চাঁদপুর। শুক্রবার ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮। ২৩ ভাদ্র ১৪২৫। ২৬ জিলহজ ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪১-সূরা হা-মীম আস্সাজদাহ,

৫৪ আয়াত, ৬ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১১। অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করেন যা ছিলো ধু¤্র বিশেষ। অনন্তর তিনি ওটাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে এসো ইচ্ছা অথবা অনিচ্ছায়। তারা বললো, আমরা আসলাম আনুগত হয়ে।

১২। অতঃপর তিনি তাকে দুইদিনে সপ্তাকাশে পরিণত করলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার বিধান ব্যক্ত করলেন এবং আমি দুনিয়ার আকাশকে সুশোভিত করলাম প্রদীপমালা দ্বারা এবং করলাম সুরক্ষিত। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন



 


যে স্বল্প পরিমাণে সুগন্ধ পায়, সেই সুগন্ধের মাধুর্য বোঝে।                          


-সিনেকো।


সমস্ত মানব সন্তান পাপী এবং পাপীদের মধ্যে যারা অনুতাপ করে তারাই উৎকৃষ্ট।



 


ফটো গ্যালারি
আশুরার সুন্নাত ও বিদায়াত
মাওঃ মোঃ মোশাররফ হোসাইন
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

আল্লাহতা'আলা বার মাসের মধ্যে মহররম, রজব, যুলক্বাদাহ ও যুলহিজ্জাহ এ চারটি মাসকে বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন। এ মাসগুলো হারাম বা সম্মানিত মাস হিসেবে পরিগণিত। ঝগড়া-বিবাদ, লড়াই, খুন-খারাবী ইত্যাদি অন্যায়-অপকর্ম হতে দূরে থেকে এর মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য। যেমন আল্লাহ বলেন, এই মাসগুলোতে তোমরা পরস্পরের উপরে অত্যাচার করো না (তওবা ৯/৩৬)। রাসূল (সাঃ) কর্তৃক আশুরার সিয়াম পালন ও এর ফজিলত বর্ণনার মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই এ মাসের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে দুঃখের বিষয় হলো, রাসূল (সাঃ) যে উদ্দেশ্যে আশুরার সিয়াম পালন করেছেন, আমরা তাঁর উদ্দেশ্যের কথা ভুলে গিয়ে এমন উদ্দেশ্যে সিয়াম পালন করছি যা কোরআন ও সুন্নাতের সম্পূর্ণ বিরোধী। সাথে সাথে এমন সব বিদআতে লিপ্ত হয়েছি যা থেকে বেঁচে থাকা একান্ত জরুরি।

মহররম মাসের সুন্নাতী আমল

মহররম মাসের সুন্নাতী আমল সম্পর্কে ছহীহ হাদীছসমূহে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো আশুরার সিয়াম পালন করা। রাসূল (সাঃ) ১০ই মহররমে সিয়াম পালন করেছেন। ইহুদী ও নাছারারা শুধুমাত্র ১০ই মহররমকে সম্মান করতো এবং সিয়াম পালন করতো। তাই রাসূল (সাঃ) তাদের বিরোধিতা করার জন্যে ওই দিনসহ তার পূর্বের অথবা পরের দিনসহ সিয়াম পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। অতএব সুন্নাত হলো, ৯ ও ১০ই মহররম অথবা ১০ ও ১১ই মহররমে সিয়াম পালন করা।

আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন আশুরার সিয়াম পালন করলেন এবং সিয়াম পালনের নির্দেশ দিলেন, তখন ছাহাবায়ে কেরাম রাসূল (সাঃ)-কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)! ইহুদী ও নাছারাগণ এ দিনটিকে (১০ই মহররম) সম্মান করে। তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, আগামী বছর বেঁচে থাকলে ইনশাআল্লাহ আমরা ৯ই মহররমসহ সিয়াম রাখবো। রাবী বলেন, কিন্তু পরের বছর মহররম আসার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়ে যায়। অন্য হাদীছে এসেছে, ইবনু আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, তোমরা আশুরার দিন সিয়াম রাখো এবং ইহুদীদের বিরোধিতা কর। তোমরা আশুরার সাথে তার পূর্বে একদিন বা পরে একদিন সিয়াম পালন কর।

আশুরার সিয়ামের ফজিলত

ফজিলতের দিক থেকে রামাযানের সিয়ামের পরেই আশুরার সিয়ামের অবস্থান। এটা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারাস্বরূপ। অর্থাৎ এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা হয়।

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, রামাযানের পরে সর্বোত্তম সিয়াম হলো মহররম মাসের সিয়াম (অর্থাৎ আশুরার সিয়াম) এবং ফরয সালাতের পরে সর্বোত্তম সালাত হলো রাতের নফল সালাত (অর্থাৎ তাহাজ্জুদের সালাত)।

অন্য হাদীছে এসেছে, আবু ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেন, আমি আশা করি আশুরা বা ১০ই মহররমের সিয়াম আল্লাহর নিকটে বান্দার বিগত এক বছরের (ছগীরা) গোনাহের কাফফারা হিসাবে গণ্য হবে।

আশুরার সিয়াম পালনের উদ্দেশ্য

১০ই মহররম তারিখে অত্যাচারী-পাপিষ্ঠ ফেরাঊন ও তার কওম আল্লাহর প্রিয় নবী মূসা (আঃ)-কে হত্যার ঘৃণিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলে ফেরাঊনের সাগরডুবি হয় এবং মূসা (আঃ) ও তাঁর সমপ্রদায় বনু ঈস্রাঈল আল্লাহতা'আলার বিশেষ রহমতে অত্যাচারী ফেরাঊনের হাত থেকে মুক্তিলাভ করে। তার শোকরিয়া হিসাবে মূসা (আঃ) এদিন নফল সিয়াম রাখেন। মূসা (আঃ)-এর তাওহীদী আদর্শের সনিষ্ঠ অনুসারী হিসাবে স্বয়ং মুহাম্মাদ (সাঃ) এদিনে নফল সিয়াম পালন করেছেন এবং তাঁর উম্মতকে পালন করতে বলেছেন। ইহুদীরা কেবল ১০ তারিখে সিয়াম রাখত। তাই তাদের বিরোধিতার লক্ষ্যে তার আগের অথবা পরের দিনকে যোগ করার কথা রাসূল (সাঃ) বলেছেন। হাদীছে এসেছে, আব্দুল্লাহ বিন আববাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মদীনায় হিজরত করে ইহুদীদেরকে আশুরার সিয়াম রাখতে দেখে কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন, এটি একটি মহান দিন। এদিনে আল্লাহ মূসা (আঃ) ও তাঁর কওমকে নাজাত দিয়েছিলেন এবং ফেরাঊন ও তার লোকদের ডুবিয়ে মেরেছিলেন। তাঁর শোকরিয়া হিসাবে মূসা (আঃ) এদিন সিয়াম পালন করেন। তাই আমরাও এদিন সিয়াম পালন করি। তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, তোমাদের চাইতে আমরাই মূসা (আঃ)-এর (আদর্শের) অধিক হকদার ও অধিক দাবিদার। অতঃপর তিনি সিয়াম রাখেন ও সকলকে রাখতে বলেন। উল্লেখ্য যে, আশুরায়ে মহররম উপলক্ষে ৯ ও ১০ই মহররম অথবা ১০ ও ১১ই মহররম এই দুটি সিয়াম পালন করা সুন্নাত। এছাড়া অন্য কোনো ইবাদত সুন্নাত নয়। আর তাও হতে হবে একমাত্র ফেরাঊনের কবল থেকে মূসা (আঃ)-এর নাজাতের শোকরিয়া স্বরূপ। শাহাদতে হুসাইনের শোক বা মাতম স্বরূপ কখনোই নয় ।

মহররম মাসের বিদআতসমূহ

(১) শাহাদতে হুসাইনের শোক পালনের উদ্দেশ্যে সিয়াম পালন করা : উপরোক্ত আলোচনায় মহররম মাসের সুন্নাতী আমল এবং তা পালনের উদ্দেশ্য ছহীহ হাদীছ দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো। আর তা হলো, অত্যাচারী শাসক ফেরাউনের কবল থেকে মূসা (আঃ)-এর নাজাতের শোকরিয়া স্বরূপ ৯ ও ১০ই মহররম অথবা ১০ ও ১১ই মহররম সিয়াম পালন করা। বর্তমান সমাজে উক্ত দুটি সিয়াম পালনের প্রচলন রয়েছে। তবে তা শাহাদতে হুসাইনের শোক পালনের উদ্দেশ্যেই পালিত হয়ে থাকে। যা সম্পূর্ণরূপে ছহীহ হাদীছ বিরোধী এবং স্পষ্ট বিদআত। কেননা এই সিয়ামের সূচনা হয়েছে মূসা (আঃ)-এর সময় থেকে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর জীবদ্দশাতেই মহররমের সিয়াম পালন করেছেন। আর কারবালার ঘটনা ঘটেছে রাসূল (সাঃ)-এর মৃত্যুর ৫০ বছর পরে ৬১ হিজরীতে। তাহলে কি করে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) হুসাইন (রাঃ)-এর শাহাদতের কারণে এই সিয়াম পালন করলেন? অতএব এসব নিছক ভিত্তিহীন কথা মাত্র। রাসূল (সাঃ) আশুরার সিয়াম পালন করেছিলেন অত্যাচারী শাসক ফেরাঊনের কবল থেকে মূসা (আঃ)-এর নাজাতের আনন্দে আল্লাহর শোকরিয়া স্বরূপ। পক্ষান্তরে আমরা আজ তা পালন করছি হুসাইন (রাঃ)-এর শাহাদতের শোক স্বরূপ। অথচ ওমর (রাঃ), ওছমান (রাঃ) সহ আরো অনেক ছাহাবী শাহাদত বরণ করেছেন। আমরা তাঁদের স্মরণে কিছুই করি না। যদি হুসাইন (রাঃ)-এর শাহাদতের কারণে শোক দিবস পালন করা হয়, তাহলে ওমর ও ওছমান (রাঃ)-এর শোক দিবস পালনের অধিক হক রাখে। বিদআতীদের নিকট এ সমস্ত ছাহাবায়ে কেরামের শাহাদত বরণে শোক তো দূরের কথা; বরং আনন্দ দিবসে পরিণত হয়। যেমন- আববাসীয় খলীফা মুত্বী বিন মুক্বতাদিরের সময়ে (৩৩৪-৩৬৩হিঃ/৯৪৬-৯৭৪ খৃঃ) তাঁর কট্টর শিয়া আমীর আহমাদ বিন বূইয়া দায়লামী ওরফে মুইযযুদ্দৌলা ৩৫১ হিজরীর ১৮ই যিলহজ্জ তারিখে বাগদাদে ওছমান (রাঃ)-এর শাহাদাতবরণের তারিখকে তাদের হিসাবে খুশীর দিন মনে করে ঈদের দিন হিসাবে ঘোষণা করেন। শিয়াদের নিকটে এই দিনটি পরবর্তীতে ঈদুল আযহার চাইতেও গুরুত্ব পায়। অতঃপর ৩৫২ হিজরীর শুরুতে ১০ই মহররমকে তিনি হুসাইন (রাঃ)-এর শাহাদত বরণের শোক দিবস ঘোষণা করেন এবং সকল দোকান-পাট, ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালত বন্ধ করে দেন এবং মহিলাদেরকে শোকে চুল ছিঁড়তে, চেহারা কালো করতে, রাস্তায় নেমে শোকগাথা গেয়ে চলতে বাধ্য করেন। শহর ও গ্রামের সর্বত্র সকলকে শোক মিছিলে যোগদান করতে নির্দেশ দেন। শিয়ারা খুশি মনে এই নির্দেশ পালন করে। কিন্তু সুন্নীরা নিষি্ক্রয় থাকেন। পরে সুন্নীদের উপরে এই ফরমান জারি করা হলে ৩৫৩ হিজরীতে উভয় দলে ব্যাপক সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে বাগদাদে তীব্র নাগরিক অসন্তোষ ও সামাজিক অশান্তির সৃষ্টি হয়। আমরা বর্তমানে যে উদ্দেশ্যে আশুরার সিয়াম পালন করছি তা শিয়াদের থেকে গৃহীত; যা অবশ্যই বর্জনীয়।

(২) ১০ই মহররমকে আনন্দ উৎসবে পরিণত করা : রাফেযীরা (কট্টর শিয়া) হুসাইন (রাঃ)-এর শাহাদতের শোক স্বরূপ শোক দিবস পালন করে। পক্ষান্তরে একটি গোষ্ঠী রাফেযীদের বিরোধিতা করার লক্ষ্যে এ দিনটিকে আনন্দ উৎসবে পরিণত করে। এ দিনে রাফেযীদের শোক দিবস যেমন বিদআত; তেমনি তাদের বিরোধিতার লক্ষ্যে এ দিনে আনন্দ উৎসব করাও বিদআত। এটা যেন বিদআত দিয়ে বিদআত এবং মিথ্যা দিয়ে মিথ্যা প্রতিহত করার চেষ্টা। অথচ উচিত ছিল সুন্নাত দিয়ে বিদআত প্রতিহত করা। সত্য দিয়ে মিথ্যা প্রতিহত করা। রাসূল (সাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরাম এ দিনটিকে শোক দিবস হিসাবেও পালন করেননি। আবার আনন্দ উৎসবেও পরিণত করেননি। তাঁরা শুধুমাত্র ফেরাউনের কবল থেকে মূসা (আঃ)-এর নাজাতের শোকরিয়া স্বরূপ সিয়াম পালন করেছেন।

(৩) তাযিয়া : তাযিয়া অর্থ বিপদে সান্ত্বনা দেয়া। যেটা বর্তমানে শাহাদাতে হোসাইনের শোক মিছিলে রূপ নিয়েছে। অথচ ইসলামে কারো মৃত্যুতে তিন দিনের অধিক শোক পালন করা নিষেধ। কিন্তু বাগদাদের গোঁড়া শিয়া আমীর মুইযযুদ্দৌলা ৩৫২ হিজরীর ১০ই মহররমকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করেন এবং শহর ও গ্রামের সকলকে তাযিয়া মিছিলে যোগদানের নির্দেশ দেন। সেদিন থেকেই এই বিদআতী প্রথা চালু হয়েছে। শিয়াদের উদ্ভাবিত এই বিদআতী প্রথার অনুসরণেই বাংলাদেশের বিদআতীরা ১০ই মহররমে মিছিল বের করে থাকে। প্রত্যেক আল্লাহভীরু মুসলমানের এই সব বিদআত হতে দূরে থাকা আবশ্যক।

(৪) ১০ই মহররমে চোখে সুরমা লাগানো : অনেকেই আশুরার দিন বা ১০ই

মহররমে বিশেষ ফযীলতের আশায় চোখে সুরমা লাগিয়ে থাকে; যা সুস্পষ্ট বিদআত। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরাম আশুরার দিনে চোখে সুরমা লাগাননি এবং এর কোন ফজিলত বর্ণনা করেননি। আশুরার দিনে চোখে ইছমিদ সুরমা লাগালে কখনোই চোখে রোগ হবে না মর্মে প্রচলিত হাদীছটি মাওযূ বা জাল।

(৫) ১০ই মহররমে বিশেষ ফজিলতের আশায় বিশেষ পদ্ধতিতে সালাত আদায় করা : ১০ই মহররমে বিশেষ ফযীলতের আশায় বিশেষ পদ্ধতিতে সালাত আদায় করা হয়ে থাকে; যা সুস্পষ্ট বিদআত। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরাম এ দিনে বিশেষ কোন সালাত আদায় করেছেন মর্মে কোনো ছহীহ দলীল পাওয়া যায় না। এ সম্পর্কে যা পাওয়া যায় তার সবগুলিই জাল বা বানোয়াট। যেমন :

(ক) আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, আশুরার দিনে যে ব্যক্তি চার রাকআত সালাত আদায় করবে এবং প্রত্যেক রাকআতে একবার সূরা ফাতিহা ও পঞ্চাশবার সূরা ইখলাছ তেলাওয়াত করবে, আল্লাহতা'আলা তার অতীতের পঞ্চাশ বছরের গুনাহ এবং ভবিষ্যতের পঞ্চাশ বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। উলি্লখিত হাদীছটি জাল বা বানোয়াট।

(খ) রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আশুরার দিনে যোহর ও আছরের সালাতের মাঝখানে চলি্লশ রাকআত সালাত আদায় করবে। প্রত্যেক রাকআতে একবার সূরা ফাতিহা, দশবার আয়াতুল কুরসী, দশবার সূরা ইখলাছ, পাঁচবার সূরা ফালাক্ব এবং পাঁচবার সূরা নাস তেলাওয়াত করবে আল্লাহতা'আলা তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করবেন। অত্র হাদীছটিও জাল বা বানোয়াট।

শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, সিয়াম ব্যতীত আশুরা সম্পর্কিত কোন ছহীহ হাদীছ নেই। এই দিনে নির্দিষ্ট সালাতের ফজিলত সম্পর্কে যে বর্ণনা এসেছে প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিছগণের ওইক্যমতে তার সবগুলিই মিথ্যা ও বানোয়াট। মুহাক্কিক আলেমদের কেউই তাদের কিতাবসমূহে এ সমস্ত হাদীছ সংকলন করেননি।

অতএব এ উপলক্ষে আশুরার দুটি সিয়াম ব্যতীত অন্য কোন ইবাদত রাসূলুল্লাহ (সাঃ), ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈনে ইযাম, ইমাম চতুষ্টয়ের কেউ কখনোই করেননি। আর তাঁরা সিয়াম দুটি পালন করেছেন কেবল ফেরাউনের কবল থেকে মূসা (আঃ)-এর নাজাতের শোকরিয়াস্বরূপ; শাহাদাতে হুসাইনের শোকস্বরূপ নয়। সুতরাং বর্তমানে আশুরা উপলক্ষে যা হচ্ছে তার সবগুলিই পরবর্তী যূগের বিদআতীদের আবিষ্কার; যা অবশ্যই বর্জনীয়।

(৬) তাবেঈ ইয়াযীদ বিন মুআবিয়া-কে মালঊন বা অভিশপ্ত বলে গালি দেয়া : ইয়াযীদ বিন মুআবিয়াকে মালঊন বা অভিশপ্ত বলে গালি দেয়া আদৌ ঠিক নয়। বরং সকল মুসলমানের ন্যায় তার মাগফেরাতের জন্যে দোআ করা উচিত। কেননা মানুষ হিসাবে তার কিছু ভুল-ত্রুটি থাকলেও কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার জন্যে তিনি দায়ী নন। এজন্যে মূলত দায়ী বিশ্বাসঘাতক কূফাবাসী ও নিষ্ঠুর গভর্নর ওবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদ। কেননা ইয়াযীদ কেবল হুসাইন (রাঃ)-এর আনুগত্য চেয়েছিলেন, তাঁর খুন চাননি। হুসাইন (রাঃ) সে আনুগত্য দিতেও প্রস্ত্তত ছিলেন। ইয়াযীদ স্বীয় পিতার অছিয়ত অনুযায়ী হুসাইনকে সর্বদা সম্মান করেছেন এবং তখনও করতেন। হুসাইন (রাঃ)-এর ছিন্ন মস্তক ইয়াযীদের সামনে রাখা হলে তিনি কেঁদে বলে ওঠেন, ওবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদের উপর আল্লাহ লানত করুন। আল্লাহর কসম! যদি হুসাইনের সাথে ওর রক্তের সম্পর্ক থাকত, তাহলে সে কিছুতেই তাঁকে হত্যা করত না। তিনি আরো বলেন, হুসাইনের খুন ছাড়াও আমি ইরাকীদেরকে আমার আনুগত্যে রাযী করাতে পারতাম। কুফার নেতাদের লিখিত ১৫০টি পত্র পেয়ে হুসাইন (রাঃ) কূফায় আসলে বছরার গভর্নর ওবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদ কূফার গভর্নর মুসলিম বিন আকীলকে গ্রেফতার করে হত্যা করে। এদিকে হুসাইন (রাঃ) প্রদত্ত তিনটি প্রস্তাবের কোনটি গ্রহণ না করায় দুষ্টমতি ওবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদের সাথে সংঘর্ষ অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে। এতে হুসাইন (রাঃ) সপরিবারে নিহত হন।

সম্মানিত পাঠক! পরিপূর্ণভাবে ইসলামের উপর টিকে থাকতে হলে ফিরে যেতে হবে একমাত্র পবিত্র কোরআন ও ছহীহ সুন্নাহর দিকে। মুসলিম জাতি আজ কোরআন-সুন্নাহ থেকে ছিটকে পড়েছে। ফলে বিদআতের কাল মেঘে আচ্ছাদিত হয়েছে ইসলামী শরীআতের স্বচ্ছ আকাশ। এ থেকে বেরিয়ে আসার জন্যে শারঈ জ্ঞানার্জন অপরিহার্য। মহররম মাসে রাসূল (সাঃ) কি করেছেন আর আমরা কি করছি তা মিলিয়ে দেখতে হবে পবিত্র কোরআন ও ছহীহ সুন্নাহর সাথে। কারবালার ঘটনা সম্পর্কে সকল প্রকার আবেগ ও বাড়াবাড়ি হতে দূরে থাকতে হবে এবং আশুরা উপলক্ষে প্রচলিত শিরক ও বিদআতী আক্বীদা-বিশ্বাস ও রসম-রেওয়াজ পরিহার করতে হবে। আল্লাহ আমাদেরকে বিদআত মুক্ত জীবন-যাপন করার তওফীক্ব দান করুন- আমীন!

লেখক : খতিব, কালেক্টরেট জামে মসজিদ, প্রভাষক (আরবি),

মান্দারী আলিম মাদ্রাসা, চাঁদপুর।

আজকের পাঠকসংখ্যা
১২৯৩৪৭৯
পুরোন সংখ্যা