চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ০৯ এপ্রিল ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬, ১৪ শাবান ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরে আরো ১২ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ১৫৯
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৯-সূরা হাক্কা :


৫২ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


১৬। এবং আকাশ বিদীর্ণ হইয়া যাইবে আর সেই দিন উহা বিশ্লিষ্ট হইয়া পরিবে।


১৭। ফিরিশ্তাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকিবে এবং সেই দিন আটজন ফিরিশ্তা তোমার প্রতিপালকের আরশকে ধারণ করিবে তাহাদের ঊধর্ে্ব।


 


assets/data_files/web

বেদনা হচ্ছে পাপের শাস্তি।


-বুদ্ধদেব।


 


 


স্বভাবে নম্রতা অর্জন কর।


 


করোনার আঘাতে বিপাকে কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকরা
প্রবীর চক্রবর্তী ॥
০৯ এপ্রিল, ২০২০ ১৬:১০:০৩
প্রিন্টঅ-অ+


 সরকারি নির্দেশনা মেনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো কিন্ডারগার্টেনগুলোও বন্ধ রয়েছে। তবে শিক্ষকদের ইতিমধ্যেই মার্চ মাসের বেতন পাওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। কিন্তু বিপাকে রয়েছে কিন্ডারগার্টেনগুলোর শিক্ষকরা। নামমাত্র বেতনে চাকুরি করা এসব শিক্ষক অনেকেই এখন অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। এই চরম দুঃসময়ে তাদের দিকে তাকানোর কেউ নেই।

জানা গেছে, গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে আদর ও ¯েœহের মাধ্যমে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কিন্ডারগার্টেনগুলো যাত্রা শুরু করে। তাদের পাঠদান পদ্ধতি ও আধুনিকতা পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে বিপ্লব সাধন করে। এক সময়ের ঢিলেঢালাভাবে চলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে আড়মোড়া ভেঙ্গে উঠে দাঁড়াতে বাধ্য করে। এক সময়ে শহরাঞ্চলে কিন্ডারগার্টেনগুলো থাকলেও এখন তা জালের মতো পুরো দেশে ছড়িয়ে গেছে। প্রত্যন্ত জনপদে এগুলোর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্ত এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে যারা চাকুরি করছেন তাদের নামমাত্র বেতন পেতেন। এই বেতন দিয়ে না চললেও প্রাইভেট পড়ানোর মাধ্যমে তারা তাদের সংসার চালিয়ে নিতেন। সরকার শিক্ষাব্যবস্থার নতুন এই ধারার সাথে তাল মিলিয়ে ইতিমধ্যেই এসব প্রতিষ্ঠানকে বিনামূল্যে বই  দিয়ে তাদেরকে সরকারি কারিকুলামে চলার জন্যে নির্দেশনা দিয়েছে।

সেই ধারা মেনে ইতিমধ্যেই সরকারের সকল কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে কিন্ডারগার্টেনগুলো। সর্বশেষ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত ১৭ মার্চ থেকে এই প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। শিশুদের সুরক্ষার কারণে অভিভাবকরাও বন্ধ রেখেছে প্রাইভেট। ফলে অসহায় হয়ে পড়েছে এই সেক্টরে কর্মরত ১০ লক্ষাধিক শিক্ষক। এর সাথে রয়েছে বিপুল সংখ্যক কর্মচারী।

কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সাথে কলা বলে জানা গেছে, সরকারি ঘোষণার কারণে হঠাৎ করেই কিন্ডারগার্টেনগুলো মাসের অর্ধেক সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তারা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া মাসিক টিউশন ফি সংগ্রহ করতে পারেন নি। ফলে মার্চ মাস চলে গেলে অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের শিক্ষকদের বেতন দিতে সক্ষম হয়নি। এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠানই ফেব্রয়ারি মাসের বেতন পর্যন্ত দিতে পারেন নি। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এ ব্যাপারে চাঁদপুর জেলা কিন্ডারগার্টেন ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি সেলিম হোসেন জানান, পুরো জেলায় প্রায় ৫ শতাধিক কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। এদের প্রায় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই ফেব্রুয়ারি মাসের সম্মানি শিক্ষকদের দিতে পারেন নি। মার্চের শেষের দিকে ত্রৈমাসিক পরীক্ষা যদি হতো তাহলে আদায়কৃত টিউশন ফি দিয়ে শিক্ষকদের সম্মানি দেয়া সম্ভব হতো। এছাড়া শিক্ষকরা অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে টিউশনি করে সংসার চালান। বর্তমানে তাও বন্ধ রয়েছে। এমতাবস্থায় তারা অন্ধকারে নিমজ্জিত।

একই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান জানান, তিনি তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ফেব্রুয়ারি মাসের সম্মানি দিতে পারলেও অনেকেই তা পারেন নি।

কুমিল্লা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের চাঁদপুর জেলা শাখার সাবেক সভাপতি মাজহারুল ইসলাম জানান, কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকদের কথা কেউ ভাবে না। অথচ প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণে এদের অবদান শতভাগ।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়শেন সাধারণ সম্পাদক মাওঃ জাকির হোসনে বলেন, আমাদের শিক্ষকরা চরম দুঃসময়ে দিন কাটাচ্ছি। আমাদের কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকরা দেশের এই দুঃসময়ে চরম অবহেলিত। তারা কারো কাছ থেকেই কোনোরকম সহযোগিতা পাচ্ছে না। সরকারের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো। কারণ এরা লজ্জায় কারো কাছে সাহায্য চাইতে পারছে না।

একটি কেজি স্কুলের মাসিক আয় বিদ্যালয়ের ঘর ভাড়া, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্মানি ও  কর্মচারীর বেতন, বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস ও পানির বিলসহ অন্যান্য খরচে সব চলে যায়। যা সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের বরাবরে হিসেব দেখানোর প্রয়োজনীতা আছে এবং অনুমোদিত স্কুলের পক্ষ থেকে হিসেব জমাদানও করা হয়ে থাকে। বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানের আয় তথা টিউশন ফি পাওয়া বন্ধ। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং কর্মচারীদের কথা চিন্তা করে আর্থিক প্রণোদনা দিলে উপকৃত হবে দেশের শিক্ষক সমাজ-এমনটাই দাবি তাদের।


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৬৫১৯২৬
পুরোন সংখ্যা