চাঁদপুর, বুধবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬, ১৮ মহররম ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬৬। উভয় উদ্যানে আছে উচ্ছলিত দুই প্রস্রবণ।


৬৭। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিবে?


৬৮। সেথায় রহিয়াছে ফলমূল -খর্জুর ও আনার।


 


 


 


বাণিজ্যই হলো বিভিন্ন জাতির সাম্য সংস্থাপক। -গ্লাডস্টোন।


 


 


যখন কোনো দলের ইমামতি কর, তখন তাদের নামাজকে সহজ কর।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
ছাত্রলীগের উপর সাইক্লোন : সারাদেশে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বার্তা!
চাঁদপুরেও ছাত্রলীগ নেতাদের বিষয়ে নানা অভিযোগ শোনা যাচ্ছে
চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির ঘটনাটি দেশের রাজনীতিতে আলোচিত একটি ঘটনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বোদ্ধারা বেশ কিছুদিন যাবত এটা নিয়েই যে মুখর থাকবেন সেটা অনুমান করতে কারো অসুবিধে হচ্ছে না। তবে বিষয়টিকে যে যেভাবেই বিশ্লেষণ করুক, একটা বাক্যে সবাই একমত হবেন যে, এটি ছাত্রলীগের জন্যে একটি মহাসাইক্লোন। এই একটি ঘটনা সারাদেশের ছাত্রলীগের জন্যে প্রধানমন্ত্রীর একটি বিশেষ সতর্কবার্তা বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আবার অনেকে বলছেন, এটা শুধু ছাত্রলীগের বেলায় নয়, মূল দল আওয়ামী লীগসহ আরো অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বেলায়ও প্রধানমন্ত্রীর 'শুদ্ধি অভিযানের' একটি বিশেষ সতর্ক বার্তা। যুবলীগকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি ও সমালোচনা সে দিকটিরই ইঙ্গিত দেয়। চাঁদপুরসহ সারাদেশেই গত দু-তিন দিন ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় মনোভাব এবং দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযানের বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে সাধারণ জনগণ এবং দলের নিবেদিত নিঃস্বার্থ ও ত্যাগী নেতা-কর্মীরা শেখ হাসিনার মনোভাব ও এই উদ্যোগে খুশি এবং তাঁকে সাধুবাদ জানিয়েছে।



বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে তিরস্কার করে অব্যাহতি দেয়ার পর ছাত্রলীগকে নিয়ে মানুষ এখন নানাভাবে বিচার বিশ্লেষণ করছেন, আবার অনেকে সাহস করে মুখ খুলছেন। চাঁদপুর জেলাও এর বাইরে নয়। ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের বিষয়ে মানুষ এখন নানা অভিযোগ দিতে শুরু করেছেন। বিভিন্ন সময় মানুষের কাছ থেকে নীরবে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কারো জায়গা জমি অবৈধভাবে দখলের ক্ষেত্রে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের পেশীশক্তি হিসেবে ব্যবহার হওয়া, মাদক ব্যবসার সাথে পরোক্ষভাবে জড়িত থাকা, 'আমি ছাত্রলীগের ওমুক নেতা' বলে মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো ইত্যাদি অভিযোগ অনেক পুরানো। কিন্তু একটি অভিযোগ সমপ্রতি বেশ চাউর হচ্ছে যে, আসন্ন চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে বিভিন্ন ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে দলের তথা আওয়ামী লীগের সমর্থন আদায় করে দেয়ার কথা বলে ছাত্রলীগের কিছু কিছু নেতা সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এসব নেতা এমনভাবে বলছে যে, 'আপনাকে দলের একক প্রার্থী হিসেবে শীর্ষ পর্যায় থেকে সমর্থন আদায় করে দেয়া হবে, বিনিময়ে আমাকে এতো টাকা দিতে হবে।' এ ক্ষেত্রে ১০/২০ টাকার লাখ কন্ট্রাক্টও করা হচ্ছে। এর থেকে অগ্রিমও নেয়া হচ্ছে। আওয়ামী ঘরানার বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী এমন অভিযোগ করলেন ছাত্রলীগের শীর্ষ ক'জন নেতার বিরুদ্ধে। আবার কিছু কিছু নেতার মধ্যে অহঙ্কার ও দাম্ভিকতার ভাব দেখে নিরীহ সহজ সরল নেতা ও সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিদের ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং তারা বেদনার্তও হয়েছেন। আবার ওইসব নেতার উপর চাঁদপুরের পুলিশ বিভাগও ক্ষুব্ধ।



দেখা গেছে যে, সামাজিক কোনো অপরাধের কারণে থানা পুলিশ বখাটে টিনএজ এবং কোনো কিশোর অপরাধীকে আটক করলে ওই চিহ্নিত কিছু নেতা তদবির করেন তাদেরকে নিয়ে যেতে। তাই পুলিশও তাদের উপর নাখোশ। সমপ্রতি এমন একটি উদাহরণ হচ্ছে, মডেল থানা পুলিশ স্কুল কলেজের সময়ে পাড়া মহল্লায় এবং অলিগলিতে আড্ডারত বখাটে টিনএজদের আটকের অভিযানে নেমে কাউকে কাউকে আটক করলে ওই নেতারা সুপারিশ করতে থাকে পুলিশের কাছে। তখন পুলিশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। এতে নিরুৎসাহিত হয়ে এবং অনেকটা ক্ষোভে পুলিশ সে অবস্থান থেকে সরে আসে। এই অবস্থায় চাঁদপুরের ছাত্রলীগকে নিয়ে ভাবতে মূল দলের শীর্ষ নেতাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন চাঁদপুরবাসী।



চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির পথচলা শুরু হয় ২০১৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর থেকে। শুরুতে যে ৮ জনের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, এখনো সে ৮ জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে কমিটি। অথচ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই কমিটির মেয়াদও প্রায় শেষ হয়ে গেছে। আবার এই ৮ জনের মধ্যে ২/১জন আছেন বিবাহিত, এমনকি স্ত্রীকে তালাক দেয়া স্বামী। দীর্ঘ প্রায় তিন বছর মাত্র ৮ জনের মধ্যেই জেলা ছাত্রলীগ আটকে থাকায় যোগ্য অনেক নেতা ক্ষুব্ধ। কেননা তারা জেলার নেতৃত্বে আসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বা হয়েছেন। এর দ্বারা ছাত্রলীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে ফারাক সৃষ্টি হয়ে গেলো বলে মনে করেন নেতা-কর্মীরা।



 



 



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৩২৮২৭
পুরোন সংখ্যা