চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ সফর ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৬ সূরা-ওয়াকি'আঃ


৯৬ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৮৯। তবে তাহার জন্যে রহিয়াছে আরাম, উত্তম জীবনোপকরণ ও সুখদ উদ্যান,


৯০। আর যদি সে ডান দিকের একজন হয়,


৯১। তবে তাহাকে বলা হইবে, হে দক্ষিণ পার্শ্ববর্তী! তোমার প্রতি শান্তি।


 


 


 


 


একটা হাত পরিষ্কার করতে অন্য একটা হাতের সাহায্য দরকার।


-সিনেকা।


 


 


ন্যায়পরায়ণ বিজ্ঞ নরপতি আল্লাহর শ্রেষ্ঠ দান এবং অসৎ মূর্খ নরপতি তার নিকৃষ্ট দান।


 


যিনি বিশ্বমানবের কল্যাণসাধন করেন, তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ।


 


 


ফটো গ্যালারি
ফরিদগঞ্জ এ. আর. পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আবারো অভিযোগ
সরকারি জায়গা দখল করে বিস্ফোরক দ্রব্যের ব্যবসা করছেন
যে কোনো সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট
১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


দুর্নীতি, জালিয়াতি, স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানাবিধ অনিয়মে অভিযুক্ত ফরিদগঞ্জ এ. আর. পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এবার অভিযোগ উঠেছে সরকারি সম্পত্তি দখল করে বিস্ফোরক দ্রব্যের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার। প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও সমভাবে চালিয়ে যাচ্ছিলেন নিজের ব্যক্তিগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। শুরুতে ব্যক্তিগত দোকান ও গুদামঘর ব্যবহার করলেও বর্তমানে গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা পরিচালনা করছেন ফরিদগঞ্জ উপজেলাধীন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর সরকারি সম্পত্তি দখল করে।



ফরিদগঞ্জের সাবেক ওয়াপদা বর্তমান পানি উন্নয়ন বোর্ড হলরুমের সামনে বিধিবহির্ভূতভাবে বিস্ফোরক দ্রব্য গ্যাস সিলিন্ডারের গোডাউন বানিয়েছেন তিনি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনোপ্রকার অনুমতি না নিয়েই অদৃশ্য ক্ষমতার বলে প্রভাব বিস্তার করে দীর্ঘদিন ধরে এ সম্পত্তি দখলে রেখেছেন বলে জানান স্থানীয়রা। বর্তমানে গোডাউনে প্রায় ৫শ' গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ রয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় ট্রাকে সিলিন্ডার ওঠানামা হয়। গ্যাসভর্তি এ সিলিন্ডারগুলো মজুদে নেয়া হয়নি বিস্ফোরক প্রতিরোধক কোনো ব্যবস্থা। তাই যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। কর্মচারীদের অসাবধানতায় কোনো গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটলে পাউবোর ফরিদগঞ্জ অঞ্চলের উত্তর প্রান্তের বসতবাড়িগুলো ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের মুখোমুখি হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে পাউবো ঘেঁষা ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও। এ নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বসবাসরত মানুষদের মধ্যে।



পাউবোর পরিত্যক্ত কক্ষগুলোতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। রয়েছে ফরিদগঞ্জ পৌরসভা, ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব, ওনুআ ও প্রেসক্লাব ফরিদগঞ্জের মতো সংগঠনগুলো। এই সংগঠনগুলোর বিচরণ যে এলাকায়, সেখানেই গড়ে উঠেছে ব্যক্তিগত একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।



পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর অফিসসূত্রে জানা যায়, স্থানীয় জনসাধারণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে গত বছর ডিসেম্বরে গ্যাস সিলিন্ডারের এ ব্যবসাটি উচ্ছেদ করেছিলো পাউবো কর্তৃপক্ষ। তাৎক্ষণিক ব্যবসায়ী রফিকুল আমিন কাজল স্বল্পসময়ের মধ্যে সকল মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পাউবো কর্তৃপক্ষ একজন প্রধান শিক্ষকের প্রতিশ্রুতির প্রতি সম্মান জানিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। কিন্তু গত প্রায় এক বছরেও মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেননি প্রধান শিক্ষক রফিকুল আমিন কাজল। বরং ব্যবসাকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্যে উক্ত ভবনের চতুর্দিকে লোহার খাঁচা তৈরি করেছেন তিনি। ব্যবসা তদারকির জন্যে ভবনে সিসি ক্যামেরাও বসিয়েছেন বলে জানা যায়।



বিস্ফোরক দ্রব্য গ্যাস সিলিন্ডারের গা ঘেঁষেই বর্তমানে প্রতি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার শতফুল খেলাঘর আসরের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা চিত্রাঙ্কন শিখছে। বিস্ফোরকের আতঙ্ক বিরাজ করছে সংগঠনটির শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। এর কয়েক গজ দূরেই রয়েছে ফরিদগঞ্জের সাংবাদিকদের প্রাচীন সংগঠন ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব ও ওনুআ স্মৃতি সংসদ। তার সামনেই প্রতি শুক্রবার চিত্রাংকন শিখতে আসে নবীন কচি-কাঁচার মেলার শিশু-কিশোররা। বিস্ফোরক দ্রব্যের গুদামঘরটির বিপরীতেই রয়েছে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার অস্থায়ী কার্যালয়। সামনে রাস্তার বিপরীত পাশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন এবং পেছনে রয়েছে স্থানীয় প্রবীণ দলিল লেখক হোসেন গাজীর বাড়িসহ কিছু মানুষের ব্যক্তিমালিকানাধীন ঘর। পাউবোর যে পাশে কোমলমতি শিশুদের সৃজনশীল শিক্ষা দিয়ে থাকে দু'টি শিশু সংগঠন সে পাশেই রাতারাতি এমন একটি বিস্ফোরক দ্রব্যের ব্যবসা গড়ে ওঠায় উদ্বিগ্ন শিশু সংগঠকরাও।



পাউবো এলাকার নিকটস্থ ব্যবসায়ীরা আতঙ্কের মধ্য দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে জানান একাধিক ব্যবসায়ী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন এক ব্যবসায়ী বলেন, তিনি ক্ষমতাসীন দলের লোক। তাই কেউ ভয়ে কিছু বলতে পারছে না। আমরা প্রতিদিনই আতঙ্কে থাকি। গ্যাস ভর্তি নতুন নতুন সিলিন্ডার প্রতিনিয়তই এখানে রাখা হচ্ছে। একটি সিলিন্ডার বার্স্ট হলে আমাদের দোকান সহ পুরো এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু তিনি একজন প্রধান শিক্ষক হয়েও তার ব্যক্তিগত ব্যবসার স্বার্থে এই মালামালগুলো এখানে রাখছেন। অবশ্য আমাগো মত দু'চার জন মানুষ মরলে হেড মাস্টারগো কিছু যায় আসে না।



ফরিদগঞ্জ বাজারে পাউবোর সামনে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছেন এমন একজন ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, যেখানে বড় নেতারা হেড মাস্টারকে শেল্টার দেন সেখানে আমি-আপনি এসব নিয়ে কথা বলে আর কী হবে? যতই নিউজ করেন লাভ নাই। হেড মাস্টারের হাত অনেক বড়। ঠিকই বড় নেতাদের দিয়া উনি উনার ব্যবসা করবেনই।



একই সুরে কথা বললেন স্থানীয় একাধিক বাজার ব্যবসায়ী। সকলের দাবি একটাই : সরকারি জায়গায় অবৈধ এ ব্যবসা বন্ধ হোক। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের রাজনৈতিক পদবী থাকার কারণে নিজের নাম প্রকাশ করতে অপারগ সকলে।



গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ রাখা সরকারি ভবনটির পার্শ্ববর্তী বাড়ির মালিক হোসেন গাজী বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রধান শিক্ষককে অনুরোধ করেছি এখান থেকে গ্যাসের গোডাউন সরিয়ে নেয়ার জন্যে। কিন্তু তিনি তা শুনেননি। একটি গ্যাস বিস্ফোরণ হলে পুরো এলাকা উড়ে যাবে। রোজই বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কে থাকি। এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।



ওয়াপদার বিপরীত পাশের ভবনের মালিক মোঃ আমির হোসেন বলেন, প্রথমেই আমি ধন্যবাদ জানাই দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠকে। এমন একটি ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধান করার জন্যে। যিনি সরকারি এ সম্পত্তিকে নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তির মত ব্যবহার করে গ্যাসের গোডাউন বানিয়ে ফেলেছেন, তিনি সরকারি দলের পরিচয়ধারী লোক বলে ভয়ে কেউ মুখ খুলছে না। এখানে একটি দুর্ঘটনা ঘটলে স্থানীয় বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্তসহ প্রাণনাশের ঘটনা ঘটতে পারে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ফরিদগঞ্জের বহু সাংবাদিককে বলেছি এ বিষয়টি গণমাধ্যমে আনার জন্যে, কিন্তু অদৃশ্য কারণে কেউই তাতে সায় দেয়নি।



পাউবো ফরিদগঞ্জ শাখার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান ভূঁইয়া চাঁদপুর কণ্ঠকে বলেন, ফরিদগঞ্জ পাউবোর সরকারি জায়গায় গ্যাসের ব্যবসা করার বিষয়ে কেউ আমাদের কাছ থেকে কোনো প্রকার অনুমতি নেননি বা অবগত করেননি। আমরা এর আগেও এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছিলাম। গত জাতীয় নির্বাচনের আগে একবার এই গ্যাসের গোডাউন উচ্ছেদ করেছিলাম। আমাদেরকে কাজল মাস্টার (রফিকুল আমিন কাজল) কথা দিয়েছিলেন অতি দ্রুত মালামাল সরিয়ে নেবেন। কিন্তু তিনি কোন্ ক্ষমতাবলে তা এখনও সে স্থানে বলবৎ রেখেছেন তা আমাদের জানা নেই। অনতিবিলম্বে ব্যবস্থাগ্রহণের জন্যে আমরা জেলা ম্যাজেস্ট্রেট বরাবর লিখিত আবেদন পাঠাবো। তবে ফরিদগঞ্জ প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন একটি অনিয়ম হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ বিভাগ কোনো ব্যবস্থাগ্রহণ না করায় আমরা বিস্মিত হয়েছি।



 



চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান বলেন, বিস্ফোরক দ্রব্যের ব্যবসার মাধ্যমে পাউবোর সম্পত্তি দখলের তথ্যটি আমি এই প্রথম শুনলাম। এ বিষয়ে আমাদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি। অনুমতি চাইলেও আমরা ব্যবসা পরিচালনার উদ্দেশ্যে সরকারি কোনো জায়গা দখলের অনুমতি কাউকে কখনোই দিবো না। অনতিবিলম্বে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।



উল্লেখ্য, এর পূর্বেও ফরিদগঞ্জ এ. আর. পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল আমিন কাজলের বিরুদ্ধে সনদপত্র জালিয়াতি, নিজেকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সন্তান পরিচয়, বর্তমান প্রতিষ্ঠানে অবৈধ নিয়োগ, পেশাগত তথ্য গোপন করে সমমানের একাধিক স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়া, ফান্ড সঙ্কট দেখিয়ে স্কুলের শিক্ষকদের ৭ মাসের স্কুল অংশের বেতন না দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠে। ইতঃমধ্যে এ সকল অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে ফরিদগঞ্জের স্থানীয় একটি ছাত্র সংগঠন মানববন্ধন ও ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট স্মারকলিপিও পেশ করেছে। প্রতিটি অভিযোগের বিপরীতে সুস্পষ্ট প্রমাণ ও নথিপত্র থাকলেও এখনো পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত কিংবা প্রশাসনিক কোনো ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়নি। ফরিদগঞ্জের সুধীজন ও সচেতন অভিভাবকদের দাবি, ঐতিহ্যবাহী ফরিদগঞ্জ এ. আর. হাই স্কুলের দীর্ঘদিনের সুনাম ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অচিরেই তদন্ত সাপেক্ষে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হোক।



 



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৭১৪৩৫
পুরোন সংখ্যা