চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১০ রবিউস সানি ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
কচুয়ায় চিকিৎসার আড়ালে চলছে অসাধু ডাক্তারদের রমরমা টেস্ট বাণিজ্য
পরীক্ষা না করেই মনগড়া রিপোর্ট তৈরি করে রোগীদের হাতে ধরিয়ে দেয়ার অভিযোগ
মোহাম্মদ মহিউদ্দিন
২৬ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


কচুয়ায় নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে চিকিৎসার আড়ালে চালানো হচ্ছে রমরমা টেস্ট বাণিজ্য। অধিকাংশ হসপিটাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সেবার পরিবর্তে রোগীদের সাথে প্রতারণা করে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের অর্থ। আর এর সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছেন কিছু অসাধু চিকিৎসক। কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েদীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি নষ্টসহ চিকিৎসক সঙ্কট বিরাজ করায় মানুষ ছুটে চলছে প্রাইভেট হসপিটাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে। এমনি সুযোগে প্রাইভেট হসপিটাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা সেবার নামে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।



অভিযোগ উঠেছে, এ সকল প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সপ্রাপ্তি ও পরিচালনার যে শর্ত রক্ষা করার কথা তা তারা মানছে না। স্বাস্থ্যসেবায় সরকারি নীতিমালার প্রয়োগ না থাকায় কচুয়ায় গড়ে উঠেছে মানহীন এসব প্রাইভেট হসপিটাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার।



ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রয়োজন হোক বা না হোক, রোগীর টেস্টের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমিশনের লোভে অনেক ডাক্তার নানা পরীক্ষা লিখে হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন প্রেসক্রিপশন। কোনো কোনো ডাক্তার নিজের পছন্দের জায়গায় পরীক্ষা না করালে পরবর্তীতে সে রোগীকে আর তিনি দেখেন না এমন অভিযোগও রয়েছে একাধিক ডাক্তারের বিরুদ্ধে।



নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্রে এক চিকিৎসক এসব অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে ক্ষোভের সাথে এ প্রতিনিধিকে জানান, চাকরি করছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় কোনো না কোনো সরকারি হাসপাতাল কিংবা মেডিকেল কলেজে। কথিত আছে অনেক সরকারি ডাক্তার রীতিমতো মালিক হয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিংবা প্রাইভেট হসপিটালের ব্যবসাও করছেন। সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেই অনুমোদন দেয়া হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠানের। ডাক্তারদের কেউ কেউ তাদের স্ত্রী, ভাই কিংবা নিজের কোনো নিকট আত্মীয়ের নামে শেয়ার নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। অনেক ডাক্তার প্রাইভেট হাসপাতালে অনকলের নামে নিয়মিত চাকরিও করছেন। এ যেনো অনিয়মের বেসরকারি হাসপাতাল পুষছেন সরকারি ডাক্তাররা।



জানা যায়, কচুয়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় রয়েছে শতাধিক বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। যাদের বেশিরভাগই লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। এসব অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান চমকপদ নামে আধুনিক সাজসজ্জায় গড়ে উঠেছে। এদের বেশির ভাগেরই উদ্দেশ্য থাকে রোগীর কাছ থেকে কীভাবে চিকিৎসা ও টেস্টের নামে অর্থ হাতিয়ে নেয়া যায়। অথচ মেডিকেল প্র্যাকটিস, প্রাইভেট ক্লিনিক এন্ড ল্যাবরেটরিজ রেগুলেশন অর্ডিনেন্স মোতাবেক ১০ শয্যা বিশিষ্ট ক্লিনিকের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ও নির্ধারিত স্থান সম্বলিত নির্দিষ্ট কক্ষ, অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার, ৩জন বিশেষজ্ঞ ও আবাসিক চিকিৎসক, ১জন সার্জন ও ৩জন স্টাফ নার্স থাকতে হবে। এসব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বেসরকারি পর্যায়ে ক্লিনিক এন্ড নার্সিং হোম ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে লাইসেন্স দেয়ার কথা। কচুয়ায় অবস্থিত এসব ক্লিনিকের ক্ষেত্রে কোনো কিছুই মানা হচ্ছে না। দু'-একটি মানসম্মত ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকলেও বাকিগুলোতে আয়া ও নন-টেকনিশিয়ান দিয়ে পরীক্ষা করার অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় পরীক্ষা না করেই মনগড়া রিপোর্ট তৈরি করে রোগীদের হাতে ধরিয়ে দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়।



অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের সবুজ সংকেতে এসব অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক অবাধে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মাধ্যমে তারা প্রতি মাসে সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।



সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো : পরীক্ষাগুলোর রিপোর্ট তৈরি করার কথা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের। কিন্তু তা করছেন টেকনিশিয়ান কিংবা ডাক্তারের সহযোগীরা। কোনো কোনো হসপিটালে নেই টেকনিশিয়ানও। রিপোর্ট তৈরি করছে ওইসব হসপিটালের নার্সরা। অথচ ডাক্তারের নাম, পদবি সম্ভলিত সিল মেরে ডাক্তারের অগ্রিম স্বাক্ষর রেখে রোগীকে সরবরাহ করছে রিপোর্ট। সে রিপোর্ট ভালো করে না দেখে প্রতিষ্ঠানের নাম দেখে ডাক্তার লিখে দিচ্ছেন ঔষধ।



এখানেই শেষ নয়। গর্ভবতী কোনো রোগী এসব বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়া মানে ছুরির নিচে গলা দেয়া। 'মা ও সন্তানকে বাঁচাতে হলে এখনি ইমার্জেন্সি অপারেশন প্রয়োজন। দেরি হলে মা বা সন্তান বাঁচানো সম্ভব হবে না, যা করার তাড়াতাড়ি করেন' বলে ভয় দেখিয়ে অপারেশ করাতে বাধ্য করা হচ্ছে। এরপর পাঁচ থেকে সাতদিন কেবিনে রেখে লম্বা বিল ধরিয়ে দেয়ার বিস্তর অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। কোথাও আবার ডেলিভারির জন্যে প্যাকেজ সিস্টেম চালু রয়েছে। এসব কারণে কচুয়ার স্বাস্থ্যসেবা মুখ থুবড়ে পড়েছে।



উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের শাখিরুল ইসলাম ফয়সাল বলেন, গত ক'দিন পূর্বে আমার মা অসুস্থ হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েনিয়ে ডাক্তার দেখাই। ডাক্তার কিছু টেস্ট দিলে পৌরসভার নামকরা একটি হসপিটালে টেস্টগুলো করিয়ে রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে তিনি বলেন, আপনি কোথায় এ টেস্ট করালেন। কচুয়ায় তো এসব টেস্ট হয় না। এছাড়া এত দ্রুত রিপোর্ট পেলেন কীভাবে। পরে ওই হসপিটালের ল্যাব টেকনিশিয়ানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনিশিয়ান বলেন, আমি এখানে চাকরি করি, এর বেশি কিছু বলতে পারবো না। আপনি চাইলে আপনার টাকা ফেরত নিতে পারেন এবং তিনি রিসিপশন থেকে আমার টাকা ফেরত পেতে সাহায্য করেন।



কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সালাহউদ্দিন মাহমুদ এসব বিষয়ে বলেন, মানুষের বিবেক যতোদিন পর্যন্ত জাগ্রত না হচ্ছে ততোদিন পর্যন্ত মানুষ প্রকৃত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত থাকবেন। রোগীর পছন্দমতো জায়গায় টেস্ট করিয়ে নিয়ে গেলে ডাক্তার যদি ফিরিয়ে দেন, এমন অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার যদি নিয়মনীতি মেনে না চলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট তালিকা প্রেরণ করা হবে।



 


এই পাতার আরো খবর -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

 


 


৯০-সূরা বালাদ


২০ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৫। সে কি মনে করে যে, কখনও তাহার উপর কেহ ক্ষমতাবান হইবে না?


৬। সে বলে, 'আমি প্রচুর অর্থ নিঃশেষ করিয়াছি।'


৭। সে কি মনে করে যে, তাহাকে কেহ দেখে নাই?


 


 


 


 


 


assets/data_files/web

 


কারো প্রশ্নের জবাব দিতে হলে তা প্রথমে মনোযোগ দিয়ে শোনা। _এমি লাওয়েল।


 


বৃহস্পতিবার : ২১ জানুয়ারি ২০২১


ফজর : ০৫ : ২৬ মিঃ


সূর্যোদয় : ০৬ : ৪৩ মিঃ


ইশরাক : ০৭ : ০৬ মিঃ


যোহর : ১২ : ১২ মিঃ


আছর : ০৩ : ৫৬ মিঃ


মাগরিব : ০৫ : ৩৬ মিঃ


এশা : ০৬ : ৩৬ মিঃ


 


 


 


 


যে ব্যক্তি আল্লস্নাহ ও আখেরাতের উপর ঈমান রাখে তার ভালো ও পরিচ্ছন্ন কথা বলা উচিত অথবা নীরব থাকা বাঞ্ছনীয় । পরিচ্ছন্ন কথা হচ্ছে দান কাজের সমতুল্য।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৫,১২,৪৯৬ ৮,২৪,৩৫,৪৮২
সুস্থ ৪,৫৬,০৭০ ৫,৮৪,৪৩,৫১৫
মৃত্যু ৭,৫৩১ ১৭,৯৯,২৯৪
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৬৯৪০৫
পুরোন সংখ্যা