চাঁদপুর, বুধবার ৮ জুলাই ২০২০, ২৪ আষাঢ় ১৪২৭, ১৬ জিলকদ ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭১-সূরা নূহ্


২৮ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


২০। যাহাতে তোমরা চলাফেরা করিতে পার প্রশস্ত পথে।


২১। নূহ্ বলিয়াছিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার সম্প্রদায় তো আমাকে অমান্য করিয়াছে এবং অনুসরণ করিয়াছে এমন লোকের যাহার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তাহার ক্ষতি ব্যতীত আর কিছুই বৃদ্ধি করে নাই।


 


দুজন চাটুকার একসঙ্গে বেশি দূর ভ্রমণ করতে পারে না।


-জন ব্রো।


 


 


 


দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞানচর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।


 


 


করোনাকালে করণীয় নিয়ে ভাবনা-১৫
করোনাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি গর্বিত
--------------------ডাঃ মাহমুদুননবী মাসুম
সোহাঈদ খান জিয়া
০৮ জুলাই, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর আড়াইশ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক সার্জন, বিএমএ চাঁদপুর জেলা শাখার পর পর দুবার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ও করোনা চিকিৎসার সমন্বয়ক ডাঃ মাহমুদুন নবী মাসুম বলেছেন, করোনাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি গর্বিত এবং খুশি।



দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের পক্ষ থেকে 'করোনাকালে করণীয় নিয়ে ভাবনা' নামক সিরিজে ডাঃ মাহমুদুননবী মাসুমের মুখোমুখি হলে তিনি ক'টি প্রশ্নের উত্তর দেন। যা নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হলো :



চাঁদপুর কণ্ঠ : করোনাযুদ্ধে ডাক্তাররা সম্মুখযোদ্ধা। আপনি কি একজন ডাক্তার হিসেবে নির্ভয়ে আপনার দায়িত্ব পালন করছেন?



ডাঃ মাহমুদুননবী মাসুম : ৮ মার্চ ২০২০ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালকে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল ঘোষণা করা হয়। আমাকে কোভিড বিষয়ক চিকিৎসা সংক্রান্ত উক্ত হাসপাতালের সমন্বয়ক করা হয়। সেই থেকে শুরু। আমরা হাসপাতালের সংক্রামক ব্যাধি ভবনটিকে করোনা আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে গড়ে তুলি। এই সেন্টারে ২৪টি বেড ছিলো। যেহেতু করোনা চিকিৎসার মূল উপকরণ অঙ্েিজন, তাই আমরা অক্সিজনের মজুত বাড়ানো শুরু করি এবং সিলিন্ডারের সংখ্যা প্রায় তিনগুণ করি এবং একই সাথে আমাদের চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ওয়ার্ড বয়, ক্লিনার সবাইকে প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করি। প্রাথমিকভাবে আমাদের চিকিৎসক সংখ্যা কম ছিলো এবং একই সাথে নন কোভিড সাধারণ রোগীদেরও সেবা দিতে হচ্ছিলো। তাই আমরা চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদেরকে আমাদের টিমে যুক্ত করি।



আপনারা জেনে খুশি হবেন, বাংলাদেশের অনেক স্বনামধন্য এবং বড় হাসপাতালের আগে আমরা FLU-Corner এবং ট্রায়াজ সিস্টেম চালু করি। এটার মাধ্যমে আমরা প্রথম থেকেই ভর্তির সময় করোনা উপসর্গধারী রোগীদেরকে অন্য রোগী হতে আলাদা করতে পারি এবং ননকরোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা একেবারে স্বাভাবিক সময়ের মতো দিতে পেরেছি। সেটা আমাদের হাসপাতালের একটা বড় সাফল্য। ২৮ মার্চ চাঁদপুরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় এবং আমরা রোগীকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করি। সেই থেকে চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয় এবং ক্লিনার সমন্বয়ে ৫টি টিম পর্যায়ক্রমে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে। ৭ দিন সেবা দেবার পর একটা টিমের স্বাস্থ্যকর্মীরা ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকেন এবং ৭দিন পরিবারের সাথে থাকার সুযোগ লাভ করেন। আমরা স্বাস্থ্যকর্মীদের কোয়ারেন্টাইনের সুবিধার জন্য গ্র্যান্ড হিলসা হোটেলের সাথে চুক্তিবদ্ধ হই এবং হোটেল কর্মীরা আমাদেরকে এখন পর্যন্ত সেবা দিয়ে যাচ্ছে। করোনা রোগী বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে আমরা করোনা ওয়ার্ডটি আমাদের মূল ভবনের দোতলায় স্থানান্তর করি।



একটি বৈশি্বক মহামারী মোকাবেলায় প্রথমদিকে কিছুটা সীমাবদ্ধতা থাকলেও আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আমরা অনেক সংগঠিত। আপনারা জেনে খুশি হবেন, করোনা রোগীদের খাবার, পানি, ঔষধসহ কোনো কিছু বাইরে থেকে কিনতে হয় না, এটার সংস্থান আমরা করতে পেরেছি। সমন্বয়ক হিসেবে করোনাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি গর্বিত এবং অনেক খুশি।



চাঁদপুর কণ্ঠ : করোনা ঝুঁকি মোকাবেলায় চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনাকে কি আপনি পর্যাপ্ত মনে করছেন?



ডাঃ মাহমুদুননবী মাসুম : করোনার মূল উপসর্গ যেহেতু শ্বাসকষ্ট, তাই এর মূল চিকিৎসা অঙ্েিজন। আমাদের অঙ্েিজন সঙ্কট ছিলো। কারণ একজন রোগীর প্রতিদিন ৪/৫টি সিলিন্ডার লাগে। যেটা রোগী বৃদ্ধির কারণে আমরা যোগান দিতে পারছিলাম না। এই সমস্যার সমাধানকল্পে আমাদের মাননীয় সাংসদ এবং শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি তাঁর নিজ উদ্যোগে আমাদের হাসপাতালে একটি অঙ্েিজন প্লান্ট স্থাপন করে দিচ্ছেন এবং এর কার্যক্রম গত ৬ জুলাই হতে শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে অনেক করোনা রোগীর প্রাণ আমরা আল্লাহর রহমতে বাঁচাতে পারব। বেশি খারাপ রোগীদের বাঁচানোর জন্যে হাইফ্লো অঙ্েিজনের প্রয়োজন হয় এবং তা দেয়ার জন্য মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও তাঁর বড় ভাই ডাঃ জে.আর ওয়াদুদ টিপু আমাদের ৫টি হাইফ্লো নজেল ক্যানুলা একেবারে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমি তাদের কাছে সকল স্বাস্থ্যকর্মীর পক্ষ হতে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।



আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি সকল স্বাস্থ্যকর্মীর কাছে, যারা করোনা ওয়ার্ডে নির্ভীকভাবে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের প্রতিও রইলো কৃতজ্ঞতা, যারা স্যাম্পল সংগ্রহ করে রোগ নির্ণয়ে সাহসী ভূমিকা রাখছেন। আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি মাননীয় সিভিল সার্জন, হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ একেএম মাহবুবুর রহমান, ফোকালপার্সন ডাঃ সুজাউদ্দৌলা রুবেল এবং ডাঃ শেখ মিজানুর রহমানের প্রতি, যারা সার্বক্ষণিক অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। এছাড়াও পুলিশ বাহিনী এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি যাঁরা মানুষকে ঘরে রাখতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি সংবাদকর্মীদের প্রতি, যারা জনসচেতনতা সৃষ্টি, চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ভুল ধরিয়ে দেয়ার পাশাপাশি পজিটিভ সংবাদ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যকর্মীদেরকে উজ্জীবিত করছেন এবং গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে অস্থিরতা তৈরি করার পাঁয়তারা রুখে দিচ্ছেন।



চাঁদপুর কণ্ঠ : করোনা প্রতিরোধে কী করা দরকার?



ডাঃ মাহমুদুন নবী মাসুম : করোনা মোটেই সাধারণ রোগ নয়। এটি একটি প্রাণঘাতী মহামারী। এ রোগ হলে মানুষ আপনাকে এড়িয়ে চলে, মৃত্যু হলে আত্মীয়-স্বজনরা কাছে যায় না, জানাজায় অংশগ্রহণ করে না, সেই মৃত্যু আপনার কাম্য হতে পারে না। তাই আপনাদের কাছে বিনীত আহ্বান-ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন। বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন।



বার বার সাবান পানি দিয়ে হাত ধৌত করুন।



জ্বর, ঠা-া, কাশি, শরীর ব্যথা হলে আলাদা থাকুন, করোনা পরীক্ষা করান।



করোনা শনাক্ত হলে বাড়িতে আলাদা থাকুন এবং সাধারণ জ্বর, কাশির চিকিৎসা নিন।



শ্বাসকষ্ট হলে সাথে সাথে হাসপাতালে ভর্তি হোন।



 



 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ২,২৩,৪৫৩ ১,৬২,২০,৯০০
সুস্থ ১,২৩,৮৮২ ৯৯,২৩,৬৪৩
মৃত্যু ২,৯২৮ ৬,৪৮,৭৫৪
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৯০৫৩১৪
পুরোন সংখ্যা