনের কোনো অভিযোগের সামান্যতম ভিত্তিও কোরআন শরীফে নেই। এবং খ্রিস্টান ধর্মের প্রতি বিজয়ী মুসলিম জাতির যে সার্বিক আচরণ, আইন ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে যে সহিষ্ণুতা তা থেকেও প্রমাণিত হয়, এই অভিযোগ কত অসার ও অন্তঃসারশূন্য। প্রকৃতপক্ষে মোহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবনের যে অসাধারণ সাফল্য, তার সঙ্গে তরবারির কোনো সম্পর্ক নেই; সেই সাফল্য একমাত্র তাঁর নৈতিক শক্তির উপরই পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত। সত্য যে, তাঁকে জেহাদে অবতীর্ণ হতে হয়েছে, কিন্তু সে কেবল আত্মরক্ষার্থে ও সকল শান্তি প্রচেষ্টা বার বার ব্যর্থ হওয়ার কারণে পরিস্থিতি তাঁকে রণক্ষেত্রে যেতে বাধ্য করেছে। কিন্তু মনে রাখা আবশ্যক, নবী মোহাম্মদ (সাঃ) যুদ্ধনীতি ও যুদ্ধক্ষেত্রের পুরো চেহারাটাই বদলে দিয়েছিলেন। স্মরণ করতে পারি, সম্পূর্ণ আরব উপদ্বীপ ইসলামের পতাকাতলে আসা পর্যন্ত তাঁর সমগ্র জীবনে যতো যুদ্ধ হয়েছে তাতে সর্বমোট হতাহতের সংখ্যা কয়েকশ'র অধিক নয়। এবং এই যুদ্ধক্ষেত্রেও তিনি বর্বর আরববাসীকে মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে আবশ্যিকভাবে রীতিমত জামাতবদ্ধ হয়ে নামাজ পড়ার শিক্ষা দিয়েছেন। এমনকি যুদ্ধের ভয়াবহ প্রচ-তার মধ্যেও দিনে পাঁচবার এই জামাতবদ্ধ নামাজ আদায়ের কোনোরূপ ব্যত্যয় ঘটেনি। একদল মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে যখন সেজদারত, অন্যদল তখন শত্রুর মোকাবিলা করছেন; নামাজশেষে নামাজীরা যুদ্ধে যাচ্ছেন, আর যাঁরা ছিলেন যুদ্ধরত তাঁরা আসছেন নামাজে। কী বিস্ময়কর কল্পনাতীত এই দৃশ্য। অথচ এই সেই আরবদেশ যেখানে ভুলক্রমে এক গোত্রের একটি উট অপর গোত্রের চারণভূমিতে প্রবেশ করার মতো তুচ্ছ কারণে পরস্পরের বিরুদ্ধে এমন ভয়াবহ লড়াইয়ে লিপ্ত হয়, যা একাদিক্রমে চলি্লশ বছর ধরে চলে, যে যুদ্ধে সত্তর হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটনার পরেও আক্রোশ প্রশমিত হয় না, এবং উভয় গ্রোত্রেরই প্রায় নিশ্চিহ্ন হবার মতো অবস্থা হয়। ইসলামের নবী সেই আরববাসীকে সর্বোচ্চ আত্মনিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার এমন শিক্ষা দান করলেন, যার মহিমা এমনকি যুদ্ধক্ষেত্রেও নামাজের মধ্য দিয়ে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। চরম বর্বরতার যুগে রণক্ষেত্র আলোকিত হয়ে ওঠে মানবিক মহিমায়। নবী মোহাম্মদ (সাঃ)-এর কঠোর নির্দেশ : প্রতারণা করা যাবে না, বিশ্বাসভঙ্গ করা যাবে না, নিহত ব্যক্তির অঙ্গচ্ছেদ করা যাবে না। তাঁর নির্দেশ : শিশু নারী ও বৃদ্ধদের হত্যা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ, কোনো ফলের গাছ বিনষ্ট কি কর্তন করা নিষিদ্ধ; নিষিদ্ধ, শত্রু হলেও প্রার্থনারত কোনো ব্যক্তিকে আঘাত করা। নিকৃষ্টতম শত্রুর প্রতিও তাঁর নিজের আচরণ তাঁর অনুসারীদের জন্য এক অদৃষ্টপূর্ব মহত্তম দৃষ্টান্ত। মক্কাজয়ের পর তিনি ক্ষমতার সর্বোচ্চ স্তরে উপনীত। এই সেই মক্কা নগরী যেখানে তিনি প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন, তাঁর কথায় কেউ কণামাত্র কর্ণপাত করেনি; এই সেই মক্কা, যে নগর তাঁকে ও তাঁর অনুগামীদের উপর সীমাহীন অত্যাচার করেছে, তাড়িয়ে দিয়েছে, নির্দয়ভাবে বয়কট করেছে, এমনকি দু'শো মাইল দূরে গিয়েও তিনি রেহাই পাননি। সেই মক্কা আজ তাঁর পদতলে। যুদ্ধের নিয়মানুযায়ী তিনি সংগতভাবেই তাঁর ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে যা-কিছু শত্রুতা ও নির্দয়তা ও প্রতিহিংসা, আজ তার প্রতিশোধ গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু কী ব্যবহার তিনি প্রদর্শন করলেন? কোনো প্রতিশোধ কি প্রতিহিংসা নয়, মোহাম্মদ (সাঃ)-এর হৃদয় আজ মমতাপ্লুত; তিনি ঘোষণা করলেন, 'তোমাদের কারো বিরুদ্ধে আজ আর কোনো অভিযোগ নেই, তোমরা সবাই মুক্ত'। ঘোষণা করলেন, 'মানুষে মানুষে বিভেদ ও ঘৃণা আজ আমার এই দুটি পদতলে পিষ্ট ও বিনষ্ট হোক'। কোনো সন্দেহ নেই, এই ঐক্যবদ্ধ মানবসমাজই ছিল তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। তাই তিনি আত্মরক্ষার্থে যুদ্ধের অনুমতি দিয়েছেন বটে, কিন্তু লক্ষ্যে পেঁৗছানোমাত্র নিকৃষ্টতম শত্রুও তাঁর ক্ষমা ও মার্জনা লাভ করে। এমনকি যারা তাঁর প্রিয়তম পিতৃব্য হজরত হামজা (রাঃ)কে হত্যা করে তাঁর বক্ষপিঞ্জর ভেঙ্গে কলিজা চর্বন করেছে, তারাও তাঁর ক্ষমা থেকে বঞ্চিত হয়নি। বিশ্বভ্রাতৃত্বের নীতি ও মানবসাম্যের যে মতবাদ তিনি ঘোষণা করেছিলেন, মানবতার বাস্তব ও সামাজিক উত্তরণে বিশ্বসভ্যতায় সে এক বিরাট অবদান। অবশ্য যে-কোনো উল্লেখযোগ্য ধর্মই এই একই আদর্শবাদ ব্যক্ত করে, কিন্তু ইসলামের এই নবীর মধ্যেই কেবল আমরা তাঁর প্রকৃত ও পরিপূর্ণ বাস্তব প্রয়োগ অবলোকন করি। এবং এই বাস্তব ও ব্যবহারিক প্রয়োগের যে মূল্য ও মহত্ব, তা অবশ্যই স্বীকার্য, বিশেষ করে যখন আজ পৃথিবীতে আন্তর্জাতিক বোধ জাগ্রত হচ্ছে, যখন বর্ণ গোত্রের সকল কুসংস্কার ও ভেদরেখার অবসানে আজ অস্তিত্বময় হয়ে উঠছে মহত্তর মানবিক ও ভ্রাতৃত্বচেতনা। এবং ইসলামের এই বিশেষ দিকটি সম্পর্কে বলতে গিয়ে মিস সরোজিনী নাইডু যথার্থই উল্লেখ করেন, 'ধর্ম হিসাবে ইসলামের মধ্যে গণতন্ত্রের সর্বপ্রথম উন্মেষ ও প্রচার ও রূপায়ণ। কারণ আজানের সঙ্গে সঙ্গে যখনই নামাজীরা মসজিদে এসে প্রত্যহ পাঁচবার সমবেত হন, তখন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এমন এক বাস্তবরূপ পরিগ্রহ করে, যেখানে রাজাপ্রজা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে একই কথা ঘোষণা করেন যে, একমাত্র আল্লাহই সকল মহত্বের অধিকারী'। ভারতবর্ষের এই বিশিষ্ট মহিলা কবি আরো বলেন, 'ইসলামের এই অবিচ্ছেদ্য ঐক্যবোধ অবলোকন করে আমি বার বার মুগ্ধ হই, কারণ এ এমন এক ঐক্য যা মানুষের মধ্যে সহজেই জাগিয়ে তোলে এক স্বতঃস্ফূর্ত ভ্রাতৃত্ববোধ। কেউ যখন লন্ডনে কোনো মিশরবাসী কি আলজিরীয়, ভারতীয় কি তুর্কী মুসলমানের সাক্ষাৎ পায়, যে বুঝতে পারে মাতৃভূমির বিভিন্নতায় কিছু এসে যায় না, সবাই মুসলমান, সবাই এক অচ্ছেদ্য বন্ধনে আবদ্ধ'। মহাত্মা গান্ধী তাঁর অননুকরণীয় ভঙ্গিতে বলেন, 'কে একজন একদা বলেছিলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত ইউরোপীয়দের কাছে আতঙ্কের বস্তু ছিল ইসলামের আগমন, সেই ইসলাম যা স্পেনকে সুসভ্য করেছে, সেই ইসলাম যা মরক্কোতে বহন করে এনেছিল জ্ঞানের আলোকবর্তিকা এবং পৃথিবীকে শুনিয়েছিল বিশ্বভ্রাতৃত্বের বাণী। দক্ষিণ আফ্রিকার ইউরোপীয়রা ইসলামকে ভয় পেয়েছিল, পাওয়ারই কথা। কারণ তারা সাদা চামড়ার মানুষের মধ্যে সাম্য কি ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার দাবি করতে পারে, কিন্তু সর্বমানবিক ভ্রাতৃত্ব যদি পাপ হয়, তারা একটু বেশিই ভীত হবে। এবং যদি সাম্যের অর্থ হয় সকল বর্ণ গোত্রের সাম্য, যা তাদের কাছে আতঙ্কজনক, তাহলে সন্দেহ নেই, তাদের আতঙ্ক বেশ শক্তভাবেই সুপ্রতিষ্ঠিত'। (চলবে)



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭৮-সূরা নাবা'


৪০ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৩৭। যিনি প্রতিপালক আকাশম-লী, পৃথিবী ও উহাদের অন্তর্বতী সমস্ত কিছুর, যিনি দয়াময়; তাঁহার নিকট আবেদন-নিবেদনের শক্তি তাহাদের থাকিবে না।


৩৮। সেইদিন রূহ ও ফিরিশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াইবে; দয়াময় যাহাকে অনুমতি দিবেন সে ব্যতীত অন্যেরা কথা বলিবে না এবং সে যথার্থ বলিবে।


 


প্রত্যেক রাষ্ট্রের ভিত হল সে দেশের শিক্ষিত যুবশক্তি।


-ডায়োগনেস।


 


যার দ্বারা মানবতা উপকৃত হয়, মানুষের মধ্যে তিনি উত্তম পুরুষ।


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৪,৬৪,৯৩২ ৬,৩১,৩৫,৯৭৩
সুস্থ ৩,৮০,৭১১ ৪,৩৬,১২,৩৫৩
মৃত্যু ৬,৬৪৪ ১৪,৬৬,২৮৯
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৫২৬৫৯
পুরোন সংখ্যা