চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২৮ ভাদ্র ১৪২৬, ১২ মহররম ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৭৫। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিবে?


৭৬। উহারা হেলান দিয়া বসিবে সবুজ তাকিয়ায় ও সুন্দর গালিচার উপরে।


৭৭। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিবে?


৭৮। কত মহান তোমার প্রতিপালকের নাম যিনি মহিমময় ও মহানুভব!


 


 


 


 


assets/data_files/web

বাণিজ্যই হলো বিভিন্ন জাতির সাম্য সংস্থাপক। -গ্লাডস্টোন।


 


 


কাহারো উপর অত্যাচার করা হইলে সে যদি সবর করিয়া চুপ থাকিতে পারে, আল্লাহ তাহার সম্মান বৃদ্ধি করিয়া দেন।


 


ফটো গ্যালারি
চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচন : ১২নং ওয়ার্ডের হালচাল
নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের সন্দেহ * নাগরিক সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ৪ সম্ভাব্য প্রার্থী এক মহল্লায়*পাবলিক টয়লেট নেই, যত্রতন্ত্র মলত্যাগ * কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডব *পাড়া-মহল্লায় ইভটিজার* মাদকাসক্ত নারী-পুরুষ*ড্রেন পরিস্কার নিয়মিত নয়
মুহাম্মদ আবদুর রহমান গাজী
১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচন নিয়ে তথা সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিয়ে প্রার্থী ও ভোটারদের যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তাদের প্রশ্ন নির্বাচন কি সুষ্ঠু হবে? আর নির্বাচন হলেই কি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষতা প্রাধান্য পাবে? এমন নানান প্রশ্ন আর ভাবনা নিয়ে কথা হয় পৌর ১২নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী ও ভোটারদের সাথে। তারা বলেন, দেশে এখন কোনো বিএনপি নেই, সবাই আওয়ামী লীগ। হাইব্রিড নেতার অভাব নেই। ১২নং ওয়ার্ড চাঁদপুর পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ একটি ওয়ার্ড। গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারে যে কেউ। তবে আমরা সচেতন নাগরিক হিসেবে যার সামাজিক অবস্থান এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা আছে, এ রকম প্রার্থী আশা করছি। যিনি যোগ্য প্রার্থী এবং যাকে মানুষ সুখে-দুঃখে পাবে, তাকেই আমরা কাউন্সিলর হিসেবে দেখতে চাই।



১২নং ওয়ার্ডটি প্রায় ছয় বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে। এ ওয়ার্ডের নির্বাচনী সীমানা হচ্ছে : চাঁদপুর শহরের রাজু চত্বর (সাবেক চিত্রলেখা মোড়), দক্ষিণ-পূর্ব হাজী মহসিন রোড, মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্বে ছৈয়াল বাড়ি রোড, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়কস্থ শাহী জামে মসজিদ এবং ট্রাক রোডস্থ বটতলা গাজী সড়কের উত্তর পাশ ডাকাডিয়া নদীর পাড়, চর গুণরাজদি, ঘোড়ামারা আশ্রয়ণ প্রকল্পের পশ্চিম উত্তর মজুমদার বাড়ি হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে আব্দুল করিম পাটোয়ারী সড়কের পূর্ব-দক্ষিণস্থ গাজী সড়ক, নাজির পাড়া, তালতলা ও চাঁদপুর সরকারি কলেজ পর্যন্ত।



এ এলাকায় রয়েছে জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ চাঁদপুর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। আরো রয়েছে টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ (সদর উপজেলা কমপ্লেঙ্ সংলগ্ন ), বিষ্ণুদী ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা (মুন্সি বাড়ি সংলগ্ন) ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ (ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন), নাজির পাড়া মোহাম্মদীয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা, পীর মহসিন উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (তালতলা), রেসিডেন্সিয়াল কলেজ, পৌর বাসস্ট্যান্ডস্থ জামেয়া মাদিনাতুল উলূম কওমী মাদ্রাসা, দর্জিঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দারুল কোরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসা, জিটি রোড দক্ষিণ (সরকার বাড়ি) দারুচ্ছুন্নাত আজিজিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা। এছাড়া প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান রয়েছে দারুন্নাজাত হাবিবিয়া সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসাসহ প্রায় ১০টি হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও ৩টি কিন্ডারগার্টেন।



 



ওই ওয়ার্ডে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তা হচ্ছে : চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে জেলা প্রশাসক কার্যালয়, জেলা জজ আদালত, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, ডায়াবেটিক হাসপাতাল, মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল, সড়ক ভবন, চাঁদপুর পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, পৌর কবরস্থান, গোর-এ-গরিবা কমপ্লেঙ্ জামে মসজিদ ও ইলিশ চত্বর। তার পাশেই রয়েছে চাঁদপুর স্টেডিয়াম এবং ওই সড়কে রয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর, মালেক ক্রীড়া ভবন, শিশু একাডেমি, অরুণ নন্দী সুইমিংপুল, টেলিযোগাযোগ ভবন, জেলা সমাজসেবা ও শহর সমাজসেবা কার্যালয়, বক্ষব্যাধি ক্লিনিক, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। আবদুল করিম পাটওয়ারী সড়কে রয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ দপ্তর, এলজিইডি অফিস, কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর ও জেলা বীজ সংরক্ষণাগার। এই ওয়ার্ডে ধর্মীয় উপাসনালয়ের মধ্যে ১২টি জামে মসজিদ, ৩টি পাঞ্জেগানা মসজিদ এবং রামকৃষ্ণ আশ্রম ও রামকৃষ্ণ মিশন রয়েছে।



এ ওয়ার্ডটি বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী বিপণীবাগ বাজার, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, পৌর মার্কেট এবং ১৫টি প্রাইভেট হাসপাতাল। এখানে চলাচলের রাস্তা হলো আব্দুল করিম পাটোয়ারী সড়ক, চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের কিছু অংশ, বঙ্গবন্ধু সড়ক, গাজী সড়ক, নাজির পাড়া সড়ক, ছৈয়াল বাড়ি রোডসহ আরো কয়েকটি শাখা সড়ক। চলাচলের মাধ্যম হচ্ছে রিঙ্া ও অটো রিঙ্া।



জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ১২নং ওয়ার্ডে রয়েছে হালনাগাদ ভোটারসহ প্রায় ৯ হাজার ৮শ' ভোটার। এ ভোটারদের আগামী ৫ বছর প্রতিনিধিত্ব করার জন্যে বর্তমানে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন বর্তমান কাউন্সিল মোঃ হাবিবুর রহমান দর্জি, শরীফ উদ্দিন আহমেদ (পলাশ) ও মোঃ ফারুক দেওয়ান। এছাড়া আরো যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হচ্ছেন মোঃ মিজানুর রহমান ভূঁইয়া লিটন (মিজান লিটন), মোহাম্মদ হোসেন বাতাস মিয়াজী, মোঃ ফেরদৌস খান, মোঃ মোস্তফা ঢালী ও মোঃ আল-আমিন মিজি (আমান)। এদের তেমন কোনো তৎপরতা চোখে না পড়লেও বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের নাম জানা গেছে। এর বাইরে সাবেক মহিলা কাউন্সিলর রেবেকা সুলতানা বকুলও নির্বাচন করবেন এ ওয়ার্ড থেকে। তিনি সংরক্ষিত নয়, সাধারণ ওয়ার্ড থেকেই নির্বাচন করবেন। বিগত নির্বাচনেও তিনি এ ওয়ার্ড থেকে নির্বাচন করেছেন।



বর্তমান কাউন্সিলর মোঃ হাবিবুর রহমান দর্জি ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে টান্সপোর্ট ব্যবসায়ী। তিনি ১২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, জেলা সাঁতার প্রতিযোগিতা কমিটির সদস্য, দর্জি ঘাট বাইতুন নূর জামে মসজিদ ও দারুল কোরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসার সভাপতি। নির্বাচন বিষয়ে তিনি বলেন, আমি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছি। নির্বাচনে যে কেউ প্রার্থী হতে পারেন। প্রার্থী যত বেশি হবে নির্বাচন ততো সুন্দর হবে। তবে উন্নয়নের অসমাপ্ত কাজ করতে আরেকবার আমি সুযোগ পেতে চাই। নির্বাচনী এলাকায় উল্লেখযোগ্য কী কাজ করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, নাজির পাড়া মহল্লায় অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। এ সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানে ড্রেন সংস্কার করেছি। বর্তমানে নাজিরপাড়ার ড্রেনের পানি নিষ্কাশনের জন্যে বঙ্গবন্ধু সড়ক হয়ে ডাকাতিয়া নদীর সাথে সংযুক্ত ড্রেন করেছি। এখন আর জলাবদ্ধতার আশঙ্কা নেই। পূর্ব নাজির পাড়া থেকে চাঁদপুর সরকারি কলেজ, ছৈয়াল বাড়ি রোড ও গাজী বাড়ি রোডে নতুনভাবে সংস্কার কাজ করেছি। তিনি আরো জানান, আমার এ ওয়ার্ডে ৩৮টি প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েছি। বর্তমানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ইউএনডিপি প্রকল্পের আওতায় বেশকিছু উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে মহল্লাভিত্তিক ছোট ছোট রাস্তা নির্মাণ (পাকাকরণ), ড্রেনেজ ব্যবস্থা, উন্নত মানের টয়লেট নির্মাণ। এ কাজগুলো ছাড়াও এলাকায় এডিস মশা নিধন কাজ তদারকি করছি। বঙ্গবন্ধু সড়কের গুণরাজদী এলাকায় ৩০ বছরের জলাশয় পরিষ্কার করেছি। আমি আবার জনপ্রতিনিধির দায়িত্বে আসলে অসমাপ্ত কাজগুলো করা সহজ হবে। তিনি জানান, যারা নাগরিকত্ব সনদ নেন আমি বিনা পয়সায় সেটা করে দিই। 'আপনার নির্বাচনী এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি ঘর নির্মাণে আপনার ভূমিকা কী' এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বাড়িঘর নির্মাণে পৌরসভায় আবেদন করতে হয়। বাড়ি নির্মাণ বিষয়টি এখন আর আমরা ব্যক্তিগতভাবে দেখি না, সেটা অফিস দেখে। তবে আমরা এ বিষয়ের সাথে এজন্যে সমঝোতা করার চেষ্টা করছি, যাতে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণে কোনো সমস্যা না হয়। আমরা তদারকি না করলে মানুষ যার যার ইচ্ছে মতো ঘর নির্মাণ করে, এতে যাতায়াতের পথে বিঘ্ন ঘটে। মাদক বিষয়ে তিনি বলেন, সাবেক এসপি শামসুন্নাহারের নেতৃত্বে আমরা একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট করি এবং বর্তমানে মাদক, বাল্যবিবাহ, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস ও কিশোর অপরাধীদের প্রতিরোধকল্পে আমি নিজ দায়িত্বে কয়েকটি টুর্নামেন্ট পরিচালনা করেছি। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নিয়ে আমরা কাজ করছি। সকলের সহযোগিতা পেলে আরও সফল হতে পারবো।



শরীফ উদ্দিন আহমেদ (পলাশ) চাঁদপুর শহর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। মেসার্স আহমেদ ট্রেড লিঙ্কের স্বত্বাধিকারী (প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার) তিনি। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। আমার বাবা মরহুম সামছুদ্দিন আহমেদ (বিএ) ছিলেন চাঁদপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি জনগণের সেবা করতে রাজনীতি করেছেন। আমার জন্যে রাজনীতি নফল ইবাদত। তিনি বলেন, নির্বাচন আদৌ হবে কিনা, জনগণ তাদের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে পারবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। দেশে বর্তমানে বলতে গেলে রাজনৈতিক শূন্যতা চলছে। জনগণের ভোট গুটি কয়েক সন্ত্রাসী লুট করলেও জনগণ প্রতিরোধে এগিয়ে আসেনি। গত নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের কাছে আমি অসহায় ছিলাম। এহেন অবস্থা থাকলে নির্বাচন করবো কিনা সেটা সময়ই বলে দেবে।



মোঃ মিজানুর রহমান ভূঁইয়া লিটন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ও শহর ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি। তার অধিক পরিচয় সাংবাদিক হিসেবে। তিনি চাঁদপুর আউটার স্টেডিয়াম ঈদ জামাত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, কমিউনিটি পুলিশিং চাঁদপুর অঞ্চল-১২-এর প্রচার সম্পাদক ও বিষ্ণুদী মাদ্রাসা রোড মহল্লা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি স্বপ্নপুরী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সেক্রেটারী। ১৯৯৩ সালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্যানেলে তিনি আমোদ-প্রমোদ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। অবশ্য বর্তমানে তিনি পদপদবী নিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় নন। তিনি চাঁদপুর প্রেসক্লাব সদস্য ও জেলা ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি। তিনি দৈনিক আলোকিত চাঁদপুরের বার্তা সম্পাদক, জাতীয় দৈনিক আমাদের অর্থনীতি ও আমাদের নতুন সময়ের জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। নির্বাচন বিষয়ে তিনি বলেন, আমি বিগত নির্বাচন করেছি। সে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। যে প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন সে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমার বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছেন। জনগণ শান্তিপ্রিয়। তারা চায় তাদের পছন্দের প্রার্থীকে শান্তিপূর্ণ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করতে। কিন্তু সে সুযোগ দেয়া হয়নি, জনগণের অধিকার হরণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমি প্রার্থী হতে চাইনি। এলাকার জনগণ আমাকে প্রার্থী হিসেবে চাইছেন। সেজন্যে আমি এবারও নির্বাচন করবো। তবে আমি আশা করি এবার নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হলে সেভাবে আমরা নির্বাচন করবো। আমি কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম ও সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িয়ে আছি। সে সুবাদে এলাকার মানুষ আমাকে চিনে জানে। তাদের সুখে-দুঃখে কাছে পায়। সেজন্যেই তারা আমাকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চায়। প্রশাসনের কাছে আমার দাবি যাতে নিরপেক্ষভাবে সুন্দর সুষ্ঠু নির্বাচন হয়। এখানে কোনো সন্ত্রাসের তা-বলীলা ও কোনো ধরনের অরাজকতা হলে সেটার দায়িত্ব নিতে হবে প্রশাসনকেই।



মোহাম্মদ হোসেন বাতাস মিয়াজী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংস্কৃৃতিক সম্পাদক, নাজিরপাড়া ক্রীড়াচক্রের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নাজিরপাড়া কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির যুগ্ম সম্পাদক। তিনি মেসার্স মাকসুদা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী। নির্বাচন বিষয়ে তিনি বলেন, আমি তৃণমূলের নেতা। এ দলের জন্যে জেল খেটেছি। বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় থাকাকালীন আমি বহু মামলার আসামী হয়েছি। তৎকালীন পুলিশ আমাকে না পেয়ে আমার বাবাকে ধরে নিয়ে গেছে। আজকে দলের সুসময়ে আমাকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। রাজনীতি করি বলে মানুষের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্যে এ এলাকার মানুষ চায় আমি কাউন্সিলর প্রার্থী হই। মানুষের ভালোবাসা নিয়েই আমি নির্বাচনে আবার পুনরায় আসতে চাই। তবে নির্বাচন আদৌ হবে কি না সেটা চিন্তা করছি। কারণ গতবার একবার আপনারা দেখেছেন, নির্বাচন হবে বলে ঘোষণা হলো। মার্কা পেয়েছি আমি ফুটবল। প্রচার-প্রচারণায় প্রতীক নিয়ে মাঠে। হঠাৎ নির্বাচন বন্ধ হয়ে গেলো। আবার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হলো। সেখানে আমি পানির বোতল মার্কায় জনগণের কাছে ভোট চেয়েছি। কিন্তু সেখানে নির্বাচনের দিন যে সন্ত্রাসী তা-ব দেখলাম তাতে আমি হতবাক হয়ে গেলাম। এবার যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয় তাহলে সে নির্বাচনে আমি প্রার্থী হবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ করেছেন মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে। আমিও কমিউনিটি পুলিশিংয়ে কাজ করছি। সে সুবাদে এলাকাবাসীর সুখে-দুঃখে থাকতে চাই। তিনি অভিমান করে বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল মহোদয়ের নেতৃত্বে আমরা সাংগঠনিক কাজ করেছি। বিগত দিনে জামায়াত-বিএনপি'র আমলে আমাকে জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী মহোদয় ফোন করতেন। তিনি আমাকে বলতেন, মামা ঘুম থেকে উঠছো? ফোন পেয়ে ভোর বেলা ওনার বাড়িতে যেতাম। তখন তিনি বলতেন, মামা ঘরে এসো। বসো। আমি নামাজ পড়ে নিই। এভাবেই আমি আর মামা হেঁটে হেঁটে পার্টি অফিসে আসতাম। মিছিলে আমি সস্নোগান দিতাম। এখন আর ত্যাগী নেতা নেই। বেশিরভাগ নেতাই এখন বিএস খতিয়ানের। সিএস খতিয়ানের নেতা পাওয়া দুষ্কর। দলের জন্যে শরীরে জখমের কমতি নেই। আজও সেই ব্যথায় আমার নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার উদ্যোগ নিন। জনগণ তাদের মতামত ব্যক্ত করবে সেই সুযোগটা দিন। জনগণ শান্তিপ্রিয়। তারা শান্তিতে বিশ্বাসী।



মোঃ ফেরদৌস খান জেলা জাতীয় যুব সংহতির আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্র সমাজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, নাজিরপাড়া ক্রীড়াচক্রের সাংগঠনিক সম্পাদক, নাজিরপাড়া কমিউনিটি পুলিশিং মহল্লা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এম এফ কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী। নির্বাচন বিষয়ে তিনি বলেন, যারা রাজনীতি করে তারা তো জনগণের খেদমতের জন্যেই করে। জনগণ চায় কাজের লোককে জনপ্রতিনিধি করতে। জনগণ আমাকে চায় আমি যাতে নির্বাচন করি। রাজনীতি করি হিসেবে মানুষ আমাকে ভালোবাসে। তিনি জানান, গাজী বাড়ি সড়ক, নাজিরপাড়া সড়ক ও ছৈয়াল বাড়ি সড়কে মানসম্মত উন্নয়নের কাজ হয়নি। এ সড়কগুলোতে ড্রেনের সস্নাবগুলো যেনো মরণ ফাঁদ। তিনি বলেন, এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা একদম নাজুক। এ কাজগুলো দেখার দায়িত্ব কিন্তু একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের। কিন্তু এখানে জনগণ তা পায়নি। যারা তৃণমূলের মানুষের সাথে মিশে তাদেরই জনগণ চায়। আমরা রাজনীতি করি বলে জনগণের অনেক কাজেই আমরা সম্পৃক্ত আছি। তারপরও কিছু কাজ আছে যেটা জনপ্রতিনিধি হয়ে করতে হয়। আমিও মানুষের ন্যায্য প্রাপ্য এবং নাগরিক হিসেবে তাদের সেবাটুকু বুঝিয়ে দিতে নির্বাচন করতে চাই।



মোহাম্মদ মোস্তফা ঢালী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক, পৌর ১২নং ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্য সচিব, ইউনাইটেড আউটার বয়েজের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি একজন ব্যবসায়ী। তার প্রতিষ্ঠানের নাম মোস্তফা স্থায়ী অ্যালমুনিয়াম এন্ড গ্লাস হাউস। নির্বাচন বিষয়ে তিনি বলেন, মানুষের গড় আয়ু কম। ভালো কর্মকা-ের সাথে জড়িয়ে থাকতে ভালো লাগে। তাই ভালো কাজের সাথে জড়িয়ে থাকতে চেষ্টা করি। তিনি আরো বলেন, দেশে এখন বিএনপি নেই। এখন সবাই আওয়ামী লীগ। নব্য আওয়ামী লীগের কারণে নেতার অভাব নেই। আমি তৃণমূল থেকে উঠে আসা রাজনীতির মাঠ কর্মী। রাজনীতি করি বলে দলের নেতৃবৃন্দের সুখে-দুঃখে পাশে থাকি। সমাজের সাধারণ মানুষের সাথে মিশে কাজ করি। আমার এলাকার জনগণই আমার শক্তি। দল যদি আমাকে সমর্থন না দেয় তাহলে আমি জনগণের সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন করবো। তিনি আরো জানান, যে সমস্যাগুলো নিয়ে আমি নির্বাচন করতে চাই সেটা হলো : ১২নং ওয়ার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। যেখানে প্রতিদিনই জেলার বাইরে থেকে বিভিন্ন লোকজন আসেন, তাদের দৈনন্দিন কাজ সারেন। এর মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই যেখানে-সেখানে প্রস্রাব-পায়খানা করেন। এতে পরিবেশ দূষিত হয়। আমি নির্বাচিত হলে পাবলিক টয়লেট ও নির্দিষ্ট জায়গায় আবর্জনা ফেলার জন্যে ডাস্টবিন করে দেবো। আমি নিজ থেকে এলাকায় উন্নয়নের কাজ করছি। ভবিষ্যতে কাউন্সিলর হয়ে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পেঁৗছাতে চাই।



চেয়ারম্যানঘাটা দক্ষিণ জিটি রোডের বাসিন্দা মানিক, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড পৌর মার্কেটের ব্যবসায়ী স্বপন চন্দ্র শীল, স্টেডিয়াম রোডের ব্যবসায়ী ফজলুল আলম, মিশন রোডস্থ ব্যবসায়ী কাজলসহ আরো অনেকে নানা সমস্যার কথা জানাতে গিয়ে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই ওয়ার্ডে নির্দিষ্ট কোনো পাবলিক টয়লেট নেই। যার কারণে মানুষ যেখানে সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করে। আমরা চাই কাউন্সিলর এলাকায় পাবলিক টয়লেটের প্রতিশ্রুতি দিক এবং নির্দিষ্ট জায়গায় আবর্জনা ফেলার পরিবেশ সৃষ্টি করুক। নাজির পাড়ার সোহেল আহমদ বলেন, এ ওয়ার্ডে কিশোর গ্যাং অপরাধীদের তা-ব বেশি। এদের কারণে প্রায়ই কলেজ গেট, মিশিন রোড ও ছায়াবাণীর মোড়ে মারামারি হয়। যার কারণে এলাকাবাসী আতঙ্কে থাকে। ফয়সাল বলেন, মাদক ব্যবসায় নারী-পুরুষ মিশ্রিত হয়ে গেছে। এখন অনেকেই মাদকের সাথে সম্পৃক্ত। আগে এলাকায় ছিল পুরুষ মাদকাসক্ত। এখন তার পাশাপাশি নারীদের দেখা যাচ্ছে। মাদ্রাসা রোডের বাসিন্দা শরীফ বলেন, জিটি রোড পশ্চিম ও মুন্সিবাড়ি পূর্ব এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পানি নিষ্কাশনের নেই কোনো ব্যবস্থা। ড্রেন পরিষ্কার নিয়মিত নয়। যার কারণে আমরা মহল্লাবাসীরা দুর্ভোগ পোহাতে হয়।



এদিকে সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার আরো ক'জন ব্যক্তির নাম শোনা গেছে। আসন্ন নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় বা প্রশাসন অবাধ নির্বাচন হওয়ার মতো শতভাগ পরিবেশ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে তাহলে গত নির্বাচনে বিজিত কয়েকজন প্রার্থী এ বছরও প্রার্থী হতে পারেন-এমন আভাস তারা দিয়েছেন।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৮৯৯৮৩
পুরোন সংখ্যা