চাঁদপুর, রোববার ৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৮ জিলহজ ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • মতলব উত্তরের আমিরাবাদ এলাকায় মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের মুল বেড়িবাঁধে মেঘনার আকস্মিক ভাঙ্গন শুরু
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭৬-সূরা দাহ্র বা ইন্সান


৩১ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৪। সনি্নহিত বৃক্ষচায়া তাদের উপর থাকিবে এবং উহার ফলমূল সম্পূর্ণরূপে তাহাদের আয়ত্তাধীন করা হইবে।


১৫। তাহাদিগকে পরিবেশন করা হইবে রৌপ্যপাত্রে এবং স্ফটিকের মত স্বচ্ছ পানপাত্রে-


 


 


assets/data_files/web

সৌভাগ্য ও প্রেম নির্ভীকের সঙ্গী।


-ফ্রাশ।


 


 


 


ক্ষমতায় মদমত্ত ও জালেমের জুলুমবাজির প্রতিবাদে সত্য কথা বলাও মতের প্রচারই সর্বোৎকৃষ্ট জেহাদ ।


 


 


ফটো গ্যালারি
শোকের আগস্ট শক্তির আগস্ট
পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
০৯ আগস্ট, ২০২০ ০৩:৪৮:২১
প্রিন্টঅ-অ+


ঘাতক ও আততায়ী আগস্টের কথা লিখতে গিয়ে শুরুতেই গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানাই সদ্য প্রয়াত চাঁদপুরের সাংবাদিকতার অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব জনাব ইকরাম চৌধুরীর প্রয়াণে। গতকাল ভোর সাড়ে চারটায় তিনি মানব জন্মের সকল বন্ধন ছিন্ন করে গত হয়েছেন। তাঁর সাথে আমার সুখস্মৃতিগুলো আজ বড় অমূল্য সম্পদ হয়েই রইল। তাঁর পারলৌকিক শান্তি লাভ হোক।

মুজিবের জীবনে এক কুখ্যাত আগস্ট এসেছিলো ঊনিশশো ছেচল্লিশ সালে। সেই বছরের ষোল আগস্ট তারিখে কোলকাতায় শুরু হয়ে গেল কুখ্যাত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। এই দাঙ্গাকে নাম দেয়া হয়েছিল ক্যালকাটা কিলিং। মুজিব এই ক্যালকাটা কিলিং-এর সময় জীবন-প্রাণ বাজি রেখে মানুষকে বাঁচানোর কাজে ব্রতী ছিলেন। এই দিনটাকেই বলা হতো দ্য উইক অব লং নাইভস্। এতে বাহাত্তর ঘন্টায় হিন্দু-মুসলিম মিলিয়ে প্রায় চার হাজার মানুষ উগ্র সাম্প্রদায়িকতার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করে। শেখ মুজিব তাঁর গুরুর নির্দেশে এই দাঙ্গায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। কিন্তু দাঙ্গা কোলকাতা হতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে নোয়াখালীতে। পরবর্তীতে এই কুখ্যাত ক্যালকাটা কিলিংই ভারত ভাগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সেই অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে মুজিবের জীবনে যোগ করে বিপুল অভিজ্ঞতা। মুজিব ক্রমশ হয়ে ওঠেন এক অসাম্প্রদায়িক চেতনার লালনকারী ভিন্ন মানুষ। বাম তাত্ত্বিক আবুল হাশিমের রাজনীতির ক্লাসে মুজিব অনিয়মিত ছাত্র ছিলেন। অন্য বন্ধুরা তাঁকে ক্লাসের কথা বললে তিনি তাদের তাৎক্ষণিক জবাব দিতেন, আগে পাকিস্তান আনি তারপর তত্ত্বের ক্লাস। তিনি রাজনীতির ফলিত দিকের ওপরই জোর দিতেন অধিক। কিন্তু যে আগ্রহ আর স্বপ্ন নিয়ে মুজিব পাকিস্তান আনতে সচেষ্ট ছিলেন, তাঁর সে স্বপ্ন সূচনাতেই মুখ থুবড়ে পড়ে। এর ফলস্বরূপ মুজিব হয়ে ওঠেন ধীরে ধীরে বাঙালি জাগরণের স্বপ্নদ্রষ্টা।

মুজিবকে সপরিবারে হত্যার পূর্বে তথাকথিত বিপথগামী উচ্চাভিলাষী সেনা কর্মকর্তারা ব্যাপক গণিত সম্পাদন করেছে। তারা চেয়েছিলো ছয় আগস্ট বঙ্গবন্ধুর বেতবুনিয়া সফরকালে তাঁর ওপর আঘাত হানতে। কিন্তু কী কারণে তা পেছানো হলো তা অজ্ঞাত। তবে একটি কারণ নিশ্চিত, তখন মুজিবের ওপর আঘাত আসলে ঢাকা থাকত তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। মুজিবের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের এ হামলার আওতায় আনা সম্ভব ছিলো না। ফলে সে অভিযানে তাদের মূল্য চুকাতে হত অনেক বেশি। ছয় আগস্ট হতে সরিয়ে এ আক্রমণের তারিখ সরে এলো পনর আগস্ট। তার মানে দাঁড়ালো এই, মুজিবের পরম মিত্র ভারতের প্রতি এক বিশেষ বার্তা প্রদান। এ-ও হতে পারে, সেদিন পনর আগস্টের আয়োজনে ব্যস্ত ছিল ভারতীয় দূতাবাস ও ভারত সরকার। রাষ্ট্রপতি ভবনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আহমেদের দরবারে ছিল সংবর্ধনা। ফলে ভারতের মনোযোগ কিছুটা শিথিল থাকতে পারে। আর এই সুযোগে পরম মিত্র মুজিবের জীবনের ওপর নেমে আসে সামরিক উর্দিধারী নীতিস্খলিত মেজরদের জাতিকে প্রবঞ্চিত ও কলঙ্কিত করার গোলযোগ। মুজিব নিজেও কিছুটা ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন। কেননা, পরদিন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে তাঁর যাওয়ার কথা, যে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ঊনিশশো উনপঞ্চাশ সালে কেড়ে নিয়েছিলো তাঁর ছাত্রত্ব কেবলমাত্র যৌক্তিক কারণে আন্দোলনরত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্যে। তার পাশাপাশি মুজিবকে ঘোষণা করা হতো আজীবন রাষ্ট্রপতি প্রস্তাবিত বাকশাল ব্যবস্থায়।

পনর আগস্টের রাতে শেষ শ্রাবণের ধারাতে প্রকৃতিও যেন সাক্ষী ছিল কতিপয় মেজরদের ষড়যন্ত্রে। কন্সপিরেসি থিওরির ঘটনাচক্রে পনর আগস্ট যেন সজ্জিত হয়েছিল একটা পারফেক্ট ঘাতক রাতে। নইলে এমন একটা রাত বাঙালির জীবনে আসা অকল্পনীয়। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির উর্বর ক্ষেত্র এই ডেল্টা বেসিনের অভিশপ্ত ময়দানে জনক মুজিব এক বিশাল আত্ম বলিদানের নাম, এক অপূরণীয় বিচ্ছেদের মহাকাব্য। মুজিবকে তাঁর এই পরিণতি অনেক আগেই নিয়তি হয়তো জানিয়ে দিয়েছিলো। আর একারণেই তাঁকে দিয়ে বলিয়ে নিয়েছিল আই লাভ মাই পিপল্-এই ছিল তাঁর শক্তির দিক আর আই লাভ দেম টু মাচ- এই ছিল তাঁর দুর্বলতা। এই দুর্বলতাই তাঁকে অসময়ে নিয়ে গেছে টুঙ্গিপাড়ায়, মাটির কাছে, মায়ের কাছে।


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৩,৩৯,৩৩২ ২,৯২,০১,৬৮৫
সুস্থ ২,৪৩,১৫৫ ২,১০,৩৫,৯২৬
মৃত্যু ৪,৭৫৯ ৯,২৮,৬৮৬
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৮৬১৯৪
পুরোন সংখ্যা