চাঁদপুর, মঙ্গলবার ৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭, ১৫ জিলকদ ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
নতুন করারোপ ছাড়াই হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৬০ কোটি টাকার বাজেট পেশ
পৌরসভার কর্মকাণ্ডে সৃষ্টিশীল ধারা প্রবর্তনের চেষ্টা করে চলেছি : মেয়র আ.স.ম. মাহবুব উল আলম লিপন
কামরুজ্জামান টুটুল
০৭ জুলাই, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


নতুন কোনো ধরনের কর আরোপ ছাড়াই হাজীগঞ্জ পৌরসভার ২০২০-২১ অর্থ বছরের বাজেট পেশ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার ৬০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন হাজীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আ.স.ম. মাহবুব উল আলম লিপন। এবারের বাজেটে মোট আয় ধরা হয়েছে ৬০ কোটি ৪ হাজার ৭শ' ৫০ টাকা। মোট ব্যয় ৫৬ কোটি ৮৯ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। মোট উদ্বৃত্ত থাকবে ৩ কোটি ১০ লাখ ৭৪ হাজার ৭শ' ৫০ টাকা। বাজেটে নিজস্ব খাতে সর্বমোট আয় ধরা হয়েছে ২৩ কোটি ২ লাখ ৩১ হাজার ২শ' ৫০ টাকা। মোট ব্যয় ২১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। উদ্বৃত্ত থাকবে ১ কোটি ৮ লাখ ৩১ হাজার ২শ' ৫০ টাকা। উন্নয়ন খাতে সর্বমোট আয় ধরা হয়েছে ৩৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭৩ হাজার ৫শ' টাকা। উন্নয়ন খাতে সর্বমোট ব্যয় ৩৪ কোটি ৯৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা। উদ্বৃত্ত থাকবে ২ কোটি ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫শ' টাকা। এটিই এই পরিষদের কার্যকালের ৫ম ও শেষ বাজেট।



বাজেট ঘোষণাপূর্বক বক্তব্য প্রদানকালে মেয়র আ.স.ম মাহবুব উল আলম লিপন বলেন, আমরা এমন একটা সময় বাজেট পেশ করছি, যে সময় আমাদের দেশসহ পুরো পৃথিবীতে করোনা মহামারি চলছে। জেলাসহ হাজীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর এলাকায় মহামারি করোনা আক্রান্ত হয়ে আজ পর্যন্ত যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের রুহের মাগফেরাত ও আত্মার শান্তি কামনা করছি, সেই সাথে তাদের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।



্ল্ল্ল্ল্লমেয়র লিপনের বাজেট বক্তব্যের সারসংক্ষেপ : রাষ্ট্রীয় নিয়মানুযায়ী অর্থবছর শেষ হওয়ার পূর্বে এবং নতুন অর্থবছর শুরুর পূর্বে বাজেট প্রণয়ন ও ঘোষণা করতে হয়। এই ধারাবাহিকতায় আপনারা অবগত আছেন যে, ইতোমধ্যেই আমাদের জাতীয় বাজেট সম্পন্ন হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির মাঝেও আষাঢ়ের বর্ষণমুখর এই দিনে হাজীগঞ্জ পৌরসভার আজকের বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ, সুধীম-লী, পৌর পরিষদের সম্মানিত কাউন্সিলরগণ, আমার প্রিয় কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ও আপনাদের সবাইকে জানাই হাজীগঞ্জ পৌরসভা ও আমার ব্যক্তিগত পক্ষ হতে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।



মেয়র লিপন বলেন, হাজীগঞ্জ পৌরসভা চাঁদপুর জেলার অন্যতম প্রাচীন একটি প্রতিষ্ঠান, যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৫ সালে, আজ থেকে প্রায় ৩৫ বছর পূর্বে। আজ সারাদেশের ৩২৮টি পৌরসভার মধ্যে আমাদের এই হাজীগঞ্জ পৌরসভা প্রথম সারির একটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা। এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় পৌরসভাকে সমৃদ্ধ করতে অনেক গুণীজনের শ্রম ও মেধা রয়েছে। আজকের এইক্ষণে আমি আমার পূর্বসূরি সেই সকল গুণীজণের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।



আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, ২০১৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আমি ও আমার পরিষদ দায়িত্বভার গ্রহণের পর সম্মানিত পৌরবাসী ও আপনাদের সহযোগিতায় হাজীগঞ্জ পৌরসভার কর্মকা-ে নতুন সৃষ্টিশীল ও ইতিবাচক ধারা প্রবর্তনের চেষ্টা করে চলেছি। এজন্যে আমি হাজীগঞ্জ পৌরবাসী ও আপনাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং মহান আল্লাহর নিকট শোকরিয়া আদায় করছি।



সম্মানীয় উপস্থিতি ! আমি এবং আমার পরিষদ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী। তাই বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এবারও শহরের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে প্রাক-বাজেট মতবিনিময় ও পরামর্শ করেছি। গণমুখী, জনকল্যাণকর ও বাস্তবসম্মত বাজেট পেশের লক্ষ্যে আমরা গত ২৫ জুন টাউন লেভেল কো-অর্ডিনেশন কমিটি (টিএলসিসি)-এর সদস্যবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করি এবং সকলের মতামতের ভিত্তিতে খসড়া বাজেট প্রস্তুত করেছি। সেমতে চূড়ান্ত বাজেট আজ পেশ করা হচ্ছে।



প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ ও সুধীজন ! শুরু থেকেই আমার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃত অর্থে জনগণকে সেবা দেয়া। সে লক্ষ্যে আমি পৌর পরিষদের সদস্য ও পৌরবাসীর মতামতের প্রেক্ষিতে পৌরসভার কার্যক্রমকে ঢেলে সাজিয়েছি। মেয়র হিসেবে শুধু চেয়ারে বসে থাকিনি, আপনাদের তথা পৌরবাসীর সেবক হিসেবে সেবা করার চেষ্টা করেছি। নানা সীমাবদ্ধতা ও বিভিন্ন সমস্যা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন, পৌরবাসী এবং আপনাদের সহযোগিতায় পৌর এলাকার উন্নয়ন অব্যাহত আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে ইনশাআল্লাহ।



প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুরা, নানাবিধ সমস্যা রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা ও জলাবদ্ধতা। সবদিক বিবেচনা করে নতুন বাজেটে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার, স্বাস্থ্য ও পয়ঃপ্রণালী (বর্জ্য ব্যবস্থাপনা) এবং প্রচার (উদ্বুদ্ধকরণ) খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমান সমাজের অন্যতম সামাজিক সমস্যা মাদকের প্রসার রোধকল্পে যুবসমাজকে শিক্ষা ও সংস্কৃতিমনা করতে এ বাজেটে শিক্ষা ও সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। খেলাধুলা ও ক্রীড়াখাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকার কর্তৃক ঘোষিত কোরবানির পশু জবাই ও ব্যবস্থাপনা খাতেও বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সামপ্রতিক করোনা ইস্যু ও যেকোনো আকস্মিক পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্যও এ বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মশক নিধন ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।



আমার পরিষদের ব্যতিক্রমী কর্মসূচিসমূহের মধ্যে রয়েছে : জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান ; অসহায়, দুঃস্থ এবং অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি প্রদান ; কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান ; ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে মশক নিধনে সকল ওয়ার্ড পর্যায়ে ক্রাশ প্রোগ্রাম কার্যক্রম বাস্তবায়ন ; বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে ঢেলে সাজানো ইত্যাদি।



এসব খাত ছাড়াও হাজীগঞ্জ পৌরসভার ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে আরো যে সমস্ত বিষয় গুরুত্ব সহকারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সে খাতগুলো হলো : শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও জনগণের উপকারার্থে নানাবিধ উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ; নতুন সড়ক বাতি লাইন স্থাপন ও সমপ্রসারণ ; মসজিদ ও মন্দির উন্নয়ন; বেকার যুবক-যুবতীদের দক্ষ করতে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও আইসিটি বিষয়ক প্রশিক্ষণে সহায়তা; পানির লাইন সমপ্রসারণ; বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগি্নকা- ইত্যাদি ক্ষেত্রে আপদকালীন সাহায্য প্রদান; করোনা কিংবা এ জাতীয় মহামারি ও আকস্মিক যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য বরাদ্দ ইত্যাদি।



প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ ও সুধীজন, আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি সদ্য বিগত (১৯-২০) অর্থ বছরে আমাদের উল্লেখযোগ্য ভৌত আবকাঠামোগত উন্নয়ন সমূহ : উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আওতায় ১৩টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে ৮৫.০০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে। গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৪ কোটি টাকার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১৬ টি রাস্তা ও ৫ টি ড্রেন বাস্তবায়ন প্রায় শেষের পথে, যার ব্যয় প্রায় ৪ কোটি ২২ লক্ষ টাকা। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৮ টি রাস্তা ও ৩ টি ড্রেনেজ প্রকল্পের দরপত্র আহবান করা হয়েছে, যার ব্যয় প্রায় ৭ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা । জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় ০৩ টি ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে, যার ব্যয় ২ কোটি টাকা । রাজস্ব তহবিলের আওতায় ছোট-বড় মোট ০৭ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে ২১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় প্রায় ৩৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সুপেয় পানির সংস্থান নিশ্চিত করতে একটি পাম্প হাউজ মেরামত ও পানির পাইপ লাইন স্থাপন কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।



সম্মানীয় বন্ধুগণ! করোনাকালীন এই সংকটময় মুহূর্তে আপনাদেরকে কষ্ট দিয়েছি, এখানে উপস্থিত করেছি। সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে সামাজিক/নিরাপদ দূরত্ব রেখে আসন বিন্যাস করেছি। আপনাদের অবগতির জন্য বলছি, এই করোনা মহামারিতে সাধারণ ছুটি চলমান অবস্থায় জেলা ত্রাণ দপ্তর হতে কর্মহীনদের মাঝে বিতরণের জন্য সরকারি খাদ্যশস্য (চাউল) বরাদ্দ পেয়েছি ১৮ ধাপে মোট ৮৪ মে. টন ও নগদ অর্থ পেয়েছি তিন লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার টাকা, যা ইতিমধ্যেই ওয়ার্ড কাউন্সিলরগণের মাধ্যমে কর্মহীন দুঃস্থ, অসহায়, হতদরিদ্র ও মধ্যবিত্তদের তালিকা তৈরি করে বিতরণ সম্পন্ন করা হয়েছে।



হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি আসনের মাননীয় সাংসদ মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম মহোদয়ের ব্যক্তিগত তহবিল হতে ২ ধাপে হাজীগঞ্জের কর্মহীন, দুঃস্থ, অসহায়, হতদরিদ্র ও মধ্যবিত্ত ৬০০ (ছয়শ') পরিবারের মাঝে ত্রাণ/উপহার বিতরণ করা হয়েছে।



অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পৌরসভার সচিব নূর আজম শরীফ। এ সময় বক্তব্য রাখেন পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ রায়হানুর রহমান জনি, বিশেষ অতিথি হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আশফাকুল আলম চৌধুরী, পৌরসভার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সফিকুর রহমান প্রমুখ। বাজেট পেশ অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পদক হায়দার পারভেজ সুজন, হাজীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক রাধা কান্ত রাজু, পৌর কাউন্সিলর শুকু মিয়াজী, হাবিবুর রহমান, আলাউদ্দিন মুন্সী, জাহিদুর আলম আজহার, লিটন সাহা, আবু বকর সিদ্দিক, এমরান হোসেন, মিরন কাজী, খোরশেদ আলম ভূট্টো, ইসলাম হোসেন বেপারী, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর কাজলী রাণী সরকার, শাহিদা বেগম, সওদা বেগম ও রেজিয়া বেগম। এ সময় পৌর পরিষদের সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণসহ হাজীগঞ্জে কর্মরত গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ ও সুশীল সমাজের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চেয়ার বসানোসহ আগত সকলের মাঝে পৌরসভার পক্ষ থেকে মাস্ক দেয়া হয়।



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭১-সূরা নূহ্


২৮ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


১৭। তিনি তোমাদিগকে উদ্ভূত করিয়াছেন মৃত্তিকা হইতে।


১৮। অতঃপর উহাতে তিনি তোমাদিগকে প্রত্যাবৃত্ত করিবেন ও পরে পুনরুত্থিত করিবেন,


১৯। এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য ভূমিকে করিয়াছেন বিস্তৃত


 


যুগ যতই নূতন হোক পুরাতনের অভিজ্ঞতা ছাড়া তা অচল।-ডেফে।


 


 


যিনি বিশ্বমানবের কল্যাণ সাধন করেন, তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ।


 


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৪,৩৬,৬৮৪ ৫,৫৪,২৮,৫৯৬
সুস্থ ৩,৫২,৮৯৫ ৩,৮৫,৭৮,৭০৩
মৃত্যু ৬,২৫৪ ১৩,৩৩,৭৭৮
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৬৬৪৩১
পুরোন সংখ্যা