চাঁদপুর, সোমবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ মহররম ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৯-সূরা হাশ্‌র


২৪ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


৫। তোমরা যে খর্জুর বৃক্ষগুলি কর্তন করিয়াছ এবং যেগুলি কা-ের উপর স্থির রাখিয়া দিয়াছ, তাহা তো আল্লাহরই অনুমতিক্রমে; এবং এইজন্য যে, আল্লাহ পাপাচারীদিগকে লাঞ্ছিত করিবেন।


 


 


assets/data_files/web

আকৃতি ভিন্ন ধরনের হলেও গৃহ গৃহই। -এন্ড্রি উল্যাং।


 


 


স্বদেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ।


 


 


ফটো গ্যালারি
হরিণা ফেরিঘাটে চলছে চরম নৈরাজ্য
টোল ১১০ টাকার স্থলে ৭৩০ টাকা আদায় ॥ টাকার বিনিময়ে সিরিয়াল ভঙ্গ ॥ অবৈধ চাঁদাবাজি
এএইচএম আহসান উল্লাহ
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরি রুটের হরিণা ফেরিঘাট এলাকায় চরম নৈরাজ্য চলছে। ইজারাদার কর্তৃক টোল আদায়ে চলছে ব্যাপক অনিয়ম, টাকার বিনিময়ে সিরিয়াল ভঙ্গ করে পেছনের গাড়ি সামনে দেয়া হচ্ছে এবং ট্রাক অ্যাসোসিয়েশনের নামে অবৈধভাবে প্রতি গাড়ি থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এতোসব অনিয়ম ও দুর্নীতি হতে থাকলেও বিআইডব্লিউটিএ চাঁদপুর-এর কর্মকর্তা বা সেখানকার ফাঁড়ির পুলিশ কিছুই করছে না। মনে হচ্ছে যেনো সবাই মিলেমিশেই এসব অনিয়ম করে যাচ্ছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর রোববার অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সভায় এ বিষয়টি উঠলে ব্যাপক আলোচনা হয়।

চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর হয়ে দক্ষিণাঞ্চলমুখী শত শত মালবাহী ট্রাক প্রতিদিন উক্ত ফেরি দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। আর এসব যানবাহন চাঁদপুরের মেঘনা পাড়ি দিয়ে যেতে হয়। এই মেঘনা পাড়ি দেয়ার জন্যে রয়েছে ফেরি রুট। এই পাড়ে অর্থাৎ চাঁদপুর অংশে রয়েছে হরিণা ফেরিঘাট আর ওপাড়ে শরীয়তপুর অংশে রয়েছে নরসিংহপুর (আলুরবাজার) ফেরিঘাট। এই ফেরি সার্ভিসকে চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরি সার্ভিস বলা হয়। এই ফেরি সার্ভিসের হরিণা ফেরিঘাট এলাকায় গাড়ি পার্কিং চার্জ ও ফেরিতে ওঠার জন্যে ঘাটের চার্জসহ টোল আদায় হতো বিগত সময় সরকারিভাবে অর্থাৎ বিআইডব্লিউটিসির মাধ্যমে। চলতি অর্থবছর (২০১৯-২০২০) থেকে এই টোল আদায় হচ্ছে ইজারার মাধ্যমে। সে জন্যে হরিণা ফেরিঘাট ইজারা দেয়া হয়, আর ইজারাদারই টোল আদায় করে থাকেন।

দেখা গেছে যে, এই টোল আদায় নিয়েই এখন চলছে চরম অনিয়ম। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অর্থাৎ যে পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে ঘাট ডাক তথা ইজারা নেয়া হয়েছে, সে হিসেবে মালবাহী প্রতি ট্রাক অথবা প্রতি বাস থেকে টোল আদায় করার কথা ১১০ টাকা করে। কিন্তু এ টোল আদায় করা হচ্ছে ৭৩০ টাকা করে। অবৈধভাবে ৬২০ টাকাই বেশি নেয়া হচ্ছে প্রতি গাড়ি থেকে। ঘাট ইজারা পেয়েছেন স্থানীয় গোবিন্দিয়া এলাকার মোজাম্মেল হোসেন টিটু। তার সাথে স্থানীয় একটি অপরাধ চক্র যোগসূত্র হওয়ায় অস্থানীয় ট্রাক ড্রাইভাররা অনেকটা অসহায় হয়েই ওই বাড়তি টাকা দিচ্ছে। ভয়ে তারা প্রতিবাদ করতে পারছে না। এই বাড়তি টোল আদায় ছাড়াও আরেকটি হচ্ছে চাঁদাবাজি। ট্রাক অ্যাসোসিয়েশনের নামে সেখানে অবৈধভাবে প্রতি ট্রাক থেকে ৩০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। স্থানীয় একটি চাঁদাবাজ চক্র এই চাঁদাবাজি করে থাকে। নৈরাজ্যের চিত্র এখানেই শেষ নয়, ফেরিতে ওঠার জন্যে গাড়ির যে সিরিয়াল থাকে, সেখানেও ঘটে থাকে অনিয়ম। স্থানীয় একটি চক্র ফেরির লোকজনের যোগসাজশে পেছনের গাড়ি সামনে নিয়ে আসে টাকার বিনিময়ে। এর জন্যে তারা ২/৩ হাজার টাকার মতো করে হাতিয়ে নেয়। অবশ্য এ অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন হরিণা ফেরিঘাট ম্যানেজার মোঃ পারভেজ খান।

হরিণা ফেরিঘাটের এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি গত রোববার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় কমিটির সভায় উত্থাপন করেন চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান। তখন এ বিষয়টি নিয়ে সভায় আলোচনা হয়। পরবর্তীতে চেয়ারম্যান নাজিম দেওয়ান বিষয়টি লিখিত অভিযোগ আকারে জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন। অভিযোগের বিষয়টি জেলা প্রশাসক অবগত আছেন বলে জানান এবং এ বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সাথে দেখবেন বলে চেয়ারম্যান নাজিম দেওয়ানকে আশ্বস্ত করেন। জনৈক সচিবও জেলা প্রশাসককে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে জনাব নূরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নাসিম উদ্দিন  সরজমিনে গিয়ে এর সত্যতা পেয়েছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ওসি নাসিম উদ্দিন জানান, আমি সরজমিনে হরিণা ঘাট এলাকায় গিয়ে অতিরিক্ত টোল আদায়ের সত্যতা পেয়েছি। বিষয়টি আমি সদর ইউএনও মহোদয়কে জানিয়েছি এবং পুলিশ সুপার মহোদয়কেও জানিয়েছি। আমি সেখানে মোবাইল কোর্ট করার জন্যও সুপারিশ করেছি।

এসব বিষয়ে কথা হয় হরিণা ফেরিঘাট ম্যানেজার মোঃ পারভেজ খানের সাথে। তিনি জানালেন, ফেরিঘাটের ইজারার বিষয়টি আমরা দেখি না, এটি বিআইডব্লিউটিএ দেখে। আর আমি হচ্ছি বিআইডব্লিউটিসির অধীনে। বিগত দিনে আমরা টোল আদায় করেছি, তখন কোনো সমস্যা হয় নি বা কোনো অভিযোগও পাই নি। এখন বিআইডব্লিউটিএ ঘাট ইজারা দিয়েছে এতটুকুই আমরা জানি। এমনকি ইজারার কোনো কাগজপত্র এবং টোল আদায়ের কোনো তালিকাও আমাদেরকে দেয়া হয় নি। আর গাড়ির সিরিয়াল ভঙ্গ করার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন এবং বলেন, পচনশীল দ্রব্যের কোনো গাড়ি থাকলে সেটি নিয়ম অনুযায়ী যেভাবে ফেরিতে ওঠার সেভাবেই উঠে থাকে। এছাড়া অন্য কোনো অভিযোগের বিষয় তার জানা নেই।

অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ চাঁদপুর-এর উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক জানান, গত প্রায় ১৫ দিন আগে আমাদের চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাছে জাহাঙ্গীর নামে এক ট্রাক ড্রাইভার মোবাইল ফোনে কল করে অভিযোগ দিয়েছেন তার কাছ থেকে ৬২০ টাকা অতিরিক্ত নেয়া হয়েছে। সাথে সাথে চেয়ারম্যান মহোদয় আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানালে আমিও ওই ড্রাইভারের সাথে কথা বলি। তিনিও আমার কাছে একই অভিযোগ করেন। তখন আমি ওই ড্রাইভারকে বলি, আমি ৩০ মিনিটের মধ্যে হরিণা ঘাটে আসতেছি, আপনি সেখানে থাকেন। কিন্তু আমি সেখানে গিয়ে আর তাকে পাইনি এবং তার মোবাইল ফোন নাম্বারটিও বন্ধ পাই। সেজন্যে আর তখন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারিনি। এখন কেউ অভিযোগ না দিলে এবং অভিযোগকারী উপস্থিত না থাকলে তো কোনো অ্যাকশনে যাওয়া যায় না। তিনিও জানান, টোল ১১০ টাকার বেশি নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। নৈরাজ্যের বিষয়টি এই বন্দর কর্মকর্তার একটি কথা থেকেই আভাস পাওয়া যায়। তিনি জানালেন, ঘাটের টোল আদায়ের পরিমাণসহ তালিকা আমরা হরিণা ঘাট এলাকায় দর্শনীয় স্থানে লাগিয়ে দিয়েছি। কিন্তু কে বা কারা সেই তালিকার বোর্ড সিমেন্ট লেপে দিয়ে মুছে দিয়েছে। তিনি আরো জানান যে, ইজারাদার টিটু ৩১৫ দিনের জন্যে ১ কোটি ৫১ লাখ ৫১ হাজার ৫শ’ ৫১ টাকায় এই ঘাট ইজারা নিয়েছেন। এর সাথে ২০% আয়কর ভ্যাট সহ হবে ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৯০৮৫১
পুরোন সংখ্যা