চাঁদপুর, বুধবার ৩ মার্চ ২০২১, ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭, ১৮ রজব ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : বীর মুক্তিযোদ্ধার ভাবনা-৩
পাকিস্তানীদের শাসন, শোষণ, দুর্ব্যবহার এবং জাতি হিসেবে নিগৃহীত করার বিষয়টি আমার চোখে ভাসে
-----------ওয়ারেন্ট অফিসার (অবঃ) সরোয়ার হোসেন
প্রবীর চক্রবর্তী
০৩ মার্চ, ২০২১ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


অগি্নঝরা ১৯৭১ সালটি ৭ কোটি বাঙালির কাছে দেশপ্রেমের অগি্নপরীক্ষা ছিলো। কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ গুটিকয়েক বাদে সকলেই সেই অগি্নপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার কারণে আজ আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। চাকুরির মায়া ত্যাগ করে সেদিন যাঁরা দেশের জন্যে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তাঁদের একজন সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার (অবঃ) সরোয়ার হোসেন। তিনি ফরিদগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে আজ আমরা মুখোমুখি এই বীর মুক্তিযোদ্ধার। সাক্ষাৎকার-পর্বের আগে জেনে নিই যুদ্ধকালীন তাঁর দুঃসাহসী কর্মকা-।



সরোয়ার হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালে বরিশালের শেরে বাংলা একে ফজলুল হক প্রতিষ্ঠিত চাখার স্কুল এন্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক তথা এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলাম। সেই সময় ওই প্রতিষ্ঠানের ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলাম। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার পর আর পরীক্ষা দেয়া হয়নি। শুরু হয় যুদ্ধে যাবার দামামা। সিরাজুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে আমরা সাময়িক প্রশিক্ষণ নিই। পরবর্তীতে আমরা একটি গ্রুপ ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তেলঢালা ক্যাম্পের সেনাবাহিনীতে যোগদান করি। আমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তেলঢালা ক্যাম্পে তিনটি ব্যাটেলিয়ন একত্রিত হয়ে পুনঃগঠিত হয়। ফাস্ট ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট, থার্ড ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট ও এইট ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে তৈরি ব্রিগেড। এই ব্রিগেড পাকবাহিনীর সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে যুদ্ধের সময় শহীদ হওয়া লোকজনের শূন্যস্থান পূরণের জন্যে তাদেরকে সেনাবাহিনীতে ভর্তি করা হয়। সেখানে তারা ১০ সপ্তাহ ট্রেনিং করেন। ১৭ জুলাই প্রথম চরখাই সীমান্ত দিয়ে রংপুরের রৌমারিতে প্রবেশ করেন। সেখানে কিছুদিন যুদ্ধ করার পর পুনরায় ভারতে ফিরে যান। একুশে নভেম্বর তিন বাহিনী যখন সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে তখন তিনিসহ পুরো গ্রুপ পুনরায় রংপুরের ফুলছুড়ি ঘাট হয়ে জামালপুর প্রবেশ করেন। জামালপুর থেকে কিশোরগঞ্জ এবং সর্বশেষ সুনামগঞ্জের দোয়ারা বাজার পাকবাহিনীর সাথে যুদ্ধ করেন। সেদিন তাঁদের রেজিমেন্টের ১১ জন সৈনিক শহীদ হন। লেঃ আনোয়ার ছিলেন ওই কোম্পানীর প্লাটুন কমান্ডার। সরোয়ার হোসেন ছিলেন তাঁর রানার ও ওয়ারলেস অপারেটর। পরবর্তীতে তাঁরা দোয়ারা বাজার শত্রুমুক্ত করে ছাতক আসেন। ছাতকে আবারও পাকবাহিনীর প্রতিরোধের মুখে পড়লে টানা ৫ দিন চলে সেই যুদ্ধ। ৫ দিন যুদ্ধের পর ছাতক শত্রুমুক্ত হয়। পরে আরও কয়েকটি যুদ্ধের পর সিলেট শহরের কাছাকাছি পেঁৗছে যান তাঁরা। ১৪ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনী ও সরোয়ারসহ তাঁর প্লাটুন যৌথভাবে সিলেট শত্রুমুক্ত করতে আক্রমণ করেন এবং বিকেলের মধ্যেই শত্রুমুক্ত হয়। সিলেট ইপিআর ক্যাম্পে অবস্থান করার পর অস্ত্র সমর্পণ করে তারা। পরে সিলেটের খাদিমনগরে কৃষি ইনস্টিটিউট নিয়ে আসা হয় তাদের। পরে সেখানে আরও কিছু সৈনিক নিয়ে এসে ১৮ ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট সৃষ্টি করা হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ায় তার মনে বাড়িতে থাকা মা-বাবা জন্যে টান এবং আবারও পরীক্ষা দিতে আগ্রহ দেখা দেয়ায় কমান্ডিং অফিসারের কাছে আবেদন নিবেদন করলেও ছুটি না পাওয়ায় একসময় তিনি পালিয়ে দেশে চলে আসেন। কিন্তু ভঙ্গুর যোগাযোগব্যবস্থা ও বাড়িতে এসে অভাব দেখে তিনি ৯২ দিন পর পুনরায় নিজ ইউনিট ফিরে যান। কিন্তু সেনাবাহিনী নিয়ম ভঙ্গ করায় তাঁকে প্রথমে সেনাবাহিনী যোগদান করতে দেয়া হয়নি। পরে তাঁর করুণ আকুতি ও ইউনিটের মাস্টার কমান্ডারের অনুরোধে মেজর সাফায়েত জামিল সর্বশেষ আমাকে যোগদানের নির্দেশনা দেন। কিন্তু যোগদান করলেও নতুন তারিখে। পরবর্তীতে ২৯ বছর সেনাবাহিনী চাকুরি করা পর ১৯৮৯ সালে বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট থেকে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভোটে তিনি ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে নির্বাচিত হন।



চাঁদপুর কণ্ঠ : কেমন আছেন?



সরোয়ার হোসেন : পরম করুনাময় আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। মুক্তিযোদ্ধা ভাইদের জন্যে শেষ বয়সে এসে কাজ করতে পারছি, পরম শান্তি এখানেই।



চাঁদপুর কণ্ঠ : মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর পঞ্চাশ বছর বেঁচে থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দেখা পেলেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আপনার অনুভূতি কেমন?



সরোয়ার হোসেন : একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভিন্নরকম অনুভূতি হবে স্বাভাবিক। স্বাধীনতার পূর্বে যতটুকু স্মৃতিতে রয়েছে এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে আজ পর্যন্ত সবকিছুই দেখেছি। পাকিস্তানীদের শাসন, শোষণ দুর্ব্যবহার এবং জাতি হিসেবে নিগৃহীত করার বিষয়টি আমার চোখে ভাসে। সেই অবস্থার চিত্র আমাদের স্বাধীনতা-পরবর্তী থেকে শুরু করে বর্তমান প্রজন্ম জানেন না। ফলে স্বাধীন দেশে বর্তমান অবস্থায় তারা অনেক কিছুই অনুধাবন করতে সক্ষম হচ্ছেন না। যদি এটির কিছু অংশও অনুভূত করতে পারতো তাহলে দেশের চেহারা অন্যরকম হতো।



আমরা স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম বঙ্গবন্ধুর ডাকে। আমরা সেদিন কিছু পাওয়ার জন্যে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করিনি। এদেশের মানুষ পাকিস্তানিদের অত্যাচারের জর্জরিত ছিলো। মা-বোনদের ইজ্জত রক্ষা সর্বোপরি বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা দিতে আমরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি।



চাঁদপুর কণ্ঠ : যে স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, সেই স্বপ্নের সমান্তরালে দেশের অগ্রযাত্রা লক্ষ্য করছেন কি?



সরোয়ার হোসেন : সুনির্দিষ্ট আদর্শ ও উদ্দেশ্য নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জাতিকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তিনি দেশকে এগিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু বিপথগামী কর্তৃক ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সেই অগ্রযাত্রা থেমে যায়। পরবর্তীতে দীর্ঘসময় পরে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর এবং সর্বশেষ টানা একযুগ ক্ষমতায় থেকে জাতিকে যেই পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন, তাতে আমি বলতে পারি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন আজ অনেকটাই পূরণের দ্বারপ্রান্তে। এজন্যে আমরা গর্বিত।



চাঁদপুর কণ্ঠ : দেশকে নিয়ে আপনার কোনো অতৃপ্তি আছে কি?



সরোয়ার হোসেন : আজ আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। আমরা এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম মুক্তভাবে কথা বলতে, কাজ করতে পারছি। ভালো ভালো চাকুরি করে নিজের ও পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে পারছে লোকজন স্বাচ্ছন্দে। যা পূর্ব পাকিস্তান থাকতে কল্পনা করা যেতো না। ফলে অতৃপ্তি থাকার কথা নয়। এছাড়া একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমাদেরকে জাতির পিতার কন্যা যেই সম্মান দিয়েছেন, তাতে অতৃপ্তি আছে এ কথা বলতে পারি না। তবে এই দেশকে যদি স্বপ্নের শিখরে নিয়ে যেতে হয় তবে আমাদের প্রজন্মকে আরও কিছু করতে হবে।



চাঁদপুর কণ্ঠ : স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আপনি কাকে বা কাদেরকে বেশি স্মরণ করতে চান?



সরোয়ার হোসেন : ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার সহযোদ্ধা যারা নিজেদের রক্ত দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন তাঁদের। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সপরিবার, জাতীয় চার নেতাসহ আজ পর্যন্ত যে সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বঙ্গবন্ধুসহ সকল বীরসেনানীকে স্মরণ করছি।



চাঁদপুর কণ্ঠ : সকলের উদ্দেশ্যে আপনার পছন্দের কিছু কথা বলুন।



সরোয়ার হোসেন : আসুন আমরা সকলে মিলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে যে যার অবস্থান থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করি। যাতে তিনি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাকে পরিপূর্ণ রূপদান করতে পারেন। স্বাধীনতার সাধটাকে মানুষের মাঝে পেঁৗছে দিতে পারেন। এজন্যে তাঁর নেক হায়াত কামনা করছি।



চাঁদপুর কণ্ঠকে অভিনন্দন জানাই। তারা স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তীতে আমাদের কথা পাঠকদের শোনানোর ব্যবস্থা করার জন্যে।



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৯৯-সূরা যিল্যাল


০৮ আয়াত, ১ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১। পৃথিবী যখন আপন কম্পনে প্রবলভাবে প্রকম্পিত হইবে।


২। এবং পৃথিবী যখন তাহার ভার বাহির করিয়া দিবে,


৩। এবং মানুষ বলিবে 'ইহার কী হইল?'


 


 


মাটিকে ভালোবাসো, মাটি তোমাকে ভালোবাসবে।


_ইবনে আহম্মদ।


 


 


 


স্বভাবে নম্রতা অর্জন কর।


 


 


 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৬,৪৪,৪৩৯ ১৩,২১,৯৪,৪৪৭
সুস্থ ৫,৫৫,৪১৪ ১০,৬৪,২৬,৮২২
মৃত্যু ৯,৩১৮ ২৮,৬৯,৩৬৯
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬০৩৭০৮
পুরোন সংখ্যা