চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১১ শাওয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭১-সূরা নূহ্


২৮ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


২৬। নূহ আরও বলিয়াছিল, 'হে আমার প্রতিপালক! পৃথিবীতে কাফিরগণের মধ্য হইতে কোন গৃহবাসীকে অব্যাহতি দিও না।


২৭। তুমি উহাদিগকে অব্যাহতি দিলে উহারা তোমার বান্দাদিগকে বিভ্রান্ত করিবে এবং জন্ম দিতে থাকিবে কেবল দুষ্কৃতকারী ও অধিকার।


 


 


 


assets/data_files/web

মৌনতা নিরপেক্ষতার উত্তম পন্থা।


-শ্যামলচন্দ্র দত্ত।


 


 


 


 


যার দ্বারা মানবতা উপকৃত হয়, তিনিই মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।


 


 


ফটো গ্যালারি
আবার পুরানো চেহারায় চাঁদপুর
মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি বাড়ছে করোনা ঝুঁকি
মিজানুর রহমান
০৪ জুন, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আবারো সেই পুরানো চেহারায় ফিরেছে চাঁদপুর শহর। জীবিকার তাগিদে পুরোদমে কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েছে নদী বন্দর এলাকাসহ গোটা চাঁদপুর শহর। উপজেলা সদর, অন্যান্য শহর এবং গ্রামের হাট-বাজারও আগের মত লোকে লোকারণ্য। ফুটপাত থেকে অলিগলি, লঞ্চঘাট, ট্রলারঘাট, মার্কেট, বিপণী বিতান, পাইকারী বাজার ও কাঁচাবাজার সর্বস্তরেই স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত। রাস্তায় বেড়ে গেছে যানবাহন ও যাত্রী সাধারণের চলাচল। দল বেঁধে নারী-পুরুষ বাজারে কেনাকাটা করছে। তাদের মাঝে করোনার ভয় যেন উপিক্ষিত।



এতে ব্যাপকভাবে বাড়ছে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি। করোনার প্রাদুর্ভাবে শহরের নাগরিকদের তথা চাঁদপুরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ব্যাপকভাবে বাড়ছে। দেশে করোনা সংক্রমণের পর টানা ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটি শেষে গত ৩১ মে থেকে গত ৩ জুন পর্যন্ত চাঁদপুরের বিভিন্ন রাস্তায় দেখা গেছে রীতিমতো যানজট। নিত্যপণ্য ও কাঁচাবাজারগুলোতে মানুষের জটলা দেখা গেছে। তাতে সামাজিক দূরত্ব ও সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের আলামত দেখা যায়নি। গণপরিবহন চালু হওয়ার পর বাস, সিএনজি অটোরিকশা ও অটোবাইকে গাদাগাদি করে মানুষকে চড়তে দেখা গেছে।



স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এখন ঊর্ধ্বমুখী। বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। নমুনা পরীক্ষা বৃদ্ধি করায় শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ক'দিনে প্রায় আড়াই হাজার করে করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। মূলত সাধারণ ছুটি সঠিকভাবে কার্যকর না হওয়া, পর্যায়ক্রমে ছুটির শর্ত শিথিল করা, গার্মেন্টস্ শ্রমিকদের ঢাকায় ফেরা ও ঢাকা থেকে ফেরত যাওয়া, ঈদ উপলক্ষে শপিং মল, বিপণী বিতান খুলে দেয়া, সাধারণ ছুটি পালনে সরকারি সংস্থাগুলোর নমনীয়তার কারণেই এখন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। সাধারণ ছুটি তুলে দেয়ার পর করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়েছে কি না এর ফলাফল পাওয়া যাবে আরও ১৪ থেকে ২১ দিন পর।



করোনা সংক্রমণের উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, মানুষের অসচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতি হলে জনস্বার্থে সরকার আবারও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।



গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। করোনা প্রতিরোধে গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর দফায় দফায় ছুটি বাড়ানো হয়, যা গত ৩০ মে শেষ হয়। ৩১ মে সরকারি ও বেসরকারি অফিস খুলে দেয়া হয়েছে। দেশব্যাপী গণপরিবহনও চালু হয়েছে। যদিও এর আগে সাধারণ ছুটির মধ্যেই গত ২৬ এপ্রিল পোশাক কারখানা খুলে দেয়া হয়। এর দুই সপ্তাহ পর থেকে দেশে করোনা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হতে থাকে, যা এখনও বাড়ছে।



এ ব্যাপারে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডাঃ মুশতাক হোসেন বলেছেন, 'ঢাকা ফেরতরা ঢাকায় আসার পর অনেক মানুষের একসঙ্গে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কারণ মতিঝিলের মতো ডাউনটাউনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিস খুলে দিলেও রাস্তায় মানুষের জট হবে; সংক্রমণ ছড়াবে। আমরা রোগ সংক্রমণ কমানোর পদক্ষেপ না নিয়ে শুধু বাড়ানোর কাজ করে যাচ্ছি। করোনা সংক্রমণ চূড়া থেকে নামার দুই সপ্তাহ পরে বোঝা যাবে চূড়া থেকে নেমেছি কিনা।



স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন অনেকেই মানছে না; লকডাউন না করে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানেও ছিল নানা রকম ছাড়। এই ছুটি পেয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের অনেকেই চাঁদপুরের গ্রামমুখী হয়েছেন, অনেকেই এখন ফিরছেন। কেউ গ্রামে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, করোনার সংক্রমণ ছড়িয়েছেন। এসব কারণে ছুটি বাতিল অর্থাৎ সবকিছু খুলে দেয়ায় ব্যাপকভাবে করোনা ঝুঁকি বেড়েছে, মানুষের মধ্যে আতঙ্কও ছড়াচ্ছে। তবে ছুটি তুলে দেয়ার পর করোনা সংক্রমণ কতুটুক গতিশীল হয়েছে তার ফল পেতে এখন অপেক্ষা করতে হবে।



স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, প্রথমদিকে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে করোনা সংক্রমণ বেশি ছিল। পরবর্তীতে তা চাঁদপুরসহ সারাদেশে ছড়িয়েছে। প্রথমদিকে ওই তিন জেলাকে 'লকডাউন' (অবরুদ্ধ) করা হলে করোনার প্রায় ৮০ শতাংশ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা যেত। সরকারি প্রশাসন লকডাউন ঘোষণা না করে বার বার সাধারণ ছুটি বাড়িয়েছে। ওই সময় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি করোনায় আক্রান্ত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে শনাক্ত ও মৃত্যুর হার কম ছিল।


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৬১০৫২
পুরোন সংখ্যা