চাঁদপুর, শনিবার ৬ জুন ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১৩ শাওয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৯-সূরা হাক্কা :


৫২ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


৩৪। এবং অভাবগ্রস্তকে অন্নদানে উৎসাহিত করিত না,


৩৫। অতএব এইদিন সেথায় তাহার কোন সুহৃদ থাকিবে না,


৩৬। এবং কোন খাদ্য থাকিবে না ক্ষত নিঃসৃত স্রাব ব্যতীত,


 


 


 


অতিরিক্ত চাহিদাই মানুষের পতনকে ডেকে আনে।


-জন অলকৃট।


 


 


 


মানবতাই মানুষের শ্রেষ্ঠতম গুণ।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
পুরাণবাজারে নড়বড়ে শহর রক্ষা বাঁধ ভাঙ্গনের আশঙ্কা
মিজানুর রহমান
০৬ জুন, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার এলাকায় মূল বাজার অংশে মেঘনার ভাঙ্গন আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। আম্ফানের সময় নদী উত্তাল রূপ ধারণ করে বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে। ব্যবসায়ীদের পণ্য ওঠানামার স্থান দেওয়ানঘাট, মদিনা মসজিদ ট্রলারঘাট, পুরাতন মন্দিরস্থান, তালুকদার বাড়ি, দুধহাটা, শ্রীশ্রী রামঠাকুর দোল মন্দির ও যুগিপট্টি প্রাঙ্গণে শহর রক্ষা বাঁধের উল্লেখযোগ্য অংশ নিচে দেবে গেছে। ওইসব এলাকার বাঁধ এখন নড়বড়ে। মেঘনার তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ের কারণে নদী ভাঙ্গনে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। শুধু তাই নয়, সেই সাথে নদীতে তলিয়ে যেতে পারে বিভিন্ন মিল-ফ্যাক্টরি, বাজার, মসজিদ, মন্দিরসহ মানুষের অসংখ্য বাড়িঘর। স্থানীয়দের দাবি, ভর বর্ষা শুরুর আগেই পুরাণবাজার বাজার এলাকার শহর রক্ষাবাঁধ মেঘনার ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে। হরিসভা মন্দির এলাকা ইতিমধ্যে কয়েক দফা ভাঙ্গনের শিকার। সেখানের ক্ষতচিহ্ন এখনো রয়ে গেছে। প্রায় ৪শ' মিটার এলাকা নদীর ঢেউয়ের আঘাতে হুমকির মুখে রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সরজমিনে গেলে পুরাণবাজার এলাকার স্থানীয়রা জানান, হরিসভার দিকটায় বালু বোঝাই জিওব্যাগ নদীতে সামান্য পরিমাণে ফেলা হচ্ছে। তবে বাজার এলাকা রক্ষায় নতুন করে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তেমন নজরদারিও নেই। এতে যে কোনো সময় আবারো নদীতে তলিয়ে যেতে পারে প্রচীন শহরের প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী এলাকা। গৃহহীন হতে পারে স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষ। তাই দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নজর প্রয়োজন।



এ ব্যাপারে শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর দোল মন্দির কমিটির সভাপতি পরেশ মালাকার জানান, শত বছরের পুরানো ঐতিহ্যবাহী রাম ঠাকুর মন্দিরটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই সাথে পুরাণবাজার বাতাসাপট্টি এলাকার মিল, কারখানা, বড় মসজিদসহ কয়েকহাজার মানুষ নদী ভাঙ্গনের দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত। তাই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি আপাসহ সংশ্লিষ্টদের সুনজর প্রত্যাশা করছি।



দেওয়ান ব্রাদার্সের কেয়ারটেকার মোঃ নুরু মিয়া জানান, ঘূর্ণিঝড়ের সময় যে ঢেউ আঘাত করেছে, তাতে বাজার এলাকার অনেক স্থান দিয়ে বাঁধের সিসি বস্নক সরে গিয়ে বাঁধে ফাটল দেখে দিয়েছে।



এ ব্যাপারে জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও চাঁদপুর চেম্বারের সিনিয়র পরিচালক সালাউদ্দিন মোঃ বাবর জানান, হরিসভা এলাকায় ধীর গতিতে কিছু বালু বোঝাই জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। তবে শহর রক্ষা বাঁধে নেই কোনো জোরালো পদক্ষেপ।



এদিকে রাম ঠাকুর দোল মন্দির এলাকার নদীর তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে বস্নক দেবে গেছে। লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। বড় কোনো দুর্ঘটনা হলে এসব এলাকার মানুষজন কোথায় যাবে, কীভাবে থাকবে। তাই এখনি এ ব্যাপারে সুন্দর পদক্ষেপ নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি আপার সুনজর কামনা করছি।



পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, পুরাণবাজারের হরিসভা ও বাজার এলাকার প্রায় ৩শ' ৯৫ মিটার জায়গাকে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করা হয়েছে। তাই সাময়িক মেরামতের অংশ হিসেবে ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকার বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। যার মধ্যে আড়াইশ' কেজি ওজনের প্রায় ৯৪ হাজার বালুভর্তি জিওব্যাগ চিহ্নিত স্থানে ফেলার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৫৩ হাজার বালুভর্তি জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হয়ে গেছে। আর এ মেরামত কাজ চলতি বছরের মার্চের ১ম থেকে কাজ শুরু হলেও শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ৩০ জুন।



এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুর পওর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ বাবুল আখতার জানান, গুণে গুণে বস্তা ফেলা হচ্ছে। সব হিসাব আমাদের কাছে রয়েছে। তাই অনিয়মের সুযোগ নেই। আর করোনা পরিস্থিতির জন্যে লেবার সংকটের জন্যে চলমান কাজে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। আমরা পুরাণবাজারের ব্যবসায়িক এলাকার বাঁধ পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবো।


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
১২০৯৬১
পুরোন সংখ্যা