চাঁদপুর, শুক্রবার ২২ মে ২০২০, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৮ রমজান ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ আরো ৯ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ২১৯
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৯-সূরা হাক্কা :


৫২ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


১৪। পর্বতমালা সমেত পৃথিবী উৎক্ষিপ্ত হইবে এবং মাত্র এক ধাক্কায় উহারা চূর্ণ-বিচূর্ণ হইয়া যাইবে।


১৫। সেদিন সংঘটিত হইবে মহাপ্রলয়,


শান্তির প্রকাশ সবসময়েই সুন্দর ও সহজ হয়।


-ওয়াল্ট হুইটম্যান।


 


 


 


 


যারা শিক্ষালাভ করে এবং তদনুযায়ী কাজ করে, তারাই প্রকৃত বিদ্বান।


 


ফটো গ্যালারি
পবিত্র জুমাতুল বিদা ও আল-কুদস দিবস
মাওঃ মোঃ মোশাররফ হোসাইন
২২ মে, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আজ পবিত্র জুমাতুল বিদা ও আল-কুদস দিবস। মাহে রমজানের বিদায়কালীন শুক্রবার তথা শেষ জুমার দিন জুমাতুল বিদা নামে পরিচিত। এ দিনটি রমজান মাসের শেষ জুমা হিসেবে আল-কুদ্স দিবস পালিত হওয়ায় এর গুরুত্ব, তাৎপর্য ও মাহাত্ম্য অপরিসীম। রমজানের শেষ জুমার নামাজ মুসলমানদের বৃহত্তর জামাতে পরিণত হয়। এ জুমাবার রমজান মাসে হওয়ায় তা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতময়। রমজান মাসের শেষ শুক্রবার হিসেবে সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমান একটি মাস ত্যাগ-তিতিক্ষার সঙ্গে সিয়াম সাধনা বা রোজা রাখার পর এ দিনটিতে জুমার নামাজ আদায় করে মাহে রমজানকে বিদায় সম্ভাষণ জানান। এ বছর পবিত্র রমজানে ৫টি জুমা অনুষ্ঠিত হয়েছে।



প্রত্যেক বালেগ মুসলমান বান্দার উপর জুমার নামাজে শরিক হওয়া ওয়াজিব যদি সে এমন শহর বা জনপদে বসবাস করে, যেখানে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করা হয়। যদিও সব ফরজ নামাজ জামাতের সঙ্গে সমানভাবে আদায় করা অত্যাবশ্যক। তথাপি পবিত্র কোরআনে জুমার নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়ে সব মুসলমানকে এদিন একত্র হয়ে জুমার নামাজ আদায়ের তাগিদ প্রদান করে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্যে আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ করো। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যদি তোমরা উপলব্ধি করো। (সূরা আল-জুমুআ, আয়াত-৯)।



রমজান মাসের সর্বোত্তম রজনী হলো লাইলাতুল ক্বদর, আর সর্বোত্তম দিবস হলো জুমাতুল বিদা। এ দিন মুমিন মুসলমানদের ঈমানী সম্মিলন হয়। এ দিনে এমন একটি সময় আছে, যে সময় মুমিন বান্দার মোনাজাত ও ইবাদত আল্লাহপাক বিশেষভাবে কবুল করেন। এ সময়টি হলো দ্বিতীয় খুতবার আজানের সময় থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত। জুমার দিনের শ্রেষ্ঠত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বাণী প্রদান করেছেন, সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে জুমাবার সর্বাধিক মর্যাদাবান ও নেতৃস্থানীয় দিন। এ পুণ্য দিনে আদি পিতা হযরত আদমকে (আঃ) সৃষ্টি করা হয়। এ দিনে তিনি জান্নাতে প্রবেশ করেন। এ দিনে তিনি পুনরায় পৃথিবীতে আগমন করেন। এ দিনে তাঁর ইন্তিকাল হয়। এ শুক্রবারেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। এ পুণ্যময় দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যে সময় আল্লাহর দরবারে দোয়া কবুল হয়। (মিশকাত)।



জুমাতুল বিদা রোজাদারদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে মাহে রমজানের সমাপনান্তে এ বছর এর চেয়ে ভালো দিবস আর পাওয়া যাবে না। সুতরাং এ পুণ্যময় দিনটির যথাযথ সদ্ব্যবহার করা অপরিহার্য কর্তব্য। এ দিনটির প্রতি অমনোযোগী বা গাফেল না হয়ে এর বরকত হাসিল করা বাঞ্ছনীয়। রাসূলে করীম (সাঃ) বলেছেন, যে মুসলমান রমজান মাস পেল, কিন্তু সারা বছরের গুনাহখাতা মাফ করিয়ে নিতে পারলো না, তার মতো হতভাগা আর নেই।



যে তিনটি বিষয় জুমাতুল বিদাকে আল্লাহর করুণা, দয়া, ক্ষমা তথা মাগফিরাত ও নাজাত লাভের দিবস হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তা হচ্ছে মাহে রমজান, জুমাতুল বিদা এবং রমজান মাসের শেষ শুক্রবার আল-কুদ্স দিবস'। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যে তিনটি মসজিদের উদ্দেশ্যে সফরকে বিশেষভাবে সওয়াবের কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তার অন্যতম হচ্ছে বায়তুল মোকাদ্দাস বা মসজিদুল আল-আকসা। মক্কা মুকাররামা ও মদিনা মুনাওয়ারার পরে ফিলিস্তিনের জেরুজালেম নগরে অবস্থিত বায়তুল মোকাদ্দাস হচ্ছে ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান ও মুসলমানদের প্রথম কিবলা। বায়তুল মোকাদ্দাস আজ ইহুদী কবলিত। ইসলামের ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। অসংখ্য নবী-রাসূলের পদধূলিতে ধন্য এ নগর। এ মসজিদকে কেন্দ্র করে অসংখ্য নবী-রাসূলের দাওয়াতী মিশন পরিচালিত হয়েছে।



জুমাতুল বিদার বিশেষ তাৎপর্য এই যে, রমজান মাসের শেষ শুক্রবার আল্লাহর নবী হযরত দাউদ (আঃ)-এর পুত্র মহামতি হযরত সুলায়মান (আঃ) জেরুজালেম নগর প্রতিষ্ঠা করেন এবং আল্লাহ তায়ালার মহিমা তুলে ধরতে সেখানে পুনঃনির্মাণ করে গড়ে তোলেন মুসলমানদের প্রথম কিবলা 'মসজিদ আল-আকসা'। প্রতিবছর রমজান মাসের শেষ শুক্রবার সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ বায়তুল মোকাদ্দাসে ইহুদীদের অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ করেন এবং ইহুদী রাষ্ট্র ইসরাইলের কবল থেকে পবিত্র ভূমি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে মুক্ত করার জন্যে নতুন শপথ গ্রহণ করেন।



মাহে রমজানের সমাপনী সূচক জুমাতুল বিদার নামাজে মসজিদে বিশেষ মোনাজাতে রোজাদার মুসলি্লরা দেশ-জাতির উন্নয়ন, আল-কুদ্স মুক্তি এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংহতি, শান্তি ও কল্যাণের জন্যে আল্লাহর দরবারে পরম ভক্তি ও আন্তরিকতা সহকারে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। মসজিদে ইতিকাফ ছাড়াও এ দিনটি পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, নামাজ, দোয়া-ইস্তেগফার, তাসবীহ-তাহলিল, জিকির-আজকার ও দরূদ শরিফ পাঠ করার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করা হয়। মাহে রমজানের রোজা কতটুকু সফল হলো, রোজার মাসে কতটুকু তাকওয়া অর্জিত হলো তা মূল্যায়নের দিবস হলো জুমাতুল বিদা। আজ প্রতিটি মসজিদে মুসলি্লদের উপচেপড়া ভিড় থাকবে। সবাই মুক্তির আশায় আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন।



 



আন্তর্জাতিক আল-কুদ্স দিবস



মুসলমানদের প্রথম কি্ববলা বায়তুল মুকাদ্দাস দীর্ঘদিন যাবৎ যায়নবাদী ইয়াহুদীদের দখলে। উহা পুনঃরুদ্ধারের দাবিতে প্রতিবছর রমযানের শেষ শুক্রবার বিশ্বব্যাপী পালিত হয় 'আন্তর্জাতিক আল-কুদ্স দিবস'। বায়তুল মুকাদ্দাস হচ্ছে মুসলমানদের ১ম কি্ববলা এবং মক্কা মুআয্যামাহ ও মদিনা মুনাওয়ারার পরে তৃতীয় পবিত্র স্থান। হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) মক্কার মসজিদুল হারাম, মদীনার মসজিদুন্নবী ও বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদের উদ্দেশে সফরকে বিশেষভাবে সওয়াবের কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যা অন্য কোনো মসজিদ সম্পর্কে করেননি।



হিযরতের পর বায়তুল মুকাদ্দাস ইসলামের প্রথম কি্ববলা। বায়তুল মুকাদ্দাস দুনিয়ার জন্যে অসংখ্য ভূখন্ডের মতো কোনো সাধারণ ভূখ- নয়। এ পবিত্র ঘর থেকেই খাতামুন্নাবীয়ীন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) মিরাজে গমন করেছিলেন।



বায়তুল মুকাদ্দাস এবং তার আশপাশের এলাকা বহু নবীগণের স্মৃতি বিজড়িত। এই পবিত্র নাম শুধু একটি স্থানের সাথে জড়িত নয় বরং এই নাম সকল মুসলমানের ঈমান ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এখানে রয়েছে অসংখ্য নবী-রাসূলের মাযার। ওহী ও ইসলামের অবতরণস্থল এ নগরী নবীগণের দ্বীন প্রচারের কেন্দ্রভূমি। তাই এ পবিত্র নগরীর প্রতি ভালবাসা প্রতিটি মুমিনের হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত।



 



লেখক : প্রভাষক (আরবি), মান্দারী আলিম মাদ্রাসা;



খতিব, কালেক্টরেট জামে মসজিদ, চাঁদপুর।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫২৯৪৪৮
পুরোন সংখ্যা