চাঁদপুর, শনিবার ৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৯ রবিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরাম চৌধুরী ভোর ৪টায় ঢাকায় কিডনী হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন ( ইন্নালিল্লাহে --------রাজেউন)। || বাদ আসর চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। || চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরাম চৌধুরী ভোর ৪টায় ঢাকায় কিডনী হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন ( ইন্নালিল্লাহে --------রাজেউন)।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৯-সূরা হাশ্র


২৪ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


০১। আকাশমলী ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে সমস্তই তাঁহার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে; তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।


 


অতিরিক্ত উচ্চাশা যেখানে, অশান্তিও সেখানে। -রূপট ব্রুক।


 


 


পবিত্র হওয়াই ধর্মের অর্থ।


 


 


ফটো গ্যালারি
রোটাভাইরাসজনিত ডায়রিয়ার প্রকোপ
মতলব আইসিডিডিআরবিতে ১৭ দিনে তিন সহস্রাধিক শিশু ভর্তি
রেদওয়ান আহমেদ জাকির
০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর ও আশপাশের বেশ কটি জেলায় ব্যাপকহারে রোটাভাইরাসজনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ১৭ দিনে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মতলব আইসিডিডিআরবি (কলেরা হাসপাতালে) ভর্তি হয়েছে তিন সহস্রাধিক শিশু ও বৃদ্ধ। প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হচ্ছে প্রায় ১শ' ৭৩ জন শিশু। এ সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তিন গুণের চেয়েও বেশি বলে মন্তব্য করলেন আইসিডিডিআরবি কর্তৃপক্ষ।



আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের (আইসিডিডিআরবি) মতলব শাখা সূত্রে জানা গেছে, এই কেন্দ্রে গত ২০ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত (১৭ দিনে) ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ৯শ' ৫২ জন শিশু। এর মধ্যে ৫ বছর বয়সী শিশু ২ হাজার ২শ' ৫৪ জন। বাকি ৬শ' ৯৮ জনের বয়স পাঁচ বছরের ঊধর্ে্ব। উল্লেখিত সময়ে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হচ্ছে প্রায় ১শ' ৭৩ জন শিশু। এ সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তিনগুণেরও বেশি। স্বাভাবিক সময়ে এখানে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হয় ৪৫-৫০ শিশু।



হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০ নভেম্বর ১শ' ৫২ জন, ২১ নভেম্বর ১শ' ৭৫ জন, ২২ নভেম্বর ১শ' ৫৪ জন, ২৩ নভেম্বর ১শ' ৬৬ জন, ২৪ নভেম্বর ১শ' ৭৫ জন, ২৫ নভেম্বর ১শ' ৮৪ জন, ২৬ নভেম্বর ১শ' ৪৩ জন, ২৭ নভেম্বর ১শ' ৭৩ জন, ২৮ নভেম্বর ১শ' ৮৮ জন, ২৯ নভেম্বর ২শ' ৮ জন, ৩০ নভেম্বর ১শ' ৭৯ জন, ১ ডিসেম্বর ১শ' ৬৮ জন, ২ ডিসেম্বর ১শ' ৭৭ জন, ৩ ডিসেম্বর ১শ' ৮৭জন, ৪ ডিসেম্বর ১শ' ৭৫ জন, ৫ ডিসেম্বর ১শ' ৯০ জন এবং গতকাল ৬ ডিসেম্বর ১শ' ৪৮ জন ভর্তি হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২৯ নভেম্বর সর্বোচ্চ রোগী ২শ' ৮ জন ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে এ রোগীর সংখ্যা সামনে আরো বাড়তে পারে।



হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে ৩৫ দিনে ৫ সহস্রাধিক শিশু ভর্তি হয়। প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হয়েছে ১শ' ৫৭ জনশিশু। এছাড়াও ২০১৭ সালে ৩৫ দিনে ভর্তি হয়েছিলো ৩ হাজার ৭শ' ৫১ শিশু। সে সময়ে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হয়েছিলো প্রায় ১শ' ১৮ শিশু। গতবারের তুলনায় এবারো ভর্তি হওয়া শিশুর সংখ্যা অনেক বেশি।



সূত্রটি আরো জানায়, ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে চাঁদপুর সদরের ২শ' ৬২, ফরিদগঞ্জের ১শ' ৯০, হাজীগঞ্জের ১শ' ১৬, কচুয়ার ১শ' ১৭, হাইমচরের ৩৩, মতলব উত্তরের ১শ' ৭, মতলব দক্ষিণের ১শ' ৩, শাহরাস্তির ৯৬, কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার ১শ' ৩৩, দেবিদ্বার ১শ' ৩৫, লাকসাম ১শ' ৪৬, মুরাদনগর ১শ' ৪৩, লক্ষ্মীপুর জেলা সদরের ১শ' ৭৯, রায়পুর ৯৫, রামগঞ্জ ৮৩, নোয়াখালী জেলার চাটখিলের ৩৪, কুমিল্লার চান্দিনা ১শ' ৩০, হোমনার ৪১ জনসহ বিভিন্ন উপজেলার শিশু ও বৃদ্ধ এ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।



গতকাল শুক্রবার আইসিডিডিআরবির মতলব শাখায় গিয়ে দেখা গেছে, সেখানকার প্রতিটি ওয়ার্ডে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ভিড়। রোগীদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।



কুমিল্লার হোমনা উপজেলার দেবিদ্বার গ্রাম থেকে আসা দু বছর বয়সী শিশু সার্থিক সাহার মা বলেন, 'মাইয়াডা ঘন ঘন বমি ও পাতলা-পায়খানা করতেছিলো। গত বৃহস্পতিবার এনো আনছি। স্যালাইন ও বেবিজিংক খাইতে দিছে। এহন একটু বালা।'



আইসিডিডিআরবির মতলব শাখার প্রতিষ্ঠান প্রধান ডাঃ ফজল খান বলেন, এ হাসপাতালে ৬০ জন ডায়রিয়া রোগীর আসন রয়েছে। কিন্তু প্রতিদিন গড়ে দেড় শতাধিক শিশুর চিকিৎসা করতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরও এ সেবা কার্যক্রম আমরা চালিয়ে যাচ্ছি। অনেক দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসকগণসহ সকলে সহযোগিতা করছেন। আমাদের এ হাসপাতালের ডায়রিয়া চিকিৎসার পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোতে এ চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে জনসাধারণ উপকৃত হবে। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেশি হলেও সকলে সুস্থ-স্বাভাবিক অবস্থায় বাড়ি ফিরছেন। এখন পর্যন্ত কোনো শিশু মারা যায়নি।



আইসিডিডিআরবির মতলব শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা চন্দ্রশেখর দাস বলেন, দূষিত পানি পান ও ময়লা খাবার গ্রহণই এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণ। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। শীতে শিশুরা ব্যাপকহারে এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্ত ছয় মাস বয়সী শিশুদের পরিমাণ মতো খাবার স্যালাইন ও মায়ের বুকের দুধ খেতে দেয়া হচ্ছে। সাত মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের দেয়া হচ্ছে খাবার স্যালাইন, বুকের দুধ ও প্রতিদিন একটি করে বেবিজিংক। সঙ্গে খেতে দেয়া হচ্ছে সুজি, খিচুড়ি, ডাব, চিড়ার পানি ও ভাতের মাড়সহ অন্যান্য খাবার। এ রোগ এড়াতে দূষিত পানি পান ও ময়লা খাবার বর্জন করতে হবে। শিশুদের ঘন ঘন পাতলা পায়খানা ও বমি হলে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে।



 



 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ২,২৩,৪৫৩ ১,৬২,২০,৯০০
সুস্থ ১,২৩,৮৮২ ৯৯,২৩,৬৪৩
মৃত্যু ২,৯২৮ ৬,৪৮,৭৫৪
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৮২৬৪৩২
পুরোন সংখ্যা