চাঁদপুর, সোমবার ২৩ নভেম্বর ২০২০, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ৭ রবিউস সানি ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
চাঁদপুর জেলা যুবলীগের তিন মাস মেয়াদী আহ্বায়ক কমিটি চলছে ৭ বছর
দুধারায় সাংগঠনিক কার্যক্রম ১২টি সাংগঠনিক ইউনিট কমিটিও মেয়াদবিহীন
গোলাম মোস্তফা
২৩ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ। এ সংগঠনটিই একমাত্র সংগঠন যেটি প্রতিষ্ঠা থেকে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। সেই সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির অধীনস্থ চাঁদপুর জেলা ইউনিটের কার্যক্রম বলতে গেলে স্থবির অবস্থায় বিরাজ করছে।



একই নেতৃত্ব চলে বছরকে বছর। ফলে নেতৃত্বের জন্য সংগঠনটি অনেক সময় মুখ থুবড়ে পড়ে। এ অবস্থায় পতিত জেলা যুবলীগ। জেলা যুবলীগের বর্তমান সাংগঠনিক কার্যক্রম দুটি গ্রুপে বিভক্ত। একটি গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন বর্তমান আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোঃ মিজানুর রহমান কালু ভূঁইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক সালাউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর ও আবু পাটোয়ারী। অপর অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান টুটুল, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী মাঝিসহ যুবলীগের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ।



মূলত জেলা কমিটির সাংগঠনিক কর্মসূচিগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে চাঁদপুর সদর ও পৌর যুবলীগ পালন বা সফল করায় জেলা সদরের কর্মসূচি কিছুটা চোখে পড়ে। যদিও এ দুটি ইউনিটের কেন্দ্রীয় যুবলীগ ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ। কিন্তু এ দুটি ইউনিটের কমিটিতে সাবেক ছাত্রনেতাদের সমন্বয় করায় আগামীর নেতৃত্বের প্রত্যাশায় চাঙ্গাভাব রয়েছে ।



তিন মাসের এ আহ্বায়ক কমিটি পার করছে ৭ বছর। শুধু জেলা কমিটিই নয়, এ কমিটির অধীন ১২টি সাংগঠনিক ইউনিটের একটিরও মেয়াদ নেই। বাংলাদেশের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের সাথে যে যুবকটির নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তৎকালীন সেই যুবক শেখ ফজলুল হক মনির প্রচেষ্টায় গঠন করা হয় আওয়ামী যুবলীগ। তিনি সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা এবং তাকে এ সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা করা হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে।



আগামীর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশের যুব সমাজকে নৈতিক আদর্শে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে গড়তে সংগঠিত করে দেশের বৃহৎ এ যুব সংগঠনটি।



সেই যুব সংগঠন আওয়ামী যুবলীগ চাঁদপুরে এক সময় সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী সংগঠন ছিলো এবং এক সময়ে চাঁদপুরের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলো। অথচ শক্তিশালী ও ব্যাপক সাংগঠনিক কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকা এ সংগঠনটি দুর্বল নেতৃত্বের কারণে এবং একই ব্যক্তির বছরের পর বছর নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে নতুনরা হচ্ছে বিমুখ। ফলে গতিশীল সাংগঠনিক কার্যক্রমে সংগঠনটি প্রায় ঝিমিয়ে পড়েছে।



এক সময় চাঁদপুরে জেলা যুবলীগ এতোটাই শক্তিশালী ছিলো যে, মূল দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চাঁদপুর জেলা শাখাকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে তারা সেই চ্যালেঞ্জে বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করে। তাঁর উদাহরণ হলো, একবার চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তৎকালীন যুবলীগের সভাপতি মোঃ ইউছুফ গাজী দলের সিদ্ধান্তের বাইরে প্রার্থী হন। আর নেতা-কর্মী-সমর্থকরা তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত একাট্টা হয়ে ইউছুফ গাজীকে বিজয়ী করার রেকর্ডও অর্জন করেন। অথচ টানা ৩য় বারের মতো আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলেও চাঁদপুর জেলা যুবলীগের বর্তমান ঝিমিয়ে পড়াটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না যুবসমাজ। হতাশ যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। বিশেষ করে ছাত্রলীগ করার বয়সসীমা পার হয়ে যাওয়ার পর যুবক বয়সে তারা কী করবে সে সাংগঠনিক কাঠামো খুঁজে পাচ্ছে না।



জানা যায়, চাঁদপুর জেলা যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছে ২০০৩ সালে। এরপর প্রায় ১০ বছর পর ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি সম্মেলন করার লক্ষ্যে এবং সংগঠনকে গতিশীল করার জন্যে ৫৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ হারুনুর রশীদ। এই কমিটিতে আলহাজ মিজানুর রহমান কালু ভূঁইয়াকে আহ্বায়ক এবং সালাউদ্দিন বাবর, আবু পাটোয়ারী ও মাহফুজুর রহমান টুটুলকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বাকিদের সদস্য করা হয়।



নতুন এ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর এ কমিটি বিশেষ সভা করে। উক্ত সভায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে জেলা যুবলীগের নেতৃবৃন্দ সংগঠনের গতিশীলতার জন্য ২ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করার দাবি তুলে নাম প্রস্তাব করেন। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী তৎকালীন পৌর কাউন্সিলর, বর্তমান প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ আলী মাঝি ও ঝন্টু দাসের নাম কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়।



মৃত্যুজনিত এবং সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততা নেই এমন ৮ জন সদস্যকে সংগঠন থেকে বাদ দিয়ে শূন্য স্থানে নতুন সদস্যদের নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয় ৪ থেকে সাড়ে ৪ বছর পূর্বে। তাও শুধুমাত্র যুবলীগের দ্বিধা বিভক্তির কারণে পূরণ সম্ভব হয়নি।



মূলত যুবলীগের এ দ্বিধা বিভক্তি শুরু হয় গত জেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। এরপর জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোঃ মিজানুর রহমান কালু ভূঁইয়া দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এই দ্বিধা বিভক্তি স্পষ্ট হয়।



জেলা যুবলীগের অনুমোদিত কমিটি ৫৫ সদস্য বিশিষ্ট থেকে আরো ২ সদস্য বৃদ্ধিতে ৫৭ সদস্য বিশিষ্ট করা হয়। এ কমিটির মেয়াদ অনুমোদিত কমিটিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, ৩১ জানুয়ারি ২০১৩ থেকে পর্ববতী ৯০ দিনের অধীনস্থ সকল কমিটির সম্মেলন করতে হবে।



জেলা যুবলীগের সেই ৯০ দিনের মেয়াদী কমিটি ৭ বছর পার করেছে। আর কতদিন পার করবে, বা কবে নাগাদ জেলা সম্মেলন করে আহ্বায়ক থেকে পূর্ণাঙ্গ হবে বা সম্মেলন হবে তা স্বয়ং বলতে পারছে না সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অভিভাবকরা।



চাঁদপুর জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক ইউনিট কমিটি হচ্ছে ১২টি। এগুলো হচ্ছে : চাঁদপুর সদর উপজেলা, চাঁদপুর পৌরসভা, হাজীগঞ্জ উপজেলা ও পৌরসভা, শাহরাস্তি উপজেলা ও পৌরসভা, কচুয়া উপজেলা ও পৌরসভা, মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলা, হাইমচর উপজেলা এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলা কমিটি। এ সকল ইউনিট কমিটির মধ্যে মতলব উত্তর ও কচুয়া উপজেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি রয়েছে। তাও সম্মেলনবিহীন। এই ১২টি ইউনিটের একটিরও মেয়াদ নেই। শুধু তাই নয়, কবে নাগাদ জেলা আহ্বায়ক কমিটির আহ্বানে সর্বশেষ সাংগঠনিক সভা হয়েছে তাও জানা নেই এই কমিটির নেতাদের কাছে।



এক কথায় চাঁদপুর জেলা যুবলীগের কমিটিসহ তার অধীনস্থ সকল ইউনিট কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ এক ওষুধে পরিণত হয়ে পড়ে আছে। ফলে নতুন প্রজন্মের হাতে নতুন নেতৃত্ব না আসার হতাশায় নেতৃত্ব প্রত্যাশীরা।



বিদায়ী ছাত্রলীগ নেতারা ছাত্ররাজনীতি শেষে যুব সংগঠনের রাজনীতি করার কথা। সেই কারণে জেলার কয়েকটি ইউনিটের প্রভাবশালীদের কারণে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আগামীর নেতৃত্বের প্রত্যাশীরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নেয়ায় হতাশায়।



এদিকে জেলা যুবলীগের এ করুণ দশা এবং হতাশার মধ্যেও একটি আশার আলো হচ্ছে, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মাইনুল ইসলাম খান নিখিল এ জেলার কৃতী সন্তান এবং সম্প্রতি ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে এক ডজনেরও বেশি নেতা এ জেলার কৃতী সন্তান। সেই আলোকে এই জেলায় যুবলীগ তার অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং সাংগঠনিক শক্তিতে পুনরুজ্জীবিত হবে এমন প্রত্যাশা যুব সমাজের।



উপরে উল্লেখিত বিষয়ে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আলহাজ মোঃ মিজানুর রহমান কালু ভূঁইয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, যুবলীগ দীর্ঘদিন ধরে করে আসছি। সে সুবাদে এ সংগঠনটির তৃণমূল থেকে জেলার শীর্ষ পদে আসীন হয়েছি। তাই আমি বলবো, এ সংগঠনটি গতিশীল রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাংগঠনিক কার্যক্রম চলমান। তাছাড়া কেন্দ্রীয় ও জাতীয়সহ সকল কর্মসূচি পালন এবং বিগত দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ সকল ক্ষেত্রে যুবলীগ নেতৃবৃন্দ সক্রিয় ছিলো। তবে হ্যাঁ, রাজনৈতিক বিভিন্ন কারণে অনেকদিন যাবৎ কোনো সভা হয়নি। আর কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পেলে সম্মেলনের প্রস্তুতি নেবো।



এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা যুবলীগের অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোঃ মাহফুজুর রহমান টুটুল বলেন, যুবলীগ নিষ্ক্রিয় নয়, সাংগঠনিক নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম চলছে। এমনকি গত জাতীয় সংসদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌর নির্বাচনসহ সকল নির্বাচনে যুবলীগ ভ্যানগার্ডের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে কাজ করেছে।



তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, যুবলীগ দ্বিধাবিভক্ত নয়, যুবলীগ ঐক্যবদ্ধ। সংগঠনের চারভাগের তিন ভাগ একদিকে। আর ১ ভাগ নিয়ে মেয়াদ বিহীন স্বঘোষিত কেউ যদি বলে, যুবলীগ আমরা। তাহলে সেটা কী করে হয়?



তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ যুব সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ দুটি নেতৃত্বের একটি অর্থাৎ সাধারণ সম্পাদক পদে আমাদের চাঁদপুরের কৃতী সন্তান আলহাজ্ব মোঃ মাঈনুল ইসলাম নিখিল ভাই নির্বাচিত হয়েছেন। আমি আশা করছি, আমাদের এ প্রিয় নেতার দিক নির্দেশনায় অতীতের চেয়ে এ জেলায় যুবলীগ আরো শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত হবে।



চাঁদপুর জেলা যুবলীগের কমিটি সংক্রান্ত বিষয়ে কেন্দ্রীয় যুবলীগের এক শীর্ষ নেতার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে নাম-পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, সারা দেশে যুবলীগকে শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করছি। খুব অচিরেই ভালো ফল পাবেন।



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৮১-সূরা তাকভীর


২৯ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


২১। যাহাকে সেথায় মান্য করা হয়, যে বিশ্বাস ভাজন।


২২। আর তোমাদের সাথী উন্মাদ নহে,


২৩। সে তো তাহাকে স্পষ্ট দিগন্তে দেখিয়াছে,


২৪। সে অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে কৃপণ নহে।


 


ঘুম পরিশ্রমী মানুষকে সৌন্দর্য প্রদান করে।


-টমাস ডেককার।


 


 


ধর্মের পর জ্ঞানের প্রধান অংশ হচ্ছে মানবপ্রেম-আর পাপী পুণ্যবান নির্বিশেষে মানুষের মঙ্গল সাধন।


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৫,১২,৪৯৬ ৮,২৪,৩৫,৪৮২
সুস্থ ৪,৫৬,০৭০ ৫,৮৪,৪৩,৫১৫
মৃত্যু ৭,৫৩১ ১৭,৯৯,২৯৪
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
১১১০৩০৬
পুরোন সংখ্যা