চাঁদপুর, বুধবার ০৮ এপ্রিল ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬, ১৩ শাবান ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরে আরো ১২ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ১৫৯
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৯-সূরা হাক্কা :


৫২ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


১৬। এবং আকাশ বিদীর্ণ হইয়া যাইবে আর সেই দিন উহা বিশ্লিষ্ট হইয়া পরিবে।


১৭। ফিরিশ্তাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকিবে এবং সেই দিন আটজন ফিরিশ্তা তোমার প্রতিপালকের আরশকে ধারণ করিবে তাহাদের ঊধর্ে্ব।


 


assets/data_files/web

বেদনা হচ্ছে পাপের শাস্তি।


-বুদ্ধদেব।


 


 


স্বভাবে নম্রতা অর্জন কর।


 


অনন্য দৃষ্টান্ত
মহাদুর্যোগকালে খাদ্য সহায়তাসহ সাতটি সেবা নিয়ে মানুষের দোরগোড়ায় জিল্লুর রহমান জুয়েলের কিউআরসি
১১ দিনে ৩১শ’ পরিবারের ঘরে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া হয়
চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট ॥
০৮ এপ্রিল, ২০২০ ১৬:০৩:০১
প্রিন্টঅ-অ+


 ‘তিনি পারবেন। চাঁদপুর পৌরবাসীর স্বপ্ন তাঁর দ্বারা বাস্তবায়ন হবে ইনশাআল্লাহ। যাঁর মাথা থেকে অভিনব, নতুনত্ব এবং ক্রিয়েটিভ কিছু চিন্তা-ভাবনার উদ্ভব ঘটে, তিনিই পারবেন চাঁদপুর পৌরসভাকে সকল দিক দিয়ে দেশের মধ্যে একটি অনন্য পৌরসভা হিসেবে রূপ দিতে। করোনা ভাইরাসজনিত অনির্দিষ্টকালের এ মহাদুর্যোগের সময় যে মানুষটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন, বিনামূল্যে জরুরি ঔষধসেবাসহ সাতটি সেবা প্রত্যাশীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন, সে মানুষটি একজন প্রকৃত মানবপ্রেমীই হবেন, সেটিই প্রমাণিত হলো’

অ্যাডঃ জিল্লুর রহমান জুয়েলকে নিয়ে এমনই অভিব্যক্তি প্রকাশ করলো চাঁদপুর পৌরবাসী। জিল্লুর রহমান জুয়েল চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক। তিনি চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। যে নির্বাচনটি গত ২৯ মার্চ হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে এ নির্বাচনটি স্থগিত হয়ে যায়। এরই মধ্যে মরণব্যাধি করোনা ভাইরাস বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ায় স্থগিত হওয়া চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন কখন হবে তা ঠিক বলা যাচ্ছে না। তবে নির্বাচন অনিশ্চয়তার মধ্যে গিয়ে ঠেকলেও মেয়র প্রার্থী জিল্লুর রহমান জুয়েল কিন্তু জনগণ থেকে দূরে সরে যাননি। এ মহাদুর্যোগের সময় তাঁর স্ত্রী ও শিশু সন্তানরা ঢাকায় অবস্থান করলেও তিনি কিন্তু চাঁদপুরেই রয়ে গেছেন। স্ত্রী-সন্তানদের জন্যে হয়তো কখনো কখনো তাঁর মনটি কাঁদে। কিন্তু যখন তিনি চাল, ডাল, আলু আর তেল নিয়ে বিপদগ্রস্ত মানুষগুলোর দরজায় গিয়ে কড়া নাড়েন, আর দরজা খুলে চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ নিয়ে বের হওয়া মানুষটির হাতে ৮/১০ দিনের খাবারের ব্যাগটি যখন তিনি তুলে দেন, এতে ওই মানুষটির মুখে যে হাসির ঝিলিক দেখা যায়, তখন জুয়েল নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ মনে করেন। এভাবে গরিব, দুঃখী, অভাবগ্রস্ত এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষগুলোর পাশে থাকার আনন্দময় মুহূর্তগুলো যখন জুয়েলের স্মৃতিতে চলে আসে, তখন আর তাঁর ভেতর স্ত্রী-সন্তান কাছে না থাকার কষ্টটি স্থান পায় না।

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি যখন বাংলাদেশে প্রাথমিক স্টেজে, তখনই জিল্লুর রহমান জুয়েল নিজে উদ্যোগী হয়ে ‘কিউআরসি’ (কুইক রেসপন্স ডিউরিং ক্রাইসিস) নামে মানবসেবাধর্মী একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গঠন করেন। এ সংস্থার সাথে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নিবেদিতপ্রাণ বেশকিছু নেতা-কর্মীকে সম্পৃক্ত করা হয়। এদের দিয়ে ২০টি টিমের মোটরসাইকেল গ্রুপ প্রস্তুত করা হয়। জিল্লুর রহমান জুয়েলের নির্দেশনায় এরা ২৫ মার্চ থেকে মাঠে নেমে পড়েন। শুরুর দিকে কিউআরসির সদস্যরা প্রার্থিত ব্যক্তিদের জরুরি ঔষধ সেবা, জরুরি পরিবহন সেবা এবং বিনা পারিশ্রমিকে বাড়িতে বাজার পৌঁছে দেয়ার কাজটি করেন। কিন্তু ১ দিন পর যখন পরিস্থিতি খারাপের দিকে যেতে নিলো এবং সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়লো, তখন দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষগুলোর ঘরে খাদ্যসঙ্কট দেখা দেয়। এমতাবস্থায় জিল্লুর রহমান জুয়েল মানুষদের খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নেন। আর এই খাদ্যদ্রব্য পৌঁছে যাবে মানুষের ঘরে ঘরে। শুরু হয় মানবতার পাশে দাঁড়ানো তাঁর এ কঠিন কর্মযজ্ঞ। উল্লেখ্য, কিউআরসির কার্যক্রম শুরুর দিকে সকল প্রচার-প্রচারণায় কয়েকটি হটলাইন নাম্বার দেয়া হয়। সেখানে জুয়েল তাঁর নিজের নাম্বারটিও দেন। এ সব নাম্বারে প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের অসংখ্য কল আসতে থাকে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে।

কিউআরসির অন্যতম সদস্য মেহেদী হাসান জানান, প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকেই কল আসা শুরু করে। বিরতিহীনভাবে কল আসতে থাকে রাত কমপক্ষে সাড়ে ১০টা-১১টা পর্যন্ত। সব কল রিসিভ করাও সম্ভব হয় না। মেহেদী জানান, তিনি নিজেই প্রতিদিন গড়ে আড়াইশ’ থেকে তিনশ’ কল রিসিভ করেন। এভাবেই আরো যে দুটি হটলাইন নাম্বার রয়েছে নাজমুল হাসান বাঁধন এবং কামাল হোসেন, তাদের নাম্বারেও একইভাবে কল আসতে থাকে। এ প্রক্রিয়ায় তাঁরা ত্রাণ প্রত্যাশীসহ অন্যান্য সেবা প্রত্যাশীদের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর লিখে রাখেন। এ অনুযায়ী তাঁরা ওয়ার্ডভিত্তিক ভাগ হয়ে ত্রাণসহ অন্যান্য সেবা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার কাজে নেমে যান।

মেহেদী জানান, ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয় তাদের টিমের ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার কার্যক্রম। বিরতিহীনভাবে চলতে থাকা এ কার্যক্রমের আওতায় গত ৫ এপ্রিল রোববার পর্যন্ত চাঁদপুর পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডে ৩ হাজার ১শ’ ৩৬টি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া হয়। প্রতি পরিবারের জন্যে দেয়া হচ্ছে চাল, ডাল, তেল ও আলু। শুধু খাদ্য সহায়তাই নয়, জরুরি আরো ছয়টি সেবা দেয়া হয় কিউআরসি থেকে। গত ৫ এপ্রিল পর্যন্ত ২শ’ ২৫ জনকে জরুরি ঔষধ সেবা, ১শ’ ৩ জনকে জরুরি পরিবহন সেবা, ৮৫ জনের বাড়িতে বিনা পারিশ্রমিকে বাজার পৌঁছে দেয়া, ৪৫ জন রোগীকে জরুরিভিত্তিতে হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া এবং ৩৫ জনের বাসায় বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটারে লোড সার্ভিস দেয়া হয়। কিউআরসির অন্য সদস্যরা হচ্ছেন কামাল হোসেন, কাশেম গাজী, জাওয়াদ, নাজমুল হাসান, হৃদয় মজুমদার ও নাহিদসহ ৫০ জন।

কিউআরসির তিনটি হটলাইন নাম্বার ছাড়াও জিল্লুর রহমান জুয়েলের ব্যক্তিগত নাম্বারে যোগাযোগ করার মাধ্যমে সরাসরি খাদ্য সহায়তা পেয়েছেন এমন সংখ্যা হবে ৭ হাজারেরও অধিক। এগুলো জুয়েল নিজে আলাদাভাবে তাঁর দলীয় সহযোদ্ধারাসহ বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দেন।

এসব সহায়তা জুয়েল নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এবং চট্টগ্রামসহ আরো কিছু জায়গার তাঁর রাজনৈতিক শুভাকাক্সক্ষীদের থেকে প্রাপ্ত অনুদান থেকে দিয়ে আসছেন। এসব সহায়তা ছাড়াও মানুষ যেনো জরুরি প্রয়োজনে চিকিৎসকদের পরামর্শ যেনো গ্রহণ করতে পারে সেজন্যে তিনি একটি মেডিকেল টিম গঠন করে তাদের মোবাইল নাম্বারসহ সর্বত্র প্রচার করে দিয়েছেন।

এ প্রতিবেদক নিজে জিল্লুর রহমান জুয়েলের ঘরে ঘরে গিয়ে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া কার্যক্রমের সাথে কয়েকদিন থেকে নিজেই উপলব্ধি করতে পেরেছেন যে এটি কেমন একটি মহৎ কাজ, প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তাঁর এ উদ্যোগের দ্বারা যেমনি রক্ষা হচ্ছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বেঁচে থাকতে ঘরে থাকার নির্দেশনা, তেমনি যেসব মানুষ নিজে গিয়ে কারো কাছ থেকে কোনো সহায়তা আনতে লজ্জাবোধ করেন, তাদেরও সম্মান রক্ষা হচ্ছে। এজন্যে জিল্লুর রহমান জুয়েলের এ উদ্যোগটি সকলের কাছে প্রশংসনীয় হয়েছে। আল্লাহর উপর ভরসা রেখে জিল্লুর রহমান জুয়েল বলেন, যতোদিন পর্যন্ত পরিস্থিতির উন্নতি না হবে এবং তাঁর সামর্থ্য যতোদিন থাকবে, ততোদিন তিনি কিউআরসির কার্যক্রম এবং তাঁর সরাসরি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেয়া অব্যাহত থাকবে।

সার্বিক বিষয়ে জিল্লুর রহমান জুয়েল বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। বাংলাদেশের অবস্থাও ভয়াবহ হতে পারে এখনো যদি আমরা সচেতন না হই। বর্তমান সরকার এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। বর্তমানে সারা বাংলাদেশের মানুষই করোনা নিয়ে এক ধরনের আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে শহরে যান চলাচল, দোকানপাট, সরকারি-বেসরকারি অফিস ও স্কুল-কলেজ বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের কিউআরসি টিম জনগণের সেবায় সার্বক্ষণিক কাজ করে যাবে। আমাদের মেডিকেল টিম ২৪ ঘণ্টাই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে। প্রার্থিত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করে ঔষধ বা হাসপাতালে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে। দুর্গম এলাকা বা কেউ ঔষধ নেয়ার মতো অবস্থা না থাকলে বিনামূল্যে ঔষধ পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আমাদের এলাকার মাননীয় সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির পরামর্শ এবং দিকনির্দেশনায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আপনারা বাসায় থাকুন, নিরাপদ থাকুন, আপনাদের প্রয়োজনে আমরা পৌঁছে যাবো।


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৬৯৪০২১
পুরোন সংখ্যা