চাঁদপুর , সোমবার ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ১৩ মাঘ ১৪২৬, ১ জমাদউিস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬২-সূরা জুমু 'আ


১১ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৭। কিন্তু উহারা উহাদের হস্ত যাহা অগ্রে প্রেরণ করিয়াছে উহার কারণে কখনও মৃত্যু কামনা করিবে না। আল্লাহ যালিমদের সম্পর্কে সম্যক অবগত।


 


অতি মাত্রায় বিশ্রাম আপনা থেকেই বেদনাদায়ক হয়ে উঠে। -হোমার।


 


 


নামাজ যাহাকে অসৎ কাজ হইতে বিরত রাখে না তাহার নামাজ নামাজই নহে; কারণ উহা তাহাকে খোদার নিকট হইতে দূরে রাখে।


ফটো গ্যালারি
অসময়ের ইলিশে ভরপুর চাঁদপুর মাছঘাট
মিজানুর রহমান
২৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


পদ্মা-মেঘনা এবং সাগর উপকূলীয় এলাকার জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। অসময়ে ইলিশ ধরা পড়ায় স্থানীয় বাজারগুলোতে প্রচুর ইলিশের দেখা মিলছে। অসময়ের ইলিশে ভরপুর চাঁদপুর মাছঘাট। প্রতিদিন গড়ে ৫/৭শ' মণ ইলিশ ঘাটে আসছে। বেশি মাছ হওয়ায় গ্রেডের ইলিশ পাচার হয়ে যাচ্ছে ভারতে। ইলিশ সিজনে সরকার ৫শ' মণ ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দিলেও অফসিজনেও শেষ হচ্ছে না ইলিশ রপ্তানি। চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও ভোলার নদীতে আহরিত ইলিশের দুই তৃতীয়াংশ কেবল জাটকা এবং জাটকা সাইজের একটু বড় কিশোর ইলিশ। এমন দৃশ্য চাঁদপুর মাছঘাটসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে। স্থানীয় জেলেরা কারেন্টজাল ও গুল্টিজালে কিশোর ইলিশ নিধন করছে।



সরেজমিনে দেখা যায়, ঘাটের বাবুল হাজী, সিরাজ চোকদার, মেজবাহ মাল, হাজী কুদ্দুছ খা ও উত্তম দাসের আড়তে সবচাইতে বেশি মাছ বিক্রি হয়েছে। সাধারণত এ সময়ে বাজারে তেমন ইলিশ থাকে না। তবে এখন ইলিশের ছড়াছড়ি দেখে ক্রেতারা অবাক। দামও তুলনামূলক কম। মাছঘাটের ইলিশ আড়তদার উত্তম দাস জানান, গত ক'দিনের আমাদানিতে ইলিশের দামও কমে গেছে। ১ কেজি পরিমাণের ইলিশের মণ ২৮/২৯ হাজার টাকা। ৭/৮শ' টাকা কেজি। ৭০০/৮০০ গ্রামের ইলিশের কেজি ৫শ'। টাকা। এর চেয়ে ছোট ইলিশ ৩শ' টাকা কেজিতে পাইকারী বিক্রি হচ্ছে।



চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান কালু ভূঁইয়া জানান, জানুয়ারি মাসকে ইলিশের জন্যে অসময় হিসেবে ধরা হয়। অথচ এ সময়েও এবার চাঁদপুরসহ দক্ষিণ অঞ্চলের নদ-নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। যে কারণে চাঁদপুরের মোকাম এখন ইলিশে ভরপুর। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরের মধ্য এমন মাছ দেখিনি। বর্ষা সিজনকেও হার মানিয়েছে।



চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবেবরাত সরকার জানান, গত ৮/১০ দিনে পাওয়া এটা নেচারাল ইলিশ নয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কিছু এলাকার জেলেরা ভরপুর মাছ পাচ্ছে।



জেলেদের সূত্রে জানা যায়, ইলিশের প্রধান মৌসুম শেষ হয়েছে বেশ আগেই। প্রতি বছর মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরার মৌসুম। এর পর নদীর পানি কমে যায়। ফলে উজানের স্রোত না থাকায় নদী ও সাগরে ইলিশ ধরা পড়ে খুবই কম।



 



অসময়ে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়াকে অস্বাভাবিক বলছেন জেলে ও ব্যবসায়ীরা। তবে এটাকে তারা আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে মৎস্য অধিদপ্তর ও গবেষকরা এমন ঘটনাকে ইলিশের 'সেকেন্ড সিজন' হিসেবে ধারণা করছেন।



চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী জানান, প্রজনন সময়ে জাটকা, মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম এবং সমুদ্রে ৬৫ দিনের অভিযানের কারণে ইলিশের পজেটিভ ইমপেক্ট হচ্ছে। জাটকা ইলিশের উপর এবং অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধে আমাদের অভিযান চলছে। শহরের ওয়্যারলেস এবং মাছঘাটে অভিযান করে বেশ পরিমাণ জাটকা ইলিশ জব্দ করা হয়েছে।



তিনি আরো জানান, চাঁদপুর ইলিশ মেকামে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মণ ইলিশ সরবরাহ হয়। মোকামের ব্যবসায়ীরা বলছেন, বরিশালের নদ-নদীতে অসময়ে ব্যাপক ইলিশ ধরা পড়ছে। এর আকারও বেশ ভালো। শীত মৌসুমেও পূর্ণিমার এই জোতে ইলিশের দেখা মেলায় ব্যবসায়ী ও জেলেদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। পাশাপাশি দেশের মৎস্য খাতের জন্য এটি একটি আশীর্বাদ বলেও মনে করেন তারা। তবে শঙ্কার কথাও বলছেন অনেকে। অসময়ে নিধন হওয়া ইলিশের সিংহভাগই কিশোর বা জাটকা ইলিশ। এ বছরের ইলিশ মওসুমে ভরপুর ইলিশের দেখা নাও মিলতে পারে।



 



 



 



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৭১২১৩
পুরোন সংখ্যা