শিশুদের অধিকারে বাধা
শিশুর কোনো জাত নেই, নেই কোনো শত্রু| এরা ফুলের মতোই পবিত্র| এরা সবারই আপনজন, একান্ত ভালোবাসার পাত্র| শুভ্রপ্রাণ এ শিশুরাই পৃথিবীর বুকে বয়ে আনে নন্দনবার্তা| এরাই অনাগত দিনের কীর্তিমান নাগরিক, দেশ ও জাতির কর্ণধার| ডড়ৎফংিড়ৎঃয-এর ভাষায়, ’ঈযরষফ রং ঃযব ভধঃযবৎ ড়ভ ধ হধঃরড়হ’ আজকের শিশুরাই একদিন ফুলে ফলে প্রস্ফুটিত হয়ে জাতির আশা-আকাঙ&ধসঢ়;ক্ষা পূরণ করবে| আদর্শ নাগরিক হয়ে সমাজ, দেশ ও জাতির কল্যাণ বয়ে আনবে| কেননা, প্রতিটি শিশুর মধ্যেই লুক্কায়িত থাকে জাতির উন্নতি ও সমৃদ্ধির বীজ| কিন্তু এ জন্যে শিশুর সযতœ প্রতিপালন, সুশিক্ষা ও বিকাশ সাধনের সুষ্ঠু পরিবেশ অপরিহার্য| কাজেই শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ রচনায় সবাইকে আত্মনিয়োগ করতে হবে| এদের মৌলিক অধিকারগুলো ভোগ সুনিশ্চিত করতে হবে|
শিশুদের মৌলিক অধিকারগুলো সুনিশ্চিত করে এদের জন্যে নিরাপদ ও আনন্দঘন বিশ্ব গড়ার প্রত্যয়ে জাতিসংঘ ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে ’বিশ্ব শিশু দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং তখন থেকেই প্রতি বছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার এক আনন্দঘন পরিবেশে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে বিশ্বের প্রতিটি দেশে| বিশ্বের অবহেলিত শিশুদের প্রতি সমাজের সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এ দিবসটি পালনের মুখ্য উদ্দেশ্য| একই উদ্দেশ্যে জাতিসংঘ ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে ’শিশু অধিকার সনদ’ ঘোষণা করে| প্রতি বছর আমাদের মাঝেও ’বিশ্ব শিশু দিবস’ আসে জাতিসংঘ ঘোষিত ’শিশু অধিকার সনদ’ সুনিশ্চিত করণের দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে| পালিতও হয় দিবসটি যথাযথ মর্যাদায়| অথচ পরিতাপের বিষয়, আমাদের দেশে শিশু অধিকার সনদ আজ অবধি বাস্তবায়ন হয়নি| সুনিশ্চিত হয়নি এদের মৌলিক অধিকারগুলোও| গত ১১ সেপ্টেম্বর দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠে এ মর্মে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়|
সংবাদে জানা যায়, কচুয়া পৌরসভাধীন কড়ইয়া গ্রামের অধিবাসী নিরীহ আমির হোসেন ও ছালেহা বেগমের বিদ্যালয় পড়ুয়া কোমলমতি তিন শিশু ফাতেমা (৮), আয়েশা (৫) এবং হামিদা (৪) পাশ্ববর্তী বাড়ির রুবেল, রাসেল ও বারেকের ভয়-ভীতির কারণে তাদের অন্যতম মৌলিক অধিকার শিক্ষা লাভের জন্যে বিদ্যালয়ে
যেতে চরমভাবে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে| বিদ্যালয়ে যেতে চাইলে উলেস্নখিত ব্যক্তিরা তাদেরকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে মারধর করে দোকানে আটক করে রাখে| এ মর্মে শিশুদের মা ছালেহা বেগম কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন| তিনি বিষয়টি তদনত&ধসঢ়;দের জন্যে থানা পুলিশকে দায়িত্ব দেন এবং কচুয়া থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে দু’ পক্ষের লোকজনের সাথে কথা বলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার দায়িত্ব দিয়েছেন বলে সংবাদে প্রকাশ|
আমাদের প্রত্যাশা, সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে শিশুদের মৌলিক অধিকারে বাধা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে এবং একই সাথে জাতিসংঘ ঘোষিত শিশু অধিকার সনদে উল্লেখিত জীবনের নিরাপত্তা ও শিক্ষা লাভের অধিকারসহ সব অধিকার সুনিশ্চিত করবে|
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।