চাঁদপুর, বুধবার ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ৯ রবিউস সানি ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
চাঁদপুর-শরীয়তপুর নৌ-রূটে স্বপ্নের সেতু বা টানেল হবে
-----------পানি-সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম
মিজানুর রহমান
২৫ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর-শরীয়তপুরের মধ্যবর্তী মেঘনা নদীর দৈর্ঘ্য মাত্র ১০ কিলোমিটার। এই নৌ-রূটে



একটি সেতু বা সুড়ঙ্গপথ (টানেল) বদলে দিতে পারে দেশের অর্থনীতির চাকা। যা দেশের এক প্রান্তের সঙ্গে অন্যপ্রান্তের সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে আনতে পারে যুগান্তকারী পরিবর্তন। এতে সময় ও টাকা দুই-ই বাঁচার পাশাপাশি তিনটি সমুদ্রবন্দর এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৫ জেলার মধ্যে সড়কপথে পণ্য পরিবহনে সময় কমিয়ে দিবে। এমনই একটি সেতু বা টানেল নির্মাণের কথা ভাবছে সরকার। যে পথ দিয়ে রেল চলাচল করবে। আমি এবং শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি এমন স্বপ্ন দেখছি। গতকাল মঙ্গলবার চাঁদপুর শহর রক্ষাবাঁধের পুরাণবাজার হরিসভা এলাকায় মেঘনার ভাঙ্গনস্থান এবং শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়ক পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম।



তিনি তাঁর বক্তব্যের এক পর্যায়ে বলেন, আমার বড় বোন শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপির সাথে আমার কথা হয়েছে। চাঁদপুর-শরীয়তপুর যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য আমরা এমন একটি কাজ করে যেতে চাই, যার জন্য মানুষ আমাদেরকে মনে রাখবে।



উপমন্ত্রী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে। ফলে আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করছি। কর্ণফুলী নদীতে টানেল নির্মাণ করা হয়েছে। এবারে আমরা স্বপ্ন দেখছি মেঘনায় চাঁদপুর-শরিয়তপুর সেতু বা টানেল করব। যা দিয়ে রেলপথও হবে। এ বিষয়ে সমীক্ষার কাজ চলছে। আমরা দুই জেলার দুই সাংসদ মিলে এই স্বপ্নটি বাস্তবায়নে কাজ করব। আমরা আশা করছি এই সরকারের শেষদিকে হলেও মেঘনা সেতু অথবা টানেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে পারবো।



এনামুল হক শামীম বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছেন বলেই দেশে বড় বড় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় সরকারের এই মেয়াদেই শরীয়তপুর-চাঁদপুর তথা দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য মেঘনা নদীতে ট্যানেলের কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হবে।



এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুবুর রহমান পিপিএম বার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ জহির উদ্দিন আহমেদ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ নফিকুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ মনজুরুল হক ভূঁইয়া, রকিবুল হাসান, অহিদুর রহমান, এএসপি (সদর সার্কেল) সি্নগ্ধা সরকার, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহ-সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, সহ-সভাপতি তমাল কুমার ঘোষ, পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ আলী মাঝি, শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিনিধি অ্যাডঃ সাইফুদ্দিন বাবুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীবৃন্দ।



সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং সেতু মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মেঘনা নদীর এক প্রান্তে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার আলুবাজার ফেরিঘাট আর অন্য প্রান্তে চাঁদপুরের হরিণা ফেরিঘাট। দুই ফেরিঘাটের মধ্যে দূরত্ব নদী ও চর মিলিয়ে ১০ কিলোমিটার। এখানে সেতু নির্মাণের সমীক্ষার জন্য দরপত্রও আহ্বান করেছে সেতু বিভাগ। এ দুই ঘাটের দুই প্রান্তেই আঞ্চলিক মহাসড়ক রয়েছে। তার ওপর আবার পদ্মা নদীর শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের নাওডোবা থেকে শরীয়তপুর সদর পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণের ডিপিপি প্রস্তুত করেছে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর।



সূত্রটি থেকে আরো জানা যায়, দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে আওয়ামী লীগ সরকারের ১৯৯৬ থেকে ২০০১ মেয়াদকালে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে ২০০১ সালে জাপানি অর্থ সহায়ক সংস্থা (জাইকা) দেশে যে পাঁচটি দীর্ঘ সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা দেয়। তার মধ্যে শরীয়তপুরের আলুবাজার ফেরিঘাট থেকে চাঁদপুরের হরিণা ফেরিঘাট পর্যন্ত মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের প্রস্তাব ছিল। আরও যে চারটি সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়া হয়। তারই একটি পদ্মাসেতু যা মুন্সীগঞ্জের মাওয়া থেকে শরীয়তপুরের জাজিরা পর্যন্ত নির্মাণের কাজ এখন চলছে।



সড়ক খাতের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আলুবাজার থেকে হরিণা ফেরিঘাট পর্যন্ত নদী ও চর মিলিয়ে ১০ কিলোমিটার সেতু বা টানেল নির্মাণ করা হলে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের মধ্যে যোগাযোগ সহজ হয়ে যাবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরের পণ্য সড়কপথে পরিবহনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে যেহেতু এটি একটি বৃহৎ প্রকল্প এবং ব্যয় ও সময়সাপেক্ষ তাই এখন ওই ফেরিপথে ভারী ফেরি দিয়ে যান পারাপারের ব্যবস্থা করা হলে তা-ও ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। একই সঙ্গে দ্রুত ওই পথে সেতু বা টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে। যেটি ধীরে ধীরে বাস্তবায়নে কাজ শুরু করা যাবে। এজন্য এখনই সরকারের একটা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। সেতু বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আলুবাজার থেকে হরিণা ঘাট পর্যন্ত সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সেতু বিভাগ দরপত্র আহ্বান করে গত ডিসেম্বরে। এতে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের আগ্রহীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। সাধারণত ৪৫ দিন সময় দেয়া হয় আবেদন জমা দেয়ার জন্য।



সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আলুবাজার ফেরিঘাট থেকে হরিণাঘাট ফেরিঘাট পর্যন্ত সেতু বা টানেলের দৈর্ঘ্য ১০ কিলোমিটার হলেও এখানে মূল সেতুর দৈর্ঘ্য মাত্র ২ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার। বাকিটা চরএলাকা। এখানে নদীর গভীরতাও প্রায় ৬৫ মিটার।



সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আলুবাজার থেকে হরিণাঘাট পর্যন্ত সেতু বা টানেল নির্মাণ করা হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ২২ জেলা, সিলেটের চার জেলা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন হবে। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে চট্টগ্রাম বা সিলেটের সঙ্গে সড়কপথে যোগাযোগ করতে কাউকে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করতে হবে না। ফলে রাজধানীর ওপর যানবাহনের চাপ যেমন কমবে, তেমন মানুষের চাপও কমবে। একইভাবে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের যানবাহন বা লোকজন ঢাকা না গিয়েই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবেন। আর চট্টগ্রাম, পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরে পণ্য সড়কপথে পরিবহন করা সহজ হয়ে যাবে। বর্তমানে এ তিন সমুদ্রবন্দরের মধ্যে সড়কপথে যোগাযোগ করতে হলে অবশ্যই রাজধানীর ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। তবে যেহেতু এ মুহূর্তে সেতু বা টানেল স্থাপন করা যাচ্ছে না তাই আরও বেশিসংখ্যক ফেরি এ রূটে চালানো গেলে যানবাহনের চাপ রাজধানীর ওপর অনেকাংশে কমে আসবে।



সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের পর মাওয়া-জাজিরা রুটে চলাচলকারী বড় আকারের ফেরিগুলোকে শরীয়তপুরের আলুবাজার থেকে চাঁদপুরের হরিণাঘাট নৌরূটে চালানো যেতে পারে। এতে সময় যেমন বাঁচবে তেমন পণ্য পরবিহনে ব্যয়ও কমে আসবে।



এদিকে সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জাজিরার নাওডোবা থেকে শরীয়তপুরের আলুবাজার পর্যন্ত চার লেনের প্রায় ৫০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা জরুরি। এর মধ্যে নাওডোবা থেকে শরীয়তপুর সদর পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য ইতিমধ্যে একটি ডিপিপি প্রস্তুত করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। শরীয়তপুর থেকে আলুবাজার ফেরিঘাট পর্যন্ত বিদ্যমান অাঁকাবাঁকা ৩১ কিলোমিটার সড়ককে দুই লেনের আঞ্চলিক মহাসড়ক হিসেবে উন্নীত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এ সড়কের দরপত্র ইতিমধ্যে আহ্বানও করা হয়েছে।



সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ সড়ককে সোজা করে করলে দূরত্ব কমে আসবে ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে। এটিকে আঞ্চলিক সড়ক না করে চার লেনে উন্নীত করে জাতীয় মহাসড়ক করলে তা হবে বেশি কার্যকর। কারণ মেঘনার ওপারে চাঁদপুরের হরিণাঘাট থেকে হাজীগঞ্জ-কুমিল্লা পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক বিদ্যমান রয়েছে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী-চৌমুহনী-ফেনী হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যুক্ত হওয়া বিদ্যমান সড়কটিও আঞ্চলিক মহাসড়ক; যা আগামীতে চার লেনে উন্নীত হবে।



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৮২-সূরা ইন্ফিতার


১৯ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১। আকাশ যখন বিদীর্ণ হইবে,


২। যখন নক্ষত্রম-লী বিক্ষিপ্তভাবে ঝরিয়া পড়িবে,


৩। সমুদ্র যখন উদ্বেলিত হইবে,


৪। এবং যখন কবর উন্মোচিত হইবে,


 


সাহায্য করা ভালো কিন্তু সাহায্য যেন কাউকে অলস করে না তোলে।


-ডাবিস্নউ এস গিলবার্ট।


 


 


অভ্যাগত অতিথির যথাসাধ্য সম্মান করা প্রত্যেক মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য।


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৫,১২,৪৯৬ ৮,২৪,৩৫,৪৮২
সুস্থ ৪,৫৬,০৭০ ৫,৮৪,৪৩,৫১৫
মৃত্যু ৭,৫৩১ ১৭,৯৯,২৯৪
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
২০৯৬৮০
পুরোন সংখ্যা