দু’ দিকে দুটো মন
পীযূষ কান্তি রায় চৌধুরী
আমি কি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হলাম? না ব্যর্থ হইনি, ব্যর্থতার গস্নানি নিয়ে কেনো বেঁচে থাকবো| পৃথিবীতে যারা চিরতরে চলে গিয়েছে এবং বর্তমানে আছে তাদের সবার ভেতরেই একটি প্রশ্ন ঃ সফলতা ও ব্যর্থতা| সুখ আর দুঃখ এটা চিরন্তন| সৃষ্টিকর্তার মহিমা| এ নিয়ে আমরা অতীত-বর্তমানের ইতিহাস, ধর্মগ্রন্থ নিয়ে চেষ্টা করেছি এবং করছি এ রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য| কিন্তু পারিনি, পারবো না| সৃষ্টিকর্তার লীলাখেলায় আমরা হারমানা জীবকূল| তারপরও ব্যর্থতার গস্নানি নিয়ে বাঁচতে চাই না| দৃঢ়তা, চেতনা, আদর্শ, ব্যক্তিত্ব যদি মনের ভেতরে আনা যায়, তাহলে তার ব্যর্থতার পালস্না থেকে সফলতার পালস্না ভারি হবেই| তার অগ্রযাত্রাকে কেউ রুখতে পারবে না|
পাঠকবৃন্দ! উপরের লেখাটি এই শিক্ষাই দিচ্ছে সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ রেখে সুআদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি কাজে তা দিলে তা ব্যর্থ হয় না| চলমান বিশ্বে ধ্বংস-সৃষ্টি থাকবেই| লতিফার বয়স বর্তমানে আঠার-ঊনিশ, যৌবনে পদার্পণ করেছে| শরীরের রং শ্যামলা, চুলগুলো মিশকালো, দু’ ফুট লম্বা| চোখ দুটি ডাগর ডাগর, ঠোট দুটি পাতলা, নাকটি একটু সরু, কান দুটি চুলে ঢাকা থাকলেও দুটি স্বর্ণের রিং ঝুলানো| গাল দুটি ঠোসা ঠোসা, দাঁতগুলো রূপালী চিক&ধসঢ়; চিক&ধসঢ়;| এক কথায় বলা চলে লতিফা সুদর্শনা এক যৌবনা নারীর অহঙ্কার| যে কোনো উঠতি যুবকের চোখ পড়বে| লতিফা এখন কলেজে পড়ে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে| কলেজ জীবনটা বর্তমান যুগের শৃঙ্খলমুক্ত জীবন| স্কুলের গণ্ডি পার হয়ে কলেজ যেনো মুক্ত মঞ্চ| কতো বিচিত্র ঘরের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করতে আসে, কতো গল্প, কতো স্বপ্ন| বেছে নেয় তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপদ্ধতি| অনেক পিতা-মাতা হাফ ছেড়ে বাঁচে| কেউবা মানসম্মান যাতে ক্ষুণ&ধসঢ়;ন না হয় তার প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখে| লতিফার কলেজ জীবনে আসে এক ধর্নাঢ্য বনেদি ঘরের ছেলের প্রস্তাব| বিয়ের প্রস্তাব| পিতা-মাতা লুফে নিলো এই প্রস্তাব| ছেলেটি লেখাপড়ায় স্নাতক পাস, ব্যবসা করে| নাম তার জাবেদ হাসান| লতিফা কলেজে যায়| প্রতিদিন হয় গেটের সামনে নতুবা সামনের ফটোকপির দোকানের নিকট সুঠাম দেহের অধিকারী, ফর্সা, লাল গেঞ্জি পরিহিত ছেলেটিকে দেখে| চোখ ফিরিয়ে নেয়| এক বিকেলে চোখে চোখ পড়ে যায়| লতিফার মনের মধ্যে নতুন জাগরণ সৃষ্টি হলো| পড়ায় মন বসে না, ঘুম আসে না| লেখাপড়ায় একটি আঘাত পড়ে গেলো| মোবাইলে কল আসে রিসিভ করে না, বিরক্ত করে| হঠাৎ একদিন বিকেলে লতিফার ঘর থেকে সেই ছেলে ও একজন বয়স্ক ভদ্রলোককে বের হতে দেখে থমকে দাঁড়ালো| লতিফা তখন কলেজ থেকে ফিরছে মাত্র| চোখে চোখ পড়ে গেলো| লতিফা এড়িয়ে গেলো| ঘরে ঢুকেই লতিফা তার বাবা-মাকে জিজ্ঞেস করলো, ওনারা কেনো এসেছে? উত্তর পরিষ্কার| তোমার বিয়ের কথা বলতে এসেছে| আমি চিনি, জানি তাই| কথা প্রায় ঠিক করেছি| লতিফা হঠাৎ কেঁদে বললো, এ তোমার কি করছো? ছেলেটি ধনী ঘরের সুশ্রী কিন্তু সেতো বখাটে ছেলে| প্রতিদিন কলেজের সম্মুখে দাঁড়ায়, শিষ দেয়, কথা বলতে চায়| অনেক মেয়ের সর্বনাশ করেছে| তুমি আমার সর্বনাশ করবে না| আমার জীবন আছে, প্রতিজ্ঞা আছে| এখন বিয়ে নয়, লেখাপড়া করে তোমাদের মুখ উজ্জ্বল করবো| সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবো| বখাটেদের শায়েস্তা করবো| আমি আর এই কলেজে যাবো না| আমাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দাও, সেখানে পড়বো| লতিফার বাবা তাই করলো| প্রিন্সিপালকে সব খুলে বললো| লতিফা এখন পড়ালেখা করে বিসিএস দিয়ে একজন ম্যাজিস্ট্রেট| দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোস্টিং নিয়ে সমাজের অসামাজিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করছে| সেই বখাটে ছেলে জাবেদ হাসান এখন শ্রীঘরে একটি খুনের মামলায়|
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।