চাঁদপুর । শুক্রবার ১৩ জুলাই ২০১৮ । ২৯ আষাঢ় ১৪২৫ । ২৮ শাওয়াল ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৯-সূরা আয্-যুমার

৭৫ আয়াত, ৮ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৪৪। বল, ‘সকল সুপারিশ আল্লাহরই ইখতিয়ারে, আকাশম-লী ও পৃথিবীর সর্বময় কর্তৃত্ব আল্লাহরই, অতঃপর তাঁহারই নিকট তোমরা প্রত্যানীত হইবে’।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


দুষ্ট লোকেরা তাদের গড়া নরকেই বাস করে।

 টমাস ফুলার।


যারা অতি অভাবগ্রস্ত, দীন-দরিদ্র, কেবল তারা ভিক্ষা করতে পারে।



                       


ফটো গ্যালারি
ওমরাহ ও হজ্বে তামাত্তুর নিয়মাবলী এবং দোয়ায়ে মাসনুন
মাওঃ মোঃ মোশাররফ হোসাইন
১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


পবিত্র ক্বোরআনুল কারীম এবং হাদীসে নবভী শরীফে হজ্ব শব্দটি 'হা' তে যবর ও যের সহকারে অর্থাৎ حَج এবং حِج উভয়রূপে উলি্লখিত হয়েছে। কেউ কেউ বলেন হজ্ব শব্দটি যবরযোগে 'মাসদার' (ক্রিয়ামূল) আর যের সহকারে 'ইসম' বা বিশেষ্য। আবার কোন কোন মুহাক্বকি্বক্ব বলেন, যবর সহকারে হজ্ব শব্দটি 'ইসম' বা বিশেষ্য এবং যের সহকারে হজ্ব শব্দটি 'মাসদার' বা ক্রিয়ামূল। হজ্ব শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো  قَصْدُ الشَّىْءِ الْعَظِيْمِ الْفَخِيْمِ অর্থাৎ আযীমুশ্বান কোন বিষয় বা বস্তু অর্জনের সংকল্প করা, ইচ্ছে করা। আর ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় হজ্বের মাসসমূহে ইহরাম পরিধান করে ৯ জিলহজ্ব আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা এবং বায়তুল্লাহ শরীফের তাওয়াফ করার সংকল্প করাকে হজ্ব বলা হয়। হজ্ব ইসলামের অন্যতম বুনিয়াদী ইবাদত। আল্লাহপ্রেমের পরম নিদর্শন এবং এক ব্যতিক্রমধর্মী ইবাদত এ হজ্ব। ইসলামের সকল ইবাদত নামায, রোযা, যাকাত, জিহাদ, সদক্বাহ-খয়রাত, যিকর-আযকার এবং তরীক্বতের সবক পালন ইত্যাদি সর্বত্র আদায়যোগ্য। কিন্তু হজ্ব ব্যতিক্রম। এটা একমাত্র নির্দিষ্ট মওসুমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের মেহমানরূপে মর্যাদাবান হয়ে খানায়ে কা'বা বায়তুল্লাহ শরীফ উপস্থিত হয়েই শুধু আদায় করা যায়। কোন কোন ইবাদত দৈহিক; যেমন নামায, রোযা, যিকর-আযকার' আর কোন কোন ইবাদত মালী বা আর্থিক; যেমন যাকাত-ফিতরা, সাদক্বাহ-খায়রাত ইত্যাদি। কিন্তু হজ্ব এমন একটি ইবাদত যা শারীরিক শ্রম-সাধনা এবং আর্থিক ক্বোরবানী উভয়ের সমন্বয়ে আদায় করতে হয়। অন্যান্য সকল ইবাদত রিয়াযতে আনুগত্যের প্রাধান্যই পরিদৃষ্ট হয় আর হজ্বে বায়তুল্লাহর বিধি-বিধান পালনকালে আল্লাহরপ্রেমের প্রধান্যই পরিলক্ষিত হয়। তাই হজ্বে মাক্ববূলের প্রতিদান হলো জান্নাত। হজ্ব এমন একটি আমল যার বদৌলতে আন্তর্জাতিক ইসলামী ভ্রাতৃত্ব বন্ধুত্ব এবং সংহতিও সূচিত হয় বিশ্ব মুসলিমের মধ্যে। কেননা প্রতিবছর নির্দিষ্ট তারিখে নির্দিষ্ট সময়ে লাখ লাখ মু'মিন নর-নারী আরাফাত, মিনা-মুয্দালিফায় সমবেত হয়ে এক আল্লাহর মহত্ব-বড়ত্ব ও গুণগানে মত্ত হয়ে উঠে। ভাষা, বর্ণ, বাসভূমি ইত্যাদি কারণে বিক্ষিপ্ত মুসলিম মিল্লাত হজ্বের বরকতে ও বদৌলতে আরাফাতের ময়দানে একক মুসলিম জাতি সত্তায় পরিণত হয়। এভাবেই বিশ্ব মুসলিম ঐক্যের ভিত সুদৃঢ় ও সুসংহত হয়। হজ্ব এমন একটি গুরুত্ববহ রিয়াযত যার বরকতে মানব হৃদয়ে বিনয় নম্রতা ও কোমলতা আর চরিত্রে পবিত্রতা পরিশুদ্ধি অর্জিত হয়। যা হজ্বে মাকবূলেরই নমুনা ও নিদর্শন। এহেন অপরিসীম পার্থিব ও পারলৌকিক কল্যাণ, মঙ্গল ও উপকার নিহিত রয়েছে পবিত্র হজ্বে বায়তুল্লাহর মধ্যে। এজন্য ক্বোরআনে কারীমের অনেক আয়াতে এবং হাদীসে নবভী শরীফের অনেক রেওয়ায়ত বারংবার তাগিদ দেয়া হয়েছে সামর্থ্যবান মু'মিন নর-নারীর প্রতি হজ্ব সম্পন্ন করার বিষয়ে।



হজ্ব কখন ফরয হয় এ বিষয়ে মুহাদ্দিসীন মুফাসসিরীন এবং ফক্বীহগণের মধ্যে মাতানৈক্য রয়েছে। মুহাক্বক্বেক্বীন ওলামাই কেরামের মধ্যে কেউ কেউ বলেন হজ্ব হিজরী তৃতীয় সালে ফরয হয় যে বছর ওহুদ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। [তাফসীরে ইবনে কাসীর] আবার কোন কোন মুহাক্বকি্বক্ব বলেন, হজ্ব হিজরী ষষ্ঠ সালে ফরয হয়। তবে অধিকাংশ মুহাদ্দিসীন এবং ফক্বীহর মতে হজ্ব হিজরী নবম সনে ফরয হয়। [আলমগীরী ও দুররে মুখতার]



দলে দলে লোকজনের ইসলাম গ্রহণ এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি দলের আগমনের কারণে আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যস্ত থাকায় ওই বছর হজ্বে যাননি; বরং সাইয়্যেদুনা আবূ বকর সিদ্দিক রাদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুকে 'আমীরুল হুজ্জাজ' মানোনীত করে মক্কা শরীফে প্রেরণ করেন হজ্ব আদায়ের লক্ষে। হুযুর-ই আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরবর্তী বছর ১০ম হিজরীতে হজ্ব সম্পন্ন করেন, যা ঐতিহাসিক 'বিদায় হজ্ব' হিসেবে প্রসিদ্ধ।



 



১. ওমরাহ ও তামাত্তু হজ্ব :



বাংলাদেশী হাজীগণ সাধারণতঃ তামাত্তু হজ্ব করে থাকেন। ঢাকা হতে জেদ্দা পেঁৗছতে বিমানে সাধারণতঃ সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে। তামাত্তু হাজীগণ জেদ্দা অবতরণের অন্তত আধা ঘণ্টা পূর্বে বিমানের দেওয়া মীক্বাত বরাবর পেঁৗছবার ঘোষণা ও সবুজ সংকেত দানের পরপরই ওজু শেষে ওমরাহর জন্য ইহরামের কাপড় পরিধান করে (১) নিম্নোক্ত দোআ পড়বেন, لَبَّيْكَ عُمْرَةً jলাববায়েক ওমরাতান (আমি ওমরাহর জন্য হাজির)। অতঃপর তালবিয়াহ পাঠ করতে থাকবেন। অথবা (২) ) أَللّهُمَّ لَبَّيْكَ عُمْرَةً আল্লা-হুম্মা লাববায়েক ওমরাতান (হে আল্লাহ! আমি ওমরাহর জন্য হাজির)। অথবা (৩) لَبَّيْكَ أَللَّهُمَّ عُمْرَةً مُتَمَتِّعًا بِهَا إِلَى الْحَجَّ فَيَسِّرْهَا لِىْ وَتَقَبَّلْهَا مِنِّىْ লাববায়েক আললা-হুম্মা ওমরাতাম মুতামাত্তিআন বিহা ইলাল হাজ্জি; ফাইয়াসসিরহা লী ওয়া তাক্বাববালহা মিন্নী। অর্থ : হে আল্লাহ! আমি ওমরাহর জন্য হাজির, হজ্বের উদ্দেশ্যে উপকার লাভকারী হিসাবে। অতএব তুমি আমার জন্য ওমরাহকে সহজ করে দাও এবং আমার পক্ষ হতে তা কবুল করে নাও। (৪) যারা একই ইহরামে ওমরাহ ও হজ্ব দুটিই করবেন, তারা বলবেন, لَبَّيْكَ أَللَّهُمَّ عُمْرَةً وَحَجَّا লাববায়েক আল্লা-হুম্মা ওমরাতান ওয়া হাজ্জান। (৫) যারা কেবলমাত্র হজ্বের জন্য ইহরাম বাঁধবেন, তারা বলবেন  لَبَّيْكَ أَللَّهُمَّ حَجَّا লাববায়েক আল্লা-হুম্মা হাজ্জান। (৬) কিন্তু যারা পথিমধ্যে অসুখের কারণে বা অন্য কোন কারণে হজ্ব আদায় করতে পারবেন না বলে আশংকা করবেন, তারা লাববায়েক ওমরাতান অথবা লাববায়েক হাজ্জান বলার পর নিম্নোক্ত শর্তাধীন দোআ পড়বেন ফাইন হাবাসানী হা-বিসুন, ফা মাহাল্লী হায়ছু হাবাসতানী। অর্থ : যদি (আমার হজ্ব বা ওমরাহ পালনে) কোন কিছু বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে যেখানে তুমি আমাকে বাধা দিবে (হে আল্লাহ!), সেখানেই আমার হালাল হওয়ার স্থান হবে। (৭) যারা কেউর পক্ষ থেকে বদলী হজ্ব করবেন, তারা তাদের মুওয়াক্কিল পুরুষ হলে মনে মনে তার নিয়ত করে বলবেন, , لَبَّيْكَ عَنْ فُلاَنٍ লাববায়েক আন ফুলান (অমুকের পক্ষ হতে আমি হাজির)। আর মহিলা হলে বলবেন, লাববায়েক আন ফুলা-নাহ। যদি আন ফুলান বা ফুলা-নাহ বলতে ভুলে যান, তাতেও অসুবিধা নেই। নিয়তের উপরেই আমল কবুল হবে ইনশাআল্লাহ। (৮) সঙ্গে নাবালক ছেলে বা মেয়ে থাকলে (তাদেরকে ওজু করিয়ে ইহরাম বাঁধিয়ে) তাদের পক্ষ থেকে তাদের অভিভাবক মনে মনে তাদের নিয়ত করে উপরোক্ত দোআ পড়বেন। (৯) যদি কেউ তালবিয়াহ পাঠ করতেও ভুলে যান, তাহলে তিনি অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইবেন এবং তালবিয়াহ পাঠ করবেন। এজন্য তাকে কোন ফিদ্ইয়া দিতে হবে না। (১০) বাংলাদেশী হাজীগণ যদি মদীনা হয়ে মক্কায় যান, তাহলে মদীনায় নেমে যুল-হুলাইফা থেকে ইহরাম বাঁধবেন, তার আগে নয়। কেননা জেদ্দা হয়ে তিনি মদীনায় এসেছেন সাধারণ মুসাফির হিসাবে মসজিদে নববীতে ছালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে, হজ্বের উদ্দেশ্যে নয়। আর মসজিদে নববীতে ছালাত আদায় করা হজ্বের কোন অংশ নয়।



 



২. তালবিয়াহ :



ইহরাম বাঁধার পর থেকে মাসজিদুল হারামে পেঁৗছা পর্যন্ত ইহরামের কারণে নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ হতে বিরত থাকবেন এবং হালাল হওয়ার আগ পর্যন্ত সর্বদা সরবে নিম্নোক্ত দোআ পড়বেন, যাকে তালবিয়াহ বলা হয়। পুরুষগণ সরবে ও মহিলাগণ নিম্নস্বরে তালবিয়াহ পাঠ করবেন। -


لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لاَشَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لاَشَرِيْكَ لَكَ-


উচ্চারণ : লাববাইকা আল্লা-হুম্মা লাববায়েক, লাববাইকা লা শারীকা লাকা লাববায়েক; ইন্নাল হাম্দা ওয়ানি্নমাতা লাকা ওয়াল মুল্ক; লা শারীকা লাক।



অর্থ : আমি হাজির হে আল্লাহ আমি হাজির। আমি হাজির। তোমার কোন শরীক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই যাবতীয় প্রশংসা, অনুগ্রহ ও সাম্রাজ্য সবই তোমার; তোমার কোন শরীক নেই। উল্লেখ্য যে, জাহেলী যুগে আরবরা ত্বাওয়াফ কালে নিম্নোক্ত শিরকী তালবিয়াহ পাঠ করত। -লাববাইকা লা শারীকা লাকা, ইল্লা শারীকান হুয়া লাক; তামলিকুহু ওয়া মা মালাক (আমি হাজির; তোমার কোন শরীক নেই, কেবল ঐ শরীক যা তোমার জন্য রয়েছে। তুমি যার মালিক এবং যা কিছুর সে মালিক)। মুশরিকরা লাববাইকা লা শারীকা লাকা বলার পর রাসূল (সাঃ) তাদের উদ্দেশ্যে ক্বাদ ক্বাদ (থামো থামো, আর বেড়োনা) বলতেন। বস্তুত ইসলাম এসে উক্ত শিরকী তালবিয়াহ পরিবর্তন করে পূর্বে বর্ণিত নির্ভেজাল তাওহীদ ভিত্তিক তালবিয়াহ প্রবর্তন করে। যার অতিরিক্ত কোন শব্দ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেননি। তালবিয়া পাঠ শেষে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত কামনা করে এবং জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য ছহীহ হাদীছে বর্ণিত দোআসমূহ পাঠ করা যাবে। যেমন আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল জান্নাহ, ওয়া আঊযুবিকা মিনান্না-র (হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকটে জান্নাত প্রার্থনা করছি ও জাহান্নাম থেকে পানাহ চাচ্ছি)। অথবা বলবে রবেব কি্বনী আযা-বাকা ইয়াওমা তাবআছু ইবা-দাকা। হে আমার প্রতিপালক! তোমার আযাব হতে আমাকে বাঁচাও! যেদিন তোমার বান্দাদের তুমি পুনরুত্থান ঘটাবে।



নিয়ত (النية) : মনে মনে ওমরাহ বা হজ্বের সংকল্প করা ও তালবিয়াহ পাঠ করাই যথেষ্ট। মুখে নাওয়াইতুল ওমরাতা বা নাওয়াইতুল হাজ্জা বলা বিদ'আত। উল্লেখ্য যে, হজ্ব বা ওমরাহর জন্য তালবিয়াহ পাঠ করা ব্যতীত অন্য কোন ইবাদতের জন্য মুখে নিয়ত পাঠের কোন দলীল নেই। ফযীলত : রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, কোন মুসলমান যখন তালবিয়াহ পাঠ করে, তখন তার ডাইনে-বামে, পূর্বে-পশ্চিমে তাঁর ধ্বনির শেষ সীমা পর্যন্ত কংকর, গাছ ও মাটির ঢেলা সবকিছু তার সাথে তালবিয়াহ পাঠ করে। ত্বীবী বলেন, অর্থাৎ যমীনে যা কিছু আছে, সবই তার তালবিয়াহর সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে।



৩. মাসজিদুল হারামে প্রবেশের দোআ : কা'বা গৃহ দৃষ্টিগোচর হওয়া মাত্র ইচ্ছা করলে দুহাত উঁচু করে আল্লাহ আকবর বলে যেকোন দোআ অথবা নিম্নোক্ত দোআটি পড়া যায়, যা ওমর (রাঃ) পড়েছিলেন। | اَللُّهُمَّ اَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ فَحَيِّنَا رَبَّنَا بِالسَّلاَمِ- - ফাহাইয়েনা রববানা বিস সালাম শান্তির সাথে বাঁচিয়ে রাখো!)। অতঃপর মাসজিদুল হারামে প্রবেশ করার সময় প্রথমে ডান পা রেখে নিম্নের দোআটি পড়বেন। -



اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وسَلِّمْ، اَللَّهُمَّ افْتَحْ لِىْ أَبْوَابَ رَحَمَتِكَ-



(১) আল্লা-হুম্মা ছাল্লে আলা মুহাম্মাদ ওয়া সাল্লেম; আল্লা-হুম্মাফতাহলী আবওয়াবা রহমাতিকা (হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ-এর উপর অনুগ্রহ ও শান্তি বর্ষণ কর। হে আল্লাহ তুমি আমার জন্য তোমার অনুগ্রহের দরজা সমূহ খুলে দাও!)।



(২) অথবা বলবেন, আঊযু বিল্লা-হিল আযীম, ওয়া বিওয়াজহিহিল কারীম, ওয়া বিসুলত্বা-নিহিল ক্বাদীমি মিনাশ শায়ত্বা-নির রজীম (আমি মহীয়ান ও গরীয়ান আল্লাহ এবং তাঁর মহান চেহারা ও চিরন্তন কর্তৃত্বের আশ্রয় প্রার্থনা করছি বিতাড়িত শয়তান হতে। এই দোআ পাঠ করলে শয়তান বলে, লোকটি সারা দিন আমার থেকে নিরাপদ হয়ে গেল'। দুটি দোআ একত্রে পড়ায় কোন দোষ নেই। বস্তুত এ দোআ মসজিদে নববীসহ যেকোন মসজিদে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।



মসজিদ থেকে বের হওয়ার দোআ : প্রথমে বাম পা রেখে বলবেন, اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ سَلِّمْ، اَللَّهُمَّ إِنِّى أَسْئَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ আল্লা-হুম্মা ছাল্লে আলা মুহাম্মাদ ওয়া সাল্লেম; আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন ফাযলিকা (হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ-এর উপর অনুগ্রহ ও শান্তি বর্ষণ কর। হে আল্লাহ! আমি তোমার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি)।



(২) অথবা বলবেন, , اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ سَلِّمْ، اَللَّهُمَّ اعْصِمْنِىْ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمَ  আল্লা-হুম্মা ছাল্লে আলা মুহাম্মাদ ওয়া সাল্লেম; আল্লা-হুম্মাছিমনী মিনাশ শায়ত্বা-নির রাজীম নিরাপদ রাখো)।



৪. ত্বাওয়াফ (الطواف) :ত্বাওয়াফ অর্থ প্রদক্ষিণ করা।পারিভাষিক অর্থে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে বায়তুল্লাহ প্রদক্ষিণ করাকে ত্বাওয়াফ বলে। অন্য কোন গৃহ প্রদক্ষিণ করাকে ত্বাওয়াফ বলা সিদ্ধ নয়। হাজারে আসওয়াদের নিকটবর্তী বনু শায়বাহ গেইট দিয়ে অথবা অন্য যেকোন দরজা দিয়ে প্রবেশ করে ওজু অবস্থায় সোজা মাত্বাফে গিয়ে কাবার দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত হাজারে আসওয়াদ (কালো পাথর) বরাবর সবুজ বাতির নীচ থেকে কাবা গৃহকে বামে রেখে ত্বাওয়াফ (প্রদক্ষিণ) শুরু করবেন। একে ত্বাওয়াফে কুদূম বা আগমনী ত্বাওয়াফ বলে।



উল্লেখ্য যে, ত্বাওয়াফ হল ছালাতের ন্যায়। এসময় চুপে চুপে দোআসমূহ পড়তে হয়। তবে এখানে বাধ্যগত অবস্থায় কল্যাণকর সামান্য কথা বলার অনুমতি আল্লাহ দিয়েছেন। ওজু অবস্থায় ত্বাওয়াফ শুরু করতে হবে। তবে মাঝখানে ওজু ছুটে গেলে এবং ভিড়ের কারণে ওজু করা কষ্টকর হলে ঐ অবস্থায় ত্বাওয়াফ শেষ করবেন। পুনরায় ক্বাযা করতে হবে না। এরূপ অবস্থায় শেষের দু' রাকআত নফল ছালাত পুনরায় ওজু করে হারামের যেকোন স্থানে পড়ে নিবেন। ত্বাওয়াফের মধ্যে মেয়েদের ঋতু শুরু হলে ত্বাওয়াফ ছেড়ে দিবেন এবং বাকী অন্যান্য কাজসমূহ করবেন। উল্লেখ্য যে, সাঈর জন্য ওজু শর্ত নয়, তবে মুস্তাহাব। এই ত্বাওয়াফের সময় পুরুষেরা ইযতি্ববা করবেন। অর্থাৎ ডান বগলের নীচ দিয়ে ইহরামের কাপড় বাম কাঁধের উপরে উঠিয়ে রাখবেন ও ডান কাঁধ খোলা রাখবেন। তবে অন্যান্য ত্বাওয়াফ যেমন ত্বাওয়াফে ইফাযাহ, ত্বাওয়াফে বিদা ইত্যাদির সময় এবং ছালাতের সময় সহ অন্য সকল অবস্থায় মুহরিম তার উভয় কাঁধ ঢেকে রাখবেন। হাজারে আসওয়াদ থেকে প্রতিটি ত্বাওয়াফ শুরু হবে ও সেখানে এসেই শেষ হবে। ত্বাওয়াফের শুরুতে হাজারে আসওয়াদ-এর দিকে হাত ইশারা করে বলবেন, بِسْـمِ اللهِ وَاللهُ أَكْبَرُ  বিসমিল্লা-হি ওয়াল্লা-হু আকবর(আল্লাহর নামে শুরু করছি এবং আল্লাহ সবার বড়)। অথবা শুধু আল্লাহ আকবর বলবেন। এভাবে যখনই হাজারে আসওয়াদ বরাবর পেঁৗছবেন, তখনই ডান হাতে ইশারা দিয়ে আল্লাহ আকবর বলবেন। ভিড় কম থাকার সুযোগ নেই। তবুও সুযোগ পেলে অন্ততঃ ত্বাওয়াফের শুরুতে এবং শেষে হাজারে আসওয়াদ চুম্বন করার সুন্নাত আদায় করবেন। মোট ৭টি ত্বাওয়াফ হবে। প্রথম তিনটি ত্বাওয়াফে রমল বা একটু জোরে চলতে হবে এবং শেষের চার ত্বাওয়াফে স্বাভাবিক গতিতে চলবেন। মহিলাগণ সর্বদা স্বাভাবিক গতিতে চলবেন। অতঃপর দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত রুকনে ইয়ামানী থেকে দক্ষিণ-পূর্ব কোণে হাজারে আসওয়াদ পর্যন্ত দক্ষিণ দেওয়াল এলাকায় পেঁৗছে প্রতি ত্বাওয়াফে এই দোআ পড়বেন-



উচ্চারণ : রববা-না আ-তিনা ফিদ্দুন্ইয়া হাসানাতাঁও ওয়া ফিল আ-খিরাতে হাসানাতাঁও ওয়া কি্বনা আযা-বান্না-র। অর্থ : হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদেরকে দুনিয়ায় কল্যাণ দাও ও আখিরাতে মঙ্গল দাও এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব হতে রক্ষা কর। এ সময় ডান হাত দিয়ে রুক্নে ইয়ামানী স্পর্শ করবেন ও বলবেন بٍسْـمِ اللهِ وَاللهُ أَكْبَرُ   বিসমিল্লাহি, ওয়াল্লা-হু আকবর। তবে চুমু দিবেন না। ভিড়ের জন্য সম্ভব না হলে স্পর্শ করারও দরকার নেই বা ওদিকে ইশারা করে আল্লাহ আকবর বলারও প্রয়োজন নেই। কেবল রববানা আ-তিনা... দোআটি পড়ে চলে যাবেন। হযরত আনাস (রাঃ) বলেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) অধিকাংশ সময় অত্র দোআটি পাঠ করতেন। উল্লেখ্য যে, রববানা-এর স্থলে আল্লা-হুম্মা আ-তিনা কিংবা আল্লা-হুম্মা রববানা আ-তিনা বললে সিজদাতেও এ দোআ পড়া যাবে। এতদ্ব্যতীত ছালাত, সাঈ, আরাফা, মুযদালিফা সর্বত্র সর্বদা এ দোআ পড়া যাবে। এটি একটি সারগর্ভ ও সর্বাত্মক দোআ। যা দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণকর সবকিছুকে শামিল করে এবং যা সর্বাবস্থায় পড়া যায়। উল্লেখ্য যে, ক্বাবার উত্তর পাশ্র্বে স্বল্প উচ্চ দেয়াল ঘেরা হাত্বীম-এর বাহির দিয়ে ত্বাওয়াফ করতে হবে। ভিতর দিয়ে গেলে ঐ ত্বাওয়াফ বাতিল হবে ও পুনরায় আরেকটি ত্বাওয়াফ করতে হবে। কেননা হাত্বীম অংশটি মূল কাবার অন্তর্ভুক্ত। যাকে বাদ দিলে কাবা বাদ পড়ে যাবে।



ত্বাওয়াফ শেষের ছালাত : সাত ত্বাওয়াফ শেষে মাক্বামে ইবরাহীমের পিছনে বা ভিড়ের কারণে অসম্ভব হলে হারাম শরীফের যেকোন স্থানে হালকাভাবে নীরবে দু'রাকআত নফল ছালাত আদায় করবেন। এই সময় ডান কাঁধ ঢেকে নিবেন। (ক) এই ছালাত নিষিদ্ধ তিন সময়েও পড়া যাবে (খ) যদি বাধ্যগত কোন শারঈ কারণে বা ভুলবশতঃ এই ছালাত আদায় না করে কেউ বেরিয়ে আসেন, তাতে কোন দোষ হবে না। কারণ এটি ওয়াজিব নয় (গ) এখানে খুৎবা ছাড়াই ছালাত জায়েয। তবে মুসলি্লর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা ওয়াজিব। মুছল্লীর সিজদার স্থান হতে একটি বকরী যাওয়ার মত দুরত্বের বাহির দিয়ে অতিক্রম করা যাবে। (ঘ) উক্ত ছালাতে সূরায়ে ফাতিহা শেষে প্রথম রাকআতে সূরা কাফেরূন ও দ্বিতীয় রাকআতে সূরা ইখলাছ পাঠ করবেন। তবে অন্য সূরাও পাঠ করা যাবে। (ঙ) ত্বাওয়াফ ও সাঈ-তে সংখ্যা গণনায় কম হয়েছে বলে নিশ্চিত ধারণা হলে বাকীটা পূর্ণ করে নিবেন। ধারণা অনিশ্চিত হলে বা গণনায় বেশী হলে কোন দোষ নেই। ছালাত শেষে সম্ভব হলে হাজারে আসওয়াদ চুম্বন করবেন। অতঃপর নিকটেই পূর্ব-দক্ষিণে যমযম এলাকায় প্রবেশ করে সেখান থেকে পানি পান করে পাশেই ছাফা পাহাড়ে উঠে যাবেন।



৫. সাঈ (السعى) :



সাঈ অর্থ দৌড়ানো। পারিভাষিক অর্থে, হজ্ব বা ওমরাহর উদ্দেশ্যে ছাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে দৌড়ানোকে সাঈ বলা হয়। ত্বাওয়াফ শেষে ছাফা ও মারওয়ার মধ্যে সাতবার সাঈ করবেন। দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী দুই সবুজ দাগের মধ্যে একটু জোরে দৌড়াবেন। তবে মহিলাগণ স্বাভাবিক গতিতে চলবেন। সাঈ অর্থ দৌঁড়ানো। তৃষ্ণার্ত মা হাজেরা শিশু ইসমাঈলের ও নিজের পানি পানের জন্য মানুষের সন্ধানে পাগলপারা হয়ে ছাফা ও মারওয়া পাহাড়ে উঠে দেখতে চেয়েছিলেন কোন ব্যবসায়ী কাফেলার সন্ধান মেলে কি-না। সেই কষ্টকর ও করুণ স্মৃতি মনে রেখেই এ সাঈ করতে হয়। (১) ত্বাওয়াফ শেষে ছাফা পাহাড়ের নিকটবর্তী হয়ে বলবেন, আমরা শুরু করছি সেখান থেকে যা দিয়ে আল্লাহ শুরু করেছেন। অতঃপর নিম্নোক্ত আয়াতটি পাঠ করবেন- ইন্নাছ ছাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআ-ইরিল্লাহ। ফামান হাজ্জাল বাইতা আবিতামারা ফালা জুনা-হা আলাইহি আইঁ ইয়াত্ত্বাউওয়াফা বিহিমা। ওয়ামান তাত্বাউওয়াআ খায়রান, ফাইন্নাল্লা-হা শা-কেরুন আলীম। (নিশ্চয়ই ছাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। অতএব যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহর হজ্ব অথবা ওমরা করবে, তার জন্য এদুটি পাহাড় প্রদক্ষিণ করায় দোষ নেই। সুতরাং যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় সৎকর্ম করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তার যথার্থ মূল্যায়নকারী ও তার সম্পর্কে সম্যক অবগত(বাক্বারাহ ২/১৫৮)। (২) অতঃপর



ছাফা পাহাড়ে উঠে কাবার দিকে দেখবেন ও সেদিকে তাকিয়ে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল-হামদুলিল্লাহ বলবেন ও তিনবার আল্লাহ আকবর বলবেন। দেয়াল বা পিলার সমূহের কারণে কাবা দেখায় সমস্যা হলেও সেদিকে তাকাবেন ও দেখতে চেষ্টা করবেন। দেখতে পেলে সুন্নাতের অনুসরণ হল। না পেলেও কোন দোষ নেই। অতঃপর ক্বাবার দিকে মুখ করে দু হাত উঠিয়ে তিনবার নিম্নের দোআটি পাঠ করবেন ও অন্যান্য দোআ করবেন।



উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু; ইউহয়ী ওয়া ইউমীতু, ওয়াহুয়া আলা কুল্লে শাইয়িন ক্বাদীর। লা ইলা-হা ইল্লাললা-হু ওয়াহদাহূ লা শারীকা লাহূ, আনজাযা ওয়াদাহূ ওয়া নাছারা আবদাহূ, ওয়া হাযামাল আহ্যা-বা ওয়াহদাহূ। অর্থ : আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনি এক। তাঁর কোন শরীক নেই। তাঁরই জন্য সকল রাজত্ব ও তাঁরই জন্য সকল প্রশংসা। তিনিই বাঁচান ও তিনিই মারেন এবং তিনি সকল কিছুর উপরে ক্ষমতাশালী। আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনি এক। তাঁর কোন শরীক নেই। তিনি তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন ও স্বীয় বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই শত্রু দলকে ধ্বংস করেছেন। (৩) ছাফা থেকে মারওয়া পর্যন্ত এক সাঈ, মারওয়া থেকে ছাফা পর্যন্ত আরেক সাঈ। এমনিভাবে ছাফা থেকে সাঈ শুরু হয়ে মারওয়াতে গিয়ে সপ্তম সাঈ শেষ হবে ও সেখান থেকে ডান দিকে বেরিয়ে পাশেই সেলুনে গিয়ে মাথা মুন্ডন করবেন অথবা সমস্ত চুল ছেটে খাটো করবেন। (৪) মহিলাগণ তাদের চুলের বেণী হতে অঙ্গুলীর অগ্রভাগ সমান অল্প কিছু চুল কেটে ফেলবেন। (৫) ওমরাহর পরে হজ্বের সময় নিকটবর্তী হলে চুল খাটো করাই ভাল। পরে হজ্বের সময় মাথা মুন্ডন করবেন। এরপর হালাল হয়ে যাবেন ও ইহরাম খুলে স্বাভাবিক পোষাক পরবেন। (৬) তবে সাঈ-র সময় মহিলাদের দৌড়াতে হয় না সম্ভবতঃ তাদের পর্দার কারণে ও স্বাস্থ্যগত কারণে। (৭) প্রতিবার ছাফা ও মারওয়াতে উঠে কাবামুখী হয়ে পূর্বের ন্যায় লা ইলাহা ইল্লাললাহ, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাললাহ ও তিনবার আল্লাহ আকবার বলবেন ও হাত উঠিয়ে পূর্বের দোআটি পাঠ করবেন। (৮) ত্বাওয়াফ ও সাঈ অবস্থায় নির্দিষ্ট কোন দোআ নেই। বরং যার যা দোআ মুখস্ত আছে, তাই নীরবে পড়বেন। অবশ্যই তা ছহীহ হাদীছে বর্ণিত দোআ হওয়া বাঞ্ছনীয়। বান্দা তার প্রভুর নিকটে তার মনের সকল কথা নিবেদন করবেন। আল্লাহ তার বান্দার হৃদয়ের খবর রাখেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) ও আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) এই সময় পড়েছেন : : رَبِّ اغْفِرْ وَ ارْحَمْ وَأَنْتَ الْأَعَزُّ الْأَكْرَمُ রবিবগফির ওয়ারহাম ওয়া আনতাল আআযযুল আকরাম (হে প্রভু! আমাকে ক্ষমা কর ও দয়া কর। আর তুমিই সর্বোচ্চ সম্মানিত ও সবচেয়ে দয়ালু)। (৯) তাছাড়া এই সময় অধিকহারেসুবহা-নাল্লাহ আল-হামদুলিল্লাহ ও আল্লাহ আকবার পড়বেন বা কুরআন তেলাওয়াত করবেন। (১০) সাঈ-র জন্য ওজু বা পবিত্রতা শর্ত নয়, তবে মুস্তাহাব।



জ্ঞাতব্য : (ক) সাঈ-র মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়লে বাকী সাঈগুলি ট্রলিতে করায় দোষ নেই (খ) ত্বাওয়াফ ও সাঈ-র সময় একজন দলনেতা বই বের করে জোরে জোরে পড়তে থাকেন ও তার সাথীরা পিছে পিছে সরবে তা উচ্চারণ করতে থাকে। এ প্রথাটি বিদআত। এটা অবশ্যই পরিত্যাজ্য। অর্থ না বুঝে এভাবে সমস্বরে ও উচ্চৈঃস্বরে দোআ পাঠ করার মধ্যে যেমন খুশূ-খুযূ থাকে না, তেমনি তা নিজ হৃদয়ে কোনরূপ রেখাপাত করে না। ফলে এভাবে তোতাপাখির বুলি আওড়ানোর মধ্যে কোনরূপ নেকী লাভ হবে না। উপরন্তু অন্যের নীরব দো'আ ও খুশূ-খুযূ-তে বিঘ্ন সৃষ্টি করার দায়ে নিঃসন্দেহে তাকে গোনাহগার হতে হবে।



(গ) ত্বাওয়াফের পরেই সাঈ করার নিয়ম। কিন্তু যদি কেউ ত্বাওয়াফে ইফাযাহর পূর্বেই অজ্ঞতাবশে বা ভুলক্রমে সাঈ করেন, তাতে কোন দোষ হবে না।



 



মহিলাদের জ্ঞাতব্য :



(১) মহিলাগণ মাহরাম সঙ্গী ব্যতীত কোন গায়ের মাহরাম ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে হজ্ব বা ওমরাহ করতে পারবেন না। মাহরাম হল রক্ত সম্পর্কীয় ৭ জন : (১) পিতা-দাদা (২) পুত্র-পৌত্র ও অধঃস্তন (৩) ভ্রাতা (৪) ভ্রাতুষ্পুত্র ও অধঃস্তন (৫) ভগিনীপুত্র ও অধঃস্তন (৬) চাচা (৭) মামু। এতদ্ব্যতীত দুগ্ধ সম্পর্কীয়গণ। বিবাহ সম্পর্কীয় ৪ জন : (১) স্বামীর পুত্র বা পৌত্র (২) স্বামীর পিতা বা দাদা (৩) জামাতা, পৌত্রী-জামাতা, নাতিন জামাতা (৪) মাতার স্বামী বা দাদী-নানীর স্বামী। (২) ঋতুবতী ও নেফাসওয়ালী মহিলাগণ ত্বাওয়াফ (ও ছালাত) ব্যতীত হজ্ব ও ওমরাহর সবকিছু পালন করবেন। (৩) যদি ওমরাহর ইহরাম বাঁধার সময়ে বা পরে নাপাকী শুরু হয় এবং ৮ তারিখের পূর্বে পাক না হয়, তাহলে ঐ অবস্থায় নিজ অবস্থানস্থল থেকে হজ্বের ইহরাম বাঁধবেন এবং তিনি তখন ওমরাহ ও হজ্ব মিলিতভাবে কি্বরান হজ্বকারিনী হবেন। (৪) পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তিনি ত্বাওয়াফ ব্যতীত সাঈ, ওকূফে আরাফা, মুযদালিফা, মিনায় কংকর মারা, বিভিন্ন দোআ-দরূদ পড়া, কুরবানী করা, চুলের মাথা কাটা ইত্যাদি হজ্বের বাকী সব অনুষ্ঠান পালন করবেন। (৫) নাপাক থাকলে বিদায়ী ত্বাওয়াফ ছাড়াই দেশে ফিরবেন। আমিন চুম্মা আমিন



 



লেখক : খতিব, কালেক্টরেট জামে মসজিদ ও আরবী প্রভাষক, মান্দারী আলিম মাদ্রাসা, চাঁদপুর।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৫৯৮৪৬
পুরোন সংখ্যা