চাঁদপুর, মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬, ১৭ মহররম ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৬৩। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিবে ?


৬৪। ঘন সবুজ এই উদ্যান দুইটি।


৬৫। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিবে ?


 


 


 


শিক্ষা আর অভিজ্ঞতার সমন্বয়েই জীবনে পরিপূর্ণতা আসে।


-টমাস হুড।


 


 


মানবতাই মানুষের শ্রেষ্ঠতম গুণ।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
হাজীগঞ্জের ১২৯নং সিহিরচোঁ মধ্যপাড়া সরকারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
৫৮ শিক্ষার্থীর জন্যে সরকারের বার্ষিক ব্যয় ১০ লাখ টাকা
কামরুজ্জামান টুটুল
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


অন্য সকল রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ছাড়া শুধুমাত্র ৫৮ শিক্ষার্থীর শিক্ষকদের বেতন বাবদ সরকারের বার্ষিক ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তবে এমনটাই হচ্ছে হাজীগঞ্জের ১২৯নং সিহিরচোঁ মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে। গত ক'বছর ধরে প্রতি বছর শিক্ষার্থী কমে গিয়ে চলতি শিক্ষাবর্ষে শিশু শ্রেণি মিলিয়ে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে মাত্র ৫৮ জন। জন্মহার কমে যাওয়ার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে এমনটাই জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল খায়ের খান।



সম্প্রতি বিদ্যালয়ে গেলে জানা যায়, ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে বিদ্যালয়টি চালু হওয়ার পর ২০০০-২০০১ খ্রিস্টাব্দে একতলা পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। বিদ্যালয়ে রয়েছে ছোট-বড় চারটি কক্ষ। একটি কক্ষে অফিস এবং অপর তিনটি কক্ষে প্রাক-প্রাথমিকসহ অন্যান্য শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। জাতীয়করণের পর থেকে শিক্ষার্থী দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে ঝরে পড়তে থাকে।



বিদ্যালয় অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল ৯৪ জন, ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে ছিল ৭৯ জন, ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে ছিল ৬৯ জন, ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে ছিল ৬৮ জন ও চলতি বছরে রয়েছে ৫৮ জন।



এই ৫৮ জনের মধ্যে গত ১১ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় ওই দিনের উপস্থিতি ছিলো : শিশু শ্রেণিতে ৮ জন, প্রথম শ্রেণিতে ৯ জন, ২য় শ্রেণিতে ৯ জন, ৩য় শ্রেণিতে ৬ জন, ৪র্থ শ্রেণিতে ৭ জন ও ৫ম শ্রেণিতে ৮ জনসহ মোট ৪০ জন। অথচ বিদ্যালয়ের সূত্র জানায়, শিশু শ্রেণিতে ১০ জন, প্রথম শ্রেণিতে ৯ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১০ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ১০ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৯ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ১০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।



বিদ্যালয়ের অফিস সূত্রে আরো জানা যায়, ৫৮ জন শিক্ষার্থীর জন্যে প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষক রয়েছে ৫ জন। সম্প্রতি ১ জন বদলি হয়েছেন, অপর ১ জন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। এই শিক্ষকদের মাসিক বেতন বাবদ সরকার থেকে প্রতি মাসে ৮৬ হাজার ৮শ' ৪৮ হাজার টাকা আসছে। বার্ষিক হিসেবে মোট বেতন দাঁড়ায় ১০ লাখ ৪২ হাজার ৮শ' ৮৬ টাকা।



শিক্ষকগণের বেতনের বাইরে সরকার থেকে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর জন্যে বছরের শুরুতে বিনামূল্যে বই, বিদ্যুৎ বিল, ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, সস্নিপের ক্যাটাগরি অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা, শিশু শ্রেণির জন্যে ১০ হাজার টাকা, ক্ষুদ্র মেরামত (স্কুলভেদে), রুটিন ম্যান্টেনেন্স, বার্ষিক ক্রীড়ার জন্যে ২ হাজার টাকা, শোক দিবস পালনে ২ হাজার টাকা, চক, ডাস্টার, মার্কার, শিক্ষকগণের জন্য বিভিন্ন ট্রেনিংসহ ক্লাস্টারভিত্তিক প্রশিক্ষণ, আনুষঙ্গিক বিল শিক্ষক অনুযায়ী ৭শ' টাকা করে বছরে ২ বার দেয়া হচ্ছে।



এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, শিক্ষার্থী ঝরেপড়া রোধ করতে না পারায় বিদ্যালয়টি দিন দিন শিক্ষার্থীহীন হয়ে পড়ছে। বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটিও এ ব্যাপারে কোনো ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এমনকি বিদ্যালয়ে ৫ জন শিক্ষক থাকার পরেও তারা শিক্ষার্থী বাড়ানোর বিষয়ে নূ্যনতম চেষ্টা করেনি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।



নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন অভিভাবক জানান, সরকার এতোগুলো টাকা ব্যয় করে আমাদের বাচ্চাদের পড়ানোর জন্যে। কিন্তু উনারা কী পড়ান তা আমরা জানি না। এদিকে বিদ্যালয়ে পড়ালেখার মান ভালো নয়, তাই দৃশ্যমান ভালো ফলাফল নেই। যার কারণে অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের পার্শ্ববর্তী মাদ্রাসা কিংবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ে ভর্তি করাচ্ছে। বিদ্যালয়টি বন্ধ হওয়ার উপক্রম বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই অভিভাবক । এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের লোকদের মনিটরিং বহুলাংশে বাড়াতে হবে।



দিন দিন শিক্ষার্থী কেনো ঝরে পড়ছে কিংবা ঝরেপড়া রোধকল্পে কী পদক্ষেপ দিচ্ছেন এমন বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল খায়ের খান জানালেন ভিন্ন তথ্য। তিনি বলেন, এই এলাকায় জন্মহার কম, তাই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী দিন দিন কমে যাচ্ছে। এছাড়া এলাকাবাসী মাদ্রাসামুখী হওয়ার কারণে তারা তাদের বাচ্চাদের পাশের একটি ফাযিল মাদ্রাসায় নিয়ে যাচ্ছে।



বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ডাঃ আব্দুল হাই বলেন, পাশে মাদ্রাসা (নেছারাবাদ ফাযিল মাদ্রাসা) থাকার কারণে আমরা ছাত্র-ছাত্রী পাই না। তারা (মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ) গ্রামের মানুষদের বুঝিয়ে-শুনিয়ে মাদ্রাসায় নিয়ে যায়।



এ ব্যাপারে ক্লাস্টারপ্রধান (বলিয়া ক্লাস্টার) ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আফতাবুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি ক্লাস্টারের দায়িত্ব পেয়েছি। যতো শীঘ্র সম্ভব বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের সাথে বসবো। সবার সমন্বিত চেষ্টায় ইনশাআল্লাহ আগামী শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পাবে।



উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এ.কে.এম. মিজানুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী হ্রাসের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং আগামী শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী বৃদ্ধির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।



 



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬০৫৮২৩
পুরোন সংখ্যা