চাঁদপুর, মঙ্গলবার ২৪ নভেম্বর ২০২০, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ৮ রবিউস সানি ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
জেলা প্রশাসককে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের স্মারকলিপি
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত লোরাম জাহাজটি চাঁদপুরে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের দাবি
মোঃ আবদুর রহমান গাজী
২৪ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মহান মুক্তিযুদ্ধের দুর্লভ নিদর্শন ও স্মৃতি বিজড়িত এমভি আকরাম (লোরাম) জাহাজটি নারায়ণগঞ্জ থেকে এনে চাঁদপুর শহরে ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করার দাবিতে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। তাঁরা এ জাহাজটিকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করে জনসাধারণের জন্যে উন্মুক্ত করে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে আসছে ১৬ ডিসেম্বরের পূর্বে তাঁদের এ দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।



গতকাল ২৩ নভেম্বর সোমবার সকালে জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খানের নিকট এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপি প্রদান করেন মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ শফিকুর রহমান এমপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মমিন উল্লাহ পাটওয়ারী বীর প্রতীক, শাহজাহান কবির বীর প্রতীক, মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবু তাহের রোস্তম পাটওয়ারীসহ আরো কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান।



চাঁদপুরের ৩৪ জন মুক্তিযোদ্ধার স্বাক্ষরিত এ স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে ১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করা হয়। এই দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধা নৌ কমান্ডো বাহিনী আগস্ট থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম, মংলা সমুদ্র বন্দর, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ নৌবন্দরসহ বাংলাদেশের সমগ্র জলপথে মাইনের সাহায্যে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর খাদ্যরসদ ও অস্ত্রশস্ত্র বহনকারী ১২৬টি জাহাজ গভীর পানিতে ডুবিয়ে দেয়। অকুতোভয় নৌ কমান্ডোরা সমগ্র নদীপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে হানাদার বাহিনীর জলপথে চলাচল বন্ধ করে দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৭১-এর ৩০ অক্টোবর গভীর রাতে চাঁদপুরের নৌ-কমান্ডোরা মাইনের সাহায্যে ডাকাতিয়া নদীর চাঁদপুর শহরস্থ লন্ডনঘাটে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর অস্ত্র ও খাদ্য বহনকারী জাহাজ এমভি আকরাম (লোরাম) পানিতে ডুবিয়ে দিয়ে চাঁদপুর নদীবন্দর অচল করে দেয়। এই দুঃসাহসিক হামলায় পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর চাঁদপুর নদীবন্দর দিয়ে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট, বৃহত্তর নোয়াখালী, বরিশাল ও ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন ক্যাম্পে রসদ ও অস্ত্র-শস্ত্র সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পাকিস্তান বাহিনীর অপতৎপরতা স্থবির হয়ে পড়ে। যুদ্ধকালীন সময়ে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী অনেক চেষ্টা করেও জাহাজটি ডাকাতি নদী হতে উত্তোলন করতে পারেনি। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার জাহাজ উদ্ধারকারী এমভি হামজা ও এমভি রুস্তমের সাহায্যে ডুবন্ত লোরাম জাহাজটি ডাকাতিয়া নদীর তলদেশ থেকে উদ্ধার করতে অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে যায়। পরে নদীর মাঝখান থেকে টেনে নদীর দক্ষিণ পাড়ে একটু সরিয়ে কোনোরকম ডাকাতিয়ার তীরবর্তী স্থানে রাখা হয়। পরবর্তীতে এটি নারায়ণগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়।



বিআইডবিস্নউটিএ সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মেসার্স মোক্তার হোসেন এন্ড রফিকুল ইসলাম নিলামের মাধ্যমে মনির হোসেন, সানোয়ার হোসেন, মফিজুল ইসলাম ও আব্দুল করিম একত্রে শিল্প ব্যাংক থেকে নিলামে ২০০৮ সালে চাঁদপুরের লন্ডন ঘাট থেকে এমভি আকরাম (লোরাম) নামের ডুবে থাকা কার্গো জাহাজটি ক্রয় করেন। এরপর ওই বছরের ১৪ নভেম্বর ডাকাতিয়া নদী থেকে জাহাজটি তুলে সোনাকান্দায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে শাহেন শাহ'র মালিকানাধীন ডকইয়ার্ডে এনে রাখা হয়। পরে নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদাররা এই জাহাজে অস্ত্র ও গোলাবারুদ বহন করতো। তাই মুক্তিযোদ্ধারা জাহাজটি ডুবিয়ে দেন। জাহাজটি ১৯৬৫ সালে হল্যান্ডের রটারডাম বন্দরে নির্মিত হয়। জাহাজটি ইউনাইটেড ট্রেডিং করপোরেশন ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ব্যাংক অব পাকিস্তানের মালিকানাধীন ছিল। স্বাধীনতার পর এটি তৎকালীন বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংকের অধীনে চলে যায়। পরে জাহাজটি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণের জন্যে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে দাবি উঠলে ২০০৯ সালের ১৭ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এটি সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর থেকে জাহাজটি ওই ডকইয়ার্ডে রক্ষিত রয়েছে।



 


এই পাতার আরো খবর -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৮১-সূরা তাকভীর


২৯ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


২৫। এবং ইহা অভিশপ্ত শয়তানের বাক্য নহে।


২৬। সুতরাং তোমরা কোথায় চলিয়াছ?


২৭। ইহা তো শুধু বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ,


২৮। তোমাদের মধ্যে যে সরল পথে চলিতে চাহে, তাহার জন্য।


২৯। তোমরা ইচ্ছা করিবে না, যদি জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ ইচ্ছা না করেন।


 


যে ব্যক্তি জীবনে শক্তির স্বাদ পায়নি তার জীবন বৃথা।


-সক্রেটিস।


 


 


যে শিক্ষা গ্রহণ করে তার মৃত্যু নেই।


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৫,১২,৪৯৬ ৮,২৪,৩৫,৪৮২
সুস্থ ৪,৫৬,০৭০ ৫,৮৪,৪৩,৫১৫
মৃত্যু ৭,৫৩১ ১৭,৯৯,২৯৪
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৫২২৩১
পুরোন সংখ্যা