চাঁদপুর, শনিবার ৬ জুন ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১৩ শাওয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৯-সূরা হাক্কা :


৫২ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


৩৪। এবং অভাবগ্রস্তকে অন্নদানে উৎসাহিত করিত না,


৩৫। অতএব এইদিন সেথায় তাহার কোন সুহৃদ থাকিবে না,


৩৬। এবং কোন খাদ্য থাকিবে না ক্ষত নিঃসৃত স্রাব ব্যতীত,


 


 


 


অতিরিক্ত চাহিদাই মানুষের পতনকে ডেকে আনে।


-জন অলকৃট।


 


 


 


মানবতাই মানুষের শ্রেষ্ঠতম গুণ।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
চাঁদপুরে করোনাভাইরাসের ৬৫ দিন
আইসোলেশন ইউনিটে মারা যাওয়াদের মধ্যে দু জন ছিলো করোনায় আক্রান্ত পজিটিভ ৩৯ জনের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৩৩ জন
এএইচএম আহসান উল্লাহ
০৬ জুন, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত অথবা এর উপসর্গ নিয়ে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে এ পর্যন্ত (গতকাল শুক্রবার) ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে মাত্র দুইজন ছিলো করোনায় আক্রান্ত। অন্যদের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। এছাড়া এই ইউনিটে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ৩৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এর মধ্যে করোনায় আক্রান্ত এবং উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীও রয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন ৯ জন। এদিকে গত ৬৫ দিন যাবৎ এ হাসপাতালের যে পৃথক ভবনটি আইসোলেশন ইউনিট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিলো, সেটি সে ভবন থেকে স্থানান্তরিত হয়ে হাসপাতালের মূল ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে আসা হয়েছে। দ্বিতীয় তলার পুরুষ ওয়ার্ডের পুরো অংশটি বৃহস্পতিবার রাত থেকে আইসোলেশন ওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার সুবিধার্থে এবং চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত ডাক্তার, নার্সসহ অন্যদের থাকার সুবিধার্থে আইসোলেশন ইউনিটটি স্থানান্তরিত করা হয়। এসব তথ্য জানালেন হাসপাতালের আরএমও ও করোনাভাইরাস বিষয়ক ফোকালপার্সন ডাঃ এএইচএম সুজাউদ্দৌলা রুবেল।



চাঁদপুরে করোনা ভাইরাসের প্রায় আড়াই মাসের মাথায় জেলার সর্বোচ্চ চিকিৎসা কেন্দ্র আড়াইশ' শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডাঃ এএইচএম সুজাউদ্দৌলা রুবেলের সাথে এ হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে গতকাল এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি হাসপাতালের করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত চিকিৎসার সার্বিক চিত্র তুলে ধরলেন। তিনি জানান, চাঁদপুরসহ সারাদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার সাথে সাথেই চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের সংক্রামক ব্যাধি নামে যে পৃথক ইউনিটটি ছিলো সেটি আইসোলেশন ইউনিটের জন্যে প্রস্তুত করা হয়। ২৭ মার্চ এই ইউনিটে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে প্রথম রোগী ভর্তি হয়। গতকাল ৫ জুন পর্যন্ত এখানে মোট ১শ' ১ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়েও রয়েছে আবার সরাসরি এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীও রয়েছে। তিনি জানান, এই ১শ' ১ জন রোগীর মধ্যে ৩৯ জন ছিলেন করোনা পজিটিভ রোগী। এর মধ্যে পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৩৩ জন। ওই ১শ' ১ জনের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত ১১ জন হাসপাতালে মারা গেছেন। এই ১১ জনের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত ছিলো মাত্র দুজন। আর ৮ জনের রিপোর্ট এসেছে নেগেটিভ। অর্থাৎ তারা করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না। অপর একজনের রিপোর্ট এখনও অপেক্ষমান আছে। এদিকে আইসোলেশন ইউনিটে অসুস্থ বেশি হওয়ায় তিনজনকে ঢাকা রেফার করা হয়েছে। তারা করোনায় আক্রান্ত ছিলো কি ছিলো না তা ঢাকায় রেফার করার সময় পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।



ডাঃ রুবেল আরো জানান, সম্প্রতি একই দিনে যে কয়েকজন এ হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন তাদের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে : লাকী বেগম, আব্দুল কাদের পাটওয়ারী, আবুল হাসনাত, আছমা বেগম প্রমুখ। তার থেকে জানা গেছে, আইসোলেশন ইউনিটে পালাক্রমে ৩০ জন চিকিৎসক ও ৪০ জন নার্স ডিউটি করেন। তারা এই ইউনিটে ভর্তি হওয়া রোগীদের সব ধরনের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এদের ডিউটি করার নিয়ম হচ্ছে একটি অংশ লাগাতার ১০ দিন ডিউটি করার পর এরা ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে চলে যান। এদের জন্যে হাসপাতালের সামনে অবস্থিত হোটেল গ্র্যান্ড হিলশায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়। মাসের অন্য ৬ দিন তাদেরকে পরিবারের সদস্যদের সাথে থাকতে সুযোগ দেয়া হয়। এ নিয়মে পর্যায়ক্রমে ৩০ জন চিকিৎসক ও ৪০ জন নার্স সেখানে ডিউটি করেন। ডাঃ রুবেল জানান, আইসোলেশন ইউনিটে থাকা সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী রোগীদের চিকিৎসা সেবা ডাক্তার ও নার্সরা সময়মতো দিয়ে আসছেন। তাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ ক্রান্তিকালে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এখানে অঙ্েিজন যা ছিলো বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে এনে তার সংখ্যা আরো বাড়ানো হয়েছে।



এদিকে আগে যে ভবনে আইসোলেশন ইউনিটটি ছিলো সেখানে স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় এবং চিকিৎসক ও নার্সরা তাদের সেবা কার্যক্রম চালাতে স্বস্তিবোধ না করতে পারায় ইউনিটটি হাসপাতালের মূল ভবনের দ্বিতীয় তলায় স্থানান্তর করা হয়েছে। এখানে ৫০ শয্যার উপরেও সিট রয়েছে। আর পূর্বের ইউনিটটি ছিলো ২৪ শয্যার। নতুন জায়গায় স্থানান্তরিত হওয়া ইউনিটটি দ্বিতীয় তলার অন্যান্য অংশ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক করে দেয়া হয়েছে। রোগী এবং ডাক্তারদের উঠা-নামার জন্যে হাসপাতাল ভবনের পূর্ব-দক্ষিণ দিকে যে গেইট রয়েছে সেই গেইট বরাবর দোতলায় উঠার জন্যে পৃথক সিড়ি করে দেয়া হয়েছে। তাই এই ইউনিট থেকে অন্যদের সংক্রমিত করার তেমন কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানান ডাঃ রুবেল।


আজকের পাঠকসংখ্যা
১১৪২৯৭
পুরোন সংখ্যা